দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় থেকে অর্থাগম ও পুনঃ সঞ্চয়। কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতি বা নতুন কর্ম লাভের সম্ভাবনা। মন ... বিশদ
ট্যাংরার হত্যাকাণ্ডে দুই ভাইয়ের বয়ানে প্রতিদিন কোনও না কোনও অসঙ্গতি থেকে যাচ্ছে। সবটা একত্র করে তেলের থেকে জল আলাদা করে চলেছে পুলিস। এদিনও লালবাজারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, নাবালক শরীরচর্চা করত বলে কোনও প্রমাণ তারা পায়নি। বরং প্রণয় ও প্রসূনের জিম-ব্যাগ উদ্ধার হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, প্যাক্ট সুইসাইডের প্ল্যান করার পরই বাড়ির ভিতরের সব সিসি ক্যামেরা বন্ধ করে দিয়েছিল প্রণয়-প্রসূন। তাই ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে কোনও ফুটেজ নেই। প্রথমে পায়েস, তারপর হাতের শিরা কেটে ফেলা। এই ছিল মূল প্ল্যান। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, প্রিয়ংবদাকেও পায়েস খাওয়ানোর পর মুখে বালিশ চাপা দিয়ে মারা হয়েছিল। আর সেটা ১৭ তারিখ রাতেই। পরের দিন আচ্ছন্ন সুদেষ্ণা ও রোমিকে হাতের শিরা কেটে। এখন আবার প্রসূন দাবি করছে, দুই বউ নিজেরাই নিজেদের শিরা কেটেছে। প্রণয় বলছে, সে কিছু দেখেনি। তাহলে সত্যিটা কী? এই উত্তর খুঁজে চলেছে পুলিস। বালিশ চাপা দেওয়া সত্ত্বেও বেঁচে যাওয়ার পর সেদিন উপরে গিয়ে বাবা-কাকাকে কিশোর প্রশ্ন করেছিল, ‘কেন এমন করলে?’ কমিশনের কাছে সেকথা জানিয়েছে নাবালক। বলেছে, বাবা-কাকা তাকে ব্যবসায় মন্দা, পাওনাদারের কথা জানিয়েছিল। বুঝিয়েছিল, তাকেও আত্মহত্যা করতে হবে। কারণ, যে লাইফস্টাইলে তারা বড় হয়েছে, তাতে পরবর্তী কঠিন সময় সে সামলাতে পারবে না। ঘটনার আগের দিন যখন সে প্রশ্ন করেছিল, মা সুদেষ্ণা বলেছিলেন, ‘বড়দের ব্যাপার। তোমাকে জানতে হবে না।’ অথচ ব্যবসা খারাপ চলছে, বাবা-মা-কাকা ও কাকিমার মধ্যে আলোচনা চলছে, সবটাই জানুয়ারি থেকে জানত সে। মা সুদেষ্ণা বলতেন। ঘটনার দিন দশেক পর এহেন নির্লিপ্ত বয়ানে অবাক অনন্যাদেবী।
আর দু’-একদিনেই প্রণয়-প্রসূনকে হাসপাতাল থেকে ছাড়া হবে। কিন্তু ওই কিশোরের কী হবে? অনন্যাদেবী বলেন, ‘প্রসূন দে’র শ্বশুর-শাশুড়িকে অনুরোধ করা হবে, সুস্থ হওয়ার পর যাতে ওর দায়িত্ব নেন। এই সংক্রান্ত রাজ্যের প্রকল্প আছে। মাসে মাসে টাকা দেওয়া হবে। যদি তাঁরা রাজি না হন, এক দম্পতি আছেন।’ অনন্যাদেবী বলছিলেন, ‘ওর চোখে এক ফোঁটা জল নেই! না কাঁদলে ও যে পাগল হয়ে যাবে! দাবা খেলতে ভালোবাসে। একটা দাবার বোর্ড আর রবি ঠাকুরের ছেলেবেলার বই দিয়ে এসেছি। নেতাজি পড়ছে। দেখা যাক!’