বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
বিনোদন
 

চিঠি না আসার দেশে পাড়ি

ফোনটা এসেছিল একদা সুপারস্টার তথা প্রযোজক রাজেন্দ্র কুমারের কাছ থেকে। ‘আমি রাজেন্দ্রকুমার বলছি। আমি চাই আমার ‘নাম’ ছবিতে তুমি কাজ করো।’ মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল সঙ্গীতশিল্পী পঙ্কজ উধাসের। ততদিনে বেশ কয়েকটি গজলের অ্যালবাম মুক্তি পেয়েছে শিল্পীর। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও কিছু নামডাক হয়েছে। তা বলে অভিনয়! যে ছবির পরিচালক আবার মহেশ ভাট, অভিনয় করছেন সঞ্জয় দত্ত, কুমার গৌরবের মতো অভিনেতারা, সেই ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব! আসলে তিনি তো অভিনয় করতে চাননি, সঙ্গীতজগতই তাঁর ভালোবাসার ক্ষেত্র।  কিন্তু রাজেন্দ্র কুমারের মতো প্রযোজককে ‘না’ বলবেন কী করে! তাই জবাব এড়িয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। পঙ্কজকে না পেয়ে রাজেন্দ্র কুমার ফোন করলেন শিল্পীর দাদা মনোহর উধাসকে। দাদার ধমক খেয়ে ভয়ে ভয়ে রাজেন্দ্রকে ফোন করলেন পঙ্কজ। জানিয়ে দিলেন, ‘আমি অভিনয় করতে পারব না।’ হতভম্ব প্রযোজক তখন বলেন, ‘কে তোমাকে অভিনয় করতে বলছে? তুমি ছবিতে পঙ্কজ উদাস হিসেবেই গান গাইবে।’ তৈরি হল এক ইতিহাস। ভারতীয় সঙ্গীতজগৎ তাঁর কণ্ঠে পেল সুপার ডুপার হিট গান, ‘চিঠঠি আয়ি হ্যায়’। 
সেই স্বর স্তব্ধ হয়ে গেল। সোমবার ৭২ বছর বয়সে ইহলোকের ‘রিস্তা তেরা মেরা...’ ছিন্ন করে সুরলোকে পাড়ি দিলেন গজলশিল্পী পঙ্কজ উধাস। দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি। এদিন মুম্বইয়ের এক হাসপাতালে সকাল ১১টা নাগাদ প্রয়াত হন শিল্পী। মেয়ে নয়াব উধাস নিশ্চিত করেছেন এ খবর। গুজরাতের জেটপুরে জন্ম তাঁর। কেশুভাই ও জিতুবেন উধাসের তিন সন্তানের কনিষ্ঠ তিনি। ছোট থেকেই বড় হয়েছেন সাঙ্গীতিক ঘরানায়। শৈশবে আগ্রহ ছিল তবলার প্রতি। কিন্তু দুই দাদার গজলের প্রতি টান দেখে তিনিও গজল গাইতে শুরু করেন। শুদ্ধ উচ্চারণে গজল গাইবেন বলে শিখতে শুরু করেন উর্দু। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের তালিম নিয়েছিলেন গুলাম কাদির খানের থেকে। দিলরুবা বাজানো শিখেছিলেন প্রখ্যাত বীণাবাদক আব্দুল করিম খানের থেকে। গোয়ালিয়র ঘরানার জনপ্রিয় শিল্পী নবরং নাগপুরকরের থেকে তালিম নিতে মুম্বই চলে আসেন। চলচ্চিত্রে গান গাওয়ার শুরু ১৯৭১ সালে। ছবির নাম ‘কামনা’। ‘নাম’ ছবিতে তাঁর গাওয়া ‘চিঠঠি আয়ি হ্যায়’ রচনা করল নতুন ইতিহাস। শ্রোতারা পরিচিত হলেন এক নতুন অথচ সুমিষ্ট কণ্ঠস্বরের সঙ্গে। গজলকে নিয়ে গেলেন সাধারণ মানুষের কাছে। ‘জিয়ে তো জিয়ে’, ‘চান্দি জ্যাসা রং’, ‘থোড়ি থোড়ি পেয়ার করো’.... তালিকার শেষ নেই। ‘নশা’, ‘পায়মানা’, ‘হামসফর’-এর মতো অ্যালবাম আজও শ্রোতা হৃদয়ের মনের মণিকোঠায়। ‘পদ্মশ্রী’ সহ দেশ বিদেশের বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি। 
তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ সঙ্গীতজগৎ। সরোদবাদক আমজাদ আলি খান বলেছেন, ‘পঙ্কজ উধাসজির প্রয়াণ সংবাদ শুনে আমি মর্মাহত। এক অন্তহীন শূন্যতা অনুভব করব।’ মুষড়ে পড়েছেন শিল্পী হৈমন্তী শুক্লাও। তাঁর কথায়, ‘সঙ্গীতজগৎটা ক্রমেই শূন্য হয়ে যাচ্ছে। কত ভালো মানুষ ছিলেন। অনেক অনুষ্ঠানে দেখা হয়েছে। বড্ড মন খারাপ হচ্ছে।’ পণ্ডিত বিক্রম ঘোষ বলেন, ‘আমি স্কুলজীবন থেকে ওঁর গান শুনছি। দু’একবার দেখাও হয়েছে। ওঁর মতো শিল্পী আমাদের দেশের গৌরব।’ বংশীবাদক তথা কণ্ঠশিল্পী রসিকা শেখর বলেন, ‘ওঁর সঙ্গে পারফর্ম করার সুযোগ পেয়েছিলাম বলে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে হয়। গানের মতোই ওঁর সারল্য, হাসি চিরকাল হৃদয়ে থেকে যাবে।’ 
গজলের যে নতুন অধ্যায় সূচিত হয়েছিল তাঁর হাত ধরে, তার উপসংহার পর্বে দর্শকের মনে থেকে যাবে, ‘দিল জব সে টুট গ্যায়া...’

27th     February,   2024
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ