আমরা মেয়েরা

রিলস দেখার অভ্যাস ধৈর্য কমাচ্ছে

পক্ষে
সায়ন রাউত, কলেজ ছাত্র
এক মিনিটের একটি রিলস-এই উদ্দেশ্য সফল। তাড়াতাড়ি উদ্দেশ্য সফল হওয়ার এই প্রবণতা ধৈর্য হারানোর বড় কারণ। একটি রিলস থেকে পরবর্তী রিলস এ যেতে এক সেকেন্ডেরও কম সময় লাগে। দশ মিনিটে দশটি ভিন্ন বিষয়ের রিলস দেখার পর আমাদের মস্তিষ্ক কোনও বিষয়কেই সঠিকভাবে পর্যালোচনা করে দেখার সুযোগ পায় না এবং মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়। এর ফলস্বরূপ দৈনন্দিন জীবনে ধৈর্যের অভাব দেখা যায়। আমরা কোনও বই বা সংবাদপত্র পড়লে সেখানে ঘটনা বা দৃশ্য লিখিত আকারে থাকে যা পড়ে মস্তিষ্কে সাজিয়ে নিতে হয়। অপরদিকে রিলস-এর মতো অডিওভিস্যুয়াল মাধ্যমে সম্পূর্ণ দৃশ্য আমাদের চোখের সামনে থাকে। ফলে মস্তিষ্ককে তুলনামূলক কম পরিশ্রম করতে হয়, যা মস্তিষ্ককে অলসতার দিকে ঠেলে দেয়। এই অলসতা ধৈর্য হ্রাসের অন্যতম কারণ।

 শুভদীপ নন্দী, পড়ুয়া 
বর্তমান সময়ে যে কারও পক্ষে টানা আধ ঘণ্টা চুপচাপ বসে থাকা দুষ্কর। নেপথ্যে রিলস। ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ডের ভিডিও দেখতে দেখতে এক-দু’ঘণ্টা সাবার হয়ে যাচ্ছে। চোখের সামনে দ্রুত দৃশ্যপট পরিবর্তনে আমাদের ব্রেনের কিছু অংশ সক্রিয় হয়, যা  ব্রেনে ডোপামেন ক্ষরণ করে তাৎক্ষণিক আনন্দ দেয়। কিন্ত ব্রেনের অন্য অংশ যা ধৈর্য, একাগ্রতা, সহানুভূতিশীল হতে শেখায়। তা ক্রমেই দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। ফলে বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে অস্থিরতা, অন্যমনস্কতা, সামান্য বিষয়েও দ্রুত প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা যাচ্ছে। 

 বিশ্বায়ন রায়চৌধুরী, প্রথম বর্ষের ছাত্র 
একদা টিকটক এবং পরবর্তীতে শর্টস। তারপর রিলস থেকে স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিও শুরু। ৫-১০ মিনিটের ভিডিওর বদলে ৫০-৬০ সেকেন্ডের ভিডিওর সাময়িক বিনোদন‌ মাদকাসক্তির মতো মানুষকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ফেলেছে। যে কোনও জিনিসে মনঃসংযোগ করার জন্য ধৈর্য ধরে সেটার সঙ্গে সময় কাটাতে হয়। কিন্তু রিলসের ফলে ৩০-৪০ সেকেন্ডের আনন্দ পাচ্ছে মানুষ, ফলত মস্তিষ্কের প্রোগামিংটাই‌ পাল্টে গিয়ে  মনঃসংযোগের সময় কমছে। পাঁচ মিনিটের মধ্যে একাধিক বিভিন্ন বিষয়ের রিল দেখে তারা কোনও বিষয়েরই গভীরে প্রবেশ করতে পারছে না। ফলত এডিএইচডি বা অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাক্টিভ ডিসঅর্ডার দেখা যাচ্ছে যা অদূর ভবিষ্যতে মানসিক রোগ সৃষ্টির পথিকৃৎ। 

 সৌগত পাল, ছাত্র
সোশ্যাল মিডিয়ায় রিলস খুব ছোট্ট কিন্তু মনোগ্রাহী হওয়ায় দ্রুত এবং ঘন ঘন স্ক্রলিং-এর অভ্যাস তৈরি করে। এই ধরনের অভ্যাস মানুষের মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা ও সময় কমিয়ে দেয় এবং একটি বিষয়কে দীর্ঘক্ষণ ধৈর্য ধরে পড়া বা দেখার ক্ষমতাও হ্রাস করে। বিশেষ করে আমাদের মতো নতুন প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা এতে বেশি আসক্ত হয়ে পড়ছে। ফলে, একদিকে যেমন মানুষ তাড়াতাড়ি তথ্য পাওয়ায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে, অন্যদিকে গভীর চিন্তা ও লম্বা মনোযোগের ক্ষমতা হারাচ্ছে। তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় রিলস ধীরে ধীরে ধৈর্য কমাচ্ছে, সন্দেহ নেই।

বিপক্ষে
 সোহিনী রায়চৌধুরী,  শিক্ষিকা
ধৈর্য ধরতে শেখা বড় সহজ কথা নয়! দৈনন্দিন জীবনের ঘোড়দৌড়ে দু’দণ্ড বাক-বিনিময় করার ফুরসত মেলে না,  আবার মিললেও ধৈর্যে কুলায় না! তবে ধৈর্যের মাত্রা পরিবর্তনের জন্য কেবল রিলস দেখাকে দায়ী করা অনুচিত। ধৈর্য একটি জটিল ট্রেট যা জেনেটিক্স, লালন-পালন এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা সহ বিভিন্ন কারণ দ্বারা প্রভাবিত। আর রিলস? এগুলি বিনোদন ও আনন্দের উৎস, শিক্ষাদানেরও মাধ্যম। এটি সৃজনশীলতা বৃদ্ধি করে, ডিজিটাল মার্কেটিং আত্মনির্ভর হওয়ার নব দিগন্ত খুলে দেয়। একটানা কাজের পর রিলস দেখে আমরাও রিচার্জড হয়ে পরবর্তী কাজে লেগে পড়ি। 
বাচ্চাদের শিক্ষামূলক রিলের প্রতি আগ্রহ দেখেছি। চিরাচরিত বইয়ের পাতায় মুখ না গুঁজে রিলস-এ ওরা পায় শেখার মজা! তাই রিলের প্রভাব নির্ভর করে কীভাবে তা ব্যবহার করা হচ্ছে, তার উপর। 

 সৌভিক পাল, ছাত্র
সোশ্যাল মিডিয়ায় রিলস দেখার অভ্যাস অবশ্যই ধৈর্যের অভাব সৃষ্টি করতে পারে, তবে এটি সবসময় সত্য নয়। রিলস সংক্ষিপ্ত হয় যা দ্রুত তথ্য প্রদান করে। এটি আমাদের তথ্য গ্রহণের ক্ষমতা উন্নত করতে পারে। অনেকে এটিকে সময় বাঁচানোর একটি উপায় হিসেবে দেখে, কারণ তারা দ্রুত বিভিন্ন ধরনের কন্টেন্ট খুব অল্প সময়ে দেখতে পারেন। তাছাড়া, রিলস সৃজনশীলতা এবং শিক্ষামূলক কন্টেন্ট প্রদানের একটি মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা দর্শকদের নতুন জিনিস শেখার এবং বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের সুযোগ দেয়। তাই আমার মতে সোশ্যাল মিডিয়ায় রিলস দেখার অভ্যাস কখনই ধৈর্যের অভাব সৃষ্টি করতে পারে না, যদি সেই ব্যক্তির মধ্যে ব্যক্তিগত সচেতনতা এবং স্ব-নিয়ন্ত্রণ থাকে।

অন্তরা সিংহ রায়, বেসরকারি চাকুরে
ধৈর্য হারানোর জন্য শুধু রিলসকে দায়ী করে লাভ নেই। আমরা খুব দ্রুতগামী সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। মানুষের হাতে সময় কম। তাই ধৈর্যও কম। এর নেপথ্যে অনেক কারণের সম্মিলিত প্রভাব আছে। যুগেরও বড় ভূমিকা আছে। রিলসকে ভিলেন বানিয়ে লাভ নেই। সকলেই বই পড়েন বা গান শোনেন এমন তো নয়। বরং সারাদিনের কাজের শেষে দু’দণ্ড সময় পেলে মোবাইলে চোখ যায়, রিলসও চোখে পড়ে। একটা সময় ছিল যখন নিজের গুণ প্রকাশের জন্য একটা মঞ্চ লাগত। সবাই তা পেত না। এখন মোবাইল সেই অভাব পূরণ করেছে। নিজের সুপ্ত প্রতিভা সহজেই অন্যের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায় নানা ভিডিও ও রিলস-এর মাধ্যমে। প্রিয় খেলোয়াড় বা শিল্পীর রিলসও আলাদা আকর্ষণ তৈরি করে। কিছু শিক্ষামূলক রিলসও হয়। দিনের মধ্যে কিছুটা সময় সেসব দেখলেই ধৈর্য কমে যায় না। যে নিজে ভালো টাইম ম্যানেজমেন্ট জানে, তাকে কখনওই রিলস এতটা প্রভাবিত করতে পারে না। 

 সোমা বন্দ্যোপাধ্যায়, পেশাদার কেক প্রস্তুতকারী
প্রত্যেকটি বিষয়ের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক রয়েছে। আমি রিলস-এর পক্ষে। এর মাধ্যমে অনেক মানুষ নিজের প্রতিভা তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছে। আজ সোশ্যাল মিডিয়ায় মানুষ ভিডিও পোস্ট করে কত মানুষের সঙ্গে যুক্ত হতে পারছে। আমি নিজেও রিলস বানাই। এমন অনেকে আছেন যাঁরা বাড়িতে বসে রোজগারের পথ খুঁজে নিচ্ছেন। রিলস-এর মাধ্যমে বহু মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে তার তৈরি জিনিস। ভালোটুকু সঙ্গে নিয়ে চলতে পারলে রিলস-এ ক্ষতি কী? তাছাড়া রিলস দেখার সঙ্গে ধৈর্য বাড়া-কমার কোনও সম্পর্ক রয়েছে বলে আমার মনে হয় না। রিলসের মাধ্যমে অনেক তথ্যবহুল বিষয় অল্প সময়ের মধ্যে আমরা জেনে ফেলতে পারছি। পরে সে বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল থাকলে আরও বিশদে পড়াশোনাও করতে পারি। 
1Month ago
কলকাতা
রাজ্য
দেশ
বিদেশ
খেলা
বিনোদন
ব্ল্যাকবোর্ড
শরীর ও স্বাস্থ্য
বিশেষ নিবন্ধ
সিনেমা
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
আজকের দিনে
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
mesh

গুরুজনের থেকে অর্থকড়ি লাভ হতে পারে। স্বার্থান্বেষী আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দূরত্ব রেখে চলুন। মনে চাঞ্চল্য।...

বিশদ...

এখনকার দর
ক্রয়মূল্যবিক্রয়মূল্য
ডলার৮৩.২৩ টাকা৮৪.৩২ টাকা
পাউন্ড১০৬.৮৮ টাকা১০৯.৫৬ টাকা
ইউরো৯০.০২ টাকা৯২.৪৯ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
*১০ লক্ষ টাকা কম লেনদেনের ক্ষেত্রে
দিন পঞ্জিকা