বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
দক্ষিণবঙ্গ
 

মাঠে তৈরি আখের গুড় কিনতে ক্রেতাদের লাইন

সংবাদদাতা, কান্দি: মাঠে তৈরি, মাঠেই বিক্রি…ভেজালের ভয়! ফলে, কেজি প্রতি ২০ টাকা বেশি দরে দেদার বিকোচ্ছে আখের গুড়। কান্দির যেসব মাঠে গুড় তৈরির ভাটিশাল বসেছে, সেখানে এখন ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইন। মুখে হাসি ফুটেছে আখ চাষি থেকে শুরু করে গুড় প্রস্তুতকারকদের।   
সাধারণত মুদির দোকানে আখের গুড়ের খুচরো দর কেজি প্রতি  ৫০ টাকা। শালে ওই গুড় মিলছে ৭০ টাকায়। পকেট থেকে ২০ টাকা বেশি খসিয়ে কিনছেন ক্রেতারা। তাতেও বেজায় খুশি। বলছেন—‘চোখের সামনে তৈরি হচ্ছে। ভেজাল দেওয়ার সুযোগই নেই। দোকানে এই গুড় গেলে কে যে কী মেশাবে কে জানে! তার চেয়ে বরং টাকা একটু বেশি যায যাক। গুড়টা তো খাঁটি!’ তবে মুদি ব্যবসায়ীদের মতে, খেজুর গুড়ের মতো আখের গুড়ে ভেজাল দেওয়ার সুযোগ একরকম নেই বললেই চলে। অনেকে হয়তো বিহার থেকে কম দামে ভেলিগুড় এনে মিশিয়ে বিক্রি করেন। তাতে আখের গুড়ের গুনমানে কিছুটা হেরফের হলেও হতে পারে।
একদা আখ চাষে সুনাম ছিল কান্দির। সৌজন্যে পলাশী সুগার মিল। উৎপাদিত আখের একটা বড় অংশ চিনি কলে যেত। মাঠের পর মাঠে চাষ হতো আখ। কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দশক আগে কান্দি মহকুমা এলাকায় প্রায় ১২ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে আখ চাষ হতো। সুগার মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আখ চাষে আগ্রহ হারিয়েছেন কৃষকরা। এখন শুধু মাত্র ৪ হাজার হেক্টর জমিতে চাষ হয়। যে সকল জমিতে সেচের অভাব কিংবা পতিত জমি রয়েছে, সেখানেই আখ লাগিয়েছিলেন কৃষকরা। সেগুলি এখন কাটা হচ্ছে।  
সেইসব আখের রস নিঙড়ে তৈরি হচ্ছে গুড়।  বিভিন্ন গ্রামে শালও বসেছে। সেখানেই প্রতিদিন ভিড় করছেন ক্রেতারা। ভরতপুর থানার কোল্লা মাটিয়ারা লোহাদহ খড়গ্রাম থানার ভালকুন্দি পারুলিয়া খাসপুর কান্দি থানার বহড়া লাহারপাড়া সহ প্রভৃতি গ্রামে শাল বসানো হয়েছে। কোল্লা গ্রামের গুড় প্রস্ততকারক স্বপন চুনারি বলেন, ‘আঁখ শালে এখনও বেশি পরিমাণ গুড় তৈরি শুরু হয়নি। কিন্তু ক্রেতা প্রচুর। ভাল গুড়ের জন্য ক্রেতারা দর বেশি দিয়েও গুড় কিনছেন।’
গতবছর এই ধররেন গুড় তৈরির শালগুলিতে গুড়ের দর  ছিল ৬০ টাকা প্রতি কেজি।  এবছর ১০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণেই এই দর বৃদ্ধি বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। কান্দি থানার বহড়া গ্রামে একটি আখ শালে গুড় কিনতে এসেছিলেন  সুদর্শন ত্রিবেদী। তিনি বলছিলেন, ‘দোকানে এই গুড়ের দর কিলোগ্রাম প্রতি ২০ টাকা কম।  আসলে দোকানের গুড়ে ভেজালের সম্ভবনা রয়েছে। এখানে চোখের সামনে তৈরি এই গুড়ে ভেজাল দেওয়ার কোনও  উপায় থাকছে না।’  ইদানীং চিনির প্রতি মানুষের মোহ কমেছে। সেই জায়গায় কদর বেড়েছে আখের গুড়ের। ফলে, মাঠেই তৈরি খাঁটি গুড় কিনে হাসিমুখে ঘরে ফিরছে বহু পরিবার। আসলে, স্বাস্থ্যের সঙ্গে যে টাকার আপোস চলে না!

24th     February,   2024
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ