গল্পের পাতা
 

গানের ভিতর দিয়ে 

স্বপ্নময় চক্রবর্তী:  বাঙালির মনন বাংলা গানকে বলেছে তুমি নব নব রূপে এসো প্রাণে। বাংলা গান এসেছে নবনব রূপে। কিন্তু কানে এসেছে প্রাণে নয়। সেই কবিওয়ালাদের গান থেকে রামপ্রসাদ-নিধুবাবু হয়ে সলিল চৌধুরি হয়ে আজকের ব্যান্ডের গান পর্যন্ত নব নব রূপেই এসেছে। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের গান কী করে যেন রূপের মধ্যে অরূপ হয়ে থেকেছে। অরূপ তোমার বাণী হয়ে বয়ে গেছে।
আমি প্রাক্‌রা঩বীন্দ্রিক যুগের গানের কথা জানি না। রবীন্দ্র-পরবর্তী গানগুলি কিছু জানি। কিছু গান মরুপথে দিশা হারিয়েছে, কিছু গান শীর্ণ স্রোতে রবীন্দ্রগানের মূল ধারায় এসে নত হয়ে মিশে গেছে।
নব্বইয়ের দশকে দেখেছি একদল ছেলে জিনস পরে খোঁচা দাড়ি এবং খুস্কো চুল পিঠে গিটার নিয়ে নতুন কিছু করার চেষ্টা করেছে। সুমন এবং পরবর্তী দুই তিন দশক নিশ্চয়ই নতুন কিছু তো হয়েছে, কিন্তু ওরাও শুরুতেই রবীন্দ্রনাথ দিয়েই তো শুরু করে ওদের গান। সুমন, নচিকেতার কণ্ঠেও ব্যাপ্ত হয়েছে রবীন্দ্রনাথের গানে।
গত চার পাঁচ দশকে শহুরে বাঙালির জীবনযাত্রা বদলেছে তুমুল। বদলেছে মুখের ভাষা, খাদ্য, পোশাক, মূল্যবোধ। অথচ রবীন্দ্রনাথের গান কিন্তু পাশাপাশি চলেছে ঠিক। ইংরেজি মাধ্যমে পড়া আধুনিক ছেলেমেয়েরাও রবীন্দ্রনাথের গান গাইতে পারাটাকে অতিরিক্ত যোগ্যতা মনে করে। কী করে, কোন জাদুশক্তিতে রবীন্দ্রনাথের গান ধুতি পরা বাঙালি থেকে জিনস পরা বাঙালি পর্যন্ত, চিড়ে-মুড়ি খাওয়া বাঙালি থেকে বার্গার পিৎজা খাওয়া বাঙালি পর্যন্ত, যুদ্ধ-দাঙ্গা-দেশভাগ-গণনাট্য-নবনাট্য-মিস শেফালি অতিক্রম করা, কংগ্রেস-বামফ্রন্ট-তৃণমূল অতিক্রম করা বাঙালির পথচলায় রবীন্দ্রনাথের গান পাহাড়ি পথের পাশে পাশে বয়ে চলা নদীর মতোই রয়ে গেল।
একটা সময় ছিল যখন গান করতে মঞ্চে গায়ক এবং একজন তবলচি ছাড়া কিছুই লাগত না। রবীন্দ্রনাথ গান গাইতেন হারমোনিয়াম ছাড়া। ছবিতে দেখেছি গোল চশমা চোখে রবীন্দ্রনাথ গান গাইছেন, পাশে দীনেন্দ্রনাথ ঠাকুর এস্রাজ নিয়ে। শৈলজারঞ্জন শুধু তানপুরায় গাইতেন। হেমন্ত সুবিনয়— দেবব্রতদের হারমোনিয়াম নিয়ে গাইতে দেখেছি। আবার একইরকম ভালো লেগেছে স্বাগতালক্ষ্মী যখন কি বোর্ডে গান গেয়ে ওঠেন। আবার একইরকম, নাকি অন্যরকম ভালো লেগেছে যখন সুমন গিটারে ঝংকার দিয়ে গেয়ে ওঠেন ভেঙে মোর ঘরের চাবি নিয়ে যাবি কে আমারে— তখনও একইরকম ভালো লাগে যে... কী করব। গানের অনুষঙ্গ বদল হয়েছে, কিন্তু গানের মহিমা তো ক্ষুণ্ণ হয়নি কখনও। ছোটবেলায় আমার মায়ের কণ্ঠে একেবারেই খালি গলায় শুনতাম ‘দিবস রজনী’ আমি যেন কার আশায় আশায় থাকি... তখনও কেমন একটা জাদুকরি ভালোলাগা ছিল, আমিও আশায় আশায় থাকতাম যা আবার কখন আনমনে গুনগুনিয়ে উঠবেন।
রবীন্দ্রনাথের গানের পরিবেশন কতরকমভাবে হয়েছে। দেবব্রত বিশ্বাস কিছু বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করেছিলেন বলে বিশ্বভারতীর সংগীত বোর্ড আপত্তি করল, আকাশবাণীতে রবীন্দ্রসংগীতের সঙ্গে হারমোনিয়ামের ব্যবহার কতদিন বন্ধ ছিল, এ সবই পেরিয়ে এসেছি আমরা। এখন রবীন্দ্রনাথের গানের সঙ্গে বিচিত্র ধরনের শব্দানুষঙ্গ জোড়া হয়। আরও কত কিছু জুড়ছে তবুও কেন যেন সবই ভালো লাগছে। একটি চলচ্চিত্রে পাগলা হাওয়ার বাদল দিনে গানটির সঙ্গে হুলালা হুলালা যুক্ত হয়েছিল। আমার তো সেটাও ভালো লাগল। আবার মায়াবন বিহারিণী হরিণী গানটি র‌্যাপ কায়দায় গাওয়া হল। খারাপ লাগল না তো... সেই কবে চারুলতা ছবিতে কিশোর কুমারকে দিয়ে সত্যজিৎ রায় ‘আমি চিনি গো চিনি তোমারে’ গাওয়ালেন। সেটা কি স্বরলিপি অনুযায়ী ছিল পুরোপুরি? আমি জানি না। আমি গানের ব্যাকরণ একেবারেই বুঝি না। কিচ্ছু বুঝি না। কিন্তু, গানটা শুনে মনে হয় অর্থোডক্স রবীন্দ্রপ্রেমীদের গানটি’র গায়ন ভালো লাগবে না। বিশেষত শেষের বউঠাকুরণের শব্দটির সংযোজনা নেহাৎ সত্যজিৎ রায় বলেই কেউ কিছু বলতে পারেনি। কিন্তু আমাদের মনে হয় ওই গানটি কিশোর কুমারের ওই ঢং ছাড়া অন্য কোনওভাবে অমলের কণ্ঠে মানাত না। রবীন্দ্রনাথের গান ছোটবেলা থেকেই আমাদের কানে ঢুকেছে, কিন্তু প্রাণে ঢুকেছে ধীরে ধীরে। যত বয়স বাড়ছে তত নব নব রূপে আসছে প্রাণে। একবার সমুদ্রের ধারে বসে আছি। ঢেউ আসছে, আবার চলে যাচ্ছে। মনের মধ্যে ভেসে এস কুসুমে কুসুমে চরণ চিহ্ন দিয়ে যাও কোথায় কুসুম সামনে তো ঢেউ। ঊর্মিমালা। আসছে, ভাঙছে, আবার চলে যাচ্ছে। তার পরেই একটা শব্দ— ওহে চঞ্চল। এই তো রঙ্গমালা তো নিত্য চঞ্চল। তারপরেই বেলা না যেতে খেলা কেন তব যায় ঘুচে। রবীন্দ্রনাথ মোটেই সমুদ্র ঢেউ কে ভেবে গানটি লেখেননি। কিন্তু এই গান আবার সত্য হয়ে উঠল কোনও নিকট বন্ধুর অকালপ্রয়াণে। আবার এই সমুদ্রতীরেই আর একবার মনে হল অন্য একটি গান— আমি হেথায় থাকি শুধু গাইতে তোমার গান। দিন রাত তোমারই তো গান গাইছে। আজ যেমন করে গাইছে আকাশ তেমন করেই তো গাইছে। তারপরএই গানের শেষে লাইনটা সমুদ্রের অফুরান্ত ঢেউয়ে মিশে গেল— ‘হাওয়া যেমন পাতায় পাতায় মর্মরিয়া বনকে কাঁদায় তেমনি আমার বুকের মাঝে কাঁদিয়া কাদাও গো’। কি আশ্চর্যভাবে একটি গানের সঙ্গে অন্য একটি গান মিশে আছে। সমুদ্রজল বেলাভূমিতে এল, স্তিমিত হল, রেখে গেল ফেনার বুদবুদ, সেটুকুও মিলাল ধরনীতে। তারপর আবার নতুন তরঙ্গ। এটাই তো প্রাণের খেলা। জগতের নিয়ম। আবার এই সাগর কিনারেই মনে হল— আমি হেথায় থাকি শুধু গাইতে তোমার গান। বিরাট আকাশ আর অনন্ত জলরাশির সামনে দাঁড়িয়ে মনে হল আমি তোমার ভুবন মাঝে, লাগিনি নাথ কোনও কাজে শুধু কেবল সুরে বাজে অকাজের এই প্রাণ। কী আশ্চর্য! আজকাল এই বয়সে তো সমুদ্রের ধারে গেলে ‘সুনীল সাগরের শ্যামল কিনারে’ মনে হয় না। আরও বৃহত্তর ব্যঞ্জনা নিয়ে আসে বিশ্বপ্রকৃতি। কেন জানি না কয়েকটি গান আমাকে ভীষণরকম নাড়ায়, কাঁদায়। একটি গান হল ‘ও অকূলের কূল ও অগতির গতি’...। শেষ লাইনটি হল— ‘ও জনমের দোলা, ও মরণের কোল’। কী এক আশ্চর্য সুরে জীবন ও মৃত্যুকে আহ্বান। শেষ ও আরম্ভকে।
রবীন্দ্রনাথের গানকে আধুনিক গান বলা হয় না। বলা না হলেও এই গানগুলি একইসঙ্গে শাশ্বত ও আধুনিক। ‘আধুনিক গান’— কথাটা কলকাতা বেতারের উদ্ভাবন নয়। ঢাকা বেতার কেন্দ্রের। ১৯২৭ সালে কলকাতা বেতারকেন্দ্র চালু হওয়ার পর উচ্চাঙ্গ সংগীত এবং ধর্মমূলক সংগীত ছাড়া যে সব গান শোনানো হত, তার নাম ছিল কাব্যগীতি। রবীন্দ্রনাথের গান, নজরুল, দ্বিজেন্দ্রলাল বা তুলসি লাহিড়ী সবার লেখা গানই কাব্যগীতি ছিল। ঢাকা বেতার কেন্দ্র ভেবেছিল পুরোপুরি ব্যাকরণ অনুসারী হওয়া আধুনিকতার ধর্ম নয়। নির্দিষ্ট রাগ রাগিনীর ছাঁচে গানকে ঢালাই করা আধুনিকতা নয়।
মল্লারেই বর্ষার গান বাঁধতে হবে, কিংবা করুণ রসের গান রাগেশ্রী বা বেহাগেই ধরতে হবে এমন শর্ত আধুনিকতা নয়। নবনির্মিত গানগুলিকে আধুনিক গান বলা হতে লাগল। কালক্রমে দেখা গেল রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, রামপ্রসাদ, দ্বিজেন্দ্র, রজনীকান্ত, অতুলপ্রসাদের বাইরে বাকি সমস্ত গীতিকারের গানকে আধুনিক গান বলা হচ্ছে। কিন্তু আধুনিকতার সংজ্ঞায় রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলই সবচেয়ে বেশি আধুনিক। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের গানের গভীরতা এত বেশি যে তল পাওয়া যায় না। কিন্তু স্তরে স্তরে ঢোকা যায় এবং নান্দনিক মূল্য ছেড়ে দিলেও যেটা পাই সেটা হল শুশ্রূষা। গানটা কানের বিষয় না হয়ে প্রাণের বিষয় হয়ে ওঠে। কথা হচ্ছিল আধুনিকতা নিয়ে। রবীন্দ্রগানকে আধুনিক গানের বাইরে রাখার পিছনে একটা যুক্তি কাজ করেছিল। আধুনিক মানে এই মুহূর্তের। কিন্তু রবীন্দ্রসংগীত চিরকালের। কিন্তু আর আধুনিক কবিতা আধুনিক হয়ে উঠেছিল গত শতাব্দীর তিরিশ দশকে রবীন্দ্রনাথকে বিরোধিতা করতে গিয়ে। কিন্তু আধুনিক বাংলা গানের জন্ম রবীন্দ্র বিরোধিতার মধ্যে নয়। রবীন্দ্রগানেরই একটি অক্ষম উপধারা হয়ে থেকেছে। এখন বাংলা আধুনিক গানের মূল প্রবাহ রবীন্দ্র সংগীত যার ভিতরে মিশে রয়েছে শাস্ত্রীয় সংগীত, কীর্তন, টপ্পা এরকম অনেক অনুপান। আশ্চর্য এর ধারণ ক্ষমতা। এর মধ্যে হুলা হুলা, র‌্যাপ ইত্যাদি মেশাতে পারলে মিশে যায়। তবে রবীন্দ্রগানের ভিতর দিয়ে যে ভূবনখানি দেখি, ‘তখন তারে চিনি আমি, তখন তারে জানি।’
14th  May, 2017
 ঠাঁ ই না ড়া
শান্তিপ্রিয় চট্টোপাধ্যায়

  দড়ির দোলনাটা ঝোলানো হয়েছিল দোতলার গ্রিলঘেরা বারান্দায়। পুটুশ তখন তিন। ওর জন্যেই কেনা। খুব পছন্দের খেলা। বায়না ধরলেই তুলে বসিয়ে দোল দিতে হত।
দু’দিকের দড়ির গুছি শক্ত হাতে ধরে নাতিবাবু দেখত পাশের পুকুরে পানকৌড়ির ডুব সাঁতার। মাছরাঙার ঝাঁপ। বকের ওড়াউড়ি। পানাফুলে রঙিন প্রজাপতির মেলা। দোল খেতে খেতে সব লক্ষ্য করত হাসিমুখে।
বিশদ

20th  August, 2017
কিছু পথ কিছু কথা ক ল কা তা
তরুণ চক্রবর্তী

 কলকাতার পথ-ঘাট যাঁদের নামে চিহ্নিত হয়েছে, ভাগ্যবান সেইসব মানুষের তালিকায় বাদ পড়েননি লোহা আর হার্ডওয়্যারের এক ব্যবসায়ীও। পূর্ব কলকাতা অঞ্চলে উন্নয়নের যে রেখাচিত্র দেখি শ্রদ্ধেয় অজিতকুমার বসুর বইটিতে, সেখানে যোগোদ্যান রোড-এর কাছেই সে পথটি রয়েছে—শিবকৃষ্ণ দাঁ লেন নামে।
বিশদ

20th  August, 2017
মীরা কে প্রভু
বারিদবরণ ঘোষ

  রাজা কৃষ্ণচন্দ্র গোপাল ভাঁড়কে পাশে নিয়ে খেতে বসেছেন। সোনার থালায় কত রকমের খাবার। কৃষ্ণচন্দ্র ঠিক করতে পারছেন না, কী দিয়ে খাওয়া শুরু করবেন। তাই গোপালকে জিজ্ঞেস করলেন। গোপাল দেখলেন, নানা জিনিসের মধ্যে বেগুনভাজা রয়েছে, তবে কেমন যেন পুড়ে গেছে। তাই বললেন— মহারাজ ওই বেগুনপোড়া দিয়ে শুরু করুন। পোড়ার মুখে সব ভালো লাগবে। বিশদ

20th  August, 2017
লোকনাথবাবার সিন্দুকের তালা খুলে ফেললেন সুরথ
অপূর্ব চট্টোপাধ্যায়

শান্তি হারিয়ে গেছে! স্বস্তি ফেরার! নিশ্চিন্তে আশ্রমে বসবার উপায় নেই। প্রায় সবাই এখন কৃপা প্রার্থী। ভক্তের পাশাপাশি বিপন্নের সংখ্যাও ক্রমশ বাড়তে শুরু করল। স্বয়ং ঈশ্বর লোকনাথবাবাও যথেষ্ট বিব্রত। নানারকম আবদার নিয়ে অসংখ্য মানুষ আশ্রমে আসতে শুরু করেছেন।
বিশদ

13th  August, 2017
ভা লো মা নু ষ - ম ন্দ মা নু ষ
নিখিল প্রধানের জীবন ও সময়
অমর মিত্র

নিখিল প্রধানকে যখন আমি দেখি, তাঁর বয়স বছর পঞ্চাশ। নিখিল প্রধান ছিলেন সেটেলমেন্টের ডি-গ্রুপ কর্মচারী। উপরওয়ালা স্যার, বাবুদের কাছে পিওন। এখন পিওন শব্দটি ধীরে ধীরে অবলুপ্ত হচ্ছে। কর্মচারীদের প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ —চার শ্রেণিতে ভাগ করে সেইভাবেই অভিহিত করা হয়। এর অন্যথা হলে প্রতিবাদ হয়। প্রতিবাদ এবং সংগঠিত থেকে তাঁরা কিছুটা সম্মান আদায় করে নিয়েছেন।
বিশদ

13th  August, 2017
মৎস্যকন্যা
সৌমিত্র চৌধুরী

জলের দিকে চোখ। উদাস দৃষ্টি। বিষণ্ণতার ছোঁয়া জড়ানো মুখ। কুয়াশামাখা সকালে অস্পষ্ট অবয়ব। দু’পা মুড়ে নিস্পন্দে বসে এক অপরূপা। যুবতীর দিকে চোখ পড়তেই রতন সম্মোহিত। রাস্তার ধারে সাইকেলটা স্ট্যান্ড করে দাঁড়িয়ে পড়ল। নির্জন পরিবেশ। বিদায়ী শীতের সকালে এ পথে লোক চলাচল কম। দ্রুত ব্যাগ থেকে স্কেচ খাতা বের করে পেনসিলের আঁচড় টানতে লাগল রতন।
বিশদ

13th  August, 2017
 ভানুমতির খেল

বারিদবরণ ঘোষ: ‘আইরে আইরে খেল দেখ্ যাইরে, ভানুমতিকা খেল্ দেখ্ যাইরে। ইধার আ যাইয়ে, বড়িয়া খেল্, হ্যায়, আভি হিঁয়া ভোজবাজি চল রহা হ্যায়— ভোজ রাজাকা খেল্’। মেলায়, হাটে বাজারে, রাস্তা এমন সাদর আমন্ত্রণ আপনি শুনতে পাবেন। আগে হামেশাই শোনা যেত, এখন কমে গেছে। বিশদ

06th  August, 2017
 কিছু পথ কিছু কথা কলকাতা

 তরুণ চক্রবর্তী: ফ্যান্সি লেন অঞ্চলে সেকালে ইংরেজদেরই বেশি বসতি থাকলেও পরে এসে ভিড় জমিয়েছিলেন ইঙ্গ বঙ্গ (Anglo Indian) এবং চীনারা। এঁরা থাকতেন গলিপথগুলিতে। শহর কলকাতায় আজও সবচেয়ে বেশি গলি উত্তর আর মধ্য কলকাতায়, বিশেষ করে চৌরঙ্গির আশপাশ অঞ্চলে। কলুটোলা আর বহুবাজার বা বউবাজারে বাস ছিল অনেক চীনা আর মগদের। তাই জায়গাটি ইন্দো-পর্তুগিজ আর পূর্ব ভারতীয় মানুষদের আবাসভূমি ছিল বলা যেতে পারে।
বিশদ

06th  August, 2017
কাসেম আলির গল্প

মানব চক্রবর্তী: সেই দুপুর থেকে শুরু। ঢিমে লয়ে বৃষ্টি হয়েই চলেছে। কাঁহাতক আর ভালো লাগে! গ্রিল ঘেরা বারান্দায় বসে অন্ধকারে বৃষ্টির শব্দ শোনা যত কাব্যময়ই শোনাক একটা সময় আর ভালো লাগে না। পরমেশের শ্যালিকা নীপা গতকাল তার সদ্য উচ্চ-মাধ্যমিক পাশ করা মেয়ে সুরভিকে নিয়ে কলকাতা থেকে এসেছে। দু-চারদিন মাসির বাড়ি থাকবে, ঘুরবে-বেড়াবে, তারপর যাবে। দক্ষিণ ভারতের এক বিশ্ববিদ্যালয়ে সে বি-টেক পড়বে। ব্যবস্থা হয়ে গেছে।
বিশদ

06th  August, 2017
 লোকনাথজির আশীর্বাদে ভেঙ্গু বেকসুর খালাস পেলেন

 অপূর্ব চট্টোপাধ্যায়: একদিকে ভবানী ঘাট অন্যদিকে বারদী বাজার।আর তার ঠিক মধ্যিখানে একখন্ড জমি। জমিদার নাগ মশাইয়ের সম্পত্তি। একসময় এইখানেই দাহকার্য সম্পন্ন হত। বর্তমানে জমিটি আর শ্মশান হিসেবে ব্যবহৃত হয় না। পতিত অবস্থায় পড়ে আছে। এদিকে মহাসাধক লোকনাথ ব্রহ্মচারীর অবস্থাও তেমন ভালো যাচ্ছে না। যে মানুষটি তাঁকে গুরুপদে বসিয়ে বারদীতে নিয়ে এসেছিলেন সেই ভেঙ্গু কর্মকার কিছুদিন আগেই মারা গেছেন।
বিশদ

30th  July, 2017
 কবির মায়ের কথা

অমর মিত্র: কবির সঙ্গে আমার দেখা পুরুলিয়া শহরে। কবি ফোনে বলেছিলেন, আমার কাছে পৌঁছে যাবেন রবিবার সকালেই। নিয়ে যাবেন তাঁর বাড়ি। কবির জেলা পুরুলিয়া। চাকরির কারণে কবি থাকেন কৃষ্ণনগর। কবির গ্রাম শহর থেকে অনেক দূরে। পুরুলিয়ার গ্রাম আর ২৪ পরগণা, নদীয়ার গ্রাম এক নয়। দুই ২৪ পরগণা সবুজে সবুজ। পুকুর, বাওড়, মাছের ভেড়ি আর নদীতে জলের অভাব নেই। প্রাচীন সব বৃক্ষের ছায়া আছে, বাগান, গাছগাছালিতে ভরা সব দিক। বিশদ

30th  July, 2017



একনজরে
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রকল্পটি চালু হয়েছিল ২০০৯ সালে। কিন্তু তার আট বছর পরও নাকি রাজ্যের শিক্ষকদের একটা বড় অংশ রাষ্ট্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা অভিযান (আরএমএসএ) নামে ওই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের ব্যাপারে সেভাবে ওয়াকিবহাল নন। এমনটাই ধারণা শিক্ষা দপ্তরের। তাই এবার এই প্রকল্পের ...

 নয়াদিল্লি, ২০ আগস্ট (পিটিআই): ৭৩তম জন্মদিনে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীকে স্মরণ করল গোটা দেশ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ট্যুইটারে লিখলেন, ‘ জন্মদিনে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীকে ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইতিমধ্যেই দক্ষিণ দমদম পুরসভা এলাকায় ডেঙ্গুতে আটজনের মৃত্যু হয়েছে, আক্রান্তের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে। অবশেষে নড়েচড়ে বসল দক্ষিণ দমদম পুরসভা। পুরসভার যে সমস্ত ওয়ার্ডে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি, সেখানে গাপ্পি মাছ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আজ, সোমবার বাতিল করা হচ্ছে আপ কলকাতা-ঢাকা মৈত্রী এক্সপ্রেস। পূর্ব রেল জানিয়েছে, বাংলাদেশ রেলের ডাউন লাইনের লিংক ট্রেনটি বাতিল থাকায় আপ লাইনের ট্রেনটিও বাতিল করা হয়েছে। ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বিদ্যার্থীদের ক্ষেত্রে ভাবনা-চিন্তা করে বিষয় নির্বাচন করলে ভালো হবে। প্রেম-প্রণয়ে বাধাবিঘ্ন থাকবে। কারও সঙ্গে মতবিরোধ ... বিশদ



ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৭৮- ভিনু মানকড়ের মৃত্যু
১৯৮৬- উসেইন বোল্টের জন্ম
১৯৯৫- সুব্রহ্মণ্যম চন্দ্রশেখরের মৃত্যু
২০০৬- ওস্তাদ বিসমিল্লা খানের মৃত্যু
১৯৭২- বন সংরক্ষণ আইন চালু


ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৩.৩৫ টাকা ৬৫.০৩ টাকা
পাউন্ড ৮১.২৫ টাকা ৮৪.২১ টাকা
ইউরো ৭৩.৯৬ টাকা ৭৬.৫৭ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
19th  August, 2017
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) 29465
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) 27955
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) 28375
রূপার বাট (প্রতি কেজি) 39100
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) 39200
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
20th  August, 2017

দিন পঞ্জিকা

৪ ভাদ্র, ২১ আগস্ট, সোমবার, অমাবস্যা রাত্রি ১২/০, অশ্লেষানক্ষত্র দিবা ৩/৫১, সূ উ ৫/১৯/১৪, অ ৬/০/২৬, অমৃতযোগ দিবা ৭/০ পুনঃ ১০/২৩-১২/৫৬ রাত্রি ৬/৪৫-৯/১ পুনঃ ১১/১৭-২/১৮, বারবেলা ৬/৫৪-৮/২৯ পুনঃ ২/৫১-৪/২৬, কালরাত্রি ১০/১৫-১১/৪০। পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ (ভারতে অদৃশ্য)
৪ ভাদ্র, ২১ আগস্ট, সোমবার, অমাবস্যা রাত্রি ১২/৮/৯, অশ্লেষানক্ষত্র অপরাহ্ণ ৪/৫৪/৪০, সূ উ ৫/১৬/৪৮, অ ৬/২/২৪, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫৮/৫৩, ১০/২৩/২-১২/৫৬/১০ রাত্রি ৬/৪৭/২২-৯/২/২০, ১১/১৭/১৭-২/১৭/১২, বারবেলা ২/৫১/০-৪/২৬/৪২, কালবেলা ৬/৫২/৩০-৮/২৮/১২, কালরাত্রি ১০/১৫/১৮-১১/৩৯/৩৬। পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ (ভারতে অদৃশ্য)
২৮ জেল্কদ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
বন্যায় ৭ লক্ষ হেষ্টর চাষের জমি ক্ষতিগ্রস্থ: কৃষিমন্ত্রী

 বন্যায়য় উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ মিলিয়ে ৭ লক্ষ হেক্টর চাষের জমি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। যার মধ্যেো ৪ লক্ষ জমি উত্তরের। কৃষিতে প্রাথমিক হিসেবে মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮০০ কোটি টাকা। যার মধ্যে উত্তরে ৫৩৪ কোটি ৫১ লক্ষ টাকাো জানালেন কৃষি মন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু।

05:24:00 PM

 তামিলনাড়ুর উপ মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ পনিরসেলভামের

 এআএিডিএমকে-র দুই শিবিরের সংযুক্তিকরণের পর তামিলনাড়ুর উপ মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন পনিরসেলভাম

04:49:00 PM

বন্যার জন্য কেন্দ্রে কাছে উপযুক্ত প্যাকেজ চাইব: মমতা

কেন্দ্রের কাছে উপযুক্ত প্যাকেজের দাবি করতে চলেছে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান গোটা রাজ্যে এবছর বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ১৪ হাজার কোটি টাকা। কেবলমাত্র উত্তরবঙ্গেই মৃত্যু হয়েছে ৪৫ জনের। আর গোটা রাজ্যে ১৫২জনের। রাজ্যে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের সংখ্যা দেড় কোটি ছাড়িয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ত্রাণ নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে। তাই যতটা প্রয়োজন ততটাই ত্রাণ মিলবে। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, অনেক সড়ক থেকেই জল নামতে শুরু করেছে, তাই যে সমস্ত সড়ক থেকে জল নেমে যাবে, সেখান দিয়েই ধীরে ধীরে ট্রাক পাঠানো হবে। কারণ অনেক ট্রাক পচনশীল দ্রব্য নিয়ে আটকে রয়েছে। পাশাপাশি এই বন্যার নামে যে সমস্ত অসাধু ব্যবসায়ী দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করতে চেষ্টা করছেন তাদের বিরুদ্ধেও নজরদারি চালানো হবে বলে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, জল নামলেই  বন্যা সংক্রান্ত রোগব্যাধির প্রতিষেধক এবং পানীয় জলের পথগুলিকে পরিশ্রুত করার ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।

04:47:00 PM

সিলেবাস কমিটির প্রস্তাবে সিলমোহর রাজ্য সরকারের, সব ক্লাসে পড়তে হবে কন্যাশ্রী স্বীকৃতি, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যক্রমে কন্যাশ্রী

04:12:00 PM

বন্যায় দেড় কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত: মুখ্যমন্ত্রী

04:10:07 PM

রাজ্যে যথেষ্ট পরিমানে ত্রান সামগ্রী মজুত রয়েছে: মুখ্যমন্ত্রী

04:10:06 PM