Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ডেভিলস অ্যাডভোকেট
মৃণালকান্তি দাস 

ফ্যাসিবাদের ভয়াবহতায় কিশোর বয়সে ইহুদি উদ্বাস্তু হিসেবে জার্মানি ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন আমেরিকায়। হেইঞ্জ আলফ্রেড কিসিঞ্জার। নাম বদলে হয়েছিলেন হেনরি। 
হার্ভার্ডে পড়ার সময় এফবিআইয়ের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যুক্ত ছিলেন গোয়েন্দাগিরিতে। আমেরিকার পারমাণবিক অস্ত্র ও বিদেশনীতি নিয়ে তাঁর লেখা বই ‘নিউক্লিয়ার উইপনস অ্যান্ড ফরেন পলিসি’ প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৫৭ সালে। এই বইয়ে তিনি আমেরিকার জয় নিশ্চিত করতে পারমাণবিক বোমা ব্যবহার করতেও পরামর্শ দিয়েছিলেন। সমালোচকরা তাঁর নাম দিয়েছিলেন, ‘ড. হেনরি কিলিঞ্জার’। প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড এম নিক্সনের ‘ডান হাত’ হিসেবে স্নায়ুযুদ্ধের সময়ে মার্কিন কূটনীতির হাল ধরেছিলেন। আবার চীনের উত্থান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো নতুন প্রযুক্তির এই যুগে নানা ক্ষেত্রে ভূমিকা— সবকিছু মিলিয়ে তাঁর শতবর্ষী জীবন নিয়ে বুঁদ হয়ে রয়েছেন অনেকেই। প্রাক্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার বলেছিলেন, ‘সর্বোচ্চ পর্যায়ে কূটনীতি যদি একটি শিল্প হয়ে ওঠে, তাহলে হেনরি কিসিঞ্জার ছিলেন কূটনীতির একজন শিল্পী।’
তবে পশ্চিম দুনিয়ার বাইরে বেশিরভাগ মানুষের কাছেই কিসিঞ্জারের এই জীবন বিতর্কিত। তাঁদের চোখে, মার্কিন ইতিহাসে সবচেয়ে ‘কুখ্যাত’ যুদ্ধাপরাধী তিনিই। স্নায়ুযুদ্ধের সময় নিষ্ঠুর ও নির্দয়ের মতো অবস্থান নিয়েছিলেন কিসিঞ্জার। ইন্দোনেশিয়ার একনায়ক সুহার্তোর নেতৃত্বে পূর্ব তিমুরে, চিলিতে, কম্বোডিয়ায় নির্দয় ও নির্বিচার বোমাবর্ষণের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ ভূমিকা এবং খেমারুজের গণহত্যার পিছনে পরোক্ষভাবে কিসিঞ্জারের সমর্থন ছিল। তিনি আমেরিকার বিদেশ নীতির মহীরুহ হতে পারেন, কিন্তু তাঁর হাতে লেগে রয়েছে নিহত লাখো মানুষের রক্তের দাগ। যে ভিয়েতনাম যুদ্ধ তিন বছর আগেই বন্ধ করা যেত, কিন্তু রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য তা তিনি জিইয়ে রেখেছিলেন। তারই জন্য ১৯৭৩ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন। দুনিয়াজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ উঠেছিল। সমালোচনা ও বিক্ষোভের ভয়ে তিনি পুরস্কার নিতেই যাননি। মার্কিন নথি বলছে, কিসিঞ্জার কোথায় কতগুলি বোমা পাঠাতে হবে, কোথায় কতগুলি বোমা ফেলতে হবে, তা ব্যক্তিগতভাবে তদারক করতেন। এই বোমাবাজি তাঁকে নেশার মতো পেয়ে বসেছিল।
কিসিঞ্জার বরাবর নিজের ভূমিকা জাতীয় স্বার্থের নিরিখে বিচারের কথা বলেছেন। মার্কিন অনুসৃত নীতির কারণে বহু মৃত্যু ও ধ্বংস হয়েছে, এ কথা তিনি স্বীকার করেছেন। কিন্তু তাঁর যুক্তি হল, ‘জন্ম মানেই মৃত্যু, জীবন মানেই যন্ত্রণা।’ তাঁর ভাষায়, এই কূটনীতি ‘রিয়েল পলিটিক’। যার মূল কথা, যেকোনও মূল্যে বিজয় অর্জন করতে হবে। সোজা কথায়, হোক ধ্বংস, হোক মানবাধিকারের লঙ্ঘন, নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য ভালো-মন্দের বাছবিচার অবান্তর। ঠিক এই যুক্তিতেই তিনি উত্তর ভিয়েতনামের নেতৃত্বকে কাবু করার জন্য চীন ও ভিয়েতনামের মধ্যে রেলযোগাযোগ-ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করতে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছিলেন।
নিজের ভূরাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে কিসিঞ্জার কত দূর যেতে প্রস্তুত ছিলেন, তার এক বড় উদাহরণ বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ঢাকায় গণহত্যা শুরু হয়েছিল, এ তথ্য কিসিঞ্জারের অজানা ছিল না। তখন তিনি প্রেসিডেন্ট নিক্সনের সবচেয়ে কাছের লোক। তখন উইলিয়াম রজার্স বিদেশসচিব হলেও কিসিঞ্জারই ছিলেন নিক্সনের মন্ত্রণাদাতা। পাকিস্তানের গণহত্যার নীতির প্রতি সমর্থন জানিয়ে কিসিঞ্জার বলেছিলেন, ‘আমাকে শয়তানের পক্ষে ওকালতি (ডেভিলস অ্যাডভোকেট) করতে দাও।’ গোটা কর্মজীবনে তাই-ই করেছেন!
১৯৭১-এর ২৮ মার্চ ঢাকায় মার্কিন কনসাল জেনারেল আর্চার ব্লাড এক টেলিগ্রামে হোয়াইট হাউসকে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে ‘ভীতির রাজত্ব’ কায়েম হয়েছে বলে যে সতর্কবার্তা পাঠান, পরদিন সকালেই সে তথ্য কিসিঞ্জারের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল। একদিন পর দিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত কিটিং ‘নির্বাচিত গণহত্যা’ এই শিরোনামে এক টেলিগ্রামে অনুরোধ করেন, ‘নীতির ভিত্তিতে কর্মপন্থা নির্ধারণের এখনই সময়’। কিন্তু ঢাকা থেকে সামরিক অভিযানের খবর পেয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার বদলে খুশিই হয়েছিলেন কিসিঞ্জার। ২৯ মার্চ নিক্সনকে জানান, ‘পূর্ব পাকিস্তানের অবস্থা এখন ইয়াহিয়ার নিয়ন্ত্রণে।’ সে কথা শুনে নিক্সনের জবাব ছিল, ‘চমৎকার। মাঝেমধ্যে শক্তির ব্যবহার কাজে লাগে।’ এক সপ্তাহ পর, ৬ এপ্রিল, ঢাকা থেকে ২১ জন মার্কিন কূটনীতিক বাংলাদেশে গণহত্যায় মার্কিন নীরবতায় তাঁদের ‘ভিন্নমত’ জানিয়ে টেলিগ্রামে কড়া বার্তা পাঠান। স্বাক্ষরকারীদের একজন ছিলেন আর্চার ব্লাড। কিন্তু ১৩ মার্চ নিক্সনের কাছে এক মেমোতে কিসিঞ্জার পরামর্শ দেন, ‘এখন এমন কিছুই আমরা করব না, যা ইয়াহিয়ার পক্ষে অস্বস্তিকর। পাকিস্তানের ঐক্যের স্বার্থে আমাদের উচিত ইয়াহিয়ার সঙ্গে থাকা।’ 
আসলে আমেরিকা পাকিস্তানের পক্ষেই থাকবে, বাঙালিদের নয়— নিক্সন ও কিসিঞ্জার এই সিদ্ধান্ত এক বছর আগেই নিয়ে রেখেছিলেন। ১৯৭০ সালের ২৫ অক্টোবর হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে ইয়াহিয়ার সঙ্গে মুখোমুখি এক বৈঠকে সেই সিদ্ধান্ত তাঁরা নেন। নিক্সন তাঁকে জানিয়েছিলেন, ‘আপনাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি আমরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করব।’ জবাবে ইয়াহিয়া বলেছিলেন, ‘আপনাদের বন্ধুত্বের জন্য আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। কথা দিচ্ছি, এমন কিছুই করব না, যাতে আপনারা বিব্রত হন।’
স্টেট ডিপার্টমেন্টের ভিতরেই কিসিঞ্জারের নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ উঠেছিল। পাত্তা দেননি কিসিঞ্জার। নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে তাঁর যুক্তি ছিল, এর ফলে ভারতকে সাহায্য করা হবে। সেই কথার সমালোচনা শুরু হলে কিসিঞ্জার নতুন পথ ধরেছিলেন। বলেছিলেন, এই নীতি আমার নয়, প্রেসিডেন্টের। পাকিস্তান, বিশেষত প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার জন্য নিক্সনের ‘কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে’। পাকিস্তানের প্রতি কেন এই দুর্বলতা, পাকিস্তানের সামরিক শাসকের সঙ্গে কী বিশেষ সম্পর্ক— সে কথা তখনও অনেকের অজানা। জুলাইয়ের মাঝামাঝি জানা গেল, পাকিস্তানের সামরিক শাসকের মধ্যস্থতায় চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা চলছে। নিজের স্মৃতিকথায় কিসিঞ্জার যুক্তি দেখিয়েছেন, চীনের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন আমেরিকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আর সেই সম্পর্ক স্থাপনে ‘একমাত্র’ সূত্র ছিল পাকিস্তানের ইয়াহিয়া। কথাটা মিথ্যে। 
সেই সময় স্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্তা ছিলেন ক্রিস্টোফার ভ্যান হল্যান। পরে এক দীর্ঘ প্রবন্ধে তিনি প্রমাণ করেছেন, শুধু ইয়াহিয়া নয়, রোমানিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান চশেস্কু, ইরানের শাহ ও পোল্যান্ডের মাধ্যমে সেই যোগাযোগের সুযোগ ছিল। বস্তুত ইয়াহিয়ার আগে চশেস্কুর মাধ্যমে চীনা নেতাদের সম্মতিসূচক চিঠি এসে পৌঁছেছিল। ভ্যান হল্যান লিখেছেন, কিসিঞ্জার পিকিং ঘুরে এসেছেন এবং চীনের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে— এই ঘোষণার পর স্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্তারা ভেবেছিলেন, পাকিস্তানের প্রয়োজন ফুরিয়েছে। এবার হয়তো আমেরিকা পূর্ব পাকিস্তানের গণহত্যার ব্যাপারে নীতি বদলাবে। কিসিঞ্জার তাতেও আপত্তি করেন। এবার তাঁর যুক্তি হল, ভারত শুধু পূর্ব পাকিস্তানের বিভক্তি নয়, পাকিস্তান আক্রমণ করে দেশটি দখল করতে চায়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে এতে ইন্ধন জোগাচ্ছে সোভিয়েত ইউনিয়ন। ভ্যান হল্যান জানাচ্ছেন, সিআইএ এবং অন্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলির কেউই এই তথ্য দেয়নি। ভারত পূর্ব পাকিস্তান দখলে উদ্যত, এমন কথাও কোনও পক্ষ থেকেই বলা হয়নি। সবটাই কিসিঞ্জারের মনগড়া। অথচ, দিনের পর দিন এমন মনগড়া তথ্য প্রচার করে ভারতের বিরোধিতা করে গিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে বারবার ‘বিচ’ এবং ভারতীয়দের ‘বাস্টার্ড’ ও ‘সান অব বিচ’ বলতেও ছাড়েননি।
বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনীর যৌথ আক্রমণের মুখে দীর্ঘ সময় পাকিস্তানি সেনারা টিকে থাকতে পারবে না, এ কথা কিসিঞ্জার ও নিক্সনের অজ্ঞাত ছিল না। শেষ চেষ্টা হিসেবে তাঁরা বঙ্গোপসাগরে ভারত-বাংলাদেশ নৌসীমানায় পারমাণবিক অস্ত্র সজ্জিত সপ্তম নৌবহর পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু কোনও সিদ্ধান্তই কাজে আসেনি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ইয়াহিয়া-কিসিঞ্জার-নিক্সন ঠেকাতে পারেননি। কিসিঞ্জার পরে তাঁর ‘হোয়াইট হাউস ইয়ার্স’ গ্রন্থে সাফাই গেয়েছেন, তাঁর জন্যই (পশ্চিম) পাকিস্তানকে বাঁচানো গিয়েছে। বাংলাদেশের গণহত্যায় তিনি বাধা দেননি, কিন্তু ‘সবই করতে হয়েছিল পাকিস্তানকে বাঁচানো জন্য’।
ইতিহাস কীভাবে এই শতবর্ষী কূটনীতিককে মনে রাখবে? বিশ শতকের রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব অস্বীকার করার জো নেই। আগ্রাসী মার্কিন বিদেশনীতির তিনিই প্রণেতা। ভিয়েতনাম থেকে বাংলাদেশ, মধ্যপ্রাচ্য থেকে চিলি—বিগত শতকের প্রতিটি ঘটনায় তাঁর হাতে রক্তের দাগ লেগে রয়েছে। নিউ ইয়র্কের কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক জোসেফ মাসাদ লিখেছেন, আজ প্যালেস্তিনীয়দের যে দুর্দশা, তার প্রধান নকশাকার ছিলেন এই কিসিঞ্জার। মূলত তাঁর পরিকল্পনাতেই ইজরায়েলকে আমেরিকা অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। জাতীয় স্বার্থের নামে যে ‘রিয়েল পলিটিক’ তিনি প্রস্তাব করেন, তার কারণে শুধু লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানিই ঘটেনি, বিশ্বের মানুষের কাছে আমেরিকা নিন্দিত হয়েছে। বিশ ও একুশ শতকে আমেরিকার ইতিহাস যে তার সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের ইতিহাস, তার রূপকার কিসিঞ্জার-ই। বাঙালি সেই প্রয়াত হেনরি কিসিঞ্জারকে মনে রাখবে খুনে ইয়াহিয়ার দোসর হিসেবেই। ব্রিটিশ সাংবাদিক ও লেখক ক্রিস্টোফার হিচেন্স যাঁকে বলেছিলেন, ‘ক্ষমতার পর্নোগ্রাফির এক প্রতীক।’
07th  December, 2023
৩৭০ আসনের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ!
মৃণালকান্তি দাস

লোকসভা ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের আগেই এনডিএ জোট কত আসন পাবে, কত আসনে বিজেপি জয়ী হবে, তা সংসদে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করে দিয়েছেন প্রধামন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী, ‘আমি দেশের মেজাজ দেখে বলছি, এনডিএ ৪০০ পার করবে। আর ভারতীয় জনতা পার্টিকে ৩৭০ সিট অবশ্যই দেবে জনগণ।’
বিশদ

বিজেপি আর দুর্গ নয়, নিছকই কাচের ঘর
হারাধন চৌধুরী

বিখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, হিউম্যারিস্ট স্টিফেন লিকক বলেছিলেন, প্রবাদগুলো নতুন করে লেখা উচিত। কারণ এগুলো প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছে। এমনকী, কিছু প্রবাদ সাম্প্রতিক বাস্তবের বিপরীত ব্যাখ্যাই বহন করছে। প্রবাদ: কাচের ঘরের বাসিন্দাদের কখনওই অন্যের দিকে ঢিল ছোড়া উচিত নয়। বিশদ

28th  February, 2024
বাংলা চুলোয় যাক, কাঁকড়ানীতি জিন্দাবাদ
শান্তনু দত্তগুপ্ত

বাংলায় বসে যাঁরা রাজ্য সরকারের বিরোধিতা করেন, তাঁদের অবস্থা মনিবের প্যান্টে মুখ ঘষা মার্জারের মতো। যদি মনিব মাথাটা একটু থাবড়ে দেন, তাতেই স্বর্গপ্রাপ্তি। চুলোয় যাক বাংলা। উচ্ছন্নে যাক বাঙালি। তাতে তাদের কিছুই আসে যায় না। তাঁরা বিশ্বের দরবারে বাংলাকে জুতো মারতে বেশি আগ্রহী। কেন? কারণ একটাই—তাঁদের 
পার্টি এই রাজ্যে সরকার চালায় না। সন্দেশখালি নামে একটি দ্বীপে তিনটি ব্যক্তিকে ঘিরে বিক্ষোভের আঁচে তাঁরা গোটা বাংলাকে সেদ্ধ করতে মরিয়া। একটি দ্বীপ, দু’টি ব্লক, ১৬টা গ্রাম পঞ্চায়েত, মেরেকেটে সাড়ে চার লক্ষ মানুষ। সমগ্র বাংলার বিচার এর নিরিখে হতে পারে? নাকি হওয়া উচিত?
বিশদ

27th  February, 2024
নির্বাচনী বন্ড নিয়ে ভীত দাতা, গ্রহীতা দু’পক্ষই
হুমায়ুন কবীর

‘না খাউঙ্গা না খানে দুঙ্গা’—বহুল চর্চিত জুমলাটি রাজনীতির অঙ্গন ছাড়িয়ে সমস্ত নাগরিকের মস্তিষ্কে বাসা বেঁধেছে। আমেদাবাদ থেকে আদানির চার্টার্ড ফ্লাইটে তাঁর দিল্লি উড়ে আসা আমরা ভুলিনি। ভুলিনি দূষিত দিল্লির আকাশ-বাতাসে প্রচারের ঢক্কানিনাদ, সঙ্গে প্রতিশ্রুতির বন্যা।
বিশদ

26th  February, 2024
প্রধানমন্ত্রীর নীরবতা কৌশলী, ভাঙা জরুরি
পি চিদম্বরম

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেকে বোঝাতে ‘আমি’ বা ‘আমার’ শব্দ দুটি এড়িয়ে চলেন এবং সেই জায়গায় বরাবর ব্যবহার করেন উত্তম পুরুষ।
বিশদ

26th  February, 2024
সন্দেশখালি দিয়ে গোটা বাংলার বিচার!
হিমাংশু সিংহ

গেল গেল রব উঠেছে চারদিকে। একজনেরও প্রাণ যায়নি। এক রাউন্ডও গুলি চলেনি। আদালত কোনও রায় দেয়নি। ঠিক একুশ সালের বিধানসভা ভোটের আগের রিপ্লে যেন।
বিশদ

25th  February, 2024
আধার বন্ধ কি ঝড়ের পূর্বাভাস?
তন্ময় মল্লিক

বিপুল সরকার থাকেন পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুরের জুহিহাটি গ্রামে। নিজের কোনও ঘরবাড়ি নেই। থাকেন আত্মীয়ের ঘরে। সংসারে অভাব লেপ্টে থাকে ছায়ার মতো। সর্বক্ষণ। ভরসা বলতে খেতমজুরি আর বিনাপয়সার রেশন। অভাব থাকলেও স্বপ্নটাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। বিশদ

24th  February, 2024
দ্বিতীয় মণ্ডল: কংগ্রেসকে বদলে দিচ্ছেন রাহুল?
সমৃদ্ধ দত্ত

রাহুল গান্ধী শুধু নিজের রাজনৈতিক কেরিয়ারে নয়, স্বাধীনতার পর কংগ্রেসের ইতিহাসেও সম্ভবত সবথেকে বড় এক সিদ্ধান্ত এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাজি নিয়েছেন ঠিক লোকসভা ভোটের আগে। নিজের দলের ইতিহাসের ঘোষিত অথবা অঘোষিত অবস্থানের ঠিক বিপরীত অবস্থানে গিয়ে রাহুল গান্ধী সরাসরি জাতিগত রাজনীতিতে প্রবেশ করছেন। বিশদ

23rd  February, 2024
হিন্দুত্ববাদী পপস্টারদের এজেন্ডা
মৃণালকান্তি দাস

হিন্দুত্ববাদীদের জন্য এই ‘ভক্তিমূলক’ গান রচেছেন প্রেম কৃষ্ণবংশী। যার বাংলা তর্জমা: ‘তুমি মানুষ নও, তুমি কসাই; যথেষ্ঠ হয়েছে হিন্দু-মুসলিম ভাই ভাই।’ বিদ্বেষমূলক রাজনীতির টানে কৃষ্ণবংশীর এই গান এখন গোবলয়ে নতুন গণসংস্কৃতির অংশ। বিশদ

22nd  February, 2024
বারবার আক্রান্ত হয়েছে বাংলা ভাষা
সন্দীপন বিশ্বাস

বাংলা ভাষার যে প্রাচীনতম নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে, তা কম করে হাজার বছরের। মোটামুটি ‘চর্যাপদ’ই হল বাংলা ভাষার প্রথম প্রামাণ্য গ্রন্থ। এই হাজার বছর ধরে বাংলা ভাষাকে বার বার লড়াই করতে হয়েছে অন্য ভাষার সঙ্গে। তার উপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে অন্য ভাষাকে। বিশদ

21st  February, 2024
‘ফ্রিজ’ হয়েছে কংগ্রেসের রাজনৈতিক লক্ষ্যটাই
শান্তনু দত্তগুপ্ত

প্রথমে অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজ’। তারপর শর্তসাপেক্ষে ব্যবহারের অনুমতি। কী সেই শর্ত? প্রথমত, টাকা জমা দেওয়া যাবে না। আর দ্বিতীয়ত, টাকা তোলা যাবে, কিন্তু কী কারণে তোলা হচ্ছে এবং কোন খাতে খরচ, সেটা জানাতে হবে আয়কর দপ্তরকে। বিশদ

20th  February, 2024
সব কালো অথবা সাদা
পি চিদম্বরম

পাগলামির ভিতরেও মাঝেমধ্যে একটা পদ্ধতি থাকে। একটা সরকার তার শেষ বাজেট পেশ করল সাধারণ নির্বাচনের মুখে। তার বদলে পরবর্তী অর্থবর্ষের এপ্রিল থেকে জুলাই মাসের জন্য ‘ভোট অন অ্যাকাউন্ট’ সংবলিত একটা অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করতে পারত তারা। বিশদ

19th  February, 2024
একনজরে
বর্তমান সময়ে শতায়ু পার করা বিরল না হলেও অনেক ক্ষেত্রেই তা থেকে যায় চোখের আ‌ড়া঩লে। তবে লন্ডনের বাসিন্দা দহিবেন জীবরাজ কারামশি শাহের গল্পটা একটু অন্যরকম। ...

‘মোরা একই বৃন্তে দুটি কুসুম, হিন্দু-মুসলমান...।’ বিদ্রোহী কবির এই সম্প্রীতির বাণীকে ছড়িয়ে দিতে আজ, বৃহস্পতিবার থেকে কাঁথি-১ ব্লকের মাজনার তাজপুর সুপারস্টার ক্লাবের পরিচালনায় শুরু হচ্ছে ...

ই এম বাইপাস সংলগ্ন শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে পানীয় জলের মিটার চুরির ঘটনা ঘটছে। কলকাতা পুরসভার দাবি, পাটুলি, কসবা ও যাদবপুর থানায় গত এক বছরে এ ...

‘নফরত কি বাজার মে মহব্বত কা টুর্নামেন্ট’। এই শ্লোগান সামনে রেখে হরিশ্চন্দ্রপুর-২ ব্লকের মশালদহ অঞ্চল কংগ্রেস ও যুব কংগ্রেসের পরিচালনায় চলছে আট দলীয় মহিলা ফুটবল। রাহুল গান্ধীর ন্যায়যাত্রাকে সমর্থন জানিয়ে এই টুর্নামেন্টে বুধবার দ্বিতীয় দিন নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

জীবাণুঘটিত রোগ বৃদ্ধিতে দেহ কষ্ট। সন্তানের সাফল্যে আনন্দ। কর্মোন্নতি ও আয় বৃদ্ধি। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৫০৪ - ক্রিস্টোফার কলম্বাস তার জ্যোতির্বিজ্ঞানের জ্ঞান কাজে লাগিয়ে একটি চন্দ্রগ্রহণের ভবিষ্যদ্বাণী করেন
 ১৪৬৮ - পোপ দ্বিতীয় পলের জন্ম
১৭১২ - সুইডেনে ২৯ ফেব্রুয়ারির পর ৩০ ফেব্রুয়ারি পালনের সিদ্বান্ত হয়। এর কারণ তারা আগের নিয়মে ফিরতে চেয়েছিল।
১৮৯৬ - ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেসাইয়ের জন্ম



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৮২.৪৩ টাকা ৮৩.৫২ টাকা
পাউন্ড ১০৩.৮১ টাকা ১০৬.৪৪ টাকা
ইউরো ৮৮.৬৮ টাকা ৯১.১১ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৬২,৬৫০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৬২,৯৫০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৫৯,৮৫০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৬৯,৮৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৬৯,৯৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১৬ ফাল্গুন, ১৪৩০, বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪। পঞ্চমী অহোরাত্র। চিত্রা নক্ষত্র ১০/৪৯ দিবা ১০/২২। সূর্যোদয় ৬/২/৩৭, সূর্যাস্ত ৫/৩৫/৫৭। অমৃতযোগ রাত্রি ১/৩ গতে ২/৩৩ মধ্যে। মাহেন্দ্রযোগ দিবা ৭/৩৫ মধ্যে পুনঃ ১০/৪০ গতে ১২/৫৮ মধ্যে। বারবেলা ২/৪২ গতে অস্তাবধি। কালরাত্রি ১১/৪৯ গতে ১/২৩ মধ্যে। 
১৬ ফাল্গুন, ১৪৩০, বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪। পঞ্চমী রাত্রি ২/৩৪। চিত্রা নক্ষত্র দিবা ৭/৪৪। সূর্যোদয় ৬/৫, সূর্যাস্ত ৫/৩৫। অমৃতযোগ রাত্রি ১২/৫৫ গতে ৩/১৯ মধ্যে। মাহেন্দ্রযোগ দিবা ৭/২৯ মধ্যে ও ১০/৩১ গতে ১২/৫৬ মধ্যে। কালবেলা ২/৪৩ গতে ৫/৩৫ মধ্যে। কালরাত্রি ১১/৫০ গতে ১/২৪ মধ্যে। 
১৮ শাবান।

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
শেখ শাহজাহানকে ৬ বছরের জন্য সাসপেন্ড করল তৃণমূল, সরানো হল দলীয় সমস্ত পদ থেকেও

03:22:38 PM

৫৩ পয়েন্ট উঠল সেনসেক্স

02:54:45 PM

অশীতিপর যাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় এয়ার ইন্ডিয়া বিমান সংস্থাকে ৩০ লক্ষ টাকার জরিমানা

02:42:24 PM

কোচবিহারে একাধিক জায়গায় তল্লাশি অভিযান পুলিসের
কোচবিহারে একই সঙ্গে একাধিক জায়গায় তল্লাশি অভিযান পুলিসের। ওই বাড়িগুলির ...বিশদ

02:19:42 PM

দুর্গাপুরের একটি কারখানায় দুর্ঘটনা, গুরুতর জখম ৪ জন

02:13:30 PM

১৫৯ পয়েন্ট উঠল সেনসেক্স

01:27:29 PM