গল্পের পাতা
 

গানের ভিতর দিয়ে 

স্বপ্নময় চক্রবর্তী:  বাঙালির মনন বাংলা গানকে বলেছে তুমি নব নব রূপে এসো প্রাণে। বাংলা গান এসেছে নবনব রূপে। কিন্তু কানে এসেছে প্রাণে নয়। সেই কবিওয়ালাদের গান থেকে রামপ্রসাদ-নিধুবাবু হয়ে সলিল চৌধুরি হয়ে আজকের ব্যান্ডের গান পর্যন্ত নব নব রূপেই এসেছে। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের গান কী করে যেন রূপের মধ্যে অরূপ হয়ে থেকেছে। অরূপ তোমার বাণী হয়ে বয়ে গেছে।
আমি প্রাক্‌রা঩বীন্দ্রিক যুগের গানের কথা জানি না। রবীন্দ্র-পরবর্তী গানগুলি কিছু জানি। কিছু গান মরুপথে দিশা হারিয়েছে, কিছু গান শীর্ণ স্রোতে রবীন্দ্রগানের মূল ধারায় এসে নত হয়ে মিশে গেছে।
নব্বইয়ের দশকে দেখেছি একদল ছেলে জিনস পরে খোঁচা দাড়ি এবং খুস্কো চুল পিঠে গিটার নিয়ে নতুন কিছু করার চেষ্টা করেছে। সুমন এবং পরবর্তী দুই তিন দশক নিশ্চয়ই নতুন কিছু তো হয়েছে, কিন্তু ওরাও শুরুতেই রবীন্দ্রনাথ দিয়েই তো শুরু করে ওদের গান। সুমন, নচিকেতার কণ্ঠেও ব্যাপ্ত হয়েছে রবীন্দ্রনাথের গানে।
গত চার পাঁচ দশকে শহুরে বাঙালির জীবনযাত্রা বদলেছে তুমুল। বদলেছে মুখের ভাষা, খাদ্য, পোশাক, মূল্যবোধ। অথচ রবীন্দ্রনাথের গান কিন্তু পাশাপাশি চলেছে ঠিক। ইংরেজি মাধ্যমে পড়া আধুনিক ছেলেমেয়েরাও রবীন্দ্রনাথের গান গাইতে পারাটাকে অতিরিক্ত যোগ্যতা মনে করে। কী করে, কোন জাদুশক্তিতে রবীন্দ্রনাথের গান ধুতি পরা বাঙালি থেকে জিনস পরা বাঙালি পর্যন্ত, চিড়ে-মুড়ি খাওয়া বাঙালি থেকে বার্গার পিৎজা খাওয়া বাঙালি পর্যন্ত, যুদ্ধ-দাঙ্গা-দেশভাগ-গণনাট্য-নবনাট্য-মিস শেফালি অতিক্রম করা, কংগ্রেস-বামফ্রন্ট-তৃণমূল অতিক্রম করা বাঙালির পথচলায় রবীন্দ্রনাথের গান পাহাড়ি পথের পাশে পাশে বয়ে চলা নদীর মতোই রয়ে গেল।
একটা সময় ছিল যখন গান করতে মঞ্চে গায়ক এবং একজন তবলচি ছাড়া কিছুই লাগত না। রবীন্দ্রনাথ গান গাইতেন হারমোনিয়াম ছাড়া। ছবিতে দেখেছি গোল চশমা চোখে রবীন্দ্রনাথ গান গাইছেন, পাশে দীনেন্দ্রনাথ ঠাকুর এস্রাজ নিয়ে। শৈলজারঞ্জন শুধু তানপুরায় গাইতেন। হেমন্ত সুবিনয়— দেবব্রতদের হারমোনিয়াম নিয়ে গাইতে দেখেছি। আবার একইরকম ভালো লেগেছে স্বাগতালক্ষ্মী যখন কি বোর্ডে গান গেয়ে ওঠেন। আবার একইরকম, নাকি অন্যরকম ভালো লেগেছে যখন সুমন গিটারে ঝংকার দিয়ে গেয়ে ওঠেন ভেঙে মোর ঘরের চাবি নিয়ে যাবি কে আমারে— তখনও একইরকম ভালো লাগে যে... কী করব। গানের অনুষঙ্গ বদল হয়েছে, কিন্তু গানের মহিমা তো ক্ষুণ্ণ হয়নি কখনও। ছোটবেলায় আমার মায়ের কণ্ঠে একেবারেই খালি গলায় শুনতাম ‘দিবস রজনী’ আমি যেন কার আশায় আশায় থাকি... তখনও কেমন একটা জাদুকরি ভালোলাগা ছিল, আমিও আশায় আশায় থাকতাম যা আবার কখন আনমনে গুনগুনিয়ে উঠবেন।
রবীন্দ্রনাথের গানের পরিবেশন কতরকমভাবে হয়েছে। দেবব্রত বিশ্বাস কিছু বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করেছিলেন বলে বিশ্বভারতীর সংগীত বোর্ড আপত্তি করল, আকাশবাণীতে রবীন্দ্রসংগীতের সঙ্গে হারমোনিয়ামের ব্যবহার কতদিন বন্ধ ছিল, এ সবই পেরিয়ে এসেছি আমরা। এখন রবীন্দ্রনাথের গানের সঙ্গে বিচিত্র ধরনের শব্দানুষঙ্গ জোড়া হয়। আরও কত কিছু জুড়ছে তবুও কেন যেন সবই ভালো লাগছে। একটি চলচ্চিত্রে পাগলা হাওয়ার বাদল দিনে গানটির সঙ্গে হুলালা হুলালা যুক্ত হয়েছিল। আমার তো সেটাও ভালো লাগল। আবার মায়াবন বিহারিণী হরিণী গানটি র‌্যাপ কায়দায় গাওয়া হল। খারাপ লাগল না তো... সেই কবে চারুলতা ছবিতে কিশোর কুমারকে দিয়ে সত্যজিৎ রায় ‘আমি চিনি গো চিনি তোমারে’ গাওয়ালেন। সেটা কি স্বরলিপি অনুযায়ী ছিল পুরোপুরি? আমি জানি না। আমি গানের ব্যাকরণ একেবারেই বুঝি না। কিচ্ছু বুঝি না। কিন্তু, গানটা শুনে মনে হয় অর্থোডক্স রবীন্দ্রপ্রেমীদের গানটি’র গায়ন ভালো লাগবে না। বিশেষত শেষের বউঠাকুরণের শব্দটির সংযোজনা নেহাৎ সত্যজিৎ রায় বলেই কেউ কিছু বলতে পারেনি। কিন্তু আমাদের মনে হয় ওই গানটি কিশোর কুমারের ওই ঢং ছাড়া অন্য কোনওভাবে অমলের কণ্ঠে মানাত না। রবীন্দ্রনাথের গান ছোটবেলা থেকেই আমাদের কানে ঢুকেছে, কিন্তু প্রাণে ঢুকেছে ধীরে ধীরে। যত বয়স বাড়ছে তত নব নব রূপে আসছে প্রাণে। একবার সমুদ্রের ধারে বসে আছি। ঢেউ আসছে, আবার চলে যাচ্ছে। মনের মধ্যে ভেসে এস কুসুমে কুসুমে চরণ চিহ্ন দিয়ে যাও কোথায় কুসুম সামনে তো ঢেউ। ঊর্মিমালা। আসছে, ভাঙছে, আবার চলে যাচ্ছে। তার পরেই একটা শব্দ— ওহে চঞ্চল। এই তো রঙ্গমালা তো নিত্য চঞ্চল। তারপরেই বেলা না যেতে খেলা কেন তব যায় ঘুচে। রবীন্দ্রনাথ মোটেই সমুদ্র ঢেউ কে ভেবে গানটি লেখেননি। কিন্তু এই গান আবার সত্য হয়ে উঠল কোনও নিকট বন্ধুর অকালপ্রয়াণে। আবার এই সমুদ্রতীরেই আর একবার মনে হল অন্য একটি গান— আমি হেথায় থাকি শুধু গাইতে তোমার গান। দিন রাত তোমারই তো গান গাইছে। আজ যেমন করে গাইছে আকাশ তেমন করেই তো গাইছে। তারপরএই গানের শেষে লাইনটা সমুদ্রের অফুরান্ত ঢেউয়ে মিশে গেল— ‘হাওয়া যেমন পাতায় পাতায় মর্মরিয়া বনকে কাঁদায় তেমনি আমার বুকের মাঝে কাঁদিয়া কাদাও গো’। কি আশ্চর্যভাবে একটি গানের সঙ্গে অন্য একটি গান মিশে আছে। সমুদ্রজল বেলাভূমিতে এল, স্তিমিত হল, রেখে গেল ফেনার বুদবুদ, সেটুকুও মিলাল ধরনীতে। তারপর আবার নতুন তরঙ্গ। এটাই তো প্রাণের খেলা। জগতের নিয়ম। আবার এই সাগর কিনারেই মনে হল— আমি হেথায় থাকি শুধু গাইতে তোমার গান। বিরাট আকাশ আর অনন্ত জলরাশির সামনে দাঁড়িয়ে মনে হল আমি তোমার ভুবন মাঝে, লাগিনি নাথ কোনও কাজে শুধু কেবল সুরে বাজে অকাজের এই প্রাণ। কী আশ্চর্য! আজকাল এই বয়সে তো সমুদ্রের ধারে গেলে ‘সুনীল সাগরের শ্যামল কিনারে’ মনে হয় না। আরও বৃহত্তর ব্যঞ্জনা নিয়ে আসে বিশ্বপ্রকৃতি। কেন জানি না কয়েকটি গান আমাকে ভীষণরকম নাড়ায়, কাঁদায়। একটি গান হল ‘ও অকূলের কূল ও অগতির গতি’...। শেষ লাইনটি হল— ‘ও জনমের দোলা, ও মরণের কোল’। কী এক আশ্চর্য সুরে জীবন ও মৃত্যুকে আহ্বান। শেষ ও আরম্ভকে।
রবীন্দ্রনাথের গানকে আধুনিক গান বলা হয় না। বলা না হলেও এই গানগুলি একইসঙ্গে শাশ্বত ও আধুনিক। ‘আধুনিক গান’— কথাটা কলকাতা বেতারের উদ্ভাবন নয়। ঢাকা বেতার কেন্দ্রের। ১৯২৭ সালে কলকাতা বেতারকেন্দ্র চালু হওয়ার পর উচ্চাঙ্গ সংগীত এবং ধর্মমূলক সংগীত ছাড়া যে সব গান শোনানো হত, তার নাম ছিল কাব্যগীতি। রবীন্দ্রনাথের গান, নজরুল, দ্বিজেন্দ্রলাল বা তুলসি লাহিড়ী সবার লেখা গানই কাব্যগীতি ছিল। ঢাকা বেতার কেন্দ্র ভেবেছিল পুরোপুরি ব্যাকরণ অনুসারী হওয়া আধুনিকতার ধর্ম নয়। নির্দিষ্ট রাগ রাগিনীর ছাঁচে গানকে ঢালাই করা আধুনিকতা নয়।
মল্লারেই বর্ষার গান বাঁধতে হবে, কিংবা করুণ রসের গান রাগেশ্রী বা বেহাগেই ধরতে হবে এমন শর্ত আধুনিকতা নয়। নবনির্মিত গানগুলিকে আধুনিক গান বলা হতে লাগল। কালক্রমে দেখা গেল রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, রামপ্রসাদ, দ্বিজেন্দ্র, রজনীকান্ত, অতুলপ্রসাদের বাইরে বাকি সমস্ত গীতিকারের গানকে আধুনিক গান বলা হচ্ছে। কিন্তু আধুনিকতার সংজ্ঞায় রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলই সবচেয়ে বেশি আধুনিক। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের গানের গভীরতা এত বেশি যে তল পাওয়া যায় না। কিন্তু স্তরে স্তরে ঢোকা যায় এবং নান্দনিক মূল্য ছেড়ে দিলেও যেটা পাই সেটা হল শুশ্রূষা। গানটা কানের বিষয় না হয়ে প্রাণের বিষয় হয়ে ওঠে। কথা হচ্ছিল আধুনিকতা নিয়ে। রবীন্দ্রগানকে আধুনিক গানের বাইরে রাখার পিছনে একটা যুক্তি কাজ করেছিল। আধুনিক মানে এই মুহূর্তের। কিন্তু রবীন্দ্রসংগীত চিরকালের। কিন্তু আর আধুনিক কবিতা আধুনিক হয়ে উঠেছিল গত শতাব্দীর তিরিশ দশকে রবীন্দ্রনাথকে বিরোধিতা করতে গিয়ে। কিন্তু আধুনিক বাংলা গানের জন্ম রবীন্দ্র বিরোধিতার মধ্যে নয়। রবীন্দ্রগানেরই একটি অক্ষম উপধারা হয়ে থেকেছে। এখন বাংলা আধুনিক গানের মূল প্রবাহ রবীন্দ্র সংগীত যার ভিতরে মিশে রয়েছে শাস্ত্রীয় সংগীত, কীর্তন, টপ্পা এরকম অনেক অনুপান। আশ্চর্য এর ধারণ ক্ষমতা। এর মধ্যে হুলা হুলা, র‌্যাপ ইত্যাদি মেশাতে পারলে মিশে যায়। তবে রবীন্দ্রগানের ভিতর দিয়ে যে ভূবনখানি দেখি, ‘তখন তারে চিনি আমি, তখন তারে জানি।’
14th  May, 2017
ফুটবল ঘিরে জেগে উঠেছে এক বুক স্বপ্ন

কলকাতা এমনই এক জা‌য়গা যেখানে ভারত বা কলকাতার কোনও দলের খেলা থাকলে দর্শকের ভিড়ে মাঠ উপচে পড়ে, কিন্তু বিদেশি খেলায় উৎসাহ থাকে অনেকটাই স্তিমিত। এবারে কিন্তু তার উজ্জ্বল ব্যতিক্রম। লিখেছেন সুকুমার সমাজপতি। বিশদ

15th  October, 2017
বনানীগড়ের ঝগড়ামহল
রতনতনু ঘাটী

সে রাজ্যের নাম বনানীগড়। সে এক ভারী মজার রাজ্য। তার দক্ষিণ দিকে একটা মস্ত উঁচু পাহাড়। উত্তর দিকে ধু ধু মরুভূমি। পুব দিকে বিরাট সাগর। আর পশ্চিম দিকে দিগন্তের পর দিগন্তে মিশে যাওয়া আকাশ। রাজা না থাকলে কি আর রাজ্য হয় নাকি? তাই সে রাজ্যেরও একজন রাজাআছেন। তাঁর নাম পক্ষীকেতু। সেই রাজার রানিও আছেন একজন। তাঁর নাম কুসুমকান্তা।
বিশদ

15th  October, 2017
লোকনাথজির কৃপায় মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এলেন নিশিকান্ত বসু 

অপূর্ব চট্টোপাধ্যায়
পর্ব-২৬
ডাক্তার নিশিকান্ত বসু, বিএসএমডি। পিতা রজনীকান্ত বসু। মাতা রাজকুমারী বসু। অধুনা বাংলাদেশের বারদীর বড় জমিদার স্বর্গীয় কালীকিশোর নাগ মহাশয়ের কনিষ্ঠা কন্যা ছিলেন রাজকুমারী দেবী। বিশদ

08th  October, 2017
ভা লো মা নু ষ - ম ন্দ মা নু ষ: পর্ব-২৮
ভুবন ভরা জালিয়াত 

অমর মিত্র: টাকার জন্য, জমির জন্য, সম্পত্তির জন্য মানুষ কী না পারে? আমাদের দেশটি ভাগই হয়েছিল স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তির মালিকানা এবং শাসন ক্ষমতা অধিকারের জন্য। সম্পত্তি এখানে ক্ষমতা। দেশ শাসন করবে কে? কোন দল? ক্ষমতাই সমস্ত কিছু করায়ত্ত করার মূল।
বিশদ

08th  October, 2017
আগন্তুক 

পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায়: হাঁসফাঁস করা গরম। একটু স্বস্তির জন্য ট্রেনের ভিতর থেকে দরজার কাছে এসে দাঁড়িয়ে ছিল অলোকনাথ। বারাসত স্টেশনে ট্রেনটা থামতেই দু-দ্দাড় করে উঠে এল ১০-১২ জন যুবক। বিশদ

08th  October, 2017
অন্নদাসুন্দরী
দীপান্বিতা মিত্র

 পুরানো দিনের বাড়ি, লম্বা লম্বা বারান্দা পেরিয়ে যে ঘরটার সামনে আমাকে দাঁড় করানো হল সেটি হল ‘দিদির ঘর’। তখনও জানতাম না, কে এই দিদি। ঘোমটার ফাঁক দিয়ে দেখলাম প্রকাণ্ড একটা পালঙ্কের উপর দুধ সাদা থান পরে এক মহিলা বসে আছেন, যার চারপাশ দিয়ে যেন জ্যোতি বের হচ্ছে। বেশ ফর্সা, দোহারা চেহারা, মাথার চুল খাটো করে কাটা, দুটি প্রকাণ্ড চোখ নিয়ে আমার দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন, আমি ধীর পায়ে ঘরে প্রবেশ করে তাঁকে প্রণাম করলাম। ওই পরিচয়ের শুরু.... তারপর আজ ষোলো বছর ধরে তার অস্তিত্বকে অস্বীকার করার ক্ষমতা আমার হয়নি। বিশদ

27th  September, 2017
পিতা পুত্র
শান্তনু বসু

 জেনেতুন্নেসা বেগমের করুণ আর্তনাদ শেলের মতো এসে বিঁধছে বিজয় সিংয়ের অন্তরে, অপরাধবোধ যেন কুরে কুরে খাচ্ছে তাঁকে। নবাবের মৃত্যুর সব দায়ই যেন তাঁর। অথচ তিনি তো যুদ্ধ করছিলেন অন্যদিকে। নিষেধ না শুনে সামনে অনেকটা এগিয়ে গিয়েছিলেন সরফরাজ খাঁ। ভুল কৌশলে নিজের বিপদ নবাব নিজেই ডেকে এনেছিলেন। একথা যে বিজয় সিং জানেন না তা নয়। তবুও অপরাধবোধ, আত্মধিক্কার। অন্নদাতা প্রভুকে রক্ষা করতে পারেননি বিজয় সিং।
বিশদ

27th  September, 2017
দুর্গাদুপুর
বাণীব্রত চক্রবর্তী

 গৌতমের মোবাইল বেজে উঠল। অরণি ফোন করছে, ‘কী হল! এত দেরি করছিস কেন! শুভায়ু দুটোর মধ্যে চলে এসেছে।’ গৌতম বলল, ‘কী করব! বাস পাচ্ছি না।’ গৌতমের পকেটে কেবল সাঁইতিরিশ টাকা আছে। অরণি বলল, ‘ট্যাক্সিতে চলে আয়। আমি ভাড়া দিয়ে দেব।’ গৌতম ফোনটা কেটে দিল এবং সঙ্গে সঙ্গে ফোনের সুইচ অফ করে দিল। বিশদ

27th  September, 2017
আগমনি
সায়ন্তনী বসু চৌধুরী

 অনেকক্ষণ থেকে মোবাইলটা বেজে চলেছে। একটানা ঘ্যানর ঘ্যানর শব্দ। বিরক্ত হয়ে মহুয়া ঘরের দিকে এগিয়ে গেল। এই এক জিনিস হয়েছে। দু’ দণ্ড একলা থাকতে দেয় না কাউকে। যখনই একটু নিভৃতে নিজের সঙ্গে আলাপ চলে ওমনি বেজে উঠে সব তালগোল পাকিয়ে দেয়। সাত ইঞ্চির চওড়া স্ক্রিনে মায়ের নম্বরটা ফুটে উঠছে। মহুয়ার মুখে এক আকাশ কালো মেঘ এসে জমা হল। দু’তিনবার ঢোঁক গিলে গলাটা যতদূর সম্ভব স্বাভাবিক করে ও কলটা রিসিভ করল,
—‘হ্যাঁ মা, বলো বলো।’
বিশদ

27th  September, 2017
ঝাড়খিলি
পাপিয়া ভট্টাচার্য

 দালানের অন্য দিকে প্রবল চেঁচামেচি হচ্ছে। ‘বলু গো, কুমোরদের বলু! নারায়ণকে তুলে নিয়ে পালিয়েছে।’ হাঁপাতে হাঁপাতে খবর দিল শেফালি। সে এতক্ষণ শাঁখ বাজাচ্ছিল দালানে। ‘শাঁখ রাখতে গিয়েই তো দেখলুম, মশারি তুলে শ্রীধরকে নিয়ে ছুটল। আবার বলছে সন্ধ্যে থেকে রোজ ঘুম! এত ঘুম কিসের, এ্যাঁ? চলো আমার সঙ্গে বেড়িয়ে আসবে।’
বিশদ

27th  September, 2017
হওয়া না হওয়া
নলিনী বেরা

কোবরেজি গেল, নাটুয়া দলে ‘নাচুয়া’ও হওয়া গেল না—আমার দ্বারা আর কী হবে? আর কী হওয়া যায়, অতপর তক্কে তক্কে থাকি। একদিন দেখি, যেখানে পায়ে চলার পথটা মাকড়া পাথরের ‘হুড়ি’ ভেঙে উঠে গেছে উপরে আরও উপরে, সেখানে গাধার পিঠে বোঁচকা-বুঁচকি বেঁধে, শিকলি বাঁধা মেনি বাঁদরকে টানতে টানতে ঘাগরা পরা একদল নারীপুরুষ হেঁটে চলেছে আমাদের ইস্কুল টাঁড়ের হেলে পড়া বটতলার দিকে।
বিশদ

27th  September, 2017
একনজরে
সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: পাহাড়ে যে কোনও উন্নয়নমূলক কাজের শেষে ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট (ইউসি) জমা দিতে বলা হল জিটিএ’কে। নবান্ন থেকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, ...

 ইসলামাবাদ, ২০ অক্টোবর (পিটিআই): দুর্নীতি সংক্রান্ত তৃতীয় মামলাতেও ধাক্কা খেলেন পাকিস্তানের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। বিদেশে এবং অন্যান্য সংস্থায় বিনিয়োগ নিয়ে নওয়াজকে অভিযুক্ত করেছে আদালত। এই মামলায় নওয়াজ দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর কারাদণ্ড হতে পারে। ...

বিএনএ, আরামবাগ: শুক্রবার গোঘাটের ভিকদাস এলাকায় একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে সিলিং ফ্যান মাথায় পড়ে গিয়ে এক কর্মী জখম হয়েছেন। সুনীল বাগ নামে ওই কর্মীকে আরামবাগ মহকুমা হাসপাতালে ভরতি করা হয়। ...

সংবাদদাতা, দিনহাটা: শুক্রবার সকালে কোচবিহার শহরের কলাবাগানে এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। কোতোয়ালি থানা জানিয়েছে, মৃতের নাম মহাদেব বণিক(৩১)। তাঁর বাড়ি কলাবাগানেই। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহটি ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

নিকটবন্ধু দ্বারা বিশ্বাসঘাতকতা। গুরুজনদের স্বাস্থ্যহানি। মামলা-মোকদ্দমায় পরিস্থিতি নিজের অনুকূলে থাকবে। দাম্পত্যজীবনে ভুল বোঝাবুঝিতে সমস্যা বৃদ্ধি।প্রতিকার: ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮০৫: ত্রাফালগারের যুদ্ধে ভাইস অ্যাডমিরাল লর্ড নেলসনের নেতৃত্বে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর কাছে পরাজিত হয় নেপোলিয়ানের বাহিনী
১৮৩৩: ডিনামাইট ও নোবেল পুরস্কারের প্রবর্তক সুইডিশ আলফ্রেড নোবেলের জন্ম
১৮৫৪: ক্রিমিয়ার যুদ্ধে পাঠানো হয় ফ্লোরেন্স নাইটেঙ্গলের নেতৃত্বে ৩৮ জন নার্সের একটি দল
১৯৩১: অভিনেতা শাম্মি কাপুরের জন্ম
১৯৪০: আর্নেস্ট হেমিংওয়ের প্রথম উপন্যাস ফর হুম দ্য বেল টোলস-এর প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হয়
১৯৪৩: সিঙ্গাপুরে আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন করলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু
১৯৬৭: ভিয়েতনামের যুদ্ধের প্রতিবাদে আমেরিকার ওয়াশিংটনে এক লক্ষ মানুষের বিক্ষোভ হয়
২০১২: পরিচালক ও প্রযোজক যশ চোপড়ার মৃত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৪.২০ টাকা ৬৫.৮৮ টাকা
পাউন্ড ৮৩.৭৮ টাকা ৮৬.৬৩ টাকা
ইউরো ৭৫.৬০ টাকা ৭৮.২৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩০,১৩৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৮,৫৯০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৯,০২০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৯,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৯,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
20th  October, 2017

দিন পঞ্জিকা

৪ কার্তিক, ২১ অক্টোবর, শনিবার, দ্বিতীয়া রাত্রি ৩/১, নক্ষত্র-স্বাতী, সূ উ ৫/৩৯/১৭, অ ৫/৩/২৯, অমৃতযোগ দিবা ঘ ৬/২৫ মধ্যে পুনঃ ৭/১০ গতে ৯/২৭ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৪ গতে ২/৪৬ মধ্যে পুনঃ ৩/৩২ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ঘ ১২/৩৮ গতে ২/১৮ মধ্যে, বারবেলা ঘ ৭/৫ মধ্যে পুনঃ ১২/৪৭ গতে ২/১২ মধ্যে পুনঃ ৩/৩৭ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ঘ ৬/৩৮ মধ্যে পুনঃ ৪/৬ গতে উদয়াবধি।
৪ কার্তিক, ২১ অক্টোবর, শনিবার, দ্বিতীয়া রাত্রি ১/৩০/৪৬, স্বাতীনক্ষত্র, সূ উ ৫/৩৯/৪, অ ৫/৩/১৫, অমৃতযোগ দিবা ঘ ৬/২৪/৪১ মধ্যে ও ৭/১০/১৭-৯/২৭/৮ মধ্যে ও ১১/৪৩/৫৮-২/৪৬/২৫ মধ্যে ও ৩/৩২/১-৫/৩/১৫ মধ্যে। রাত্রি ঘ ১২/৩৬/৪৫-২/১৭/৩১ মধ্যে, বারবেলা ১২/৪৬/৪১-২/১২/১২, কালবেলা ৭/৪/৩৫ মধ্যে, ৩/৩৭/৪৩-৫/৩/১৫, কালরাত্রি ৬/৩৭/৪৪ মধ্যে, ৪/৩/৩-৫/৩৭/৩২ মধ্যে।
৩০ মহরম 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
উচ্চরক্তচাপের সমস্যা, হাসপাতালে উপ-রাষ্ট্রপতি 
উচ্চরক্তচাপ ও সুগারের সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভরতি হলেন ...বিশদ

20-10-2017 - 08:59:00 PM

প্রায় ৭০০টি ট্রেনের গতি বাড়তে চলেছে 

নভেম্বরে ভারতীয় রেল প্রায় ৭০০টি-র মতো দুরপাল্লার ট্রেনের গতি বাড়াতে ...বিশদ

20-10-2017 - 07:47:47 PM

নির্বাসন না তুললে অন্য দেশের হয়ে খেলার ইঙ্গিত দিলেন নির্বাসিত শ্রীসন্থ

20-10-2017 - 06:55:00 PM

 প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের দাদা পীযূষ মুখোপাধ্যায় প্রয়াত

20-10-2017 - 06:05:00 PM

প্রবল বৃষ্টি, সেচ দপ্তরে চালু কন্ট্রোল রুম

প্রবল বৃষ্টিতে নজর রাখতে সেচ দপ্তরে চালু কন্ট্রোল রুম। মনিটরিং ...বিশদ

20-10-2017 - 04:28:40 PM

কানপুরে প্ল্যাস্টিকের গোডাউনে আগুন, ঘটনাস্থলে দমকলের ৬টি ইঞ্জিন

20-10-2017 - 04:08:00 PM

দুপুরের পর থেকে আলিপুরদুয়ারে শুরু বৃষ্টি

20-10-2017 - 03:52:00 PM