Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

একটি কাল্পনিক স্মরণসভা
সন্দীপন বিশ্বাস

সাদা কাপড়ে মোড়া মঞ্চজুড়ে সারি সারি চেয়ার-টেবিল। টেবিলের উপরে ফুলদানিতে সাদা ফুল। মঞ্চের একপাশে বড় একটি ছবি। তাতে সাদা মালা দেওয়া। শোকস্তব্ধ পরিবেশ। আজ এখানে প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার টি এন সেশনের স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে সমাজের গণ্যমান্য সকলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। অনেকেই এসেছেন। কিন্তু কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে আসেননি। দর্শকদের মধ্যে তাই নিয়ে চলছে ফিসফিসানি। একজন দর্শক-শ্রোতা অপর একজনকে বললেন, ‘বোঝাই যাচ্ছে পলিটিশিয়ানরা তাঁকে কী চোখে দেখতেন!’ অপরজন বললেন, ‘হ্যাঁ, উনি যে ব্যথা দিয়ে গিয়েছেন তা এখনও পলিটিশিয়ানরা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন।’ প্রথম জন বললেন, ‘আরও কিছুদিন ক্ষমতায় থাকলে, ওনাদের আরও টাইট দিয়ে যেতেন।’ দ্বিতীয় জন বললেন, ‘মনে আছে, সেই সময় তাঁকে তাড়ানোর জন্য পলিটিশিয়ানদের সে কী দৌড়ঝাঁপ!’ দ্বিতীয় জন বললেন, ‘বিরোধী নেতানেত্রীরা পরস্পরের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কত নাক শোঁকাশুঁকি করেছিলেন।’ প্রথম জন বললেন, ‘ইতিহাস সব মনে রেখেছে।’
যথাসময়ে শুরু হল স্মরণসভা। প্রথম বক্তা ছিলেন তাঁর কিছুটা ঘনিষ্ঠ। তাঁর কথায় উঠে এল মানুষ সেশনের জীবনের নানা দিক। বললেন, ‘উনি ছিলেন একজন অকুতোভয় মানুষ। সেই জওহরলাল নেহরুর আমল থেকে তিনি সরকারি পদের দায়িত্ব সামলেছেন। সেদিন সেই তরুণ সাহসী, সৎ কর্মীটি নেহরুর নজরে পড়েছিলেন। কর্মজীবনের প্রথম পর্যায়ে তিনি ছিলেন তামিলনাড়ুর পরিবহণ কমিশনার। দায়িত্ব নিয়ে পড়লেন মহা ফাঁপড়ে। তিনি না জানেন গাড়ি চালাতে, না জানেন গাড়ি সারাতে। সেদিনই ঠিক করলেন, পরিবহণ কমিশনার হলে এগুলো জানা দরকার। দু’মাসের মধ্যে গাড়ি চালানো এবং গাড়ি সারানোর কাজ শিখে নিলেন। একেবারে গোড়া থেকেই তিনি ঠিক করে নিয়েছিলেন আজীবন সৎ থাকবেন। পরবর্তীকালে জুনিয়র অফিসারদের বলতেন, ‘একজন সরকারি আধিকারিকের একটা গুণই থাকা দরকার। সেটা হল সত্ত্ব গুণ। তাহলে জীবনে কোনও গ্লানি থাকবে না।’ এই সৎপথে থেকেই তাঁর একের পর এক উত্থান।
অথচ তিনি নিজের অস্তিত্বের মধ্য থেকে তাঁর মাটির গন্ধটাকে কোনওদিন মুছে ফেলেননি। কেরলের পালাক্কাড়ের সেই নরম, ভক্তিভাবালু মানুষটি কিন্তু শেষ পর্যন্ত অন্তরে একইরকম ছিলেন। ১৯৫৫ সালের তামিলনাড়ু ব্যাচের এই আইএএস মানুষটির কঠোরতা আমরা দেখতে পাই তাঁর কেরিয়ারের গোড়া থেকেই। তামিলনাড়ুতে তখন চলছে হিন্দি ভাষা বিরোধী আন্দোলন। সেই আন্দোলন দমন করার জন্য তাঁকে দায়িত্ব দেন তৎকালীন কংগ্রেসী মুখ্যমন্ত্রী এম ভক্তবৎসলম। কেন্দ্রে কংগ্রেস সরকার চাইছিল দক্ষিণী রাজ্যগুলিতেও জোর করে হিন্দি চাপিয়ে দিতে। এতেই আগুন জ্বলে ওঠে রাজ্যজুড়ে। সেশন কঠোর হাতে সেই আন্দোলন দমন করার চেষ্টা করেছিলেন। এতে তিনি তৎকালীন বিরোধী দল ডিএমকের চক্ষুশূল হয়ে ওঠেন। পরের নির্বাচনে ডিএমকে ক্ষমতায় এলে তিনি দিল্লির প্রশাসনিক ক্ষেত্রে প্রবেশ করেন।
তাঁকে ভালোবাসতেন জওহরলালের নাতি রাজীব গান্ধীও। তখন তিনি রাজীবের সিকিউরিটি অ্যাডভাইসর। একবার এক অনুষ্ঠানে রাজীব গান্ধীকে খাবার দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে একটা সিঙ্গারা জাতীয় কিছু একটা তুলে রাজীব মুখে দিতে যাচ্ছিলেন। সেটা দেখে সেশন তাঁর হাত থেকে সেটি কেড়ে নিয়ে বলেন, ‘স্যার, এভাবে কোনও খাবার আপনার খাওয়া ঠিক নয়। কেননা এই খাবারটির গুণমান পরীক্ষিত নয়।’ সেদিন রাজীব মুচকি হেসে বলেছিলেন, ‘থ্যাঙ্ক ইউ’। রাজীব তাঁকে প্রমোশন দেন। পরিবেশ সচিবের পদ থেকে তাঁকে নিয়ে আসেন প্রতিরক্ষা সচিবের পদে। ভি পি সিং তাঁকে নিয়ে আসেন যোজনা কমিশনে। একজন পাবলিক সার্ভেন্ট হিসেবে তিনি আজীবন নিষ্ঠার সঙ্গে তাঁর দায়িত্ব পালন করেছেন।
দ্বিতীয় ব্যক্তি তাঁকে স্মরণ করতে উঠে বললেন, ‘একবার তিনি বসে একটি গান শুনছিলেন। গানটি তখনকার খুব বিখ্যাত গান। ‘তু চিজ বড়ি হ্যায় মস্ত মস্ত’। তাঁর ঘনিষ্ঠ একজন তাঁকে বললেন, ‘আপনার মতো মানুষ এমন গান শুনছেন?’ উনি হেসে বলেছিলেন, ‘আমার শুনতে শুনতে মনে হল গানের কথাটা ভুল লেখা হয়েছে। ওটা হওয়া উচিত- তু চিজ বড়ি হ্যায় ভ্রষ্ট ভ্রষ্ট।’ রাজনীতিকদের এভাবে ব্যঙ্গ করে নিজেই হা হা করে হেসে উঠেছিলেন। অধিকাংশ ‘ভ্রষ্ট’ রাজনীতিকের বিরুদ্ধে তিনি জেহাদে নেমেছিলেন। জেহাদ না বলে ধর্মযুদ্ধ বলাটাই শ্রেয় হবে। একজন সৎ আমলা সবসময় মন্ত্রী বা নেতাদের বশংবদ হন না। তাঁদের কাজে বা পরিকল্পনায় ভুল থাকলে মেরুদণ্ডসম্পন্ন আমলারা প্রতিবাদও করেন। হয়তো অনেক সময় সেই প্রতিবাদ শাসকের ক্ষমতার কাছে হার মেনে যায়। তাঁর সঙ্গেও বিভিন্ন মন্ত্রীর সঙ্ঘাত বেধেছিল। বহুক্ষেত্রেই এইসব সঙ্ঘাত আদর্শগত। তাঁর সঙ্গে বিরোধ বেধেছিল তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এমজি রামচন্দ্রনের। তিনি বিরোধিতা করেছিলেন সর্দার সরোবর প্রকল্পের। পরিবেশ সচিব থাকাকালীন তাঁর সঙ্গে বিরোধ হয়েছিল মন্ত্রী ভজনলালের। অনেক সময় অনেকের মনে হয়েছে তিনি অহংকারী, উদ্ধত, আত্মম্ভর। কিন্তু মনে রাখা দরকার ধর্মযোদ্ধারা এমনই নির্ভীক ও আত্মবিশ্বাসী হন।
আমরা তাঁকে জানি একজন বলিষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার হিসেবে। কিন্তু তিনি আজীবন সত্যের জন্য লড়াই করেছেন। তিনি যখন হার্ভার্ডে পড়তে যান সেখানে তাঁর শিক্ষক ছিলেন সুব্রহ্মণ্যম স্বামী। তাঁর পরামর্শেই চন্দ্রশেখর তাঁকে নির্বাচন কমিশনারের পদে নিয়ে আসেন। তাঁকে ডেকে এই প্রস্তাব দেওয়া হলে তিনি প্রথমে ঠিক করতে পারেননি কী করবেন। দায়িত্ব কি নেবেন! উত্তর খুঁজতে সোজা চলে গেলেন কাঞ্চীপুরমের শঙ্করাচার্যের কাছে। সব কথা বললেন। বললেন, ‘আমি দায়িত্ব নিয়ে কাজ শুরু করলেই সারা দেশের রাজনীতিকরা আমার উপর চটে যাবেন। আমি সেটা চাই না। আমি সংবিধান মেনে কাজ করলেই সবাই রে রে করে উঠে আমার শত্রু বনে যাবেন। আমি সেটা চাই না।’ শঙ্করাচার্য তাঁকে গীতার শ্লোক বললেন। ধর্মপালন, ধর্মরক্ষা এবং সত্যের শক্তির কী মাহাত্ম্য বোঝালেন। মনস্থির করে ফেললেন সেশন।
দায়িত্ব নিয়েই তালিকা করতে বসলেন। কতরকম ভাবে নির্বাচনী দুর্নীতি হয়। তালিকা দীর্ঘ হতে থাকত। ঠিক করলেন এগুলিকে নির্মূল করে ভারতীয় নির্বাচন পদ্ধতিকে কালিমামুক্ত করবেন। নির্বাচনে কালো টাকার ব্যবহার বন্ধ করা, ছাপ্পা-রিগিং, গুন্ডাগার্দি বন্ধ করে নির্বাচনকে স্বচ্ছ করা এবং ভোটারদের একশো শতাংশ অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া। এই পণ নিয়ে তিনি কাজ শুরু করে দেন। স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি থেকে ভোটারদের পরিচয়পত্র দেওয়ার কাজ তিনিই শুরু করেছিলেন। আজ নির্বাচন ব্যবস্থা যতটুকু স্বচ্ছ হয়েছে, তার পিছনে একমাত্র ব্যক্তি হলেন সেশন। অনেকে তাঁকে বলতেন হোলি টেরর। বহু রাজনীতিকের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছিলেন। মেগালোম্যানিয়াক, বুলডগ, খ্যাপা কুকুর যে যা ইচ্ছে তাঁকে বলেছেন। বহু রাজনীতিক আতঙ্কে তাঁদের সৌজন্যটুকুকে মুছে ফেলেছিলেন। মানুষ বুঝেছিলেন, তিনি দুষ্টু মৌমাছিদের চাকে ঢিল মেরেছেন। তিনি নিজেও ব্যাপারটা তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করতেন। সাংবাদিকদের তিনি মজা করে বলতেন। ‘আমি রাজনীতিকদের দিয়ে ব্রেকফাস্ট করি।’ তিনি বলতেন, ‘খেলার মাঠে যেমন রেফারি, তেমনই নির্বাচনী ময়দানে আমি। রেফারি যেমন কেউ ভুল করলে ফাউল বা অফসাইড দেন, আমিও তেমনই দুর্নীতি বা অন্যায় দেখলেই বাঁশি বাজাই।’
তৃতীয় ব্যক্তি তাঁকে স্মরণ করতে উঠে বললেন, ‘সেদিন সেশন সাহেব ভোটার কার্ড চালু করার কথা বলতেই অনেকে প্রমাদ গণেছিলেন। তাঁরা বুঝেছিলেন এতে রিগিং, অবাধ ছাপ্পা বন্ধ হয়ে যাবে। কাঁধে বন্দুক নিয়ে ভোটকেন্দ্রে দাঁড়িয়ে আর ভোট করা যাবে না। একচেটিয়া ভোট লুট বন্ধ হয়ে যাবে। জ্যোতি বসু, মুলায়ম সিং যাদব, লালুপ্রসাদ যাদব সহ অনেকেই পরিচয়পত্রের বিরোধিতা শুরু করলেন। তাঁরা বুঝেছিলেন ওই ভদ্রলোক তাঁদের পাকা ধানে মই দিতে এসেছেন। সেশনও কম যান না। রাজনীতিকরা বুনো ওল হলে তিনি বাঘা তেঁতুল। তিনি বললেন, ‘পরিচয়পত্র না হলে তিনি নির্বাচন হতে দেবেন না। সব স্থগিত করে দেবেন।’ অনেকেই দল বেঁধে সুপ্রিম কোর্টে গেলেন। কোর্ট জানিয়ে দিল মানুষের এই অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না। কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি। তাঁর ক্ষমতায় থাকার শেষ ভাগে এসে শুরু হয়ে গেল ভোটারদের পরিচয়পত্র প্রদানের কাজ। সেই আনন্দ নিয়েই তিনি অবসর নিয়েছিলেন। সব কাজ তিনি করে যেতে পারেননি। কিন্তু অন্ধকারের শেষে এনে দিয়েছিলেন আলোর ইঙ্গিত। তাঁর আমলেই সারা দেশ দেখেছিল মডেল কোড অব কন্ডাক্ট কাকে বলে। সেই কন্ডাক্ট সেই সময় বহু রাজনীতিকের বুকে কাঁপুনি ধরিয়ে দিয়েছিল। তাঁদের স্বার্থে আঘাত লেগেছিল। তাই তাঁরা সেশনকে ছুঁড়ে ফেলে দিতে চেয়েছিলেন। তাঁরা বললেন, ‘নির্বাচন কমিশনে সেশন স্বেচ্ছাচার চালাচ্ছেন। এটা সেশনোম্যানিয়া। ভবিষ্যতে যাতে আর কেউ এমন ‘স্বেচ্ছাচারী’ মনোভাব না দেখাতে পারেন, বা ‘ভুল’ সিদ্ধান্ত নিতে না পারেন, তার জন্য একাধিক নির্বাচন কমিশনারের প্রয়োজন।’ তারপর থেকেই নির্বাচন কমিশন হয়ে গেল তিনজনের। অথচ রাজনৈতিক নেতারা কিন্তু বলেন না, একজন মুখ্যমন্ত্রী বা একজন প্রধানমন্ত্রী যাতে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে না পারেন, তার জন্য একাধিক মুখ্যমন্ত্রী বা একাধিক প্রধানমন্ত্রী দরকার।
গত কয়েক বছর ধরে তিনি লিখেছেন তাঁর আত্মজীবনী। বোঝাই যায়, সেই আত্মজীবনী একটা টাইম বোমার মতো। সে কথা জানতে পেরে তাঁর কয়েকজন শুভানুধ্যায়ী তাঁকে বলেছিলেন, ‘এটা ছাপা হোক, সকলে অনেক সত্যি কথা জানতে পারবেন।’ তিনি হেসে বলেছিলেন, ‘এই আত্মজীবনী আমি নিজের আনন্দের জন্য লিখেছি। এটা প্রকাশিত হলে অনেকেই অখুশি হবেন।’ সেই আত্মজীবনী প্রকাশিত হলে কার কার মুখোশ যে খসে পড়বে আমরা তা জানি না! 
18th  November, 2019
শিবসেনা ও একটি পরম্পরার অপমৃত্যু
শান্তনু দত্তগুপ্ত

শিবাজি পার্কের জনসভায় তির-ধনুকটা নামিয়ে বক্তৃতা শুরু করতে গিয়েও থমকে গেলেন বাল থ্যাকারে। শব্দবাজির দাপট কানের যাবতীয় সহ্যক্ষমতা অতিক্রম করছে। সঙ্গে চিৎকার... উল্লাস। অপেক্ষা করছেন শিবসেনা ‘প্রমুখ’। তির-ধনুক তাঁর দলের প্রতীক। পৌরুষের প্রতীক। তিনি নিজেও তাই। ১৯৯৫ সালের বিধানসভা ভোটের শেষ পর্বের প্রচার।  
বিশদ

প্রচলিত ছকে মৌসুমি বায়ু চরিত্র বোঝা যাচ্ছে না
শান্তনু বসু

২০১৯-এর এই উদ্বৃত্ত বৃষ্টিপাত আবহাওয়াবিদদের হিসেবেই ছিল না। উদ্বৃত্ত বৃষ্টিপাত ভূগর্ভস্থ জলস্তরকে পুনরুজ্জীবিত করবে সন্দেহ নেই, কিন্তু আগামী বছর যদি আরও দেরিতে কেরলে মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করে, ভারতের কৃষি আবার অনিশ্চয়তায় চলে যাবে। চলতি বছরের উদ্বৃত্ত জলকে ধরে রাখা হয়েছে—এমন সুখবর কিন্তু নেই।
বিশদ

18th  November, 2019
মূল্যবোধের রাজনীতি ও
মহারাষ্ট্রের কুর্সির লড়াই
হিমাংশু সিংহ

আজকের নির্বাচনী রাজনীতি যে কতটা পঙ্কিল ও নোংরা তারই জ্বলন্ত প্রমাণ আজকের মহারাষ্ট্র। সঙ্কীর্ণ স্বার্থসর্বস্ব রাজনীতিতে ক্ষমতা দখলের নেশায় ছোটবড় প্রতিটি রাজনৈতিক দলই আজ মরিয়া। মহারাষ্ট্রের ফল বেরনোর পর গত তিন সপ্তাহের রাজনীতির নাটকীয় ওঠাপড়া সেই অন্ধকার দিকটাকেই বড় প্রকট করে তুলেছে। ভোটের ফল ও কে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসবেন তা নিয়ে দুই পুরনো জোট শরিকের দ্বন্দ্ব যে দেশের বাণিজ্য পীঠস্থান মুম্বই তথা মহারাষ্ট্রকে এমন নজিরবিহীন সঙ্কটে ফেলবে, তা কে জানত? যে জোট পাঁচ বছর ধরে রাজ্য শাসন করল এবং এবারও গরিষ্ঠতা পেল, সেই জোটই ভেঙে খান খান!
বিশদ

17th  November, 2019
ঘর ওয়াপসি ও কিছু প্রশ্ন
তন্ময় মল্লিক

 ঘর ওয়াপসি। ঘরে ফেরা। ‘ভাইজান’ সিনেমার ছোট্ট মুন্নির ঘরে ফেরার কাহিনীর দৌলতে ‘ঘর ওয়াপসি’ এখন আমবাঙালির অতি পরিচিত শব্দ। সেই পরিচিত শব্দটি অতি পরিচিতির মর্যাদা পেয়েছে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক নেতাদের একাংশের ঘন ঘন জার্সি বদলের দৌলতে।
বিশদ

16th  November, 2019
জল বেড়েছে, বোধ বাড়েনি
রঞ্জন সেন

 সমুদ্রের জলস্তর বাড়ার ফলে পৃথিবীর বহু উপকূলবর্তী দেশ ও দ্বীপ বিপন্ন হবে বলে পরিবেশবিজ্ঞানীরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। তাঁরা এটাও বলছেন আমরা সবাই মিলে এবং রাষ্ট্রনায়কেরা চাইলে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমিয়ে এই অবস্থার মোকাবিলা করতে পারি। বিশদ

16th  November, 2019
সংবিধানই পথ
সমৃদ্ধ দত্ত

 তিন বছর ধরে সংবিধান রচনার কাজ অবশেষে যখন সমাপ্ত হল, তখন ১৯৪৯ সালের ২৫ নভেম্বর ভারতীয় সংবিধানের চূড়ান্ত খসড়া পেশ করে সংবিধান-সভায় তাঁর সর্বশেষ বক্তৃতায় সংবিধান রচনা কমিটির চেয়ারম্যান ড.ভীমরাও আম্বেদকর আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, ভারতের এই সংবিধানের মূল সুর এবং গণতন্ত্র কি আদৌ শেষ পর্যন্ত আগামী দিনে রক্ষা করা সম্ভব হবে? বিশদ

15th  November, 2019
পঞ্চাশোর্ধ্বে বানপ্রস্থ?
অতনু বিশ্বাস

পঞ্চাশ ছুঁই-ছুঁই হয়ে একটা প্রায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধ ভাব এসেছে আমার মধ্যে। সেটা খুব অস্বাভাবিক হয়তো নয়। এমনিতেই চারপাশের দুনিয়াটা বদলে গিয়েছে অনেক। চেনা-পরিচিত বাচ্চা বাচ্চা ছেলেমেয়েগুলো হঠাৎ যেন বড় হয়ে গিয়েছে। আমাকে ডাকনাম ধরে ডাকার লোকের সংখ্যাও কমে যাচ্ছে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে। বুড়ো হবার সব লক্ষণ একেবারে স্পষ্ট। 
বিশদ

14th  November, 2019
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দৃঢ় নীতির
কাছে ভারতের স্বার্থটাই সবার উপরে
অমিত শাহ

 মোদিজির নেতৃত্বাধীন উন্নতশির ভারতের কথা বিবেচনা করে আরসিইপি সদস্য রাষ্ট্রগুলি বেশিদিন আমাদের এড়িয়ে থাকতে পারবে না। তারা আমাদের শর্তে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যে রাজি হবে। এর মধ্যে আমরা এফটিএ মারফত আসিয়ান রাষ্ট্রগুলির সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্করক্ষায় সফল হয়েছি। আরসিইপি প্রত্যাখ্যান করে চীনের সম্ভাব্য গ্রাস থেকে আমাদের শিল্পকে আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে সুরক্ষা দিতে পেরেছি। আমাদের জন্য ভারতের স্বার্থটাই সবার আগে। বিশদ

13th  November, 2019
ভাষা বিতর্কে জেইই মেনস
শুভময় মৈত্র

পশ্চিমবঙ্গের যে সমস্ত ছাত্রছাত্রী এই ধরনের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বসেন, তাঁরা মোটামুটি ভালোভাবেই ইংরেজি পড়তে পারেন। তার জন্যে কংগ্রেস, সিপিএম, তৃণমূল বা বিজেপির কোনও কৃতিত্ব নেই। সারা দেশের মধ্যে বাঙালিরা যে শিক্ষা সংস্কৃতিতে বেশ এগিয়ে আছে সেটা বোঝার জন্যে প্রচুর পরিসংখ্যান আছে, যেগুলো জায়গামতো ছাপা হয় না। বিশেষ করে বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এরাজ্যের ছেলেমেয়েরা ঐতিহ্যগতভাবে ভালো, ঔপনিবেশিক কারণে ইংরেজিতেও। সেখানে জেইই মেনসের মতো পরীক্ষার প্রশ্ন বাংলায় করতে হবে বলে বাংলার পরীক্ষার্থীদের না গুলিয়ে দেওয়াই মঙ্গল। বিশদ

13th  November, 2019
অস্তাচলে মন্দির রাজনীতি
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

সালটা ১৯৯২। লালকৃষ্ণ আদবানির ‘রথযাত্রা’ শুরু হওয়ার ঠিক আগের কথা...। কথোপকথন চলছে বিজেপি নেতার সঙ্গে বজরং দলের এক নেতার। ‘বাবরির কলঙ্ক মুছে দিতে পারবে না?’ বজরং দলের সেই নেতা উত্তর দিলেন ‘আপনার নির্দেশের অপেক্ষাতেই তো বসে আছি। 
বিশদ

12th  November, 2019
প্রেমময় শ্রীকৃষ্ণের মধুর রাসলীলা
চিদানন্দ গোস্বামী

বিশারদ সর্ব বিষয়ে। বাঁশিতে, রথ চালনায়, চৌর্যকর্ম, কূটনীতি, যুদ্ধবিদ্যা, ছলচাতুরি—সবকিছুতেই বিশারদ। আর প্রেমপিরিতে তো মহা বিশারদ। এবং, কলহ বিতর্ক বাগযুদ্ধ যুক্তি জাদু, অপমান উপেক্ষা করতেও কম যায় না। অথচ পরমতম প্রেমিক পুরুষ। হ্যাঁ, এমন প্রেম জানে ক’জনা! আর, সেই প্রেমেও কত না কাণ্ড!  
বিশদ

11th  November, 2019
ক্ষমতায় ফিরে আসার লক্ষ্যে কমনিষ্ঠ পার্টি অব মৃত্যুলোকের নয়া পরিকল্পনা
সন্দীপন বিশ্বাস

হাতের চুরুটটা নিভতে নিভতেও আগুন ছুঁয়ে আছে। আর কমরেট প্রমোদিয়েভ ঝিমোতে ঝিমোতেও জেগে আছেন। ওদিকে কমরেট জ্যোতোভস্কি আরাম কেদারায় হেলান দিয়ে টেবিলে পা তুলে দিয়ে টিভি দেখছেন। একটা গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণার দিকে তাকিয়ে আছেন তিনি। এখনও অন্য কমরেটরা আসেননি। 
বিশদ

11th  November, 2019
একনজরে
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দু’টি পরীক্ষার মধ্যে দু-একদিন করে ছুটি থাকবে বলে আগেই ঘোষণা করেছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সোনালি চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায়। ...

সংবাদদাতা, কান্দি: সোমবার সকালে বড়ঞা থানার বিপ্রশেখর গ্রামে এক প্রৌঢ়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। পুলিস জানিয়েছে, মৃতের নাম বাদল দত্ত(৫২)। তিনি ওই গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।   ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শয়নে স্বপনে এখন শুধুই গোলাপি টেস্ট। যার উন্মাদনা কেবল সমর্থকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে ভারতীয় ক্রিকেটারদের মধ্যেও। দেশের মাটিতে প্রথমবার ...

সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মৎস্য দপ্তরের পক্ষ থেকে ৩৮ জন মাছচাষিকে সোমবার মাছ ও চুন বিতরণ করা হল।  ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
aries

কর্মপ্রার্থীদের কর্মলাভ কিছু বিলম্ব হবে। প্রেম-ভালোবাসায় সাফল্য লাভ ঘটবে। বিবাহযোগ আছে। উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় থেকে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৩৮: সমাজ সংস্কারক কেশবচন্দ্র সেনের জন্ম
১৮৭৭: কবি করুণানিধান বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯১৭: ভারতের তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর জন্ম
১৯২২: সঙ্গীতকার সলিল চৌধুরির জন্ম
১৯২৮: কুস্তিগীর ও অভিনেতা দারা সিংয়ের জন্ম
১৯৫১: অভিনেত্রী জিনাত আমনের জন্ম 





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৮৪ টাকা ৭২.৫৪ টাকা
পাউন্ড ৯১.০৬ টাকা ৯৪.৩৪ টাকা
ইউরো ৭৭.৮৫ টাকা ৮০.৮১ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,৫৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,৬০৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৭,১৫৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৪,৪০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৪,৫০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার, সপ্তমী ২৪/১১ দিবা ৩/৩৬। অশ্লেষা ৩৮/৩৮ রাত্রি ৯/২২। সূ উ ৫/৫৫/২২, অ ৪/৪৮/২৩, অমৃতযোগ দিবা ৬/৪০ মধ্যে পুনঃ ৭/২৩ গতে ১১/০ মধ্যে। রাত্রি ৭/২৬ গতে ৮/১৯ মধ্যে পুনঃ ৯/১১ গতে ১১/৪৯ মধ্যে পুনঃ ১/৩৪ গতে ৩/১৯ মধ্যে পুনঃ ৫/৫ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ৭/১৬ গতে ৮/৩৮ মধ্যে পুনঃ ১২/৪৩ গতে ২/৫ মধ্যে, কালরাত্রি ৬/২৭ গতে ৮/৫ মধ্যে। 
২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার, সপ্তমী ১৯/২৬/৫২ দিবা ১/৪৩/৫৬। অশ্লেষা ৩৬/১/৪১ রাত্রি ৮/২১/৫১, সূ উ ৫/৫৭/১১, অ ৪/৪৮/১৯, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫০ মধ্যে ও ৭/৩০ গতে ১১/৬ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/২৮ গতে ৮/২১ মধ্যে ও ৯/১৪ গতে ১১/৫৪ মধ্যে ও ১/৪১ গতে ৩/২৮ মধ্যে ও ৫/১৪ গতে ৫/৫৮ মধ্যে, বারবেলা ৭/১৮/৩৬ গতে ৮/৪০/১ মধ্যে, কালবেলা ১২/৪৩/১৫ গতে ২/৫/৪০ মধ্যে, কালরাত্রি ৬/২৭/৪ গতে ৮/৫/৪০ মধ্যে।
২১ রবিয়ল আউয়ল  

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
দিল্লিতে ভূমিকম্প 

07:07:50 PM

বুধেরহাটে অ্যাসিড খেয়ে আত্মঘাতী বধূ 
স্বামীর সঙ্গে অশান্তির জেরে অ্যাসিড খেয়ে আত্মঘাতী হলেন এক বধূ। ...বিশদ

06:22:42 PM

মালদহের প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় 

06:13:00 PM

বিধানসভায় পালিত হবে সংবিধান দিবস 
২৬ এবং ২৭ নভেম্বর রাজ্য বিধানসভায় পালিত হবে সংবিধান দিবস। ...বিশদ

03:59:00 PM

প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে মালদহে পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

03:58:52 PM

ডেঙ্গুতে পাঁচ বছরের এক শিশুকন্যার মৃত্যু 
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল পাঁচ বছরের এক শিশুকন্যার। মৃতের ...বিশদ

02:28:49 PM