বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
সম্পাদকীয়
 

বর্ধিত উৎসব, অধিক দূষণ

বুধবার ছিল দুই দিক থেকে বিশেষ দিন—ভাইফোঁটা এবং বিশ্বকাপ ক্রিকেটের সেমি ফাইনাল। বাঙালির এমনিতেই বারো মাসে তেরো পার্বণ। তার মধ্যে দু-দুটো উপলক্ষ একদিনে! ভ্রাতৃদ্বিতীয়ার মতো ক্রিকেটও বঙ্গজীবনে এক পার্বণ—জাতীয় দলে বাংলার প্রতিনিধিত্ব নাই-বা রইল, ম্যাচটাও ইডেনে না-হলে কিছু এসে যায় না! একে বিশ্বকাপের ম্যাচ, তার উপরে সেমি ফাইনাল এবং হট ফেভারিট বিরাট কোহলির টিম ইন্ডিয়া। অতএব ভাইফোঁটার আনন্দটাকে আরও চওড়া করে নিতে কলকাতাসহ সারা বাংলা বসে গেল টিভি অথবা জায়ান্ট স্ক্রিনের সামনে কিংবা হাতে হাতে চাঙ্গা রাখল মোবাইল। কলকাতাটাই যেন হয়ে উঠেছে ওয়াংখেড়ে। বেলা যত গড়িয়েছে ম্যাচ তত বেশি করে চলে এসেছে বিরাট-রোহিত-শ্রেয়স-সামিদের কব্জায়। ভারতের জার্সি গায়ে, তেরঙ্গা পতাকা হাতে লাফালাফির সঙ্গে চলল নানা স্টাইলে নাচানাচি, তাতে নারী-পুরুষ এবং বয়স কোনও বাধা হয়নি। মহম্মদ সামি রাতের দিকে প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ডের শেষ উইকেট তুলে নিতেই উচ্ছ্বাসের সমস্ত বাঁধ ভেঙে গেল দর্শকের। হবে নাই-বা কেন, ভারত যে ক্রিকেট বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছে গেল। এক যুগ বাদে জগৎসভায় শ্রেষ্ঠ আসন ছিনিয়ে নেওয়ার দূরন্ত হাতছানি! অতএব এই অপার আনন্দঘন মুহূর্তটিকে বরণ করে নিতে দিকে দিকে নতুন করে জ্বলে উঠল উৎসবের আলো এবং মুহুর্মুহু ফাটল বাজি। বিশেষ করে কলকাতা মহানগর যে মাত্র দু’দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় দীপাবলি উদযাপন করল, তাতে সংশয় কী। 
হয়তো যুক্তি উঠে আসবে, এমন আবেগ ক্রিকেট পাগল বাঙালি সংবরণ করবে কী করে? কিন্তু পরিবেশ, পরিস্থিতি এইভাবে ভুলে গেলে বেঁচে থাকাটাই যে কঠিনতর হয়ে উঠবে সকলেরই জন্য—এই বোধ হারিয়ে ফেলাটা কিন্তু ভালো লক্ষণ নয়। কে বলবে, অতি সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার সমীক্ষা রিপোর্ট আমাদের সকলের ভরসার ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে! সারা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি বায়ুদূষণের শিকার দশটি শহরের মধ্যে রয়েছে দিল্লি, কলকাতা ও মুম্বই। দেওয়ালিতে ফাটানো বাজির বিষ দিল্লির বাতাসে এমন ভয়াবহ হয়েছে যে কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর পক্ষে দিল্লিতে থাকা সম্ভব হয়নি। ডাক্তার এবং বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মেনে মঙ্গলবার তিনি উড়ে গিয়েছেন জয়পুর। শ্বাসকষ্টের সমস্যায় ভুগছেন প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি। দু’মাস আগে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন তিনি। তার পরপরই, দিল্লির বাতাস ক্রমে হয়ে উঠেছে শ্বাসরোধী। এজন্য মানুষের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ ছাড়া কাউকেই দোষ দেওয়া যায় না। এই অবস্থায় ১০ নম্বর জনপথের মালকিনকে সুস্থ রাখতে আপাতত সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে নিরাপদ দূরের এক শহরে। কিন্তু সাধারণ মানুষের জন্য তো এই সুযোগ নেই। অতএব তাদের না-মরে বেঁচে থাকতে হবে। 
দিল্লির পরেই দেশের সবচেয়ে দূষণের শিকার শহরের নাম কলকাতা, যাকে আমরা আনন্দনগরী কিংবা তিলোত্তমা নামে ডেকে আহ্লাদ করি। কিন্তু এই শহরকে বাসযোগ্য রাখার দায়িত্ব কতটা পালন করি আমরা? উৎসবের লম্বা মরশুম যে বেপরোয়াভাবে অতিবাহিত হতে দেওয়া হল, তারপর আর কোনও ইতিবাচক উত্তর পাওয়া সম্ভব নয়। কালীপুজো এবং দীপাবলিতে আতশবাজি পোড়ানোর সঙ্গে দেদার ফেটেছে শব্দবাজিও। বাজির ‘সবুজ’ তকমা কতটুকু অবশিষ্ট ছিল, সেই সংশয় কেটেছে স্বয়ং পুলিস কমিশনারের এক হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায়। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ কলকাতার নগরপালের তরফে ওই হোয়াটসঅ্যাপ মারফত পুলিসের সিনিয়র অফিসারদের এই বলে সতর্ক করা হয় যে, ‘শব্দবাজি বেশি ফাটছে। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আপনার অফিসারদের সক্রিয় করুন।’ কালীপুজো ও দীপাবলি পেরনোর পর এই ‘কঠোর’ অবস্থানের মানেটা কী? সর্বনাশ যা হওয়ার সে তো হয়েই গিয়েছে। স্বভাবতই কটাক্ষ করতে ছাড়েনি শহরবাসী—‘এ যে চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে!’ কিন্তু সেই বর্ধিত বুদ্ধিও কি বুধবারের দ্বিতীয় দেওয়ালি উদযাপনে লাগাম পরাতে পারল? এটাই আক্ষেপ, সুস্থ শান্তিকামী নাগরিক সমাজ এই প্রশ্ন বার বারই করে যাবে। কিন্তু তার উত্তর এবং সুরাহাও রয়ে যাবে অধরা—যতদিন না এই সমাজ, এই দেশ সঙ্কীর্ণ রাজনীতির হাতের পুতুল সত্তার ঊর্ধ্বে উঠতে পারছে। 

17th     November,   2023
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ