Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

সরকারের ভিতরে সরকার 
পি চিদম্বরম

যখন কোনও সরকার একটা মারাত্মক সমস্যার মুখোমুখি হয় তখনই তাকে দেখে অবাক লাগে। কারও দোষত্রুটি ধরা পড়লে কেউই তার দায় নেবে না। দোষারোপের পালা শেষমেশ সরকারের শীর্ষকর্তা—মুখ্যমন্ত্রী অথবা প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে গিয়ে থামে। যাই হোক, বিশদ তদন্তে দেখা যাবে যে দায় বর্তাবার পক্ষে সরকারের শীষর্কতাটিকেই সবার আগে রাখা উচিত নয়, কিন্তু সংসদীয় ব্যবস্থার সরকার ঘুরিয়ে তাঁকেই দায়ী করে থাকে।
নির্দয় মৃত্যু
এনসেফেলাইটিসের মহামারী বিহারে মুজফ্‌ফরপুরে জেলায় এখনও পর্যন্ত ১১৭টি প্রাণ নিয়েছে, এই প্রসঙ্গে একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের ম্যানেজমেন্ট ইনফর্মেশন সিস্টেম অনুসারে, ওই জেলার ১০৩টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সবগুলি এবং একমাত্র কমিউনিটি হেলথ সেন্টারটির রেটিং ছিল পাঁচের (৫) মধ্যে শূন্য (০)—কারণ, মূল্যায়নের জন্য যে দিকগুলির পূরণ বাধ্যতামূলক ছিল সেগুলি তারা পূরণ করেনি—যেমন মেডিক্যাল অফিসার, নার্স/মিডওয়াইফ প্রভৃতি। অসুস্থ শিশুগুলিকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল মুজফ্‌ফরপুরের শ্রীকৃষ্ণ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের পিডিয়াট্রিক ইউনিটে, সেটি পিডিয়াট্রিক আইসিইউ হিসেবে গণ্য হওয়ার জন্য যেসব শর্তপূরণ হওয়া দরকার ছিল তা পূরণ করা হয়নি। এই ঘটনার দায় কে নেবেন? কেউ নেবেন না, সুতরাং আমরা দুষব ছোট সাদা সুস্বাদু ফল লিচুটাকে! ডাক্তাররা বলেছেন যেসব বাচ্চা রাতের খাবার খাবার খায়নি, লিচু খেয়ে কেবল তারাই অসুস্থ হয়েছে! এবং দয়া করে বলুন, ওই বাচ্চারা রাতের খাবার কী কারণে খায়নি? কারণ তারা গরিব এবং খাবার পায়নি। এর থেকে বড় বিপর্যয় এবং বেদনা আর কী হতে পারে? (২০০৮ থকে ২০১৪ সালের মধ্যে এনসেফেলাইটিসে মৃতের সংখ্যা ৬০০০।)
গুজরাতের ভদোদরার নিকটবর্তী এলাকার ঘটনা। দিন কয়েক আগে, একটি হোটেলের সেফটিক ট্যাঙ্ক সাফাই করতে নেমে সাতজন শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন। এই ধরনের হৃদয়বিদারক ঘটনা এই যে প্রথম ঘটল এমন নয়, এবং পরিতাপের বিষয় যে, এটাই শেষ ঘটনা হল বলেও আশা করতে পারি না। সেফটিক ট্যাঙ্ক সাফাই কোনও রকেট সায়েন্স নয়: এই কাজের জন্য অনেক মেশিন পাওয়া যায় এবং কেরলের একটি নতুন সংস্থা এই কাজের উপযোগী একটি ইন্ডিয়ার ভার্সন মেশিনও (বন্দিকুট) বার করেছে। যখন মানুষকে দিয়ে সেফটিক ট্যাঙ্ক এবং স্যুয়ারেজ সিস্টেম সাফাই করা ছাড়া উপায় থাকে না, সেখানে বিশেষ ধরনের পোশাক, মুখোশ এবং অক্সিজেন সিলিন্ডার দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এই জরুরি সরঞ্জামগুলি দুষ্প্রাপ্য নয় এবং গুজরাতের অন্যতম ধনী জেলা ভদোদরা প্রশাসনের আর্থিক সামর্থ্যের বাইরেও নয়—তবু, সাতজন গরিব মানুষকে মৃত্যুবরণ করতে দেওয়া হল। (২০১১-২০১৮ সালের ভিতরে ভারতের সব রাজ্যে এইরকম মৃত্যুর যতগুলি খবর নথিভুক্ত হয়েছে, তা থেকে সর্বমোট ১১৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে।)
হৃদয়বিদারক অবহেলা
আর-একটি অবিশ্বাস্য হৃদয়বিদারক পরিসংখ্যান হল: দিল্লিতে পথদুর্ঘটনায় রোজ গড়ে চারজনের মৃত্যু হয়। আপনি ধরে নিতে পারেন, আগামীকালও জনা-চারেক লোকের এইভাবে মৃত্যু ঘটবে। তার পরের দিন আরও চারজন মরবে। মৃত্যুর গড়পড়তা হিসেবটা এইরকমই চলতেই থাকবে। শুধু এক দিল্লিতেই এই অবস্থা। অথচ, সারা পৃথিবীতে সারা বছরে বিমানদুর্ঘটনায় মোট মৃত্যু যা ঘটে তা এর সামান্য এক ভগ্নাংশমাত্র! তা’হলে আমরা কেন বিমানভ্রমণে নিয়মের কড়াকড়ি করে সড়কপথে ভ্রমণে যত ছাড় দিয়ে বসে আছি? (২০১১-২০১৭ সালের ভিতরে দিল্লিতে পথদুর্ঘটনায় ১২,৭২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।)
আপনি কি কখনও দিল্লির বারাপুলা ফ্লাইওভারের উপর দিয়ে গিয়েছেন—এটি দিল্লি সরকারের পূর্ত বিভাগের একটি ‘গর্ব’ এবং এটি নির্মাণ করতে অনেক বছর সময়ও নেওয়া হয়েছিল? ফ্লাইওভারটা গড়পড়তা—ডিজাইন এবং এর উপর দিয়ে যাতায়াত ব্যবস্থা মিলিয়ে গড়পড়তাই—কিন্তু নির্মাণের গুণমান যদি বলেন তো জঘন্য। শুধু ফ্লাইওভারের দু’ধারের প্যারাপেটের (কিনারা বরাবর নিচু পাঁচিল) দিকে তাকান দেখবেন কী পরিমাণ ফাটল, ভেঙেচুরেও পড়ছে কোথাও কোথাও, উচ্চতাও সব জায়গায় সমান নয়, স্ল্যাবগুলি সব জায়গায় ঠিকমতো জোড় খায়নি, প্লাস্টার এবং রং যা হয়েছে সেও ভয়ানক খারাপ এবং, সব মিলিয়ে কুচ্ছিত। তার পরেও এই ফ্লাইওভার সমস্ত প্রকার কোয়ালিটি টেস্টে পাশ করেছে, ঠিকাদারকে তাঁর প্রাপ্য টাকা মেটানো হয়েছে (এবং ধরে নেওয়া যায় যে তিনি আপ্যায়িতও হয়েছেন) এবং সেটির উদ্বোধন হয়েছে ২০১০ সালে। মেরামতির জন্য এটা যে বন্ধ করে রাখতে হবে সে আর বেশিদিন নেই।
সংকল্প ও রূপায়ণ
উপরের এই ঘটনাগুলির একটিতেও—আপনি না অন্যদের কথা ভাবতে পারবেন—না বলতে পারবেন যে কোথাও নীতিগত ব্যর্থতা ছিল। প্রত্যেকটি সরকারের পলিসি হল—হাসপাতাল নির্মাণ করা, তার স্বাস্থ্যবিষয়ক সমস্ত দিক সাজিয়েগুছিয়ে তোলা; মানুষকে দিয়ে সাফাই (ম্যানুয়াল স্কাভেনজিং) চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া; ট্রাফিক সংক্রান্ত নিয়মকানুন বলবৎ করবে এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে; শহর নগর প্রভৃতিকে উচ্চমানের পরিকাঠামোসহ সৌন্দর্যায়ন ঘটাবে; এবং এই যুগে আরও যা যা দরকার তারা করবে।
আইনসভা অথবা এক্সিকিউটিভ (অর্থাৎ মন্ত্রীরা) নীতিপ্রণয়ন করেন এবং, স্বভাবতই, তাঁরা চান যে সেই নীতি যথাযথভাবে রূপায়িতও হবে। কিন্তু সংকল্প এবং রূপায়ণের মধ্যে ব্যবধান যেটা সে দুস্তর। কেন? এটা আমাদের বলতে সঙ্কোচ হয়, কিন্তু অবশ্য করে বলাই দরকার: সরকারের (the Government with a capital G—আমরা এখানে ‘বড়’ সরকার বলব) ভিতর আর একটি সরকার (the Government with a small g—আমরা এখানে ‘ছোট’ সরকার বলব) আছে। এখানে ‘ছোট’ সরকারটি ‘বড়’ সরকারটিকে, একইসঙ্গে জনগণকে ব্যর্থ করে দিয়েছে, অনন্ত ভারতের ক্ষেত্রে কথাটি খাটে।
দু’টি বিপরীত দৃষ্টান্তের মাধ্যমে এটা বোঝাতে পারি। ডিমনিটাইজেশন বা বিমুদ্রাকরণ ছিল পলিসিগত দিক থেকে এক বিরাট ভুল (পলিসি ব্লান্ডার); এমন পলিসি নিতে যেসব মন্ত্রী প্ররোচনা দিয়েছিলেন এবং তা ‘বড়’ সরকারকে দিয়ে কার্যকর করিয়েছিলেন, তার দায়টাও তাঁদের অবশ্যই নিতে হবে। অন্যদিকে, পণ্য ও পরিষেবা কর (জিএসটি) একটি দারুণ পলিসি। এই জিএসটি যদি বিমুদ্রাকরণের মতোই দুর্ভোগের কারণ হয়ে থাকে তবে তার দায়টা ‘ছোট’ সরকারটির উপরেই বর্তায়।
‘স্বচ্ছ ভারত’ একটি দারুণ পলিসি, কিন্তু রাজ্যের এবং গ্রামের খোলা স্থানে শৌচকর্ম (ওডিএফ) সম্পর্কে স্টেটাস রিপোর্টে যে মিথ্যে পরিসংখ্যান প্রদান সেটা হল ‘ছোট’ সরকারের জোচ্চুরি। ‘উজ্জ্বলা’ও একটি ভালো পলিসি, কিন্তু বছরে তিনটি করে রিপ্লেসমেন্ট সিলিন্ডার দেওয়ার যে ব্যবস্থা সেটা হল ‘ছোট’ সরকারের একটি ব্যর্থতা।
আমরা কিন্তু ভোটটা দিই ‘বড়’ সরকারের কথা মাথায় রেখে। তার ভিতরে এই যে ‘ছোট’ সরকারটি তার উপরে মানুষের কোনও নিয়ন্ত্রণই নেই। তাকে বাছাই করা ও নিয়োগ করা, তার প্রশিক্ষণ, মূল্যায়ন, পোস্টিং, অ্যাপ্রাইজাল অথবা প্রমোশন প্রভৃতি কোনও ব্যাপারেই আমাদের করণীয় কিছু থাকে না। এইভাবে আমরা চলতে পারি না। এই ‘ছোট’ সরকারটাকে আমরা অবশ্য করে আমূল বদলে ফেলব। ঠিক যেভাবে আমরা ‘বড়’ সরকারটাকে এবং তার ভোগদখলদারদেরকে প্রতি পাঁচ বছর অন্তর পুরস্কৃত করে অথবা শাস্তি দিয়ে থাকি, আমাদের অবশ্যই একটি উপায় বার করতে হবে যাতে একইভাবে পাঁচ বছর অন্তর অথবা তারও আগে ‘ছোট’ সরকারকে এবং তার ভোগদখলদারদেরকে পুরস্কৃত করতে অথবা শাস্তি দিতে পারি।
আজ আমরা যে প্রধান চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছি সেটা পলিসি তৈরি সংক্রান্ত নয়। চ্যালেঞ্জটা একেবারেই হল—দক্ষতার সঙ্গে, অর্থনৈতিক সাশ্রয়ের সঙ্গে এবং সুচারুরূপে পলিসির রূপায়ণ। 
24th  June, 2019
একশো পঁচিশে সংসদের বাঙালি পণ্ডিত
হারাধন চৌধুরী

কাটমানি আর ব্ল্যাকমানির তরজায় দেশের রাজনীতি আজ বিপন্নপ্রায়। রাজনীতির প্রতি শ্রদ্ধা ও আগ্রহ নষ্ট হচ্ছে সাধারণ মানুষের, বিশেষত শিক্ষিত যুব সম্প্রদায়ের। এ লক্ষণ সুখের নয়—মানুষের জন্য, রাষ্ট্রের জন্য—কারও জন্যই নয়।
বিশদ

৫, ১০, ২০ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে
পি চিদম্বরম

রাজ্যসভায় ২০১৯-২০ বাজেট নিয়ে বক্তব্য রাখার সময় বলেছিলাম, ‘‘যদি জিডিপির স্বাভাবিক বৃদ্ধির হার ১২ শতাংশ হয় তবে প্রতি ছ’বছরে জিডিপির আকারটা দ্বিগুণ হয়ে যাবে। আর বৃদ্ধির হারটা যদি নমিনাল ১১ শতাংশ হয় তবে জিডিপি দ্বিগুণ হতে সময় নেবে সাত বছর।
বিশদ

22nd  July, 2019
২১ জুলাই সমাবেশ: মমতা কী বার্তা দেন জানতে উৎসুক বাংলা
শুভা দত্ত

ওই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকে প্রতিবছর মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই দিনটিতে বড়সড় সমাবেশের আয়োজন করে তাঁর প্রয়াত সহযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
বিশদ

21st  July, 2019
ছোটদের বড় করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে
পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

সব থেকে ভালো হয়, যদি আপনার ‘বাছা’কে নিজের মতো বেড়ে উঠতে দেন। আনন্দে বেড়ে উঠুক। আলো চিনিয়ে দিন, অন্ধকার চিনিয়ে দিন। লক্ষ্য রাখুন, ঠিকঠাক এগচ্ছে কি না! সামনে পিছনে কত ফাঁদ, চোরাবালি। আপনিই ঈশ্বর, ওকে রক্ষা করুন। ছোটদের ‘বড়’ করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে। দয়া করে ওর উপর মাতব্বরি করবেন না, হ্যাঁ আমরা মাতব্বরিই করি।
বিশদ

20th  July, 2019
জন্ম এবং মৃত্যুর দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি অকস্মাৎ আমার একটি বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে। এই উপলক্ষে জগতে সকলের চেয়ে পরিচিত যে মৃত্যু তার সঙ্গে আর-একবার নূতন পরিচয় হল। জগৎটা গায়ের চামড়ার মতো আঁকড়ে ধরেছিল, মাঝখানে কোনো ফাঁক ছিল না। মৃত্যু যখন প্রত্যক্ষ হল তখন সেই জগৎটা যেন কিছু দূরে চলে গেল, আমার সঙ্গে আর যেন সে অত্যন্ত সংলগ্ন হয়ে রইল না।
——— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিশদ

20th  July, 2019
অ্যাপোলো ৫০: গো ফর দ্য মুন
মৃণালকান্তি দাস

 মই বেয়ে লুনার মডিউল ঈগল থেকে চাঁদের বুকে নামতে নামতে নিল আর্মস্ট্রং বলেছিলেন, ‘একজন মানুষের এই একটি পদক্ষেপ হবে মানবজাতির জন্য এক বিরাট অগ্রযাত্রা।’ সেই ছিল চাঁদের বুকে মানুষের প্রথম পদচিহ্ন আর মানবজাতির সেদিনের প্রমিথিউস ছিলেন নিল আর্মস্ট্রং। চাঁদের বুকে নিলের পা ফেলার মাধ্যমে মানুষ চাঁদকে জয় করেছিল।
বিশদ

19th  July, 2019
বাঙালির যে সংস্কৃতি হারিয়ে গেল
জিষ্ণু বসু

ইদানীং রাজ্যে একটা গেল গেল রব শোনা যাচ্ছে। বাঙালি তার সংস্কৃতি হারাচ্ছে। বিজেপি ও আরএসএসের দৌরাত্ম্যে বাংলা যে চেহারা নিচ্ছে সেটা এ রাজ্যের সংস্কৃতির পরিপন্থী। বাঙালি বড়জোর ‘জয়দুর্গা’ বলতে পারে, কিন্তু ‘জয় শ্রীরাম’ বলার প্রশ্নই ওঠে না।
বিশদ

18th  July, 2019
পরিবারতান্ত্রিক সঙ্কট 
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ছবিটা খুব পরিচিত। নিজের দলের বিরুদ্ধেই ধর্নায় বসেছেন ইন্দিরা গান্ধী। ভাঙতে চলেছে কংগ্রেস। আর তার নেপথ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার সংঘাত। একদিকে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা। অন্যদিকে কামরাজ, মোরারজি দেশাই, তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি নিজলিঙ্গাপ্পা। 
বিশদ

16th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

নয়া শিক্ষানীতির কেন্দ্রবিন্দুই হল এই ভারতীয়ত্বের নাম করে মধ্যযুগীয় বাতিল চিন্তা ভাবনার জাবর কাটার প্রচেষ্টা। পঞ্চতন্ত্র, জাতক, হিতোপদেশের গল্পকে তাঁরা স্কুল পাঠ্য করতে চাইছেন, সংস্কৃত শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন অথচ ইংরেজি ভাষা শিক্ষাকে গুরুত্বহীন করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। পাঠ্যতালিকায় বহু ব্যক্তির জীবনীচর্চার উল্লেখ আছে, কিন্তু সেই তালিকায় ভারতীয় নবজাগরণের পথিকৃৎ রামমোহন ও বিদ্যাসাগরের নাম সযত্নে বাদ দেওয়া হয়েছে। রামমোহন-বিদ্যাসাগরই যে এদেশে প্রথম ধর্মীয় কুসংস্কারাচ্ছন্ন শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাতিল করে আধুনিক শিক্ষা প্রচলনের জন্য লড়াই করেছিলেন তা কারোর অজানা নয়। ভারতীয় নবজাগরণের এই মনীষীরা যে আরএসএস-বিজেপির চক্ষুশূল তা আজ জলের মতো পরিষ্কার।
বিশদ

15th  July, 2019
সাত শতাংশ বৃদ্ধির ফাঁদে
পি চিদম্বরম

 কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেটগুলির মধ্যে ২০১৯-২০ সালের বাজেট স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত জট খুলল। মানুষের মধ্যে এই বাজেট নিয়ে কিংবা আগের বাজেট প্রস্তাবটি নিয়ে কোনও আলোচনা নেই। অতিশয় ধনীরা (সুপার রিচ ৬৪৬৭) বিরক্ত, তবুও ভয়ে স্পিকটি নট। ধনীদের স্বস্তি এখানেই যে তাঁদের রেয়াত করা হয়ে থাকে।
বিশদ

15th  July, 2019
একটু ভাবুন
শুভা দত্ত

 বিশ্বের চারদিক থেকে পানীয় জল নিয়ে গুরুতর অশনিসংকেত আসার পরও আমাদের এই কলকাতা শহরে তো বটেই, গোটা রাজ্যেই প্রতিদিন বিশাল পরিমাণ জল অপচয় হয়। আপাতত বেশিরভাগ জায়গায় জলের জোগান স্বাভাবিক আছে বলে সেটা গায়ে লাগছে না। তাই এখনও আসন্ন মহাবিপদের কথাটা ভাবছেন খুব সামান্যজনই। বাদবাকিরা এখনও নির্বিকার, ভয়ডরহীন—দু’জনের সংসারে আড়াই-তিন হাজার লিটার শেষ করে দিচ্ছে দিনে, বাড়ি গাড়ি ধোয়া চালাচ্ছে কর্পোরেশনের পানীয় জলে! আহাম্মক আর কাকে বলে।
বিশদ

14th  July, 2019
বেনোজলের রাজনীতি
তন্ময় মল্লিক

জেলায় জেলায় নব্যদের নিয়ে বিজেপির আদিদের ক্ষোভ রয়েছে। আর এই ক্ষোভের অন্যতম কারণ যোগদানকারীদের বেশিরভাগই এক সময় হয় সিপিএমের হার্মাদ বাহিনীর সদস্য ছিলেন, অথবা তৃণমূলের ‘কাটমানি নেতা’। তাই এই সব নেতাকে নিয়ে স্বচ্ছ রাজনীতির স্লোগান মানুষ বিশ্বাস করবে না। উল্টে লোকসভা ভোটে যাঁরা নীরবে সমর্থন করেছিলেন, তাঁরা ফের নিঃশব্দেই মুখ ফিরিয়ে নেবেন।‘ফ্লোটিং ভোট’ যে মুখ ঘুরিয়ে নিতে পারে, সেটা বিজেপির পোড়খাওয়া নেতারা বুঝতে পারছেন। তাঁরা বলছেন, ভোটের ফল প্রকাশের পর যাঁরা আসছেন তাঁরা কেউই বিজেপির আদর্শের জন্য আসছেন না, আসছেন বাঁচার তাগিদে। কেউ কেউ লুটেপুটে খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখার আশায়।
বিশদ

13th  July, 2019
একনজরে
 বদায়ুন, ২২ জুলাই (পিটিআই): সোমবার উত্তরপ্রদেশে স্নান করতে নেমে গঙ্গায় তলিয়ে গেলেন দুই কাঁওয়ার যাত্রী। পুলিস জানিয়েছে, বদায়ুনের উসাইহাতা এলাকার অতাইনা ঘাটে স্নান করতে নেমেছিলেন দিব্যম সাক্সেনা (২৩), আমন গুপ্ত (২২) এবং দেবেন্দ্র (৩০)। ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইস্ট-ওয়েস্ট পথে বাণিজ্যিকভাবে ট্রেন চালানোর চূড়ান্ত অনুমোদন চেয়ে গত মাসের শেষের দিকে ‘কমিশনার অব রেলওয়ে সেফটি’ (সিআরএস)-র কাছে আবেদন করেছিল কলকাতা মেট্রো রেল কর্পোরেশন লিমিটেড (কেএমআরসিএল)। সঙ্গে পাঠানো হয়েছিল প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও। ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তাঁরা পঞ্চায়েত এলাকায় কর আদায় করেন। তাঁদের মাধ্যমে যে টাকা আদায় হয়, তার উপর অনেকটাই নির্ভর করে পঞ্চায়েতের আয়। মোটা টাকার অনুদান পাওয়ার ক্ষেত্রেও পঞ্চায়েতের ভরসা তাঁরাই। অথচ গ্রাম পঞ্চায়েতের ট্যাক্স কালেক্টরদের ন্যায্য টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে চরম ...

নিজস্ব প্রতিবেদন: বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে ভারতের সঙ্গে একই গ্রুপে রয়েছে বাংলাদেশ, ওমান, আফগানিস্তান ও কাতার। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, অপেক্ষাকৃত সহজ গ্রুপে পড়েছেন সুনীল ছেত্রী-সন্দেশ ঝিংগানরা। কিন্তু ভারতের ক্রোয়েশিয়ান কোচ ইগর স্টিম্যাচ বলেছেন, ‘গ্রুপের বাকি দলগুলির প্রত্যেককেই যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছি।’ ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কর্মপ্রার্থীদের কর্মের যোগাযোগ আসবে। যে সুযোগ পাবেন তাকে সদ্ব্যবহার করুন। কর্মক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আনুকূল্য পাবেন। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮২৯- আমেরিকাতে টাইপরাইটারের পূর্বসুরী টাইপোগ্রাফার পেটেন্ট করেন উইলিয়াম অস্টিন বার্ড।
১৮৫৬- স্বাধীনতা সংগ্রামী বাল গঙ্গাধর তিলকের জন্ম
১৮৮১ - আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলির মধ্যে সবচেয়ে পুরাতন আন্তর্জাতিক জিমন্যাস্টিক ফেডারেশন প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৮৯৫- চিত্রশিল্পী মুকুল দের জন্ম
১৯৯৫- হেল-বপ ধূমকেতু আবিস্কার হয়। পরের বছরের গোড়ায় সেটি খালি চোখে দৃশ্যমান হয়।
২০০৪- অভিনেতা মেহমুদের মৃত্যু
২০১২- আই এন এ’ যোদ্ধা লক্ষ্মী সায়গলের মৃত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার 67.49 70.53
পাউন্ড 84.31 88.37
ইউরো 75.63 79.29
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৫,৫৩৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৩,৭১৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪৪,২২০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,৮৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,৯৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৬ শ্রাবণ ১৪২৬, ২৩ জুলাই ২০১৯, মঙ্গলবার, ষষ্ঠী ২৭/৫২ অপঃ ৪/১৬। উত্তরভাদ্রপদ ২০/১৫ দিবা ১/১৪। সূ উ ৫/৭/৪২, অ ৬/১৮/১৭, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪৬ গতে ১০/২৪ মধ্যে পুনঃ ১/২ গতে ২/৪৮ মধ্যে পুনঃ ৩/৪০ গতে ৫/২৬ মধ্যে। রাত্রি ৭/১ মধ্যে পুনঃ ৯/১১ গতে ১১/২১ মধ্যে পুনঃ ১/৩১ গতে ২/৫৮ মধ্যে, বারবেলা ৬/৪৭ গতে ৮/২৫ মধ্যে পুনঃ ১/২২ গতে ৩/১ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৩৯ গতে ৯/০ মধ্যে।
৬ শ্রাবণ ১৪২৬, ২৩ জুলাই ২০১৯, মঙ্গলবার, ষষ্ঠী ১৮/৪৭/৯ দিবা ১২/৩৭/৪। উত্তরভাদ্রপদনক্ষত্র ১৪/২৯/১২ দিবা ১০/৫৩/৫৩, সূ উ ৫/৬/১২, অ ৬/২১/২৮, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪৯ গতে ১০/২৪ মধ্যে ও ১/০ গতে ২/৪৪ মধ্যে ও ৩/৩৬ গতে ৫/১৯ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/৫৫ মধ্যে ও ৯/৮ গতে ১১/২০ মধ্যে ও ১/৩২ গতে ৩/১ মধ্যে, বারবেলা ৬/৪৫/৩৬ গতে ৮/২৫/১ মধ্যে, কালবেলা ১/২৩/১৪ গতে ৩/২/৩৯ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৪২/৪ গতে ৯/২/৩৯ মধ্যে।
১৯ জেল্কদ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
  সল্টলেকের বিএসএনএল-এর অফিসে আগুন
সল্টলেকের ১৩ নম্বর ট্যাঙ্কের বিএসএন এল-এর নোভাল সেন্টারে আগুন লেগেছে। ...বিশদ

22-07-2019 - 09:50:50 PM

বরানগর জুট মিলে আগুন, অকুস্থলে দমকলের ৪টি ইঞ্জিন 

22-07-2019 - 07:18:32 PM

কালিকাপুরে সোনার গয়না চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার পরিচারিকা 

22-07-2019 - 06:20:00 PM

মহেশতলায় দুটি গাড়ির সংঘর্ষ, আহত ৬ 
অটো এবং ৪০৭ গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ছ’জন। জানা গিয়েছে, ...বিশদ

22-07-2019 - 06:18:00 PM

ফুলশয্যার দিনেই আত্মঘাতী গৃহবধু 
ফুলশয্যার দিনেই আত্মঘাতী হলেন এক গৃহবধু। মৃতার নাম প্রিয়াঙ্কা সর্দার ...বিশদ

22-07-2019 - 06:05:00 PM

বজবজ ফাঁড়ির কাছে পচাগলা দেহ উদ্ধার
 

পচাগলা দেহ উদ্ধার হলো বজবজ ফাঁড়ির সংলগ্ন এলাকায়। এই ঘটনায় ...বিশদ

22-07-2019 - 05:34:26 PM