Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

শুধু উন্নয়ন নয়, ভোটের জন্য চাই ভালো মাস্টার
তন্ময় মল্লিক

মোটা বেতন দিয়ে মাস্টার রাখলেই ছেলেমেয়ে মানুষ হয় না। তেমনটা হলে সব বড়লোকের ছেলেমেয়েই উচ্চশিক্ষিত হতো। কিন্তু, তা তো হয় না। ছাত্রছাত্রীর পড়াশোনায় আগ্রহ, মেধা যেমন থাকা দরকার, তেমনই নজরদারিটাও জরুরি। ফাঁকিবাজি থাকলেই ছাত্র হয় গাড্ডু খাবে, অথবা ‘বিবেচনায়’ পাশ। কথাগুলো কোনও শিক্ষাবিদ বা বিদগ্ধজনের নয়, বাঁকুড়ার মুকুটমণিপুর জলাধার লাগোয়া এক ছোট্ট স্টল মালিকের। জঙ্গলমহল সহ গ্রাম বাংলার পরিকাঠামোয় প্রভূত উন্নয়ন, শান্তি প্রতিষ্ঠা সত্ত্বেও লোকসভা ভোটে তৃণমূলের শোচনীয় ফলের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়েই তাঁর এই উপমা।
এই ভদ্রলোক ঝুপড়ি থেকে পাকা স্টলের মালিক হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের জামানাতেই। আগে জলাধারের পাশে গুমটিতে ডোকরা, পুঁতি সহ হাতের কাজের মালপত্র নিয়ে বসতেন। সেই সব ঝুপড়ি, গুমটি এখন ঢালাই দেওয়া স্টল। সৌজন্যে মা-মাটি-মানুষের সরকার। মুকুটমণিপুরকে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করতে এবং হস্তশিল্পীদের মাথার উপর ছাদ দিতে ৪০টির মতো স্টল তৈরি করেছে সরকার। সেই স্টলের একটি পেয়েছেন এই ছিপছিপে চেহারার মানুষটি। তৃণমূল পরিচালিত সরকারের বেনিফিশিয়ারি হলেও তাঁর মনে ‘পাওয়ার আনন্দ’ নেই। উল্টে বিস্তর ক্ষোভ।
না, এই স্টল মালিক বিরোধী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, এমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই। বরং তৃণমূলের সঙ্গে সখ্যের সূত্রেই তাঁর কপালে জুটেছে সরকারি উদ্যোগে তৈরি স্টল। তবুও তাঁর মনে ক্ষোভ। ক্ষোভের কারণ, নিয়ম মেনে স্টল তৈরি না করা।
ওই স্টল মালিক বলছিলেন, দেখুন, এই স্টলগুলির উচ্চতা মাত্র সাত ফুট। সিলিং ফ্যান লাগালে হাত কেটে যাওয়ার ভয়। এমনিতেই বাঁকুড়া, পুরুলিয়ায় গরমে টেকা দায়। তার উপর ছাদের হাইট কম। বুঝতেই পারছেন, কী অবস্থা। যতদিন ব্যবসা করব, ততদিন এই যন্ত্রণা বইতে হবে। অথচ খোঁজ নিয়ে দেখুন, সরকার স্টলের হাইট ১০ ফুট করার কথাই বলেছিল। কিন্তু, কাটমানির লোভ ১০ ফুটকে টেনে করে দিল ৭ ফুট। তাহলে এবার বুঝুন, সরকার আমাদের ভালোর জন্য একটা প্রকল্প তৈরি করল, টাকা দিল। কিন্তু যাদের হাতে পড়ল, তারা এমন কাণ্ড ঘটাল যে সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতার বদলে নেতাদের উপর মানুষ চটে গেল। ঠিকাদার মার্কা নেতাদের কৃতকর্মের সব দায় গিয়ে পড়ল সরকারের উপর।
চোখের সামনে সাত ফুট উচ্চতায় ঢালাই হচ্ছে দেখেও প্রতিবাদ করতে পারলাম না। মানে সাহসে কুলালো না। কারণ এখানে তো বেশিরভাগ নেতা হয় ঠিকাদার, না হয় সুপারভাইজার। দলটা ঠিকাদার, আর সুপারভাইজারদের দখলে চলে যাওয়াতেই যত বিপত্তি। তাই উন্নয়ন করলেই ভোটে জেতা যায়—এটা ভুল ধারণা। কৌশলী হতে হয়। উন্নয়নটা ঠিকমতো হচ্ছে কি না, সেটা খতিয়ে দেখা দরকার। সেই জন্যই বলছিলাম, শুধু মাস্টারের পিছনে টাকা ঢাললেই ছেলেমেয়ে মানুষ হয় না, নজরদারি ভীষণ জরুরি।
উত্তরবঙ্গের সুদূর কোচবিহার থেকে দক্ষিণবঙ্গের ঝাড়গ্রাম পর্যন্ত লোকসভা ভোটে তৃণমূলের ভয়াবহ বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধান করলে দেখা যাবে, দলের চার আনা, আট আনা নেতাদের ঠিকাদার ও সুপারভাইজার হয়ে ওঠা এবং তাদের সঙ্গে ‘আত্মীয়তাই’ সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে। দল যাঁদের মাস্টারি করার দায়িত্ব দিয়েছিল, তাঁদের বেশিরভাগই এলাকায় গিয়ে কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক না করে বসতেন ‘ঠিকাদার নেতার’ সঙ্গে ‘আত্মীয়তার সম্পর্ক’ ঝালিয়ে নিতে। আর তাতেই সারা হয়ে যেত পর্যবেক্ষণের কাজ।
ঠিকাদারদের দল হয়ে গেলে পার্টির রসাতলে যেতে যে বেশি সময় লাগবে না—এই ইঙ্গিত দিয়ে গিয়েছিলেন প্রবাদপ্রতিম কমিউনিস্ট নেতা বিনয়কৃষ্ণ চৌধুরী। বর্ধমান টাউনহলে জলসম্পদ দপ্তরের এক অনুষ্ঠানে ফেটে পড়েছিল তাঁর দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ। সেই সভায় বিনয়বাবু বলেছিলেন, আমার বলতে কোনও দ্বিধা নেই, সরকার এখন মানুষের জন্য ভাবছে না। সরকার এখন ’ফর দ্য কন্ট্রাক্টর, অফ দ্য কন্ট্রাক্টর, বাই দ্য কন্ট্রাক্টর।’ প্রবীণ কমিউনিস্ট নেতার সতর্কবার্তায় সেদিন সিপিএমের দণ্ডমুণ্ডের কর্তারা কর্ণপাত করেননি। উল্টে চরম অপ্রিয় এবং চরম সত্যি কথাটা বলে ফেলায় দলে তাঁকে তীব্র সমালোচিত হতে হয়েছিল। এমনকী, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু পর্যন্ত তাঁকে ভর্ৎসনা করতে ছাড়েননি।
তৃণমূলের আমলে দলের মধ্যে ঠিকাদার ও সুপারভাইজারদের দাপট বেশ বেড়ে গিয়েছিল। আর সেটা মারাত্মক আকার নিয়েছিল ২০১৬ সালে দ্বিতীয়বার ক্ষমতা দখলের পর। প্রায় বিরোধীশূন্য রাজ্যে সর্বত্র তৃণমূলের নেতারা নামে বেনামে ঠিকাদারিতে নেমে পড়েন। ‘টেন্ডার’ শব্দটিই হাওয়া হয়ে গিয়েছিল। গ্রামের মধ্যে ড্রেন তৈরি হয়েছে। কিন্তু, সেই নিকাশি নালার জল কোথায় গিয়ে পড়বে, তা দেখা হয়নি। টাকা খরচ করাটাই উদ্দেশ্য হয়ে গিয়েছিল। কারণ যত উন্নয়ন, তত পকেটমানি।
হুগলি জেলার আরামবাগ লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত পুরশুড়া বিধানসভায় তৃণমূলের বিপুল ভোটে পিছিয়ে থাকার পিছনেও এক যুব নেতার ঠিকাদারি ব্যবসা এবং ফুলেফেঁপে ওঠাকেই অনেকে দায়ী করছেন। ওই নেতার দাপটে দলের প্রবীণ এবং আদিদের নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় হয়েছিল। বাঁকুড়ার খাতড়াতেও এক ঠিকাদার নেতার ভূমিকা জঙ্গলমহলে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। বর্ধমান শহরেও এক প্রভাবশালী নেতার দাপট এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে শহরবাসী মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন। শুধু সাধারণ মানুষ নয়, দলের বেশিরভাগ নেতা তাঁর কাজে ক্ষুব্ধ। কিন্তু কিছু করার নেই। কারণ দলের মাস্টারমশাইদের সঙ্গে তাঁর ‘আত্মীয়তার সম্পর্ক’।
বলা দরকার, জায়গার নামগুলি এখানে অপ্রাসঙ্গিক। কারণ রাজ্যের প্রায় সর্বত্রই একই ঘটনা ঘটেছে। প্রায় প্রতিটি জায়গায় এরকম কিছু দাপুটে নেতার জন্যই উন্নয়নের সুফল তৃণমূল ঘরে তুলতে পারেনি। অথচ ভোটের আগে দিস্তা দিস্তা অভিযোগ জমা দিয়েও দাপুটেদের ঠান্ডা করা যায়নি। কারণ দলের মাস্টারমশাইদের সঙ্গে দাপুটেদের সম্পর্ক অতীব ‘মধুর’। ফলে সমস্ত অভিযোগের পিছনেই কাণ্ডারীরা দেখতে পেতেন, ষড়যন্ত্রের গভীর ছায়া। পুলিসি ঘেরাটোপের লালগাড়িতে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া কাণ্ডারীরা ভেবেছিলেন, প্রায় বিরোধীশূন্য রাজ্যে মানুষ হয়তো তাঁদের এভাবেই স্যালুট
জানিয়ে যাবে। তাই ঠান্ডিগাড়িতে বসে গুনগুনিয়ে গাইতেন, ‘এমনি করেই যায় যদি দিন যাক না।’
কিন্তু তাঁরা ভুলে গিয়েছিলেন, ‘চিরদিন কাহারও সমান নাহি যায়’ বলেও একটি গান আছে।
ইতিহাস শিক্ষা দেয়। ইতিহাসকে যাঁরা মনে রাখেন, তাঁদের ভবিষ্যতের পথচলা অনেক মসৃণ হয়। ইতিহাস শিক্ষা দিয়েছে, নেতাদের দলে টেনে নেওয়া যত সহজ, মানুষকে ধরে রাখা ঠিক ততটাই কঠিন। ভালোবাসা আর সম্মানে ঘাটতি হলেই মানুষ ২৩৬ থেকে একটানে ৩৬ করে দিতে পারে। আবার ৩৪ থেকে বাইশও হয়।
অম্বিকানগর, বাঁকুড়া জেলার রানিবাঁধের প্রত্যন্ত এলাকা। অত্যন্ত দুর্গম ও জঙ্গলঘেরা হওয়ায় ইংরেজ আমলে গোরা পুলিসকে ধোঁকা দিতে স্বাধীনতা সংগ্রামীরা এই এলাকায় গা ঢাকা দিতেন। বারিকুলের ছেন্দাপাথর ছিল স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নিরাপদ আস্তানা। কথিত আছে, বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসু গোরা পুলিসদের নাগাল এড়াতে এই ছেন্দাপাথরেই আত্মগোপন করেছিলেন।
সেই দুর্গমতার জন্যই রানিবাঁধ হয়ে উঠেছিল ‘মাওবাদীদের অভয়ারণ্য’। খুন আর অপহরণের আতঙ্কে রাত জাগত জঙ্গলমহল। সন্ধ্যার আগেই ঝুপ ঝুপ করে পড়ে যেত দোকানের ঝাঁপ। কিন্তু, সেই রানিবাঁধ, সেই বারিকুল, সেই অম্বিকানগর এখন এতটাই মসৃণ যে কোনও রকম ঝাঁকুনি ছাড়াই কলকাতা থেকে চলে আসা যায় মুকুটমণিপুর। নিরাপত্তা এখন এতটাই সুনিশ্চিত যে গভীর রাতেও বাড়ির বাইরে থাকা লোকজনের জন্য পরিবারের দুশ্চিন্তা হয় না। সৌজন্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিন্দুকও একথা স্বীকার করে। তবুও...।
লোকসভা ভোটে বহু আসনে হেরেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। বিপুল ভোটে। কারণটা শোনা যাক গুরুপদ প্রামাণিকের মুখে। গ্রামের মধ্যে একটা ছোট্ট সেলুনে চুলদাড়ি কেটে তাঁর সংসার চলে। গুরুপদ একজন ছাপোষা মানুষ। গুরুপদর অবস্থা হরিপদ কেরানির চেয়েও খারাপ। কিন্তু, মেরুদণ্ডটা এখনও ঠিকঠাক, সোজা। ভোট বিপর্যয়ের পরেও মার খাওয়ার ভয়ে আত্মগোপন করতে হয়নি। এখনও নিজেকে তৃণমূল কর্মী বলেই দাবি করেন। ভোলও বদলাননি। গুরুপদ কিন্তু এই ফলে অবাক নন।
গুরুপদ বলেন, এটাই তো হওয়ার কথা ছিল। আমাদের এখানে একটা গ্রামে আবাস যোজনার সাতটি বাড়ির অনুমোদন এসেছিল। তিনজন পেয়েছিল, চারজনকে দেওয়া হয়নি। কারণটা কী জানেন, নেতাদের দেওয়ার জন্য ওই চারজনের গোরু বা হাল কিছুই ছিল না, যা ওরা বিক্রি করতে পারত। একেবারে হতদরিদ্র। অথচ যারা কাটমানি দিতে না পারায় ঘর পেল না, তারা কিন্তু আমাদেরই লোক ছিল। এরপরেও ওদের ভোট আশা করা যায়?
১০০ দিনের প্রকল্পে কাজ না করে কত লোকে টাকা পেত। তাতে যারা গতর খাটিয়ে টাকা নিত, তাদের রাগ হয়ে গেল। আমি এসবের প্রতিবাদ করেছিলাম বলে আমাকে ঘর থেকে বেরতে বাধা দিল। কারা বাধা দিল জানেন? এক সময় যারা লালপার্টির লোক ছিল। এরপরেও তৃণমূল জিতলে বা ভালো ফল করলে দলটা শুধরোত না। গুরুপদ চায়ে শেষ চুমুকটা দিয়ে ভাঁড়টা ফেলে দিলেন।
অনেক আগেই সন্ধ্যা নেমেছে। ফেরার জন্য পা বাড়তেই গুরুপদ সেলুন ছেড়ে পিছন পিছন এলেন। বললেন, তবে একটা কথা মনে রাখবেন, মানুষ তৃণমূলকে ফেলতে চায়নি, ধাক্কা দিতে চেয়েছে। এই ধাক্কায় যদি লোহার বিমে লাগা মরচে খসে যায় তাহলে ফের জঙ্গলমহল হাসবে। আর যদি উপর উপর রং করে দেওয়া হয়, তাহলে মরচে একদিন হয়তো গোটা বিমটাকেই খেয়ে ফেলবে।
10th  August, 2019
বনে থাকে বাঘ 
অতনু বিশ্বাস

ছেলেবেলায় ‘সহজ পাঠ’-এ পড়েছিলাম ‘বনে থাকে বাঘ’। যদিও এই পাঠটা যে খুব সহজ আর স্বাভাবিক নাও হতে পারে, অর্থাৎ বনে বাঘ নাও থাকতে পারে, সেটা বুঝতে বেশ বড় হতে হল। ছোটবেলায় অবশ্য মনে বদ্ধমূল ধারণা ছিল, বন-জঙ্গল গিজগিজ করে বাঘে। 
বিশদ

13th  August, 2019
রক্ষক আইন যেন ভক্ষক না হয়
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

ভিক্টরি ম্যানসনে ঢুকলেন উইনস্টন স্মিথ। বহুতলে ঢুকেই নজরে আসবে দো’তলা সমান আখাম্বা ছবিটা। শুধু একটা মুখ। নীচে ক্যাপশন করা, বিগ ব্রাদার কিন্তু তোমাকে দেখছে। জর্জ অরওয়েলের কালজয়ী উপন্যাস ১৯৮৪-এর শুরুতেই উল্লেখ এই ছবির। আর এই নভেলের সারমর্মও লুকিয়ে এই ছবিতে—বিগ ব্রাদার দেখছে, তাই সাবধান। সাবধান হও সবাই... সরকারি কর্মচারী, ব্যবসায়ী, সাফাইকর্মী, বেসরকারি চাকুরে... মোদ্দা কথা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে। সবসময় নজরদারি।  
বিশদ

13th  August, 2019
পুতিন কি পারবেন নতুন বিশ্বের নেতৃত্ব দিতে?
গৌরীশঙ্কর নাগ

 ১৯১৭ খ্রিস্টব্দে বা তার কিছু আগে থেকে লেনিন, ট্রটস্কি প্রমুখ নিবেদিত প্রাণ কমরেডের হাত ধরে সোভিয়েত সমাজতন্ত্র নামক যে মহীরুহটি ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছিল তা গর্বাচেভ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর কীভাবে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে—বিস্ময়ের সঙ্গে আমরা সেটা দেখেছি।
বিশদ

12th  August, 2019
স্টেট নয়, শুধুই রিয়াল এস্টেট
পি চিদম্বরম

 জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে প্রায়ই লিখি কিন্তু আজকেরটা অন্যরকম। জম্মু ও কাশ্মীর আর আগের জম্মু ও কাশ্মীর নেই। এটা আর রাজ্য নয়। এটাকে বিভক্ত করা হয়েছে। এখন দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল—লাদাখ এবং জম্মু ও কাশ্মীর। ভারতের সংবিধানে কোনও রাজ্যকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের স্তরে নামিয়ে আনার ঘটনা এর আগে ঘটেনি।
বিশদ

12th  August, 2019
রাহুল সরে দাঁড়াতেই কংগ্রেস এমন নেতৃত্বহীনতায় ভুগছে কেন?
শুভা দত্ত

 প্রশ্নটা আজ দেশের সর্বস্তরে। পথে-ঘাটে অফিসে আড্ডায় যেখানেই চলতি রাজনীতি নিয়ে তর্ক-বিতর্কের উদয় হচ্ছে সেখানেই প্রশ্নটা যেন অনিবার্যভাবে এসে পড়ছে! কংগ্রেসের হলটা কী! রাহুল গান্ধী না বলে দিতেই আর সভাপতি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না কংগ্রেসে! গান্ধী ফ্যামিলি ছাড়া কংগ্রেস সভাপতি খুঁজে পাচ্ছে না— এ তো বড় অদ্ভুত ব্যাপার! কংগ্রেসের জন্মের পর থেকে গান্ধী ফ্যামিলির বাইরের দেশ রাজনীতির কত দিকপালই তো জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতির আসন অলঙ্কৃত করেছেন—উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, দাদাভাই নৌরজি, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, সুভাষচন্দ্র, অ্যানি বেসান্ত, চিত্তরঞ্জন, সরোজিনী নাইডু, বল্লভভাই প্যাটেল, কামরাজ, জগজীবন রাম—কত নাম বলব। নিশ্চয়ই এই তালিকায় নেহরু থেকে ইন্দিরা, রাজীব, সোনিয়া হয়ে রাহুল—গান্ধী পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন।
বিশদ

11th  August, 2019
পঞ্চায়েত নির্বাচন, ৩৭০ কিংবা ৩৫এ
শুভময় মৈত্র

পশ্চিমবঙ্গ ২০১৮, আর ত্রিপুরা ২০১৯। পঞ্চায়েত ভোটে ফলাফল একইরকম। ঠিক কত আসন সেটা গোনার দরকার নেই। সহজ অঙ্কে বিষয়টা এরকম। ধরা যাক, মোট আসন ১০০, শাসক দল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী ৭০টি আসনে। বাকি তিরিশের মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের শেষে শাসক দল ২০, বিরোধীরা দশ। পাটিগণিতের অঙ্ক একেবারে মিলে গেল।
বিশদ

10th  August, 2019
কাশ্মীর: নতুন চ্যালেঞ্জ
সমৃদ্ধ দত্ত

 প্রকৃত চ্যালেঞ্জ সরকারের। কাশ্মীরকে আন্তরিকভাবে ভারতের অন্তঃস্থলে মিশিয়ে দেওয়ার কাজটিই কিন্তু হবে কাশ্মীরের নয়া ইতিহাস রচনা। সেটা নিছক একটা ভূমিখণ্ড দখল নয়। কাশ্মীরিয়াৎকে আপন করে নেওয়া। একমাত্র তাহলেই পাকিস্তান সবথেকে বেশি ধাক্কা খাবে! আর কাশ্মীরিদের আমরা যদি শত্রু বিবেচনা করে চলি, তাহলে কিন্তু টেনিসের পরিভাষায় অ্যাডভান্টেজ পাকিস্তান হয়ে যাবে! সে সুযোগ দেব কেন?
বিশদ

09th  August, 2019
সংযুক্তিকরণের মিশ্র অভিজ্ঞতার পংক্তিতে কাশ্মীর
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

 সমস্ত প্রশ্ন আসলে আবর্তিত হচ্ছে মূলত কাশ্মীরসমস্যা সমাধানের প্রশ্নে ‘স্বাধিকার বনাম সংযুক্তিকরণ’ ভাবনাকে কেন্দ্র করে। নেহরুর অনুসৃত কাশ্মীরের স্বাধিকার মডেল বিগত ৭০ বছর ধরে কার্যকরী থাকলেও কাশ্মীরসমস্যার সমাধান কিন্তু অধরাই থেকে গিয়েছে। তৈরি হয়েছিল অচলাবস্থা। বিজেপির সংযুক্তিকরণ মডেলে কাশ্মীরের এই দীর্ঘ অচলাবস্থা ভেঙে এগিয়ে চলার কথা বলা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে সংযুক্তিকরণ মডেলের যে অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে, তা মিশ্র। চীনের সঙ্গে তিব্বতের সংযুক্তিকরণ সফল হয়েছে। আলাস্কার ক্ষেত্রেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংযুক্তিকরণ সফল ছিল। আবার চীনের সঙ্গে হংকংয়ের সংযুক্তিকরণ প্রক্রিয়া কিন্তু কঠিন বাধার সম্মুখীন হয়েছে। এখন দেখার, কাশ্মীরকে ভারতের মূল প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সংযুক্তিকরণ প্রক্রিয়ার ফল কী হয়? বিশদ

08th  August, 2019
জিতে গেলেন শ্যামাপ্রসাদ
জিষ্ণু বসু 

দিনটি ছিল ১১ মে, ১৯৫৩। পারমিট ছাড়া কাশ্মীরে প্রবেশের অপরাধে পাঠানকোটের মাধোপুর সীমান্তে গ্রেপ্তার হলেন শ্যামাপ্রসাদ। সেখান থেকে শ্রীনগর ৩০০ কিমির বেশি। এতটা পথ পুলিসের জিপে আনা হল তাঁকে।  বিশদ

07th  August, 2019
তিন তালাক: এক কুপ্রথার অবসান
অমিত শাহ

কিছু দিন ইতিহাসে বিশিষ্ট হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকে। ভারতের সংসদের ইতিবৃত্তে ৩০ জুলাই, ২০১৯ তেমনই একটি দিন। সংসদের উচ্চকক্ষে ঐতিহাসিক তিন তালাক বিলের জায়গা করে নেওয়াটা নিছক একটি নতুন আইনপ্রণয়ন নয়। এটি একটি ঐতিহাসিক ভুলের সংশোধনের বিষয়। এটি মুসলিম নারীদের সম্মান ও মর্যাদার পুনরুদ্ধারের বিষয়।
বিশদ

06th  August, 2019
দমনমূলক ফেডারালিজম
পি চিদম্বরম

 ১৯৯৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বাজেট ভাষণে আমি ‘কোঅপারেটিভ ফেডারাল পলিটি’—এই ফ্রেজ বা বাগধারাটি ব্যবহার করেছিলাম। এই বাগধারা আমিই প্রথম ব্যবহার করেছি এমন কোনও দাবি করছি না, কিন্তু আমি আনন্দিত যে ‘কোঅপারেটিভ ফেডারালিজম’ কথাটি বাজেট ভাষণে এবং অন্য অনেক উপলক্ষে বারংবার ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
বিশদ

05th  August, 2019
কলকাতা কি প্রবীণদের জন্য ক্রমশ বিপজ্জনক হয়ে উঠছে?
শুভা দত্ত

বুধবার ভোরের কাগজে চোখ রাখতেই এমন একটা প্রশ্ন যেন বুকের মধ্যে শেল হয়ে বিঁধল। এ কী কাণ্ড সব হচ্ছে! খুনের পর খুন! আর সেই খুনিদের টার্গেট কিনা নিরীহ সাধারণ প্রৌঢ় আর প্রবীণ! কী অপরাধ তাঁদের? অপরাধ তাঁরা বাড়িতে একলা থাকেন, তাঁদের ছেলেমেয়েরা হয়তো চাকরিসূত্রে দেশের অন্য রাজ্যে বা দূর বিদেশে। অপরাধ—তাঁদের একটা ছোট বড় জমি বাড়ি বাগান বা ফ্ল্যাট আছে, আছে সারাজীবন কষ্ট করে রোজগারের কিছু টাকা-পয়সা, ব্যাঙ্ক আমানত, গয়নাগাটি।
বিশদ

04th  August, 2019
একনজরে
বেজিং, ১২ আগস্ট (পিটিআই): ঘূর্ণিঝড় লেকিমার তাণ্ডবে চীনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪৯ জন। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ২১ জন। প্রশাসন সূত্রে এই তথ্য জানা গিয়েছে। ...

বিএনএ, কৃষ্ণনগর: ঘূর্ণির শিল্পী সুবীর পাল ‘লিমকা বুক অব রেকডর্সে’ নাম তুলে ফেললেন। সুবীরবাবুর ঝুলিতে অনেক আগেই এসেছে রাষ্ট্রপতি পুরস্কার। একইসঙ্গে বৃহৎ মূর্তি(লার্জার দ্যান লাইফ) এবং ক্ষুদ্র ভাস্কর্য তৈরি করে তিনি ঠাঁই পেয়েছেন লিমকা বুকে। ভেঙে ফেলেছেন আগের রেকর্ডও। সম্প্রতি ...

 মুম্বই, ১৩ আগস্ট: স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ থেকে রেহাই পেলেন প্রাক্তন অধিনায়ক রাহুল দ্রাবিড়। তার ফলে জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমির কোচ হতে তাঁর সামনে আর কোনও বাধা রইল না। প্রশাসক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাহুল দ্রাবিড়ের বিরুদ্ধে স্বার্থের সংঘাতের যে অভিযোগ ...

প্রসেনজিৎ কোলে, কলকাতা: জোর করে দরজা আটকে পাতাল পথের ট্রেনে ওঠার অভিযোগে এক মাসেই জরিমানা বাবদ আদায় হয়েছে ১০ হাজার টাকা। স্টেশনে চলছে প্রচারও। তবুও ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কোনও কিছুতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভাববেন। শত্রুতার অবসান হবে। গুরুজনদের কথা মানা দরকার। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সুফল ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৪৭- পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস
১৯৪৮- শেষ ইনিংসে শূন্য রানে আউট হলনে ডন ব্র্যাডম্যান
১৯৫৬- জার্মা নাট্যকার বের্টোল্ট ব্রেখটের মৃত্যু
২০১১- অভিনেতা শাম্মি কাপুরের মৃত্যু 





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.২৭ টাকা ৭১.৯৭ টাকা
পাউন্ড ৮৪.২৫ টাকা ৮৭.৩৭ টাকা
ইউরো ৭৮.০৭ টাকা ৮১.০৭ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,৪৩০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,৪৬০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৭,০০৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৪,৬০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৪,৭০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২৮ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৪ আগস্ট ২০১৯, বুধবার, চতুর্দশী ২৬/১৩ দিবা ৩/৪৬। উত্তরাষাঢ়া ০/৫ প্রাতঃ ৫/১৯। সূ উ ৫/১৬/৩৫, অ ৬/৬/১৬, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫৮ মধ্যে পুনঃ ৯/৩৩ গতে ১১/১৫ মধ্যে পুনঃ ৩/৩২ গতে ৫/১৫ মধ্যে। রাত্রি ৬/৫২ গতে ৯/৬ মধ্যে পুনঃ ১/৩৩ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ৮/২৯ গতে ১০/৫ মধ্যে পুনঃ ১১/৪২ গতে ১/১৮ মধ্যে, কালরাত্রি ২/২৯ গতে ৩/৫২ মধ্যে। 
২৮ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৪ আগস্ট ২০১৯, বুধবার, চতুর্দশী ২৪/৩১/৩ দিবা ৩/৪/৩। উত্তরাষাঢ়ানক্ষত্র ২/১০/১৭ দিবা ৬/৭/৪৫, সূ উ ৫/১৫/৩৮, অ ৬/৮/৪২, অমৃতযোগ দিবা ৭/০ মধ্যে ও ৯/৩২ গতে ১১/১৪ মধ্যে ও ৩/২৮ গতে ৫/১০ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/৪৬ গতে ৯/১ মধ্যে ও ১/৩২ গতে ৫/১৬ মধ্যে, বারবেলা ১১/৪২/১০ গতে ১/১৮/৪৮ মধ্যে, কালবেলা ৮/২৮/৫৪ গতে ১০/৫/৩২ মধ্যে, কালরাত্রি ২/২৮/৫৪ গতে ৩/৫২/১৬ মধ্যে। 
১২ জেলহজ্জ 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
তৃতীয় একদিনের ম্যাচ: বৃষ্টিতে ফের বন্ধ খেলা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৫৮/২(২২ওভার)  

09:25:56 PM

তৃতীয় একদিনের ম্যাচ: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৩১/২(১৫ওভার)  

08:44:01 PM

তৃতীয় একদিনের ম্যাচ: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১১৪/০(১০ ওভার)  

08:19:26 PM

 আগামীকাল কম ট্রেন মেট্রোয়
আগামীকাল ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকায় ...বিশদ

08:12:59 PM

তৃতীয় একদিনের ম্যাচ: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৯/০(৫ ওভার)  

07:49:21 PM

তৃতীয় একদিনের ম্যাচ: বৃষ্টিতে বন্ধ খেলা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৮/০(১.৩ ওভার) 

07:24:54 PM