Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

টোকাটুকিতে ফার্স্টের আস্ফালন
হারাধন চৌধুরী

কংগ্রেস হিমাচল প্রদেশে সরকার তৈরি করেছিল ১১ ডিসেম্বর, ২০২২। বিজেপির জয়রাম ঠাকুরকে ক্ষমতাচ্যুত করে মুখ্যমন্ত্রী হন কংগ্রেসের সুখবিন্দর সিং সুখু। ২০ মে, ২০২৩ কর্ণাটকে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নিলেন কংগ্রেস নেতা সিদ্দারামাইয়া (সিদ্ধু)। বিজেপির বাসবরাজ বোম্মাইয়ের কাছ থেকে কুর্সি ছিনিয়ে নেন তিনি। কংগ্রেসের এই বিপুল জয়ের সামনে ধরাশায়ী হয় পূর্বতন দুই শাসক দল বিজেপি এবং জেডিএস। অর্থাৎ ছ’মাসেরও কম সময়ের মধ্যে পরপর দুটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতা হারানোয় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে যায় ‘মোদি ম্যাজিক’ তত্ত্ব। নরেন্দ্র মোদি শুধু সরকারে নন, বিজেপি এবং এনডিএ-তেও ‘একনায়ক’। কিন্তু তাঁর ক্যারিশমা ফিকে হতেই রাজ্যে রাজ্যে দলের মধ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকট হতে থাকে। দ্রুত ভাঙন ধরে এনডিএ’তেও। অকালি দলের পর একে একে এনডিএ ছেড়েছে শিবসেনা (উদ্ধব গোষ্ঠী), জেডিইউ, এআইএডিএমকে এবং কয়েকটি ছোট দল। মওকা বুঝে বিরোধীরা তেড়েফুঁড়ে ‘ইন্ডিয়া’ মহাজোট গঠন করেছে। অমনি পাল্টা দিতে গত ১৯ জুলাই ৩৯ দলের ‘আরও তেজি’ এনডিএ-র চেহারা তুলে ধরেন মোদি। কিন্তু এই জোটে বিজেপি ছাড়া বাস্তবে কোনও উল্লেখযোগ্য দল যে নেই, তা সকলে জানেন।
এই অবস্থাতেই, হল পাঁচ রাজ্যে বিধানসভার ভোট। বৈতরণী পেরনোর জন্য বিজেপি এবার নতুন প্ল্যান নেয়। কোনও রাজ্যেই আলাদাভাবে কোনও স্থানীয় ‘মুখ’ সামনে আনেনি তারা। সর্বত্রই ভোট চাওয়া হয়েছে মোদির নামে। কোনও সন্দেহ নেই, মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি দখল নিয়ে রাজ্যে রাজ্যে যে ঘরোয়া কোন্দল রয়েছে, সেটা ধামাচাপা দিতেই এই কৌশল। অন্যদিকে, প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ‘গণতন্ত্রী’ কংগ্রেস বলল, তারা মনে করে বিধানসভা নির্বাচনে হাইকমান্ড নয় স্থানীয় নেতৃত্বেরই গুরুত্ব পাওয়া উচিত। দুটি লাইনেরই ভালোমন্দ দুটি দিক এবং ঝুঁকি আছে। ৩ ও ৪ ডিসেম্বর রেজাল্ট বেরনোর পর পরিষ্কার হয় যে, এই জুয়ায় বিজেপি’ই জিতেছে।
কিন্তু শুধু এই কৌশলেই হিন্দি বলয়ের তিন রাজ্যে বিজেপি জেতেনি এবং বিশেষ শক্তিবৃদ্ধি করেনি দক্ষিণী রাজ্য তেলেঙ্গানায়। বাকিটা ছিল মানুষের মন জয়ের নানা দিক। বিজেপির হিন্দুত্বের তাস অত্যন্ত পুরনো। বহু ব্যবহারে অস্ত্রটির ধার আর কতটা অবশিষ্ট আছে, তা নিয়ে গেরুয়া শিবিরের অন্দরেই সংশয় থাকা অস্বাভাবিক নয়। অতএব মোদিরা এবার গরিব ও মধ্যবিত্তের মন জয়ের জন্যও বিপুল পসরা সাজিয়েছিলেন। কৃষকদের সঙ্কট, নারীর ক্ষমতায়ন, রান্নার গ্যাসের দাম, বেকারত্ব, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং অন্য আর্থ-সামাজিক ইস্যুগুলিতে দিল্লির বিরুদ্ধে যে অভিযোগের তর্জনী উঁচু হয়ে রয়েছে, তা খর্ব করতে কিছু ‘মানবিক’ ঘোষণা রয়েছে বিজেপির ইস্তাহারে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য—ফ্রি রেশনের মেয়াদ বৃদ্ধি, ভর্তুকি বৃদ্ধি রান্নার গ্যাসে, সারে ভর্তুকি প্রদান, এমএসপি’তে কৃষকের ধানক্রয়, বিনামূল্যে শস্যবিমা প্রভৃতি। বিপুল অর্থের পিএম জনজাতি আদিবাসী ন্যায় মহা অভিযান নামের একটি প্রকল্পও ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। মধ্যপ্রদেশে বিজেপি ক্ষমতা পুনর্দখল করেছে ‘লাডলি বহেনা’য় ভর করে। সারা দেশ জানে, এটা বাংলার অতিজনপ্রিয় লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সোজাসাপটা টুকলি। বাকিগুলিও কমবেশি বিভিন্ন বিরোধী রাজ্যের ‘হল কালেকশন’। পাঁচ রাজ্যেই কংগ্রেস গরিব ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্য নানাবিধ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। বস্তুত কংগ্রেস-সহ বিরোধীদের সঙ্গে ‘রেউড়ি’ বিতরণের প্রতিযোগিতার উপরেই বেশি ভরসা রেখেছিল মোদির পার্টি। 
কিন্তু মোদির রেউড়িকে ভোটদাতারা কি বেশি মিষ্টি মানলেন? হিন্দি বলয়ের রেজাল্টের পর রাজনৈতিক মহলকে প্রশ্নটি ভাবাচ্ছে। অন্যদিকে, কংগ্রেস-সহ মধ্যপন্থী রাজনৈতিক দলগুলি কি তাদের চেনা জনমুখী লাইনে কিঞ্চিৎ হলেও আস্থা হারিয়েছে? তা না-হলে এবার কেন তারা হিন্দুত্বের লাইনে মোদির সঙ্গেই প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হল? খেয়াল করার মতো ব্যাপার এই যে, গত মার্চে কর্ণাটকে মোদিকেই সামনে রেখে হিন্দুত্বের যাবতীয় অস্ত্র প্রয়োগ করেছিল বিজেপি। তবু সেখানে ক্ষমতা ধরে রাখতে পারেনি তারা। এটা দেখার পরও নরম হিন্দুত্বের লাইন থেকে বহুগুণ বেড়েই খেলল এবার কংগ্রেস। রাহুল গান্ধী এবং অন্য কিছু নামী কংগ্রেস নেতার মন্দিরে মন্দিরে পুজোপাঠের ছবি ব্যাপকভাবে প্রচার পেয়েছে। দারিদ্র্য-পীড়িত ছত্তিশগড়ের ভূপেশ বাঘেল সরকার ‘রাম বনগমন পথ’ প্রকল্প গড়তে বিপুল টাকা খরচ করেছে। নয়টি স্থানে বড় মন্দির নির্মাণসহ রামচন্দ্রের মূর্তি বসানো হচ্ছে। কংগ্রেসি মুখ্যমন্ত্রী তাঁর এই কৃতিত্বকে অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণেরও ঊর্ধ্বে রেখেছেন! জনসভায় প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছিলেন বাঘেল, ‘বিজেপি কি কংগ্রেসের চেয়ে বড় হিন্দু?’ পুষ্করের জগৎপিতা ব্রহ্মা মন্দিরের রূপ বদলে ব্যস্ত হয়েছিল রাজস্থানের কংগ্রেস সরকার। মরুরাজ্যের মন্দিরটি মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট গড়ে তুলছিলেন অযোধ্যার রাম মন্দিরের আদলে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কমলনাথও মন্দির-রাজনীতিতে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিংকে দশ গোল দিতে সক্রিয় ছিলেন। গেরুয়া শিবিরের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে মন্দির রাজনীতির প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হন তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কেসিআর-ও। সরকারি কোষাগার উজাড় করে একাধিক হিন্দুমন্দির নির্মাণ ও সংস্কারে জোর দেন তিনি। চার রাজ্যের রেজাল্ট এটাই কি বুঝিয়ে দিল না, ‘কণ্ঠীদের’ গান মানুষ তেমন পাত্তা দেয় না?
রবিবারের রেজাল্ট ছিল বিজেপির পক্ষে ৩/৪ বা কংগ্রেসের পক্ষে১/৪। সোমবার মিজোরামে জেডপিএম জয়ী হওয়ার পরও উপর্যুক্ত দল দুটির জন্য রেজাল্ট অবিকৃত মনে হতে পারে, বাস্তবে কিন্তু তা নয়। কারণ ২০১৮ সালের রেজাল্টের পাশে উত্তর-পূর্বের এই ক্ষুদ্র রাজ্যেও কংগ্রেস অনেক পিছনে চলে গিয়েছে। গতবার পাঁচটি আসন পেয়ে কংগ্রেস তৃতীয় স্থানে ছিল, এবার সেই জায়গাটিও রইল না, একটি আসনের মালিক কংগ্রেস এবার ৪ নম্বরে নেমে গিয়েছে। এমনকী নাগাল্যান্ডে একটি আসনের উপনির্বাচনেও গোহারা রাহুল গান্ধীর দল। অন্যদিকে, তেলেঙ্গানায় ক্ষমতায় না গিয়েও বিজেপি এগিয়েছে অনেকটাই—আসন ১ থেকে ৮ হয়েছে।
রাজ্য দখলের ক্ষেত্রে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেসের থেকে কয়েক যোজন এগিয়ে গেল বিজেপি। এই ভোটের আগে বিজেপি এককভাবে ক্ষমতায় ছিল দশটি (হরিয়ানা, ইউপি, উত্তরাখণ্ড, এমপি, গোয়া, গুজরাত, ত্রিপুরা, অসম, মণিপুর ও অরুণাচল) রাজ্যে। রবিবার রাজস্থান ও ছত্তিশগড়ে জয়ের পর বিজেপি এক ডজন রাজ্যের ‘মালিক’ হয়ে উঠেছে। এনডিএ হিসেবে আরও পাঁচটি (মহারাষ্ট্র, পুদুচেরি, মেঘালয়, সিকিম ও মিজোরাম) রাজ্যে ক্ষমতা ভোগ করে দলটি। কোনও সন্দেহ নেই দল এবং এনডিএ-র ফাটল মেরামতে মোদির এই সাফল্য অনেকখানি সহায়ক হবে। ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে পার্লামেন্টের ভিতরে বাইরে গেরুয়া শিবিরের নয়া আস্ফালন! সব মিলিয়ে এটাই দাঁড়ায় যে, লোকসভা নির্বাচনের আগের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক লড়াই শেষে কংগ্রেসের মুখ সোমবার আরও বেশি ম্লান হয়েছে। তাহলে ব্রাত্য ‘মোদি ম্যাজিক’ তত্ত্বই ফের মাথা তুলছে না কি?
কংগ্রেসের এই পাহাড়প্রমাণ ব্যর্থতার জন্য রাহুল গান্ধীদের চেনা ‘দাদাগিরি’র মানসিকতাই যে বহুলাংশে দায়ী, তাতে সংশয় নেই। উদাহরণ—মধ্যপ্রদেশে অখিলেশ যাদবের সপা, গন্ডোয়ানা গণতন্ত্র পার্টি, রাজস্থানে ভারতীয় আদিবাসী পার্টি, জনতা কংগ্রেস ছত্তিশগড়, তেলেঙ্গানায় সিপিএম প্রভৃতি সামান্য কিছু আসন চেয়েও কংগ্রেসের কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়। হিন্দি বলয়ে আপ, সিপিআই, জেডি(ইউ) প্রভৃতিও এবার কংগ্রেসের বিরুদ্ধে একা লড়েছিল। এইসব ছোটখাট আহত শক্তি জায়গা ও ক্ষমতা অনুযায়ী কংগ্রেসকে উচিত শিক্ষা দিতে দেরিও করেনি।
‘ইন্ডিয়া’ জোটের পরবর্তী বৈঠকের আগেই, সংশ্লিষ্ট অনেকে মুখ খুলতে শুরু করেছেন ‘সামন্ত প্রভু’ কংগ্রেসের বিরুদ্ধে।  পরিস্থিতি যা, তাতে ‘ম্যাজিশিয়ান’ মোদির মোকাবিলায় একজন  সমকক্ষ ম্যাজিশিয়ানকেই সামনে রাখা অনিবার্য হয়ে উঠেছে। এমন গুরুদায়িত্বে তাঁকেই মানায় যাঁকে সারা দেশ চেনে, যিনি বিজেপির মোকাবিলা করে জিততে অভ্যস্ত ও সিদ্ধহস্ত এবং যিনি সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ। সোনিয়া গান্ধীর পুত্র ও কন্যার নাম এখন আর কোনও যুক্তিতেই বিবেচনায় আসে না। কারণ রাজনৈতিক-প্রশাসনিক পরীক্ষায় তাঁরা বারবার ফেল করেছেন—এবার তো বটেই। সার্বিকভাবে ‘ইন্ডিয়া’র উজ্জ্বল মুখ হয়ে ওঠার জন্য বাংলার জননেত্রী, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চেয়ে যোগ্যতর কেউ নেই। প্রতিটি ভোট বৈতরণী পেরতে যে ‘গোবৎস’ ভরসা, তার নানারূপ একা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরই আবিষ্কার। প্রকৃত উন্নয়নের সংজ্ঞা ও পন্থা গত এক দশকে বদলে দিয়েছেন তিনি। মমতার উন্নয়নচিন্তারই অনবদ্য কিছু ফসল হল—লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী, ও রূপশ্রী, ট্যাব ও সবুজসাথী, খাদ্যশ্রী, স্বাস্থ্যসাথী, কৃষকবন্ধু প্রভৃতি। জয়ের ভোট পেতে মোদির পার্টিই এবার স্বনামে-বেনামে সবচেয়ে বেশি এই ‘রেউড়ি’ খাইয়েছে মানুষকে। সোজা কথায়, মমতার খাতা সামনে রেখেই গণটোকাটুকি হয়েছে এই পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনে।
অতএব ‘ইন্ডিয়া’র ঘরে উন্নয়নের এমন পরীক্ষিত ও সুসফল মুখ থাকতে তারা কেন আদাড়ে-বাদাড়ে হাতড়াতে যাবে? জানুয়ারিতে অযোধ্যায় রামমন্দির উদ্বোধন করে ভোটের দামামা সরকারিভাবে বাজানো হবে ঠিকই, কিন্তু ‘রেউড়ি লাইন’ ছেড়ে বেরনোর হিম্মত মোদিবাবুদেরও আর হবে না। সেখানে মমতার প্রকৃত উন্নয়নের নীতি ফেলে হিন্দুত্বের নিন্দনীয় লাইনই-বা টুকতে যাবে কোন দুর্বুদ্ধিতে—তাঁকে সামনে রেখে প্রকৃত জনকল্যাণের নীতিতেই অধিক আস্থা রাখা দরকার ইন্ডিয়ার—গরিব এবং মধ্যবিত্তরাই যে এখনও এই গণতন্ত্রের মূল শক্তি। গরিবের উন্নয়নের নীতি ম্যাজিকের মতোই অত্যন্ত কার্যকরী উপলব্ধি করেই না, প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী মমতার সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচির টাকা আটকে দিতে আজও মরিয়া মোদি সরকার? টুকে ফার্স্ট হওয়াই যায়, তবে তার মুখে আস্ফালন বড়ই বেমানান।
06th  December, 2023
৩৭০ আসনের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ!
মৃণালকান্তি দাস

লোকসভা ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের আগেই এনডিএ জোট কত আসন পাবে, কত আসনে বিজেপি জয়ী হবে, তা সংসদে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করে দিয়েছেন প্রধামন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী, ‘আমি দেশের মেজাজ দেখে বলছি, এনডিএ ৪০০ পার করবে। আর ভারতীয় জনতা পার্টিকে ৩৭০ সিট অবশ্যই দেবে জনগণ।’
বিশদ

বিজেপি আর দুর্গ নয়, নিছকই কাচের ঘর
হারাধন চৌধুরী

বিখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, হিউম্যারিস্ট স্টিফেন লিকক বলেছিলেন, প্রবাদগুলো নতুন করে লেখা উচিত। কারণ এগুলো প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছে। এমনকী, কিছু প্রবাদ সাম্প্রতিক বাস্তবের বিপরীত ব্যাখ্যাই বহন করছে। প্রবাদ: কাচের ঘরের বাসিন্দাদের কখনওই অন্যের দিকে ঢিল ছোড়া উচিত নয়। বিশদ

28th  February, 2024
বাংলা চুলোয় যাক, কাঁকড়ানীতি জিন্দাবাদ
শান্তনু দত্তগুপ্ত

বাংলায় বসে যাঁরা রাজ্য সরকারের বিরোধিতা করেন, তাঁদের অবস্থা মনিবের প্যান্টে মুখ ঘষা মার্জারের মতো। যদি মনিব মাথাটা একটু থাবড়ে দেন, তাতেই স্বর্গপ্রাপ্তি। চুলোয় যাক বাংলা। উচ্ছন্নে যাক বাঙালি। তাতে তাদের কিছুই আসে যায় না। তাঁরা বিশ্বের দরবারে বাংলাকে জুতো মারতে বেশি আগ্রহী। কেন? কারণ একটাই—তাঁদের 
পার্টি এই রাজ্যে সরকার চালায় না। সন্দেশখালি নামে একটি দ্বীপে তিনটি ব্যক্তিকে ঘিরে বিক্ষোভের আঁচে তাঁরা গোটা বাংলাকে সেদ্ধ করতে মরিয়া। একটি দ্বীপ, দু’টি ব্লক, ১৬টা গ্রাম পঞ্চায়েত, মেরেকেটে সাড়ে চার লক্ষ মানুষ। সমগ্র বাংলার বিচার এর নিরিখে হতে পারে? নাকি হওয়া উচিত?
বিশদ

27th  February, 2024
নির্বাচনী বন্ড নিয়ে ভীত দাতা, গ্রহীতা দু’পক্ষই
হুমায়ুন কবীর

‘না খাউঙ্গা না খানে দুঙ্গা’—বহুল চর্চিত জুমলাটি রাজনীতির অঙ্গন ছাড়িয়ে সমস্ত নাগরিকের মস্তিষ্কে বাসা বেঁধেছে। আমেদাবাদ থেকে আদানির চার্টার্ড ফ্লাইটে তাঁর দিল্লি উড়ে আসা আমরা ভুলিনি। ভুলিনি দূষিত দিল্লির আকাশ-বাতাসে প্রচারের ঢক্কানিনাদ, সঙ্গে প্রতিশ্রুতির বন্যা।
বিশদ

26th  February, 2024
প্রধানমন্ত্রীর নীরবতা কৌশলী, ভাঙা জরুরি
পি চিদম্বরম

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেকে বোঝাতে ‘আমি’ বা ‘আমার’ শব্দ দুটি এড়িয়ে চলেন এবং সেই জায়গায় বরাবর ব্যবহার করেন উত্তম পুরুষ।
বিশদ

26th  February, 2024
সন্দেশখালি দিয়ে গোটা বাংলার বিচার!
হিমাংশু সিংহ

গেল গেল রব উঠেছে চারদিকে। একজনেরও প্রাণ যায়নি। এক রাউন্ডও গুলি চলেনি। আদালত কোনও রায় দেয়নি। ঠিক একুশ সালের বিধানসভা ভোটের আগের রিপ্লে যেন।
বিশদ

25th  February, 2024
আধার বন্ধ কি ঝড়ের পূর্বাভাস?
তন্ময় মল্লিক

বিপুল সরকার থাকেন পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুরের জুহিহাটি গ্রামে। নিজের কোনও ঘরবাড়ি নেই। থাকেন আত্মীয়ের ঘরে। সংসারে অভাব লেপ্টে থাকে ছায়ার মতো। সর্বক্ষণ। ভরসা বলতে খেতমজুরি আর বিনাপয়সার রেশন। অভাব থাকলেও স্বপ্নটাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। বিশদ

24th  February, 2024
দ্বিতীয় মণ্ডল: কংগ্রেসকে বদলে দিচ্ছেন রাহুল?
সমৃদ্ধ দত্ত

রাহুল গান্ধী শুধু নিজের রাজনৈতিক কেরিয়ারে নয়, স্বাধীনতার পর কংগ্রেসের ইতিহাসেও সম্ভবত সবথেকে বড় এক সিদ্ধান্ত এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাজি নিয়েছেন ঠিক লোকসভা ভোটের আগে। নিজের দলের ইতিহাসের ঘোষিত অথবা অঘোষিত অবস্থানের ঠিক বিপরীত অবস্থানে গিয়ে রাহুল গান্ধী সরাসরি জাতিগত রাজনীতিতে প্রবেশ করছেন। বিশদ

23rd  February, 2024
হিন্দুত্ববাদী পপস্টারদের এজেন্ডা
মৃণালকান্তি দাস

হিন্দুত্ববাদীদের জন্য এই ‘ভক্তিমূলক’ গান রচেছেন প্রেম কৃষ্ণবংশী। যার বাংলা তর্জমা: ‘তুমি মানুষ নও, তুমি কসাই; যথেষ্ঠ হয়েছে হিন্দু-মুসলিম ভাই ভাই।’ বিদ্বেষমূলক রাজনীতির টানে কৃষ্ণবংশীর এই গান এখন গোবলয়ে নতুন গণসংস্কৃতির অংশ। বিশদ

22nd  February, 2024
বারবার আক্রান্ত হয়েছে বাংলা ভাষা
সন্দীপন বিশ্বাস

বাংলা ভাষার যে প্রাচীনতম নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে, তা কম করে হাজার বছরের। মোটামুটি ‘চর্যাপদ’ই হল বাংলা ভাষার প্রথম প্রামাণ্য গ্রন্থ। এই হাজার বছর ধরে বাংলা ভাষাকে বার বার লড়াই করতে হয়েছে অন্য ভাষার সঙ্গে। তার উপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে অন্য ভাষাকে। বিশদ

21st  February, 2024
‘ফ্রিজ’ হয়েছে কংগ্রেসের রাজনৈতিক লক্ষ্যটাই
শান্তনু দত্তগুপ্ত

প্রথমে অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজ’। তারপর শর্তসাপেক্ষে ব্যবহারের অনুমতি। কী সেই শর্ত? প্রথমত, টাকা জমা দেওয়া যাবে না। আর দ্বিতীয়ত, টাকা তোলা যাবে, কিন্তু কী কারণে তোলা হচ্ছে এবং কোন খাতে খরচ, সেটা জানাতে হবে আয়কর দপ্তরকে। বিশদ

20th  February, 2024
সব কালো অথবা সাদা
পি চিদম্বরম

পাগলামির ভিতরেও মাঝেমধ্যে একটা পদ্ধতি থাকে। একটা সরকার তার শেষ বাজেট পেশ করল সাধারণ নির্বাচনের মুখে। তার বদলে পরবর্তী অর্থবর্ষের এপ্রিল থেকে জুলাই মাসের জন্য ‘ভোট অন অ্যাকাউন্ট’ সংবলিত একটা অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করতে পারত তারা। বিশদ

19th  February, 2024
একনজরে
মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষক পদপ্রার্থীদের শর্তসাপেক্ষে নিয়োগ দেওয়া যায় কি না, খতিয়ে দেখবে শিক্ষাদপ্তর ও স্কুল সার্ভিস কমিশন। বিকাশ ভবনে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু, শিক্ষাসচিব এবং ...

লোকসভা ভোটের আগে মরুরাজ্যে ফের প্রকাশ্যে বিজেপির অন্তর্কলহ। বুধবার আজমিরে প্রাক নির্বাচনী বৈঠক চলছিল গেরুয়া শিবিরের। সেই বৈঠকের মাঝপথে বেরিয়ে যান বিধায়ক অনিতা ভাদেল। এদিনের ...

আগামী অর্থবর্ষে যাত্রীবাহী গাড়ির বাজার বাড়াতে সাহায্য করবে ‘স্পোর্ট ইউটিলিটি ভেহিকল’ বা এসইউভি। দেশের অন্যতম ক্রেডিট রেটিং সংস্থা ক্রিসিলের দাবি, আগামী অর্থবর্ষে যাত্রীবাহী গাড়ির সার্বিক বাজার এবারের তুলনায় অন্তত পাঁচ থেকে সাত শতাংশ বাড়বে। ...

‘নফরত কি বাজার মে মহব্বত কা টুর্নামেন্ট’। এই শ্লোগান সামনে রেখে হরিশ্চন্দ্রপুর-২ ব্লকের মশালদহ অঞ্চল কংগ্রেস ও যুব কংগ্রেসের পরিচালনায় চলছে আট দলীয় মহিলা ফুটবল। রাহুল গান্ধীর ন্যায়যাত্রাকে সমর্থন জানিয়ে এই টুর্নামেন্টে বুধবার দ্বিতীয় দিন নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

জীবাণুঘটিত রোগ বৃদ্ধিতে দেহ কষ্ট। সন্তানের সাফল্যে আনন্দ। কর্মোন্নতি ও আয় বৃদ্ধি। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৫০৪ - ক্রিস্টোফার কলম্বাস তার জ্যোতির্বিজ্ঞানের জ্ঞান কাজে লাগিয়ে একটি চন্দ্রগ্রহণের ভবিষ্যদ্বাণী করেন
 ১৪৬৮ - পোপ দ্বিতীয় পলের জন্ম
১৭১২ - সুইডেনে ২৯ ফেব্রুয়ারির পর ৩০ ফেব্রুয়ারি পালনের সিদ্বান্ত হয়। এর কারণ তারা আগের নিয়মে ফিরতে চেয়েছিল।
১৮৯৬ - ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেসাইয়ের জন্ম



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৮২.৪৩ টাকা ৮৩.৫২ টাকা
পাউন্ড ১০৩.৮১ টাকা ১০৬.৪৪ টাকা
ইউরো ৮৮.৬৮ টাকা ৯১.১১ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৬২,৬৫০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৬২,৯৫০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৫৯,৮৫০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৬৯,৮৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৬৯,৯৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১৬ ফাল্গুন, ১৪৩০, বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪। পঞ্চমী অহোরাত্র। চিত্রা নক্ষত্র ১০/৪৯ দিবা ১০/২২। সূর্যোদয় ৬/২/৩৭, সূর্যাস্ত ৫/৩৫/৫৭। অমৃতযোগ রাত্রি ১/৩ গতে ২/৩৩ মধ্যে। মাহেন্দ্রযোগ দিবা ৭/৩৫ মধ্যে পুনঃ ১০/৪০ গতে ১২/৫৮ মধ্যে। বারবেলা ২/৪২ গতে অস্তাবধি। কালরাত্রি ১১/৪৯ গতে ১/২৩ মধ্যে। 
১৬ ফাল্গুন, ১৪৩০, বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪। পঞ্চমী রাত্রি ২/৩৪। চিত্রা নক্ষত্র দিবা ৭/৪৪। সূর্যোদয় ৬/৫, সূর্যাস্ত ৫/৩৫। অমৃতযোগ রাত্রি ১২/৫৫ গতে ৩/১৯ মধ্যে। মাহেন্দ্রযোগ দিবা ৭/২৯ মধ্যে ও ১০/৩১ গতে ১২/৫৬ মধ্যে। কালবেলা ২/৪৩ গতে ৫/৩৫ মধ্যে। কালরাত্রি ১১/৫০ গতে ১/২৪ মধ্যে। 
১৮ শাবান।

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
শেখ শাহজাহানকে ৬ বছরের জন্য সাসপেন্ড করল তৃণমূল, সরানো হল দলীয় সমস্ত পদ থেকেও

03:22:38 PM

৫৩ পয়েন্ট উঠল সেনসেক্স

02:54:45 PM

অশীতিপর যাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় এয়ার ইন্ডিয়া বিমান সংস্থাকে ৩০ লক্ষ টাকার জরিমানা

02:42:24 PM

কোচবিহারে একাধিক জায়গায় তল্লাশি অভিযান পুলিসের
কোচবিহারে একই সঙ্গে একাধিক জায়গায় তল্লাশি অভিযান পুলিসের। ওই বাড়িগুলির ...বিশদ

02:19:42 PM

দুর্গাপুরের একটি কারখানায় দুর্ঘটনা, গুরুতর জখম ৪ জন

02:13:30 PM

১৫৯ পয়েন্ট উঠল সেনসেক্স

01:27:29 PM