সাম্প্রতিক
 

নকশালবাড়ির ৫০ বছর 

ভুল রাজনৈতিক পথ। চিরতরে হারিয়ে যাওয়া অসংখ্য সম্ভাবনাময় তরুণ প্রাণ। আদর্শ থেকে পলাতক কিছু সুবিধাভোগী। স্বপ্ন আঁকড়ে থেকে এখনও লড়ে যাওয়া কিছু মানুষ। সব মিলিয়ে ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ - নকশালবাড়ি আন্দোলন। ৫০ বছর আগের সেই বিতর্কিত চালচিত্র ফিরে দেখার চেষ্টা।
‘খতমের লাইন’-ই ভুল পথে নিয়ে গিয়েছিল
নকশাল আন্দোলনের শেষ উত্তরাধিকার কানু সান্যালও একসময় বলেছিলেন, ‘এটি আসলে চারু মজুমদারের একটি লাইন, এমনকী ৩০ বছর আগেই আমি বুঝেছিলাম এটি সঠিক লাইন নয়।’ লিখেছেন মৃণালকান্তি দাস।
২৫ মে, ১৯৬৭। ঠিক আগের দিনই উত্তরবঙ্গের অখ্যাত জনপদ নকশালবাড়ি এলাকায় কৃষকদের সঙ্গে সংঘর্ষে তিরবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন ইনসপেক্টর সোনাম ওয়াংদি। কৃষকদের দাবি, এ তল্লাটে ভূমিসংস্কার হয়নি। ভূমিহীন কৃষকদের হাতে জমি দিতে হবে। ভূস্বামী ও জোতদারদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন হাজার হাজার প্রান্তিক মানুষ। তাঁদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জঙ্গল সাঁওতাল নামে এক যুবক। আসলে লড়াইটা দানা বেধেছিল ১৮ মার্চ। রামবোলা জোতের কৃষক সম্মেলন থেকে যেদিন সশস্ত্র সংগ্রামের কথা ঘোষণা করা হয় সেদিনই। সিদ্ধান্ত হয়, গ্রামে পুলিশকে ঢুকতে দেওয়া হবে না। ২৪ মে ইনসপেক্টর সোনাম ওয়াংদি নিহত হওয়ার রাতেই, পুলিশ বাহিনী জয়সিং জোত, ঘুঘুঝোরা-র দয়ারাম জোত হয়ে গ্রামের মধ্যে ঢুকে ‘অপরাধীদের’ ধরার চেষ্টা করে। রাতের অন্ধকারে তখন আশপাশের জঙ্গলে তির-ধনুক নিয়ে গা ঢাকা দিয়ে কয়েকশো কৃষক-গেরিলা যোদ্ধা। থমকে যায় পুলিশ। ২৫ মে ভোর হতেই পুলিশ ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রসাদু জোতে নিরস্ত্র মহিলাদের উপর নির্বিচারে গুলি চলে। নিহত হন আট কৃষক রমণী সহ এগারো জন। কৃষিজীবী, খেতমজুর ও চা বাগানের শ্রমিকদের উপরে পুলিশের নির্বিচার গুলিবর্ষণের কথা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে রাজ্যে। গোটা দেশে।
১৯৬৭-র ৫ জুলাই। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) মুখপত্রে প্রকাশিত হয় সেই ঐতিহাসিক নিবন্ধ: ‘স্প্রিং থান্ডার ওভার দ্য ইন্ডিয়ান স্কাই’। ভারতের আকাশে বসন্তের বজ্রনির্ঘোষ! দিকে দিকে ‘পিকিং ডেইলি’-র সেই বার্তা রটে যায়। মুখ্যমন্ত্রী অজয় মুখোপাধ্যায় ও উপমুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর যুক্তফ্রন্ট সরকারের বিরুদ্ধে শুরু হয় প্রতিবাদ মিছিল। কমিউনিস্ট চীন সেই কৃষক আন্দোলনকে সমর্থন করলেও আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের সিপিএম নেতারা বললেন, ‘হঠকারী আন্দোলন।’ বললেন, যুক্তফ্রন্ট সরকারের বিরুদ্ধে আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র চক্রান্ত। শুরু হল সিপিএমে ভাঙন। অফিশিয়াল গ্রুপ ছেড়ে অনেকেই বেরিয়ে এলেন। অনেককে বহিষ্কার করা হয়। উঠে আসে আরও একটি নাম। নকশালবাড়ির সেই প্রাঙ্গণ থেকে বেশ খানিকটা দূরে শিলিগুড়ি শহরে থাকতেন শীর্ণকায় সেই বামপন্থী। পরের চার-চারটি দশক জুড়ে তাঁকে মানুষ চিনেছে ‘সিএম’ বলে! সূচনা হতে থাকে সেই চারু মজুমদারকে কেন্দ্র করে ‘খতমের লাইনের’ নতুন এক কমিউনিস্ট কর্মকাণ্ডের। কৃষক আন্দোলনে সামনে থেকে তখন নেতৃত্ব দিচ্ছেন সিপিএমের এক সময়ের সর্বক্ষণের কর্মী কানু সান্যাল এবং খোকন মজুমদার। দলের প্রথম কংগ্রেসে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক প্রতিবেদন উত্থাপন করতে গিয়ে চারু মজুমদার বলেছিলেন, ‘এটা আমাদের উপলব্ধি করা উচিত, খতম অভিযান হল একইসঙ্গে শ্রেণী সংগ্রামের উচ্চতর পর্যায় এবং গেরিলা যুদ্ধের সূচিমুখ।’ সেইসঙ্গে তাঁর হুঁশিয়ারি ছিল, ‘কেউ যদি এই খতম অভিযানের বিরোধিতা করেন, তিনি আমাদের সঙ্গে থাকতে পারেন না। আমরা তাঁকে আমাদের পার্টির অভ্যন্তরে বরদাস্ত করব না।’
বসন্তের সেই বজ্রনির্ঘোষ নিয়ে জন্ম হয়েছিল লক্ষ লক্ষ শব্দের। লেখাপড়া মুলতুবি রেখে, নকশাল আন্দোলনে যুক্ত হতে থাকে হাজার হাজার প্রতিভাবান মেধাবী। প্রেসিডেন্সি কলেজ, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে উঠেছিল উত্তাল ষাট আর সত্তরের দশকের অতি বাম ছাত্র আন্দোলনের আঁতুড়ঘর। চারুবাবু মনে করতেন, নকশালবাড়ির আন্দোলন দমন করা হলেও তা দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়বে। জোতদার খতম করার স্লোগান তাঁরই আবিষ্কার। কানু সান্যাল ছিলেন সেই আন্দোলনের প্রধান সংগঠক, তার ইঞ্জিন। প্রশ্ন উঠেছিলেন, মাত্র কয়েকশো উপজাতি ও তফসিলি সম্প্রদায়ভুক্ত চাষির তির-ধনুক নিয়ে সরকারের অস্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াটা কি অ্যাডভেঞ্চার নয়? বিপ্লবের সেই পথ নিয়ে ছিল দলীয় সংঘাতও। তবে হাওয়াই চটি, কাঁধে ঝোলা, মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি নিয়ে নকশাল আন্দোলনের সশস্ত্র বিপ্লব করায় রোমান্টিজম কম ছিল না! বাংলার তরুণ সম্প্রদায়ের একটা অংশকে বৈপ্লবিক রোমান্টিকতার আবেগে ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। শ্রেণীসংগ্রামের সঙ্গে ‘শ্রেণীশত্রুদের খতম অভিযানকে’ বিলকুল গুলিয়ে ফেলা হয়েছিল।
ফলে গোটা রাজ্যজুড়ে অলিতে গলিতে থেকে থেকেই ‘পেটো’ বর্ষণের আওয়াজ ও গোলাগুলির শব্দ রুটিন হয়ে উঠেছিল। দেওয়ালে দেওয়ালে পোস্টার—‘সত্তরের দশক মুক্তির দশক’, ‘বন্দুকের নলই ক্ষমতার উৎস’। ‘নকশাল আন্দোলন’-এর সরব ঘোষণা। দেওয়াল জুড়ে লেখা শুরু হল ‘তোমার বাড়ি আমার বাড়ি/নকশালবাড়ি নকশালবাড়ি’। ‘চীনের চেয়ারম্যান আমাদের চেয়ারম্যান’। সঙ্গে খতমের রাজনীতি। মাঝে মাঝেই, মধ্যরাতে গলির মধ্যে দিয়ে, দুদ্দাড় পালানোর শব্দ এবং পুলিশের ধরপাকড়। মুক্তির স্বপ্ন দেখে অসংখ্য যুবক-যুবতী নকশাল আন্দোলনের রাজনীতিতে যোগ দিয়েছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত রাজনীতির নামে যে পথ বেছে নেন তা ছিল স্রেফ সন্ত্রাস। ‘খতম করো’—এই ডাক দিয়ে যে বিপ্লব তাঁরা শুরু করেছিলেন, তার ফলে হাজারো নিরপরাধ মানুষ বলি হয়েছে। মহিলা, এমনকী শিশুরাও বাদ যায়নি। শুধু খুনোখুনি নয়, লুঠপাট, ডাকাতির ঘটনাও ঘটে এন্তার। এমনকী রবীন্দ্রনাথও তাঁদের কোপানল থেকে নিস্তার পাননি। ভ্রান্ত পথে পা বাড়ানো মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীরাও আন্দোলন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে জলস্রোতের মতোই। কেউ কেউ তো বিদেশ পাড়ি দিয়েছেন। বেছে নিয়েছেন ভালো জীবনযাত্রা। টাকা রোজগার করাটা অন্যায় বলে মনে করেননি। এমনকী, চাকরি করার জন্য বৃহৎ প্রতিষ্ঠানে তারা কিঞ্চিৎ আপস করতেও পিছু হঠেননি।
ইতিহাস বলছে, নকশালবাড়ি কৃষক বিদ্রোহ কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং তার বীজ দীর্ঘদিন নিহিত ছিল ভারতের কমিউনিস্ট আন্দোলনের মধ্যেই। সংসদীয় গণতন্ত্রে আস্থাশীল ‘মার্কসবাদী’ ও অন্য বামপন্থীরা নকশাল আন্দোলনকে হঠকারী ও উগ্র বাম বিচ্যুতি বলে নস্যাৎ করে দিলেও তাঁরা নিজেরাও এ কথা অস্বীকার করতে পারবেন না যে, ভারতের কমিউনিস্ট আন্দোলন তার আগে একাধিকবার এই পথের শরিক হয়েছে, শিকার হয়েছে এইরকম বিচ্যুতির। এই উগ্র বামগোষ্ঠী বরাবরই ছিল মাওয়ের অন্ধ অনুগামী ও চীনের জনযুদ্ধ লাইনের প্রবল সমর্থক। ’৬৪ সালে যখন সিপিএম তৈরি হয় তখনও ওই দলের নেতৃত্বের মাথায় যে সশস্ত্র অভ্যুত্থানের ‘পোকা’ নড়াচড়া করছে, তা তাঁদের পার্টি কংগ্রেসে গৃহীত কর্মসূচি থেকেই পরিষ্কার, যেখানে সংসদীয় গণতন্ত্রে অংশগ্রহণের কথা বলেও, প্রয়োজনে সশস্ত্র বিদ্রোহের মাধ্যমে ‘জনগণতান্ত্রিক বিপ্লব’ ঘটিয়ে ‘সর্বহারার একনায়কতন্ত্র’ কায়েমের বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে। বাস্তব ঘটনা হল, জমি দখলে কৃষকদের এগিয়ে দিয়েও যুক্তফ্রন্ট সরকার বা সিপিএমের শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি। অন্তত নকশালবাড়িতে সেই আন্দোলনের রাশ চলে গিয়েছিল দলের স্থানীয় নেতৃত্বের এমন অংশের হাতে, যারা বরাবর সশস্ত্র বিপ্লবের উগ্র সমর্থক। শুরু হয়েছিল কমিউনিস্ট আন্দোলনের নতুন এক ধারা। চূড়ান্ত জঙ্গিপনা, সশস্ত্র লড়াইয়ের আর এক রূপ এবং তার সঙ্গে ব্যক্তিহত্যা, খতমের রাজনীতি।
মহানগরে তখন মাঝে মাঝেই ভারী বুটের আওয়াজ। বয়স না মেনে, পাড়া উজাড় করে বাচ্চা-বুড়ো সমস্ত ছেলেদের সারবন্দি করে পুলিশভ্যানে তোলা। সন্ধের পর শুনশান রাজপথ। বড়দের সমস্ত আলোচনার বিষয় রাজনীতি। কংগ্রেস-ফরওয়ার্ড ব্লক-সিপিএম আর নকশাল। এরই মধ্যে খবর আসতে থাকে, তরুণ আন্দোলনকারীদের ধরা পড়া ও মারা যাওয়ার কথা। দেওয়ালে দেওয়ালে পোস্টার ‘শহিদদের মৃত্যু পাহাড়ের চেয়েও ভারী’। উত্তাল হয়ে উঠতে থাকে বাগবাজার-শ্যামবাজার-শোভাবাজার থেকে গোটা মহানগর। কলেজ স্ট্রিট কফি হাউসে বামপন্থী ছাত্রদের তুমুল বিতর্ক! সেই বিপ্লবের পথ নিয়ে প্রশ্ন ছিল, প্রশ্ন ছিল সে পথের প্রয়োগ নিয়েও। হয়তো তাই, ১৯৬৭-তে নকশালবাড়ির ‘স্ফূলিঙ্গ থেকে দাবানলের’ স্বপ্ন দেখা বিশুদ্ধ নকশাল আন্দোলনের শেষ উত্তরাধিকার কানু সান্যালও একসময় বলেছিলেন, ‘এটি আসলে চারু মজুমদারের একটি লাইন, এমনকী ৩০ বছর আগেই আমি বুঝেছিলাম এটি সঠিক লাইন নয়।’ মাওবাদীদের ‘খতম লাইনের’ তিনি ছিলেন ঘোর সমালোচক। বলেছিলেন, ‘এটি ছিল চারু মজুমদার ও তাঁর অনুগামীদের লাইন, যা ওরা নিয়েছিল ছয়ের দশকের শেষে, সাতের দশকে। এবং এটি ছিল আন্দোলন থেকে মানুষের দূরত্ব তৈরি এবং ব্যর্থতার অন্যতম কারণ।’ ততদিনে ছারখার হয়ে গিয়েছে গোটা নকশাল আন্দোলনটাই। যে আন্দোলন কেড়ে নিয়ে হাজার হাজার তরতাজা জীবন।
আর হয়তো বেলাশেষে আজও কোনও সন্তানহারা মা চোখের জল মুছতে মুছতে গেয়ে ওঠেন, ‘যে ফুল ঝরে সেই তো ঝরে, ফুল তো থাকে ফুটিতে...’।
পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছিল বাবাকে, দাবি চারু মজুমদারের ছেলের
মৃত্যুর আগে দলকে সশস্ত্র বৈপ্লবিক অবস্থান থেকে সরিয়ে আনার একটা চেষ্টা করেছিলেন চারু মজুমদার। জানালেন তাঁর ছেলে অভিজিৎ মজুমদার। শুনলেন শুভজিৎ অধিকারী।
কাঁপা গলা অথচ দৃঢ় স্বর। শিরা ফুলিয়ে পাঁচটি শব্দবন্ধ উচ্চারণে সেদিন কেঁপে উঠেছিল এন্টালি থানার মিডল রোড। ‘চারু মজুমদার জিন্দাবাদ। নকশালবাড়ি জিন্দাবাদ’।
অরবিন্দ ঘোষ সেদিন যদি এই স্লোগান না দিতেন, তা হলে হয়তো সিএমের ডেথ সার্টিফিকেট লেখা হত অন্যভাবে। হয়তো তাঁর মৃত্যু-বিতর্ক-তাড়া করত না রাষ্ট্রশক্তিকে। তাই আজও ‘আমার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে’ বলে বিচারের দাবিতে সরব হয়ে ওঠেন চারু মজুমদারের ছেলে অভিজিৎ মজুমদার।
 পরিকল্পিত হত্যা?
১৯৭২ সালের ১৬ জুলাই। তখনকার মিডল রোড আজকের মতো এত ঘিঞ্জি ছিল না। ১৭০ নম্বর বাড়িটি থেকে ভোররাতে পুলিশ গ্রেপ্তার করে চারু মজুমদারকে। বিতর্কিত পুলিশকর্তা রুনু গুহনিয়োগী তাঁকে যখন গাড়িতে তুলছেন, তখন তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে অরবিন্দ। বাড়ির সামনে জমতে শুরু করেছে পাড়ার লোকজন। দরজা-জানলাতেও কৌতূহলী চোখের উঁকিঝুঁকি। আর তখনই সরোজ দত্তের কথা মনে পড়ে যায় অরবিন্দের। স্লোগান দিয়ে জানাতে থাকেন, যাঁকে পুলিশ গাড়িতে তুলছে, তিনি আর কেউ নন, চারু মজুমদার! অভিজিৎবাবু বলছিলেন, তখন রাষ্ট্রের অভিসন্ধি ভালো ছিল না। সিদ্ধার্থশংকর রায়ের নেতৃত্বে গণহত্যা চলছে। বহু যুবককে গ্রেপ্তার করে এনকাউন্টারে মেরে ফেলা হচ্ছে। সেই তালিকায় ছিলেন সরোজ দত্তও। বাবার অবস্থাও হতে পারত সেই রকম। কিন্তু তা না করতে পারলেও তাঁকে যে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা নিয়ে আমাদের কোনও সংশয় নেই।
 বাবাকে দেখতে লালবাজারে
আমি তখন ছোট। ১৬ জুলাই গ্রেপ্তারের পর দু’বার আমাদের লালাবাজারে বাবার সঙ্গে দেখা করতে দিয়েছিল পুলিশ। মা’ দিদির সঙ্গে আমিও গিয়েছিলাম। লকআপে বাবার খুব শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। তিনি হাঁপাচ্ছিলেন। অথচ, তাঁকে অক্সিজেন দেওয়া হয়নি। বাবা যেসব জীবনদায়ী ওষুধ খেতেন সেগুলিও তুলে নেওয়া হয়েছিল। তার উপর দিনের মধ্যে ১২ ঘণ্টা টানা জেরা চলত। সেই ধকল সইতে পারেননি বাবা। বাবার এই রাষ্ট্রীয় পীড়ন প্রচারেও এনেছিল পুলিশ। কারণ, তাদের উদ্দেশ্য ছিল, চারু মজুমদারের গ্রেপ্তার ও তাঁর পরিণতির বিষয়টি রটিয়ে আন্দোলনকে দমিয়ে দেওয়া।
 বুদ্ধবাবু বললেন ফাইল পাচ্ছি না
নকশালবাড়ি আন্দোলনকে প্রতিহত করতে না পারলেও বাবার হত্যাকাণ্ডকে সাফল্যের সঙ্গে ঢাকা দিতে পেরেছে সরকার। কংগ্রেস থেকে বাম আমল, মায় বর্তমান সরকার। কেউই চায়নি বাবার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ প্রকাশ্যে আসুক। বুদ্ধদেববাবু বলেছিলেন, চারুবাবুর মৃত্যুর ফাইল পাওয়া যাচ্ছে না। তখন এটা বোঝাই যায়, বাবার হত্যাকাণ্ডকে চাপা দিতে যা কিছু ঘোষণা করা হয়েছে, তা সবই রাষ্ট্রনির্মিত। তাই শেষপর্যন্ত আমরা সুপ্রিম কোর্টে গিয়েও কোনও লাভ হয়নি। তবে, আমরা মনে করি, শুধু বাবাই নয়, সত্তর দশকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসে যাঁরাই বলি হয়েছেন, তাঁদের পরিবারের বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। এবং সেটা পাওয়া উচিত।
 মাওবাদীদের খতম-নীতি সমর্থনযোগ্য নয়
১৯৭২ সালের জুন মাস। এর ঠিক কয়েকদিন বাদেই গ্রেপ্তার হবেন চারু মজুমদার। তার আগে স্ত্রী লীলা মজুমদারকে পাঠানো একটি চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন, খতমের উপর অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার ফলে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রাম আমরা খুবই কম পরিচালনা করছি। এটা একটা বিচ্যুতি এবং এটা আমরা কাটিয়ে উঠছি। অর্থাৎ এটা স্পষ্ট, মৃত্যুর আগে দলকে সশস্ত্র বৈপ্লবিক অবস্থান থেকে সরিয়ে আনার একটা চেষ্টা করেছিলেন চারুবাবু। আজকে তিনি বেঁচে থাকলে মাওবাদীদের খতমের রাজনীতি সমর্থন করতেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। কিন্তু তাঁর উত্তরসুরী অভিজিৎবাবু মাওবাদীদের খতমনীতিকে সমর্থন করেন না। তিনি বলেছেন, কোনও সন্দেহ নেই ওঁরা (মাওবাদী) নিশ্চয় বিপ্লবী। একই প্ল্যাটফর্মে গণআন্দোলন করছেন। একই লক্ষ্যে মুক্তির জন্য লড়াই করছেন। কিন্তু বাবার শেষ লেখার যথাযথ বিশ্লেষণ করলে বুঝতে পারি, শুধু বন্দুকের লড়াই দিয়ে নয়। বহু পদ্ধতি, কৌশল অবলম্বন করে জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে। আজকের দিনে মাওবাদীরা কী চাইছেন, তাঁদের রাজনৈতিক কর্মসূচি কি, সেটা বাইরের মানুষ জানতেই পারছে না। রাষ্ট্রের সঙ্গে অসম-যুদ্ধে শুধু বন্দুক দিয়ে লড়াই করা যাবে না। জনমতকেও নিজেদের অনুকূলে আনতে হবে। সমবেত বাহিনী গড়ে তুলতে হবে, তবেই সাফল্য আসবে। চারু মজুমদারের ঘনিষ্ট এক সহকর্মী, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কৃতী ছাত্র ভাস্কর নন্দীও এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, আমাকে অসম আন্দোলনে পাঠিয়ে দিলেন সিএম। সেখানে একবিন্দু রক্ত না ঝরিয়েও চার হাজার বিঘা জমি জোতদারদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছিলাম। আর এটা সম্ভব হয়েছিল অসমের ভূমিহীন কৃষকদের আমাদের আদর্শে উদ্বুদ্ধ করতে পেরেছিলাম বলে।
 বাবা যখন নকশাল নেতা
জন্মের পর থেকে দেখেছি, বাবা চাকরি করতে না। ব্যবসাও নয়। এমনকী বিষয়-আশয়েও তাঁর কোনও আগ্রহ ছিল না। মা’য়ের কাছে আমাদের বড় হয়ে ওঠা। তা হলেও বলবে, একজন বিপ্লবী নেতা হয়েও পরিবারের প্রতি তাঁর কোনও অবহেলা ছিল না। আমার তিন ভাইবোনের প্রতি অত্যন্ত স্নেহ পরায়ণ ছিলেন তিনি। আমার যখন দশ বছর বয়স, তখন বাবা আন্ডারগ্রাউন্ডে। সেখানে গিয়ে আমরা তাঁর সঙ্গে দেখা করেছি। পরিবারের সবার খবরাখবর নিতেন। দিদির পড়াশোনা নিয়ে খোঁজখবর রাখতেন। চারু মজুমদারের বড় মেয়ে অনিতাদেবীর ডায়েরি থেকেও জানা গিয়েছে, তাঁকে নিয়মিত চিঠি লিখতেন চারুবাবু। একটা চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন, তোমার ডাক্তারি পড়া সেদিনই সার্থক হবে, যেদিন তুমি ভারতের কৃষক-শ্রমিক শ্রেনির চিকিৎসার জন্য নিজের জীবনকে উৎস্বর্গ করবে...। অভিজিৎবাবু বলছিলেন, এই কারণেই বাবা ছিলেন আদর্শ। আজও মাথা উঁচু করে হাঁটি চারু মজুমদারের ছেলে বলে।
 গ্লোবের নাইট শো’তে সিএম
সেটা ১৯৭০ সাল। পার্টির রাজ্য সম্মেলন হচ্ছে কলকাতায়। সম্মেলনের শেষে রাতে খাওয়ার পর গ্লোবে সিনেমা দেখতে গিয়েছিলেন চারুবাবু। তাঁর ঘনিষ্ট সহযোগী সুশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সত্তর দশকের স্মৃতি খুঁড়তে গিয়ে জানিয়েছেন, সেদিন রাতের খাওয়া শেষ করে চারুদা, ভাদুদা (সৌরেন বোস) একই ট্যাক্সিতে গ্লোবে সিনেমা দেখতে গিয়েছিলাম। ছবিটা ছিল সম্ভবত ‘গানস অব নাভারোন’। চারুদার দারুণ লেগেছিল ছবিটা। চারুদা, ভাদুদা দু’জনেই গান শুনতে ভালো বাসতেন। বিশেষকরে উচ্চাঙ্গ সংগীত শোনার ক্ষেত্রে চারুদার আগ্রহ ছিল প্রবল। খুব সহজেই রাগও অনুধাবন করতে পারতেন। ভাদুদা নিজেই হারমোনিয়াম নিয়ে গানও গাইতেন। সেই গান বহুবার শুনেছেন চারুদা। অভিজিৎবাবুও বলছিলেন, শুধু গান নয়, নাটক, সহিত্য, সংস্কতি চর্চাও করতেন। সেই সময়ে বহু বাচিক শিল্পীকে তিনি নিজের হাতে তৈরি করেছিলেন। সবমিলিয়ে তিনি ছিলেন অসাধারণ মানুষ। ভারতের কৃষক-শ্রমিকদের অন্তরে তিনি চিরকাল বেঁচে থাকবেন। বেঁচে রয়েছেনও।

 
26th  March, 2017
কোলিন্দার ‘সুন্দর’ মুখের আড়ালে! 

কখনও টিমের জন্য গলা ফাটাচ্ছেন, কখনও ফুটবলারদের সঙ্গে মেতে উঠছেন উদ্দাম সেলিব্রেশনে। দেখে কে বলবে তিনিই ছোট্ট দেশটার প্রথম নাগরিক। প্রেসিডেন্ট কোলিন্দা গ্রাবার কিতারোভিচ। পাপারাৎজিরা কেন তাঁর পিছু ছাড়ে না? তিনি নাকি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গেও খুনসুঁটি করতে ছাড়েন না! র‌্যাকিটিচ, মডরিচদের ফুটবল স্কিলে যখম সম্মোহিত ক্রীড়া দুনিয়া, তখন ক্রোটদের সুন্দরী প্রেসিডেন্টের প্রাণোচ্ছলতায় মজেছে নেট দুনিয়া।
বিশদ

22nd  July, 2018
ভালোবাসার শহর সেন্ট পিটার্সবার্গ
রাশিয়া থেকে ফিরে
সন্দীপন বিশ্বাস

সেন্ট পিটার্সবার্গ যেমন ইতিহাসের শহর, তেমনই ভালোবাসারও শহর। এই শহরের প্রাসাদে, নদীতে, গির্জায়, মেট্রোয়, পথে পথে মিশে আছে এক রোমান্টিসিজম। তাকে দেখা যায়, অনুভব করা যায়। প্রেমের শহর সেন্ট পিটার্সবার্গ। জার শাসকদের সময় ছুঁয়ে আজ পর্যন্ত এই শহর দেখেছে বহু প্রেম। সেই প্রেম কখনও সফল, কখনও রক্তাক্ত, কখনও ব্যর্থ, কখনও বা সেই প্রেম এনে দিয়েছে মৃত্যুর গন্ধ।
বিশদ

22nd  July, 2018
থাই শিশুদের নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণে আগ্রহী হলিউড 

ঘটনা অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি। ১৭ দিন পর থাইল্যান্ডের বিপজ্জনক গুহায় আটকে পড়া কিশোরদের উদ্ধার করেছেন দুঃসাহসী ডুবুরিরা। চিয়াং রাই হাসপাতালের বেডে মুখে মাস্ক ও হাসপাতালের গাউন পরা অবস্থায় রয়েছে তারা।
বিশদ

15th  July, 2018
ইতিহাসের সন্ধানে... 
সেন্ট পিটার্সবার্গে
(রাশিয়া থেকে ফিরে সন্দীপন বিশ্বাস)

জুন, জুলাই মাসের এই সময়টায় সেন্ট পিটার্সবার্গে সূর্যের আলস্য দেখার মতো। অস্ত যেতে যেন মন চায় না তার। সারাদিন মাথার উপর জ্বলছে তো জ্বলছেই। ঘড়িতে তখন সাড়ে এগারোটা বেজে গেল। সেটাকে রাত বলব কিনা বুঝতে পারছি না! তখন পশ্চিমের আকাশে সূয্যিমামার অনিচ্ছার ডুব।
বিশদ

15th  July, 2018
Loading...
হেরে গিয়েও জিতে যাওয়া বোধহয় একেই বলে 

হেরে গিয়েও জিতে যাওয়া বোধহয় একেই বলে!
বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডের লড়াইয়ে বেলজিয়ামের সঙ্গে মুখোমুখি হয় জাপান। দুর্দান্ত খেলে দু’গোলে এগিয়েও যায় তারা। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই তিনটে গোল দিয়ে জাপানকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে যায় বেলজিয়াম।
বিশদ

08th  July, 2018
ভলগা নদীর তীরে... 
রাশিয়া থেকে সোমনাথ বসু

উলিৎসা সেমাশকো থেকে হাঁটাপথেই গোর্কি মিউজিয়াম। সেখানে সংরক্ষিত রয়েছে ‘মা’ উপন্যাসের খসড়া। এমনকী প্রথম মুদ্রিত বইও। দুই খণ্ডে লেখা ‘মা’ বিপ্লবের আগমনি বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছিল গোটা রাশিয়ায়। সরল মানবিকতা থেকে গোর্কি উত্তীর্ণ হন শ্রেণী-মানবিকতায়। উৎপল দত্ত এ‌ই উপন্যাসের একটি অংশকে নিয়ে লিখেছিলেন ‘মে দিবস’ নাটক...
বিশদ

08th  July, 2018
Loading...
বিশ্বকাপের ম্যাসকট
জাবিভাকার জন্মকথা
সন্দীপন বিশ্বাস

পশ্চিম সাইবেরিয়ার একটা ছোট্ট শহর কিদরোভি। মস্কো থেকে অনেক দূর। প্রায় সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার। সেখানকার মেয়ে একাতেরিনা বোচারোভা আজ সারা বিশ্বে এক পরিচিত নাম। সে তো ওই জাবিভাকার দৌলতেই। জাবিভাকা একাতেরিনার কল্পনাপ্রসূত সৃষ্টি। সেই জাবিভাকা এবারের বিশ্বকাপের ম্যাসকট। বিশদ

03rd  June, 2018
সিলভিও গাজ্জানিগা
বিশ্বকাপের নকশার কারিগর
অরূপ দে

১৯৭১ সালের ৫ এপ্রিল জুরিখে ফিফা প্রেসিডেন্ট স্যার স্ট্যানলি রিউসের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি তৈরি করা হয় নতুন ট্রফির জন্য নকশা নির্বাচনের উদ্দেশ্যে। সেই কমিটি আহ্ববান করে নকশা প্রতিযোগিতার। খবর পেয়েই সিলভিও গাজ্জানিগা শুরু করলেন কাজ।
বিশদ

03rd  June, 2018
লেডি ডন

হেঁসেলের অন্ধকারে যাঁদের জীবন কাটিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। সন্তান পালন, স্বামীর সেবাই ছিল যাঁদের জীবনের আদর্শ। সেই তাঁরাই একদিন ঘোমটা ছেড়ে হাতে তুলে নিয়েছিলেন আগ্নেয়াস্ত্র। তাঁদের অঙ্গুলি হেলনে চলেছে বিরাট অপরাধের সাম্রাজ্য। এক ফোনে মুহূর্তে চলে গিয়েছে কারও প্রাণ।
বিশদ

13th  May, 2018
তারাপীঠ
মহাপীঠের ২০০ বছর 

তারাপীঠের মন্দিরের ইতিহাসকে দুশো বছরের মধ্যে আটকানো যায় না। তার ইতিহাস প্রাচীন, আবছায়া, অস্পষ্ট এক অতীতের মধ্যে মিশে আছে। একদিকে পুরাণ আর একদিকে ইতিহাস। একদিকে লোককথা, অন্যদিকে দলিল। সব মিলেই তারাপীঠের মন্দির এবং তারামায়ের কাহিনী একাকার হয়ে গিয়েছে... 
বিশদ

13th  May, 2018
তারামায়ের ছেলে বামাক্ষ্যাপা 

বহু সিদ্ধ পুরুষের সাধনক্ষেত্র তারাপীঠ। কিন্তু তারাপীঠের কথা উঠলেই যে সাধক পুরুষের নামটি মনে আসে, তিনি হলেন বামাক্ষ্যাপা। তারামায়ের ক্ষ্যাপা ছেলে বামাক্ষ্যাপা। নানা লৌকিক এবং অলৌকিক কাহিনী ছড়িয়ে আছে তাঁকে ঘিরে। তারাপীঠের অদূরে আটলা গ্রামে তাঁর জন্ম।
বিশদ

13th  May, 2018
রহস্যময়ী রিতা কাৎজ 
মৃণালকান্তি দাস

রিতা কাৎজ। বাংলাদেশের দুই বিদেশি নাগরিক খুন হওয়ার পর ৫২ বছরের এই মহিলাই প্রথম ট্যুইটারে দাবি করেছিলেন, এই হত্যাকাণ্ড আইএস (ইসলামিক স্টেট) ঘটিয়েছে। ঢাকার গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালিয়ে ২০ জনকে জবাই করে হত্যা করার পর হামলাকারীদের ছবিও প্রথম প্রকাশ করেছিল রিতা কাৎজের ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ’ ওয়েবসাইট।
বিশদ

06th  May, 2018
কলঙ্কিত দেশ 
কল্যাণ বসু

ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর পরিসংখ্যান বলছে ২০১২ সালে গোটা দেশে নথিভুক্ত ধর্ষণের সংখ্যা ছিল ২৪,৯২৩ আর ২০১৬ সালে সেটা ৩৮,৯৪৭! অর্থাৎ হ্রাস তো দূরের কথা, পাঁচ বছরে ধর্ষণের ঘটনা ৫৬ শতাংশ বেড়েছে!
বিশদ

06th  May, 2018
জঙ্গিদের থেকেও রাশিয়ার ভয় পঙ্গপালের দলকে 

সন্দীপন বিশ্বাস: ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে যে লোকটা পুলিশের হাড় পর্যন্ত কাঁপিয়ে দিয়েছিল, সে হল ফরিদ মেলুক। একজন আলজিরিয়ান ইসলামিক জঙ্গি। মেলুককে বলা হতো জঙ্গিদের ঠিকানা। সারা বিশ্বের জঙ্গিদের গতিবিধি, যোগাযোগের তথ্য ছিল তার নখের ডগায়।
বিশদ

29th  April, 2018
Loading...
একনজরে
কলম্বো, ১৫ ডিসেম্বর (পিটিআই): ক্ষমতা দখলের দড়ি টানাটানিতে ইতি টানলেন মাহিন্দা রাজাপাকসে। শনিবার শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিলেন তিনি। কাল, রবিবার এই দ্বীপরাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এরাজ্যে শিল্পের ভরসা ছোট ও ক্ষুদ্র ইউনিটগুলি। কিন্তু অনেক সময় সেই শিল্প খুচরো বাজার ধরতে পারে না। তাই বাড়ে না ব্যবসার বহর। ...

অস্ট্রেলিয়া ৩২৬  ভারত ১৭২/৩পারথ, ১৫ ডিসেম্বর: ফুটবল মাঠে প্রায়শই একটা কথা শোনা যায়-‘অ্যাটাক ইজ দ্য বেস্ট ফর্ম অফ ডিফেন্স’। পারথে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টে ...

সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: কয়েকটি জেলায় জলের অভাব দেখা দেওয়ায় কম জলে বিকল্প চাষের পরামর্শ দিল কৃষিদপ্তর। কৃষকদের এই পরামর্শ দিতে প্রচারপত্র বিলি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জলের জোগান সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েই বোরো ধান চাষ করতে বলা হয়েছে।   ...


Loading...

আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কর্মপ্রার্থীদের কর্মপ্রাপ্তি বিলম্ব হবে। ব্যবসাসংক্রান্ত কাজে যুক্ত হলে ফল শুভ হবে। উপার্জন একই থাকবে। গৃহস্থান ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৭৭০: জার্মান সুরকার লুদভিগ ভ্যান বেটোভেনের জন্ম
১৯১৭: কল্পবিজ্ঞান লেখক আর্থার সি ক্লার্কের জন্ম
১৯২১: হুগলি নদীর নীচ দিয়ে টানেল তৈরির কাজ শুরু করল সিইএসসি
১৯৭১: বাংলাদেশে ভারতীয় বাহিনীর কাছে পাক সেনার আত্মসমর্পণ। জন্ম স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের
২০১২: দিল্লির গণধর্ষণের ঘটনায় উত্তাল দেশ 

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭১.১৪ টাকা ৭২.৮৫ টাকা
পাউন্ড ৮৮.৯৩ টাকা ৯২.৩৪ টাকা
ইউরো ৭৯.৮৫ টাকা ৮২.৮৭ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩২, ২০৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩০, ৩৮৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩০, ৮৪০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৭, ৬০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৭, ৭০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, রবিবার, নবমী অহোরাত্র। নক্ষত্র- উত্তরভাদ্রপদ ৫২/১৬ রাত্রি ঘ ৩/৮, সূ উ ৬/১৩/১৮, অ ৪/৫০/৪৪, অমৃতযোগ দিবা ঘ ৬/৫৫ গতে ৯/৩ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৪ গতে ২/৪৪ মধ্যে। রাত্রি ৭/৩১ গতে ৯/১৮ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৯ গতে ১/৪৬ মধ্যে পুনঃ ২/৪০ গতে উদয়াবধি। বারবেলা ঘ ১০/১২ গতে ১২/৫১ মধ্যে, কালরাত্রি ঘ ১/১১ গতে ২/৫১ মধ্যে। 
২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, রবিবার, নবমী রাত্রি ৩/১৭/২। উত্তরভাদ্রপদনক্ষত্র রাত্রি ১১/৫৮/১৫। সূ উ ৬/১৩/৫৯, অ ৪/৪৯/২৯, অমৃতযোগ দিবা ঘ ৬/৫৬/২১ থেকে ঘ ৯/৩/২৭ মধ্যে ও ঘ ১১/৫২/৫৫ থেকে ঘ ২/৪২/২৩ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৩০/২৩ থেকে ঘ ৯/১৭/৩৯ মধ্যে ও ১১/৫৮/২৫ থেকে ১/৪৫/৪৯ মধ্যে ও ২/৩৯/২৭ থেকে ৬/১৪/৪২ মধ্যে। বারবেলা ৮/৫২/৫১ থেকে ১০/১২/১৮ মধ্যে, কালবেলা ১০/১২/১৮ থেকে ঘ ১১/৩১/৪৪ মধ্যে ৪/৪৯/১৩ মধ্যে, কালরাত্রি ১/১২/১৮ থেকে ঘ ২/৫২/৫২ মধ্যে। 
 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়াতে দিল্লিতে ভারত-ফ্রান্স বৈঠক  
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করতে ফ্রান্সের ইউরোপ ও বিদেশ বিষয়ক মন্ত্রী ...বিশদ

08:45:00 AM

অন্ধ্র ও তামিলনাডু উপকূলে ভারী বৃষ্টি, ঘূর্ণিঝড়ের ভ্রুকুটি
 

অন্ধ্র উপকূল ও তামিলনাডুর উত্তরাংশে আগামী দু’দিন ভারী বৃষ্টি হতে ...বিশদ

08:43:34 AM

বারাসতে সাবওয়ে তৈরিতে আজ বাতিল বহু লোকাল ট্রেন

বারাসত স্টেশনের কাছে যাত্রীদের জন্য লাইনের নীচে দিয়ে একটি সাবওয়ে ...বিশদ

08:40:00 AM

আজ ১১৭ নম্বর ওয়ার্ডে উপনির্বাচন 
আজ, রবিবার কলকাতা পুরসভার ১১৭ নম্বর ওয়ার্ডে উপনির্বাচন হবে। এই ...বিশদ

08:30:00 AM

ভূপেন হাজারিকাকে সম্মান, মূর্তি বসল অরুণাচল প্রদেশে
 

অসমিয়া সঙ্গীত জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র ভূপেন হাজারিকার মূর্তি উন্মোচিত হল। ...বিশদ

08:30:00 AM

মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হচ্ছে রাজ্য ল ক্লার্ক সংগঠন
 

বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে এবার মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হচ্ছে রাজ্য ল ক্লার্কদের ...বিশদ

08:25:00 AM

Loading...
Loading...