বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
বিনোদন
 

পারিশ্রমিকের দৌড়ে আজও পিছিয়ে নায়িকারা

রিল লাইফের দুরন্ত পারফরম্যান্সের জন্য রিয়েল লাইফে প্রচুর পরিশ্রম করতে হয় বলিউডের নায়ক-নায়িকাদের। অভিনয় তো বটেই, তাঁদের ফিটনেস বজায় রাখাটাও খুব জরুরি। অ্যাকশন-নির্ভর যে কোনও ছবির জন্য তৈরি থাকতে হয় যে কোনও সময়। তা এত পরিশ্রমে মেওয়াও ফলে দিব্য। এটাও স্বাভাবিক। কিন্তু নায়ক-নায়িকার পরিশ্রমে কোনও ফারাক আছে কি? কোন দাঁড়িপাল্লায় মেপে দেখা হচ্ছে যে নায়ক সবসময়ই নায়িকার তুলনায় বেশি পরিশ্রম করছেন? লিঙ্গসাম্যের যুগে স্বাভাবিকভাবেই এই প্রশ্ন ওঠে। জনপ্রিয় নায়ক-নায়িকাদের সম্ভাব্য পারিশ্রমিকের তালিকার দিকে তাকালে আপনার কাছে উত্তর স্পষ্ট হবে।
সম্প্রতি ‘ফাইটার’ ছবির জন্য ৭৫ কোটি টাকা পারিশ্রমিক হেঁকে শিরোনামে এসেছেন হৃতিক রোশন। ইদানীং ছবিতে তেমন মুখ দেখা না গেলেও ব্র্যান্ড এনডোর্সমেন্ট দিয়ে তার ‘মূল্যমান’ নির্ধারিত হয় নিশ্চয়ই। তাতে আপত্তির কিছু নেই। কিন্তু এই ছবিতে হৃতিকের নায়িকা দীপিকা পাড়ুকোন কত পেলেন? শোনা যাচ্ছে, ২০ কোটি। তাঁর হাতে ছবির অভাব নেই। তবুও হৃতিকের ধারেকাছে নেই তাঁর পারিশ্রমিক। অন্যান্য পেশাতেও মহিলারা উচ্চপদে আসীন হওয়া সত্ত্বেও পুরুষদের তুলনায় কম বেতনে কাজ করতে বাধ্য হন। কেবল ভারত নয়, সারা দুনিয়ার বাস্তব এটা। যে মহিলারা আপস করতে রাজি নন, তাঁদের ‘অতিরিক্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী’ তকমা দেওয়া হয়। নিপুণ দক্ষতায় এড়িয়ে যাওয়া হয় পুরুষদের বেতন কাঠামোর প্রসঙ্গটি। বলিউডও তার ব্যতিক্রম নয়। এ প্রসঙ্গে চলচ্চিত্র নির্মাতা তথা লেখক মেহুল কুমার বলেন, ‘আমি ৪৭ বছর ধরে ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত। বরাবরই নায়িকাদের তুলনায় নায়করা বেশি পারিশ্রমিক পান। আগে একজন শীর্ষ স্থানীয় নায়িকা ২০ লক্ষের বেশি পারিশ্রমিক পেতেন না। এখন একজন প্রথম সারির নায়িকার পারিশ্রমিক খুব বেশি হলে ১০ কোটি। সেখানে নায়কদের পারিশ্রমিক আকাশছোঁয়া। আমরা প্রযোজকরা কোনও ছবিতে বড় মাপের নায়ক নিলে, সেই ছবিতে মাঝারি মাপের নায়িকা নিই। ফলে ছবির বাজেট ঠিক থাকে।’ 
জানা গিয়েছে, শাহরুখ খান নিজের ছবি থেকে ৬০ শতাংশ মুনাফা রাখেন। ছবিপিছু তাঁর পারিশ্রমিক ১০০-২০০ কোটি। অক্ষয় কুমার মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিকের পাশাপাশি ছবির লভ্যাংশ পান। আসন্ন ছবি ‘বড়ে মিয়াঁ ছোটে মিয়াঁ’ ছবির জন্য নাকি ১৩৫ কোটি নিয়েছেন অক্ষয়। সলমন খান ২০১৭ সালে ‘টাইগার জিন্দা হ্যায়’ ছবির জন্য পেয়েছিলেন ১৩০ কোটি। ছবির লাভ থেকে ৬০-৭০ শতাংশও যায় তাঁর কাছে। আমির খান পারিশ্রমিক হিসাবে ১০০-১৭৫ কোটি নেন। রণবীর সিং প্রায় ৩০-৫০ কোটি দর হাঁকেন। ‘৮৩’ ছবির জন্য তিনি নিয়েছিলেন ১৩ কোটি। ছবি প্রতি রণবীর কাপুর নেন ৫০-৭৫ কোটি।  
এবার নায়িকাদের পারিশ্রমিকের তালিকাটা দেখলেই বুঝবেন বৈষম্য কত গভীরে। দীপিকা পাড়ুকোন ‘গহেরাইয়াঁ’ ছবির জন্য ২২ কোটি নিয়েছিলেন। ‘পদ্মাবত’-এর জন্য ১২ কোটি তাঁর ঝুলিতে গিয়েছিল। আলিয়া ভাট ‘আরআরআর’-এ নিয়েছিলেন ২০ কোটি। ‘রাজি’র জন্য ১০ কোটি। প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার ছবি পিছু পারিশ্রমিক ১৪ কোটি মতো। ক্যাটরিনা কইফ আর করিনা কাপুর খান, দু’জনেই প্রতি ছবির জন্য নেন ১২ কোটি। 
ইন্ডাস্ট্রির বাস্তব চেহারা তুলে ধরলেন পরিচালক কেসি বোকাডিয়া। তাঁর কথায়, ‘দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে বলছি আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে চিরকালই পুরুষ আধিপত্য। নায়কের নামেই টিকিট বিক্রি হয়। সেজন্য নায়ক যদি একশ পান, সেখানে নায়িকাদের ঝুলিতে আসে মাত্র দশ। এই চিত্র বদলানো কখনও সম্ভব নয়।’
কেন এই বৈষম্য, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নায়িকারাও। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতির আশু বদলের কোনও লক্ষণ নজরে পড়ে না। বৈষম্যের হিসেব করতে গিয়ে যেটুকু প্রাপ্তি, তাতেও যদি বঞ্চিত হতে হয়? সেই আশঙ্কায় ‘নেই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো’র পথে যেতে বাধ্য তাঁরা।
অন্বেষা দত্ত
দেবারতি ভট্টাচার্য

28th     February,   2024
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ