Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

শাহিনবাগে যেসব কথা জানানো হয়নি

‘যত্র নার্যস্তু পূজ্যন্তে রমন্তে তত্র দেবতাঃ’, যেখানে মহিলারা পূজিতা হন সেখানেই ভগবান অবস্থান করেন। ভারতবর্ষের মানুষ হাজার বছর ধরে এই শ্লোক আবৃত্তি করে এসেছে। গত একমাসের বেশি সময় ধরে দিল্লির শাহিনবাগে শিশু থেকে বৃদ্ধা বিভিন্ন বয়সের মহিলাদের কষ্ট দেওয়া হয়েছে। শীতের রাতগুলিতে তাঁরা উন্মুক্ত স্থানে থেকেছেন, যাঁরা ছিলেন তাঁদের অধিকাংশই সংখ্যালঘু মুসলমান সম্প্রদায়ের। এর মধ্যে যাঁরা প্রবীণা অর্থাৎ ‘দাদি’ তাঁদের কয়েকজনকে জেএনইউতে এনে অনুভব কথনের ব্যবস্থাও করেছিলেন আয়োজকরা।
এতবড় মাতৃশক্তিকে এতদিন ধরে কষ্ট দেওয়ার যে চক্রান্ত, তার মূলচক্রীকে গত ২৮ জানুয়ারি দিল্লি পুলিস বিহারের জহানাবাদ থেকে গ্রেপ্তার করেছে। জেএনইউ-এর এই গবেষক ছাত্রের নাম শরজিল ইমাম। শরজিল ইমাম শাহিনবাগের আগেও ধর্মীয় মেরুকরণের অনেক গবেষণা করেছেন বলে দিল্লি পুলিসের অভিযোগ। অসম, মণিপুরসহ উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে আজাদির নামে ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য যে গবেষক দল দিল্লিতে বসে নিরন্তর কাজ করে চলেছেন, শরজিল তাঁদের মধ্যে একজন। এঁরা দেশকে টুকরো টুকরো করতে চান। তাই দাদি কিংবা পোতি কাউকেই এঁরা সত্য কথাটা বলেননি।
সত্যি কথা হল, একটি সার্বভৌম দেশে যেভাবে কোনও আইন প্রণয়ন হওয়ার কথা, তার সবকটি ধাপ ঠিকঠাকভাবে মেনেই নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) তৈরি হয়েছে। ভারতীয় সংবিধান অনুসারে তৈরি করা বিলটি প্রথমে লোকসভা এবং পরে রাজ্যসভাতে অনুমোদিত হয়েছে। দ্বিতীয় সত্য হল, এই আইনে মুসলমান সম্প্রদায়ের কোনও মানুষের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হবে না। কেবলমাত্র কিছু হতভাগ্য মানুষকে বিশেষভাবে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। যাঁরা এতদিন ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত হয়ে বাংলাদেশ, পাকিস্তান বা আফগানিস্তান থেকে ভারতে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন, তাঁদের সম্মানজনক নাগরিকত্ব দেওয়া হবে সিএএ-র মাধ্যমে।
দিল্লিতে আজ যাঁরা সত্যি সত্যি ‘দাদিমা’, মানে যাঁদের বয়স আটের কোঠায়, তাঁরা জানেন কেন নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল প্রয়োজন। দাদিরা তাঁদের শৈশবে ওই উদ্বাস্তু মানুষদের কষ্ট দেখেছেন। স্বাধীনতার ঠিক পরে-পরেই দিল্লি ভরে গিয়েছিল ছিন্নমূল, স্বজন হারানো মানুষে। কেউ রাওয়ালপিণ্ডি থেকে নিজের ষোলো বছরের মেয়েকে ছেড়ে এসেছেন, তো কারও শরীরে লাহোরের নৃশংস নারী নির্যাতনের দগদগে ঘা। সেই ভাগ্যহত মানুষগুলি আশ্রয় নিয়েছিলেন সেকালের কিংসওয়ে থেকে তেগবাহাদুর নগর সর্বত্র। তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত নেহরু ওই উদ্বাস্তু শিবিরগুলিতে খাবার সরবরাহ করার আদেশ দিয়েছিলেন ওই অঞ্চলের কয়েকটি রেস্তরাঁ আর ধাবাকে। এত শত মানুষের খাবার, তার হিসাব রাখা—এ এক আপাত অসাধ্য কাজ ছিল। পণ্ডিতজি কলকাতার স্ট্যাটিসটিক্যাল ইনস্টিটিউটের কর্ণধার অধ্যাপক প্রশান্ত মহলানবিশকে অনুরোধ করেছিলেন সাহায্য করতে। সেদিন কলকাতা থেকে গিয়েছিলেন দুই তরুণ গবেষক জেএম সেনগুপ্ত আর ডিবি লাহিড়ি। তাঁরা গড়প্রতি লবণ গ্রহণের হিসাব করে আশ্চর্যভাবে সমস্যার সমাধান করেছিলেন। সেই বিষয় নিয়েই একটা গোটা প্রবন্ধ লেখা যায়।
কিন্তু সেদিনের দিল্লির শিশুরাও দেখেছে ছিন্নমূল মানুষের দুঃখ। তাঁরা কেউ অর্থনৈতিক কারণে পাঞ্জাব থেকে দিল্লি আসেননি, এসেছিলেন ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত হয়ে। অত্যাচারের সবচেয়ে সহজ শিকার হয় মেয়েরা। মেয়েদের দুঃখের কথা, মেয়েদের থেকে বেশি কে বুঝবেন? তাই দিল্লির দাদিরা পারেন তাঁদের শৈশবের অভিজ্ঞতার কথা বলে এই মেরুকরণের অসাধু চক্রান্তকে রুখে দিতে।
দিল্লির দাদিমায়েরা তাঁদের পাঞ্জাব থেকে আসা উদ্বাস্তু প্রতিবেশিনীদের কথা জানেন। হয়তো উদ্বাস্তু শিখ বা হিন্দু গৃহবধূর সকালে এক বাটি ডাল ধার নিয়ে পরের দিন বা সেদিনই সন্ধ্যায় ফেরত দেওয়ার কথা বলে হাসিঠাট্টাও করেন। কিন্তু একজন মহিলা হিসাবে ওই হিন্দু বা শিখ উদ্বাস্তু মহিলার দুঃখও তাঁরা হৃদয় দিয়ে বুঝতেন। তাই দাদি যদি জানতেন যে এমনই হতভাগিনী হিন্দু উদ্বাস্তুরা যাতে দেশের নাগরিকত্ব না পায় তার জন্যই ওই শরজিল আর তার সহযোগীরা ষড়যন্ত্র করছে, তবে নির্ঘাত ওদের জুতোপেটা করতেন!
দিল্লির দাদিমায়েরা হয়তো পূর্ববঙ্গ থেকে আসা হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান উদ্বাস্তুদের কষ্ট ঠিকঠাক জানেন না। তাঁর একটা কারণ অবশ্যই তথাকথিত লেফট লিবারাল সংবাদ মাধ্যমের বদান্যতা। তাঁরা গাজাভূখণ্ডে ইজরায়েলের অত্যাচারের সচিত্র বর্ণনা প্রথম পাতায় প্রকাশ করেছেন, তাতে সংবাদপত্রের নৈতিকতায় বাধেনি, কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানে বা পশ্চিম পাকিস্তানে আমাদেরই ভাইয়েদের হত্যা করলে বা বোনেদের সঙ্গে পাশবিক আচরণ করলেও তার প্রতিবাদ হয়নি। এই উপমহাদেশে নারীজাতির উপর অবর্ণনীয় অত্যাচার হয়েছে বিগত সাত দশকে, সেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের করুণকাহিনী গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসাবে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রায় কখনওই উঠে আসেনি। সংবাদ মাধ্যমের একাংশের এই অদ্ভুত অথচ নিষ্ঠুর আচরণের জন্যই আজ কিছু শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষেরও নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রয়োজনীয়তা বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে।
দিল্লির সেসব ঘটনার কথা দাদিরা জানেন, মানেন ছিন্নমূল শিখ আর হিন্দুদের যন্ত্রণা, তা সবই ১৯৫০ সালের আগের ঘটনা। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বুঝতে হলে এর পরে পূর্ব পাকিস্তানে বা পাকিস্তানে কী নির্মম ঘটনা ঘটেছে তা বোঝা প্রয়োজন।
১৯৫১ সালে পাকিস্তানের আদমশুমারি হিসাবে ১৪.২০ শতাংশ অমুসলমান জনসংখ্যা ছিল। তার মধ্যে ৩.৪৪ শতাংশ ছিল আজকের পাকিস্তানে আর ২৩.২ শতাংশ ছিল পূর্ব পাকিস্তানে মানে আজকের বাংলাদেশে। আজ পাকিস্তানে হিন্দুর সংখ্যা প্রায় অবলুপ্তির পথে। সরকারি হিসাবে ২০১১ সালে বাংলাদেশে হিন্দুর সংখ্যা ৮.৫ শতাংশ। এই অস্বাভাবিক জনসংখ্যা হ্রাসের মূলে আছে অমুসলমান মহিলাদের উপর অমানবিক অত্যাচার। সেই অসহনীয় অত্যাচার সহ্য করতে না পেরেই ওই মহিলারা, তাঁদের বাবারা, ভাইয়েরা, সন্তান-সন্ততি ভারতে আশ্রয় নিতে এসেছেন। ভারত স্থান না দিলে তাঁদের মৃত্যু ছাড়া অন্য কোনও পথ নেই। কারণ পাকিস্তান বা বাংলাদেশে তাঁরা মানুষের জীবনযাপন করতে পারবেন না। সেই মানবিক সাহায্যটুকু দেওয়ার জন্যই সিএএ-এর ব্যবস্থা।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রায় ৩ লক্ষ হিন্দু মহিলা ধর্ষিতা হয়েছিলেন। জামাত-ই-ইসলামি, মুসলিম লিগ, নিজাম-ই-ইসলাম একত্রিতভাবে পাকিস্তানের খান সেনাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অত্যাচার করেছে বলে অভিযোগ উঠেছিল। রাজাকাররা হিন্দু মহিলাদের ‘জনগণের সম্পত্তি’ হিসাবে ঘোষণা করে। গত কয়েক বছর আগে অলস্টন মার্গারেটের বই ‘ওম্যান অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ ইন বাংলাদেশ’ প্রকাশিত হয়েছে। লেখিকা দেখিয়েছেন বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলায় কী ভীষণ অত্যাচারিত হয়েছিলেন মূলত হিন্দু সম্প্রদায়ের মহিলারা। ‘ব্লাড টেলিগ্রাফ’ মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক ভয়ঙ্কর দলিল। আর্চার কে ব্লাড ছিলেন এক মার্কিন কূটনীতিক। তিনি মুক্তিযুদ্ধের ওই ভয়ানক দিনগুলোতে পূর্ব পাকিস্তানে ছিলেন। ১৯৭১ সালের ৩১ মার্চ ব্লাড টেলিগ্রামে লিখেছিলেন ‘পাক সেনাদের সাহায্যে অবাঙালি মুসলমানেরা পরিকল্পিতভাবে দরিদ্র বাঙালি এবং হিন্দুদের আক্রমণ করেছে আর হত্যা করেছে।’ তাই অত্যাচারিত হিন্দু এদেশে আশ্রয় নিয়েছে, সেই হতভাগ্যদের বঞ্চিত করতে চাইছেন শরজিল ইমামরা।
মুক্তিযুদ্ধের শেষে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা হল। ওদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে ভারতীয় সেনার বীর জওয়ানদের রক্তও মিশে গেল। ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ স্বাক্ষরিত হল ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি। যদিও যে ৩ কোটি মানুষ অত্যাচারিত হয়ে ভারতে এসেছিলেন তার খুব কম অংশই বাংলাদেশে ফিরে গেলেন। কারণ বাংলাদেশ তৈরি হওয়ার পরেও হিন্দুদের উপর অত্যাচার বন্ধ হল না। বাংলাদেশের জন্মলগ্নে সেখানের জনসংখ্যার ১৩.৫ শতাংশ ছিল হিন্দু। আজ সেই সংখ্যা সরকারিভাবে ৮.৫ শতাংশ।
১৯৭০-৭১ সালে যাঁরা পূর্ববাংলা থেকে এসেছেন বা বাংলাদেশ হওয়ার পরে যাঁরা ভারতে অত্যাচারিত হয়ে এসেছেন তাঁদের বেশিরভাগই হিন্দু তফসিলি জাতিভুক্ত মানুষ। বিগত কয়েক দশকে সবথেকে বেশি শোষিত হয়েছেন বাংলাদশের তফসিলি জাতিভুক্ত মহিলারা। মহিলাদের সম্মান বাঁচাতে প্রান্তিক গরিব মানুষও এদেশে চলে এসেছেন। আবার অনেক সম্পন্ন পরিবারও সব ছেড়ে এক বস্ত্রে ভারতে চলে এসেছেন।
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া হামিদা পাইলট হাইস্কুলের ছাত্রী ছিল ১৪ বছরের পূর্ণিমা শীল। ২০০১ সালের ১ অক্টোবর তাদের বাড়িতে প্রায় ৩০ জনের একটি দল আক্রমণ করে। বাড়ির লোককে মেরে আধমরা করে গণধর্ষণ করা হয়েছিল পূর্ণিমাকে। পূর্ণিমাকে ১১ জন মিলে সেই রাত্রে ধর্ষণ করেছিল বলে পুলিস পরে জানিয়েছিল। পূর্ণিমার অসহায় মা ধর্ষণকারীদের পায়ে ধরে বলেছিলেন, তারা যেন এক এক করে অত্যাচার করে। কারণ তার মেয়েটা বড়ই ছোট। এরকম শত শত পূর্ণিমা শীলের পরিবার যাতে ভারতে সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারে তার জন্যই নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন। এই কথাগুলি যদি শাহিনবাগের মায়েদের বলা হতো তা হলেও কি তাঁরা সিএএ-এর বিরোধিতা করতেন? পূর্ণিমা হিন্দু হলেও সেও তো একটা মানুষ, একটি মেয়ে!
এই শাহিনবাগের মহিলাদের সামনে আসল সত্যটা তুলে ধরার দায়িত্ব যাঁদের ছিল তাঁরা উত্তেজনার আগুনে নিজের নিজের স্বার্থের রুটি সেঁকেছেন। দিল্লি রাজ্য সরকার বোঝাতে পারতেন যে এই আইনে একজন দিল্লিবাসী মুসলমানেরও কোনও ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। সংবাদ মাধ্যমে বাংলাদেশের, পাকিস্তান থেকে প্রাণ নিয়ে পালিয়ে আসা হতভাগ্য মানুষদের কেন নাগরিকত্ব দেওয়া উচিত সেই কথা সহজে বোঝাতে পারত। মানবতার বিন্দুমাত্র পরোয়া না করে একশ্রেণীর প্রচারমাধ্যম আগুনে ঘি ঢালার কাজ করল। শরজিল ইমামের মতো লেখাপড়া জানা মানুষ বাংলাদেশের বা পাকিস্তানের সংখ্যালঘুদের প্রাণান্তকর অবস্থা নিয়ে সমাজকে সচেতন করতে পারতেন। ওই হতভাগিনীদের পরিবার যদি ভারতে স্থান না পায় তবে ওই হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, জৈন, পার্সি, শিখ পরিবারগুলির কী নিদারুণ অবস্থা হবে তা বোঝাতে পারতেন। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বাংলা আর পাঞ্জাবের। সেই দুটি প্রদেশের অর্ধেক মানুষ স্বাধীনতার এতগুলো বছর পরেও স্বাধীনতাকে উপভোগই করতে পারলেন না। মুক্তির মন্দির সোপানতলে প্রাণ দেওয়া সেই মানুষদের পরিবারের সদস্যরা বাংলাদেশে বা পাকিস্তানে আজ কেমন আছেন? ধর্ষিতা হয়ে, লুণ্ঠিত হয়ে, ভয়ে সন্ত্রাসেই কি তাঁদের জীবন কাটবে? নাকি নিতান্ত মানবিক কারণেই তাঁরা ভারতের পূর্ণ নাগরিকত্ব পাবেন? এই কথা তো বলতেই পারতেন তথাকথিত বিদ্বজ্জনেরা।
পরিচিত এক সাংবাদিক দিদি প্রথম দিন থেকেই শাহিনবাগ কভার করছেন। উপরের কথাগুলো বলে তিনি পুরনো হিন্দ গানের একটি পরিচিত কলি বললেন, ‘চিঙ্গারি কোই ভড়কে/ তো সাওন উসে বুঝায়ে, সাওন জো আগুন লাগায়ে/ উসে কৌন বুঝায়ে?’
 লেখক কলকাতায় সাহা ইনস্টিটিউট অফ নিউক্লিয়ার ফিজিক্স-এ কর্মরত। (মতামত ব্যক্তিগত)
15th  February, 2020
টুকরে টুকরে গ্যাং-ই জিতল
পি চিদম্বরম

 গত ১১ ফেব্রুয়ারি লোকসভার কার্যবিবরণীতে নথিভুক্ত নিম্নলিখিত প্রশ্নোত্তরগুলি আনন্দের কারণ হতে পারত যদি না বিষয়টি বিজেপি নেতাদের (এই পঙ্‌ক্তিতে আছেন প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং অন্য মন্ত্রীরাও) দুঃখের ধারাবিবরণীতে পরিণত হতো: বিশদ

স্বর্গলোকে মহাত্মা ও
গুরুদেবের সাক্ষাৎকার
সন্দীপন বিশ্বাস

 অনেকদিন পর আবার দেখা হল মহাত্মা এবং গুরুদেবের। মর্ত্যে দু’জনের প্রথম সাক্ষাৎ ঘটেছিল শান্তিনিকেতনে ১৯১৫ সালে আজকের দিনে অর্থাৎ ১৭ ফেব্রুয়ারি। তারপর বেশ কয়েকবার তাঁদের দেখা হয়েছিল। কবিগুরু সবরমতী আশ্রমে গিয়েছিলেন ১৯২০ সালে। বিশদ

এবার হ্যাটট্রিকের দোরগোড়ায় অগ্নিকন্যা
হিমাংশু সিংহ

তবে কি দিল্লিতে হেরে বোধোদয় হল অমিত শাহদের? নাকি ভোট জেতার নামে ঘৃণা ছড়ানো ঠিক হয়নি বলাটা আরও বড় কোনও নাটকের মহড়ারই অংশ? বোঝা কঠিন, তুখোড় রাজনীতিকরা কোন উদ্দেশ্যে কখন কোন খেলাটা খেলেন! আর সেই তালে অসহায় জনগণকে তুর্কি নাচন নাচানো চলে অবলীলায়। 
বিশদ

16th  February, 2020
মাফলার ম্যানের দিল্লি জয়
মৃণালকান্তি দাস 

ঠেকে শিখেছেন তিনি। ‌‌‌‌পদস্থ আমলা থেকে রাজনীতিক এবং প্রশাসক হিসেবে পরিণত হয়েছেন। বুঝেছেন, এ দেশের আমআদমি বাড়ির কাছে ভালো স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল চান। বাড়ির মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়েই তাঁদের উদ্বেগ। 
বিশদ

14th  February, 2020
রাজনীতির কাছে মানুষের চাহিদাটাই
বদলে দিল দিল্লির এই ভোট-সংস্কৃতি
হারাধন চৌধুরী

 প্রতিমা গড়ে পুজো করা আর ভগবানকে লাভ করা এক নয়। প্রতিমা সাজিয়ে পুজো যে-কেউ করতে পারে। কিন্তু, ভগবান লাভ? মানুষ চিরদিন মনে করে এসেছে, সে শুধু সাচ্চা সাধকের পক্ষেই সম্ভব। কিন্তু, ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ এসে একেবারে অন্যকথা বললেন।
বিশদ

13th  February, 2020
সেনাবাহিনীও যখন রাজনীতির অস্ত্র
শান্তনু দত্তগুপ্ত

লঞ্চপ্যাড মাত্র ৫০ মিটার দূরে... অন্ধকারের মধ্যেই তাঁর চোখ দু’টো খুঁজে চলেছে... নজরে এসেও গেল দুই জঙ্গি... ছায়ার মতো সেঁটে আছে লঞ্চপ্যাডের অন্ধকারে। নাইট ভিশন গ্লাস চোখে লাগিয়ে নিশ্চিত হলেন মেজর মাইক ট্যাঙ্গো। আগেভাগে নিশ্চিত হয়ে নেওয়ার কারণ আরও ছিল তাঁর কাছে।
বিশদ

11th  February, 2020
রাজস্ব-শৃঙ্খলা অক্ষুণ্ণ রেখেই জনমুখী বাজেট
দেবনারায়ণ সরকার

২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে এটাই অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্রের শেষ পূর্ণাঙ্গ বাজেট। এই বাজেট নিঃসন্দেহে জনমুখী, তবে রাজস্ব-শৃঙ্খলা (ফিসকাল ডিসিপ্লিন) যথেষ্ট বজায় রেখে জনমুখী বাজেট পেশ করলেন অমিতবাবু। প্রথমে রাজস্ব-শৃঙ্খলার প্রসঙ্গে আসা যাক। বিশদ

11th  February, 2020
মানুষ কী চায়, বুঝিয়ে দেবে দিল্লির ভোটের ফল
সন্দীপন বিশ্বাস

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর ‘বাহুবল ও বাক্যবল’ নিবন্ধে দুই প্রকার বলের প্রভূত ব্যাখ্যা করেছেন। যদিও তিনি বলেছেন, বাহুবল পশুর বল এবং বাক্যবল মানুষের বল, তা সত্ত্বেও মনুষ্য সমাজে বাহুবলের প্রয়োগ অনবরত দেখা যায়। মানুষের বল সমাজ গঠনে কখনও কখনও নিশ্চয়ই কাজে লাগে। কিন্তু দেখা যায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মানুষ আপন স্বার্থে এই বাহুবলকে ব্যবহার করে। 
বিশদ

10th  February, 2020
সরকার দিশেহারা এবং ভীত
পি চিদম্বরম

অর্থমন্ত্রী বাধ্য হয়েছেন সরকারি ব্যয় নামক একমাত্র ‘ইঞ্জিন’-এর উপর আস্থা রাখতে। কিন্তু এই ইঞ্জিনটাও যে জ্বালানি সঙ্কটে ভুগছে এবং নড়বড়ে রাজকোষের ভূতের ছায়াটিও পড়ছে সরকারের উপর! তীব্র বেকারত্ব এবং ব্যাপক হারে ছোট ও মাঝারি শিল্প-ব্যবসা চৌপাট হয়ে যাওয়ার মতো দুটি ভয়ঙ্কর ইস্যুও অস্বীকার করেছেন অর্থমন্ত্রী। সাম্প্রতিককালে ভারতের অর্থনীতিকে সবচেয়ে কঠিন যে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে সেটা হল—স্বঘোষিত শক্তিমান এবং নির্ণায়ক (ডিসিসিভ) সরকার—যে সরকার নিজেকে দিশেহারা এবং ভীত বলেই প্রতিপন্ন করেছে।
বিশদ

10th  February, 2020
প্রবীণ নাগরিকদের জ্বলন্ত সমস্যাগুলির
দিকে সরকার এবার একটু নজর দিক
হিমাংশু সিংহ

 অধিকাংশ পরিবারেই এখন শিক্ষান্তে ছেলেমেয়েরা চাকরির জন্য বাইরে চলে যাচ্ছে, তাই বৃদ্ধাবাসের প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে। একাকীত্ব বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের সবচেয়ে বড় অসুখ। এই একাকীত্ব থেকেই হাজারো মানসিক রোগেরও জন্ম হয়। নিকট আত্মীয় এবং ছেলেমেয়েও বাইরে, আবার অন্যদিকে, সঞ্চয়ের উপর ক্রমাগত সুদ কমে যাওয়ায় আয়ও নিম্নমুখী। এই সাঁড়াশি আক্রমণ বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের পক্ষে সামলে ওঠা দুষ্কর হয়ে পড়ছে। তার উপর যদি কোনও কঠিন রোগ দেহে বাসা বাঁধে তাহলে তো রক্ষে নেই!
বিশদ

09th  February, 2020
বিখ্যাত ফুলব্রাইট বৃত্তির সাত দশক 
অ্যাডাম জে গ্রোৎস্কি

জে উইলিয়াম ফুলব্রাইট। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন সিনেটর। বিখ্যাত ফুলব্রাইট বৃত্তিটা চালু হয় তাঁরই নামে। এটি একটি শিক্ষামূলক এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম। সাত দশক আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত যৌথ উদ্যোগে এই ফেলোশিপ চালু করে। দ্য প্রাইস অফ এমপায়ার। জে ডব্লু ফুলব্রাইটের প্রবন্ধসংগ্রহের শিরোনাম।  
বিশদ

08th  February, 2020
পুরভোটেই ঠিক হবে রাজ্য-রাজনীতির অভিমুখ 
তন্ময় মল্লিক

যে কোনও রাজনৈতিক দলের কাছে নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই নির্বাচন বিধানসভা ভোটের মুখে হলে তা আক্ষরিক অর্থেই রাজনৈতিক দলগুলির জন্য অ্যাসিড টেস্ট। তবে, রাজ্যের শতাধিক পুরসভার ভোট শুধু রাজনৈতিক দলগুলির অ্যাসিড টেস্টই নয়, এই নির্বাচন ঠিক করে দেবে রাজ্য রাজনীতির অভিমুখ।  
বিশদ

08th  February, 2020
একনজরে
হ্যামিলটন, ১৬ ফেব্রুয়ারি: নিউজিল্যান্ডের কাছে একদিনের সিরিজে হোয়াইটওয়াশের ধাক্কা ভারতীয় দল যে ধীরে ধীরে কাটিয়ে উঠছে, তা বিরাট কোহলিদের দেখলেই বোঝা সম্ভব। ২১ ফেব্রুয়ারি শুরু ...

হায়দরাবাদ, ১৬ ফেব্রুয়ারি (পিটিআই): ‘ফিসকাল রেসপনসিবিলিটি অ্যান্ড বাজেট ম্যানেজমেন্ট’ (এফআরবিএম) মেনে বাজেট পেশ করা হয়েছে। তাই রাজস্ব ঘাটতির লক্ষ্যমাত্রা স্থির করতে সেই আইন লঙ্ঘন করা হয়নি। যাবতীয় জল্পনা, বিতর্কে জল ঢেলে রবিবার এমনটাই জানালেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।  ...

সংবাদদাতা, রায়গঞ্জ: শুধু লুট করাই নয়, পুলিসের নাগালের বাইরে থাকতে প্রমাণ লোপাটে টার্গেটকে খুন করাও উদ্দেশ্য থাকে হাইওয়ে গ্যাংয়ের। কাউকে একবার টার্গেট করলে কিভাবে তার উপর হামলা চালানো যায়, সেব্যাপারে রীতিমতো আঁটঘাট বেঁধে তবেই ‘অপারেশন’ চালানো হয় বলেও জানা গিয়েছে।  ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ৬ নম্বর জাতীয় সড়কে বালিবোঝাই লরিকে ধাক্কা মারল যাত্রীবোঝাই বাস। ঘটনায় প্রাণ হারালেন বাসের হেল্পার। অল্পবিস্তর জখম হয়েছেন আরও ১৫ জন বাস ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

মাঝেমধ্যে মানসিক উদ্বেগের জন্য শিক্ষায় অমনোযোগী হয়ে পড়বে। গবেষণায় আগ্রহ বাড়বে। কর্মপ্রার্থীদের নানা সুযোগ আসবে। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৯৯: কবি জীবনানন্দ দাশের জন্ম
১৯৬৩: আমেরিকান বাস্কেটবল খেলোয়াড় ও অভিনেতা মাইকেল জর্ডনের জন্ম
১৯৮৭ - ভারতীয় কার্টুনিস্ট অসীম ত্রিবেদীর জন্ম।
২০০৯: সঙ্গীত শিল্পী মালবিকা কাননের মৃত্যু 



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৪৯ টাকা ৭২.১৯ টাকা
পাউন্ড ৯১.৪৩ টাকা ৯৪.৭১ টাকা
ইউরো ৭৫.৮৫ টাকা ৭৮.৮০ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
15th  February, 2020
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪১,৬০৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৯,৪৭৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪০,০৭০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৬,৫০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৬,৬০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
16th  February, 2020

দিন পঞ্জিকা

৪ ফাল্গুন ১৪২৬, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, সোমবার, (মাঘ কৃষ্ণপক্ষ) নবমী ২১/১ দিবা ২/৩৬। জ্যেষ্ঠা ৫৭/৩৩ শেষরাত্রি ৫/১৪। সূ উ ৬/১১/৩৯, অ ৫/২৯/৩৯, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪২ মধ্যে পুনঃ ১০/৪৩ গতে ১২/৫৮ মধ্যে। রাত্রি ৬/২০ গতে ৮/৫৮ মধ্যে পুনঃ ১১/২৫ গতে ২/৪৯ মধ্যে। বারবেলা ৭/৩৬ গতে ৯/১ মধ্যে পুনঃ ২/৪০ গতে ৪/৫ মধ্যে। কালরাত্রি ১০/১৫ গতে ১১/৫১ মধ্যে।
৪ ফাল্গুন ১৪২৬, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, সোমবার, নবমী ৩১/৪০/৩৫ রাত্রি ৬/৫৪/৫৬। অনুরাধা ৮/১/৪০ দিবা ৯/২৭/২২। সূ উ ৬/১৪/৪২, অ ৫/২৮/৫৮। অমৃতযোগ দিবা ৭/৩২ মধ্যে ও ১০/৩৮ গতে ১২/৫৮ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/২৭ গতে ৮/৫৫ মধ্যে ও ১১/২৩ গতে ২/৪১ মধ্যে। কালবেলা ৭/৩৮/৫৯ গতে ৯/৩/১৬ মধ্যে। কালরাত্রি ১০/১৬/৭ গতে ১১/৫১/৫০ মধ্যে।
 ২২ জমাদিয়স সানি

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
স্ত্রীর সাহায্যে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ, ধৃত দম্পতি 
বাঘাযতীনে স্ত্রীর সাহায্যে বছর ২২-এর এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ। অভিযুক্ত ...বিশদ

07:34:00 PM

পাকিস্তানের কোয়েটায় বিস্ফোরণ, মৃত কমপক্ষে ৭, জখম ২০

06:58:00 PM

মত্ত অবস্থায় পুলকার চালানোর অভিযোগে আটক চালক 
পোলবায় পুলকার দুর্ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। রাজ্যজুড়ে পুলকার আটকে ...বিশদ

05:58:22 PM

নির্ভয়াকাণ্ডের দোষীদের ফাঁসি ৩ মার্চ
নতুন করে ফের নির্ভয়াকাণ্ডের দোষীদের ফাঁসির দিনক্ষণ ঘোষণা হল। আগামী ...বিশদ

04:22:33 PM

  বেলেঘাটায় দাউ দাউ করে জ্বলে উঠল চলন্ত গাড়ি
দাউ দাউ করে জ্বলে উঠল চলন্ত গাড়ি। ঘটনাটি কলকাতার বেলেঘাটা ...বিশদ

03:49:00 PM

শাহিনবাগ মামলায় মধ্যস্থকারী নিয়োগ সুপ্রিম কোর্টের
শাহিনবাগ মামলায় মধ্যস্থকারী নিয়োগ করল সুপ্রিম কোর্ট। আজ এই মামলায় ...বিশদ

02:41:45 PM