কারও কাছ থেকে কোনও দামি উপহার লাভ হতে পারে। অকারণ বিবাদ বিতর্ক এড়িয়ে চলুন। স্বাস্থ্য ... বিশদ
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই ছাত্রীও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়রা। যুবতীর সঙ্গে অভিযুক্ত যুবকদের এক বন্ধুর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। অভিযুক্তও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। সোমবার সরস্বতী পুজোর দিন সকালে মাটিগাড়ার একটি শপিং মলে ডেকে নিয়ে এসে প্রেমের সম্পর্ক বিচ্ছেদ করে দেন যুবতী। তাঁর অন্য একটি ছেলের সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয়ে যাওয়ায় যুবতী আর সম্পর্ক রাখতে চাইছেন না বলে জানান। এ কথা শুনে প্রথম অবস্থায় ভেঙে পড়ে অভিযুক্ত যুবক। তাদের সম্পর্কের বিচ্ছেদ কিছুতেই মেনে নিতে পারেনি ওই যুবতীর প্রেমিক। এরপরেই সে যুবতীর সঙ্গে তোলা ব্যক্তিগত ছবি ভাইরাল করার হুমকি দেয়। যুবতী সেই ছবি ভাইরাল না করার জন্য বারবার তাঁর প্রেমিককে বললেও সে এই কথায় কান দেয়নি বলে অভিযোগ।
ছবি ভাইরাল না করার শর্ত হিসেবে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে প্রেমিক। অনলাইনে ১২ হাজার টাকা প্রেমিককে পাঠিয়ে দেয় যুবতী। তবে তাতে খুব একটা মন গলেনি। সে ৫০ হাজার টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে। পরবর্তীতে টাকা দিতে অস্বীকার করেন যুবতী। এতেই ক্ষেপে ওঠে যুবতীর প্রেমিক। ঘটনার দিন বিকেল থেকে যুবতীকে বারবার ফোন করে ছবি ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দিতে শুরু করে। এরপরেই তার দুই বন্ধু সুব্রত ও আদর্শকে টাকা আনতে পাঠায় তার প্রেমিক।
তারা এলে টাকা দিতে অস্বীকার করেন যুবতী। তখন তারা যুবতীকে গালাগালি এবং মারধর করে বলে অভিযোগ। ঘটনার পর বাড়ি ফিরে পরিবারের সদস্যদের সমস্ত বিষয়টি জানান যুবতী। এমনকী অনলাইনে টাকা দেওয়ার বিষয়টিও জানান। রাতেই পরিবারের সদস্যরা যুবতীকে নিয়ে গিয়ে মাটিগাড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিস রাতেই দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। দোষীদের চরম শাস্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন যুবতী ও তাঁর পরিবার। যদিও ঘটনায় মূল অভিযুক্ত যুবতীর প্রাক্তন প্রেমিক ঘটনার পর থেকে পলাতক। তার খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিস।
শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিসের ডিসিপি (পশ্চিম) বিশ্বচাঁদ ঠাকুর বলেন, এক যুবতীর ছবি ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে টাকা আদায়ের পাশাপাশি তাঁকে হেনস্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ জমা পড়ে। দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা করা হচ্ছে।