Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

কাতার বিশ্বকাপ বনাম পাশ্চাত্য মিডিয়া
মৃণালকান্তি দাস

 

বিশ্বের বাগান হল ইউরোপ। আর বাকি দুনিয়ার অধিকাংশ জঙ্গল। ব্রাসেলসে একটি কূটনৈতিক অ্যাকাডেমি উদ্বোধন করতে গিয়ে এমনই বলেছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিদেশনীতি বিষয়ক প্রধান জোসেফ বোরেল। ভয়ঙ্কর বৈষম্যমূলক এই ধ্যান-ধারণাই পশ্চিমের সর্বত্র লক্ষণীয়। ইউরোপ নিজেদের সাফল্যকেই শুধু বিশ্বের সাফল্য এবং শুধু পশ্চিমের সমস্যাকেই সমগ্র বিশ্বের সমস্যা মনে করে। কোনও কিছুতেই ইউরোপ এশিয়া কিংবা আফ্রিকার সাফল্যকে স্বীকৃতি দিতে নারাজ। তারা আফ্রো-এশিয়ান চ্যালেঞ্জকে বিশ্বের সমস্যা মনে করে না। বরং আফ্রো-এশীয় ভূখণ্ডকে জঞ্জাল হিসেবেই দেখে। সভ্যতা, সাফল্য, সুন্দরের সংজ্ঞা যেন ইউরোপই ঠিক করে দেবে!
এডওয়ার্ড সঈদ, গায়ত্রী স্পিভাকের মতো উত্তর-ঔপনিবেশিক এশীয় পণ্ডিতরা ইউরোপীয় শাসক ও চিন্তকদের আফ্রো-এশিয়াকে দেখার ‘ওয়ার্ল্ড ভিউ’ বুঝতে সাহায্য করেছেন। বলেছেন, আসলে প্রাচ্যের কোনটি ভালো, কোনটি মন্দ, তা ইউরোপ-আমেরিকানদের কল্পনাপ্রসূত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করে থাকে। এবারের বিশ্বকাপ সেই ভাষ্যকে পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটা মোক্ষম সুযোগ করে দিয়েছে। সঈদ সেই পশ্চিমী হীনমন্যতার ছবি এঁকেছেন, যেখানে পশ্চিম মনে করে আফ্রো-এশিয়ানরা নীচ-হীন, নোংরা, অসভ্য, নিজেদের শাসনে অক্ষম, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ। বিপরীতে পশ্চিমই দুনিয়ার শাসক ও নেতা হওয়ার যোগ্য। উপনিবেশ সুরক্ষার জন্য প্রজন্মের পর প্রজন্মে ইউরোপীয় নাগরিকদের কলোনিয়াল শাসক ‘মাইন্ডসেট’ তৈরির ‘সাপ্লাই চেন’ নির্মাণ তাদের জন্য প্রয়োজন ছিল। অনৈতিক শাসন চালিয়ে যাওয়ার জন্য ইউরোপীয় সাধারণ নাগরিকের উপর ‘প্রাচ্যবাদ’ দর্শন চাপিয়ে দেওয়ার চর্চা ছিল। এসব বর্ণবাদী চিন্তা ও ধ্যান-ধারণা যে পশ্চিম থেকে এখনও মোছেনি তার প্রমাণ ইউরোপে নতুন করে ডানপন্থার নবজোয়ার। এসব এখন ইউরোপকে কুরে কুরে খাচ্ছে।
ইউরোপের সাজানো বাগান আফ্রো-এশিয়ানদের রক্ত, হত্যা, অমানবিকতা ও অন্যের দেশ ধ্বংসের উপর নির্মিত। স্কুলের পাঠ্যবই থেকে এসবের সাক্ষ্য মুছে ফেলা হয়েছে বলে ইউরোপীয় শিশুরা আজ বেশ কিছু মিথ্যার ইতিহাসের মধ্যেই বড় হচ্ছে। তবে ইউরোপের প্রতিটি বড় শহরের গৌরবজনক রাজপ্রাসাদ সেসবের প্রমাণ বয়ে বেড়াচ্ছে। তা মোছা কীভাবে সম্ভব? তবুও কলোনিয়াল শোষণ কাঠামোর প্রাচ্যবাদী চর্চা পশ্চিমের মিডিয়া হেজিমনি (আধিপত্য)-তে আজও রয়ে গিয়েছে। আর তাই কাতার বিশ্বকাপ কভারেজে পশ্চিমের মিডিয়া হেজেমনির কুৎসিত চেহারা বেরিয়ে পড়েছে। পশ্চিমের দেশগুলি মনে করে ফুটবল, অলিম্পিকস এসব শুধু তাদেরই খেলা। বিশ্বকাপ আয়োজনের অধিকারও শুধু তারই। বিশ্বকাপের স্থান ও সময় হতে হবে তার কমফোর্ট জোনকে বিবেচনায় রেখেই। কিন্তু স্পোর্টস শো করে আফ্রো-এশিয়ার বিস্তৃত বাজার থেকে যে বিপুল অর্থ তোলে, তা নিয়ে কোনও চর্চাই করে না। যথাসম্ভব গোপন রাখতে চোখ বুজে থাকে।
কাতার বড় ফুটবল প্লেয়িং নেশন নয়। তাদের অভিজ্ঞতা কম। বিশ্বকাপ আয়োজন করতে গিয়ে সেখানে বহু শ্রমিক মারা গিয়েছেন—এসব কাতার অস্বীকার করেনি। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) কাতারের শ্রমনিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেছে। তারাও জানিয়েছে, কাতারে উচ্চতাপে শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে বছরে ৫০ থেকে ৬০-এর কাছাকাছি। কিন্তু ইউরোপের মিডিয়া প্রচার করা শুরু করে, দশ বছরে কাতারে শ্রমিক মৃত্যুর সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৫ থেকে সাড়ে ৬ হাজার। আর বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগে বলা শুরু হয় সংখ্যাটা অন্তত ১৫ হাজার। ফলে ইউরোপে শুরু হয় বিশ্বকাপ বর্জনের ব্যাপক আন্দোলন। খোদ আইএলও বলছে, সৌদি আবরের আগে কাতার ‘কাফালা’ পদ্ধতি বন্ধ করেছে। শ্রমিকদের চাকরি পরিবর্তন ও দেশ ছাড়ার স্বাধীনতা দিয়েছে। শ্রমিকদের কর্ম নিরাপত্তা উন্নত করতে বেশ কিছু কাজ করেছে। ন্যূনতম মজুরি, আবাসন ট্রান্সপোর্টেশান দিয়েছে। অথচ, পশ্চিমের মিডিয়া বলছে, কোনও পরিবর্তন হয়নি। কিন্তু আধুনিক শ্রমদাসত্বের এই কাফালা ব্যবস্থাও যে কলোনিয়াল লিগ্যাসি, সেটা পশ্চিমের মিডিয়া কখনও বলে না।
ঘৃণা ছড়ানো প্রোপাগান্ডায় পশ্চিমের ‘মিডিয়া হেজেমনি’ ও হীনমন্যতা প্রকাশ্যে এসে গিয়েছে। কাতারের পরিকাঠামোগুলি নির্মাণে যে পশ্চিমের কোম্পানিও যুক্ত, শ্রমিক নিরাপত্তার দায় যে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সার্টিফায়েড পশ্চিম কোম্পানিরও— সেটা তারা বেমালুম চেপে গিয়েছে। দ্য ইকোনমিস্টের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতি বাবদ এরই মধ্যে কাতার ৩০ হাজার কোটি ডলার খরচ করে ফেলেছে। প্রতিযোগিতা চলাকালীন খরচ আরও বাড়বে। অথচ, ২০১৪ সালে ব্রাজিল, ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপ আয়োজন করতে খরচ করেছিল দেড় হাজার কোটি ডলার। কাতার যা খরচ করেছে, তা মূলত ব্যয় হয়েছে পরিকাঠামো নির্মাণে। যার বড় অংশই খরচ হয়েছে মেট্রো নেটওয়ার্ক তৈরিতে। যা বিশ্বকাপ শেষেও কাতারকে সমৃদ্ধ করবে। অথচ, বড় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের ইতিহাসে ঘাঁটলে দেখা যায়, এই ধরনের বড় আয়োজন মানেই ‘খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি’।
সুইজারল্যান্ডের লুসান বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ১৯৬৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিশ্বকাপ ও অলিম্পিকের মতো ৩৬টি বড় আয়োজনের মধ্যে ৩১টি আয়োজন লাভের মুখ দেখেনি। গবেষণায় যে ১৪টি বিশ্বকাপের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে, তার মধ্যে শুধু একটির আয়োজনই ছিল লাভজনক। ২০১৮ সালে রাশিয়ার ফুটবল বিশ্বকাপ। ওই বিশ্বকাপ থেকে রাশিয়া ২৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার মুনাফা করেছিল। এই মুনাফা আসে মূলত বিশ্বকাপের প্রচারস্বত্ব বিক্রি করে। তবে বিনিয়োগের বিপরীতে সেটা আবার খুব বেশি লাভজনক হয়নি। আসলে রাশিয়া ওই আয়োজন থেকে মুনাফা করেছিল মাত্র ৪.৬ শতাংশ। আর কাতার বিশ্বকাপের আয়োজক কমিটির প্রধান নাসের আল খাতের জানিয়ে দিয়েছেন, এবারের বিশ্বকাপ থেকে আয় ৬০০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। এটাই ফিফার হিসেব।
কাতার ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক লারবি সাদিকি সংবাদসংস্থা আল-জাজিরায় লিখেছেন, যখন মুসোলিনির ফ্যাসিবাদী শাসনাধীন ইতালিতে বিশ্বকাপ আয়োজিত হয়েছে, আর্জেন্তিনার নৃশংস সামরিক শাসকের অধীনে বিশ্বকাপ আয়োজিত হয়েছে, তখন পশ্চিমী মিডিয়ায় কোনও সমালোচনার ঝড় দেখা যায়নি। ২০১৪ সালে বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজনের সময় বিদেশিদের নজর থেকে দেশের দারিদ্র্য আড়াল করতে ব্রাজিলে বহু স্থানীয় গরিব মানুষকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল। অথচ, কাতারের মতো তাদের কোনও সমালোচনার মুখে পড়তে হয়নি। ১৯৯৪ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসে বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজিত হয়েছিল। আমেরিকার ওই অঙ্গরাজ্যে মাত্র দুই বছর আগেই সবচেয়ে বড় বর্ণবাদী দাঙ্গা হয়েছিল। তা নিয়ে কেউ তো মুখ খোলেনি। কেউ তো বলেননি, ১৯৫৪ সালে দুর্বিষহ আবহাওয়ার মধ্যেই সুইজারল্যান্ডে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পশ্চিমের চোখে তারা বৈধ আয়োজক। আর কাতারের বিশ্বকাপ আয়োজনে সুযোগ পাওয়াকে পশ্চিমীরা বহিরাগত অভিজাতদের অবৈধ অনুপ্রবেশ হিসেবে দেখেছে।
কাতার বিশ্বকাপের আগে ব্রিটিশ মিডিয়ায় যত আলোচনা হয়েছে, তার দুই-তৃতীয়াংশ আলোচনাই ছিল নেতিবাচক। পশ্চিমের দুনিয়ায় গৎবাঁধা ধারণা হিসেবে কাতারিদের ‘ধর্মান্ধ মুসলিম’ মনে করা হয়। তার জের ধরেই সম্প্রতি কাতারের জাতীয় ফুটবল দলকে ব্যঙ্গ করে প্যারিসে ইসলামবিদ্বেষী কার্টুন আঁকা হয়েছে। তাদের সেই ধারণা মিথ্যে প্রমাণ করার এবং বহু সংস্কৃতির সঙ্গে সখ্য প্রদর্শনের আরেকটি সুযোগ কাতারের সামনে এনেছে এই বিশ্বকাপ। ইউরোপীয় মিডিয়া হেজেমনির মাথাব্যথা আসলে, একটি অ-ইউরোপীয় দেশের পরিকাঠামোর চোখধাঁধানো উন্নয়ন ঘটে যাওয়া। বিশাল বড় গ্লোবাল শো-র যোগ্যতা পশ্চিমের বাইরে চলে যাওয়া। সমস্যা ব্র্যান্ডিংয়ের। উন্নয়ন ও নির্মাণের নতুন সংজ্ঞাটিকে পশ্চিমের বাইরে নিয়ে আসাটাই আসলে প্রধান সমস্যা। ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজনে, পরিকাঠামো ডিজাইনে এবং এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কাতার সযত্নে নিজেদের আরব ও ইসলামি সংস্কৃতি তুলে ধরেছে। বিশ্বখ্যাত স্থপতি জাহা হাদিদের অসম্ভব নকশার বাস্তবায়নের কৃতিত্ব দেখিয়েছে কাতার। পশ্চিমী মিডিয়া তাতে খুশি হবে কেন?
ইউরোপের সাবেক কলোনির একটা মুসলিম দেশ কাতার। ১৯১৬ থেকে ১৯৭১ সালে পর্যন্ত ছিল ব্রিটিশ শাসনাধীন। ব্রিটিশ পেট্রলিয়াম (বিপি) যে আদি কোম্পানি থেকে উদ্ভূত, সেই অ্যাংলো-পার্সিয়ান অয়েল কোম্পানি (এপিওসি) ১৯৩০–এর দশকের শেষের দিকে কাতারে তেল উৎপাদন শুরু করে। ১৯৪০–এর দশকে কাতারে শুরু হয় ফুটবল খেলা। উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রথম ঘাসের ফুটবল মাঠ ছিল দোহা স্টেডিয়াম। দেশটি স্বাধীন হওয়ার কয়েক বছর আগে সেখানে ১৯৬০ সালে লিগ প্রতিযোগিতা শুরু হয়। মজার বিষয়, উত্তর-ঔপনিবেশিকতার গবেষণায় ফুটবল সম্পর্কে তেমন কিছুই বলা হয়নি। কাতার দ্রুত নিজের প্রাকৃতিক সম্পদের সদ্ব্যবহারটা শিখে গিয়েছে। এই শিখে নেওয়াটা যদি এশিয়া ও আফ্রিকায় ব্যাপক গতিতে ছড়িয়ে পড়ে, তাতে সবচেয়ে বড় ক্ষতি ইউরোপীয় অর্থনীতির। ইউরোপীয় পেশাদার লিগে খেলা সালাহ মানেদের মতো আরব দুনিয়ার ফুটবলারদের সাফল্যকে ইউরোপ তার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ রাখতে চায়। নয়তো আঘাত নামবে বাজার অর্থনীতিতে। এটাই ইউরোপের সবচেয়ে ভয়ের কারণ।
প্রাচ্যতত্ত্ব বা ওরিয়েন্টালিজমের ভূত কিছুতেই ইউরোপের ঘাড় থেকে নামছে না!
01st  December, 2022
নারীদিবস, আর সামান্য কয়েকটি প্রশ্ন
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 

শ্রদ্ধেয় মোদিজি, প্রথমেই আপনাকে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের জন্য অনেক শুভেচ্ছা। নারী দিবস বললেই চলত, তাও আন্তর্জাতিক শব্দটা ব্যবহার করাটা আমাদের মতো আম আদমির বাধ্যবাধকতা।
বিশদ

দেশে কোনও গরিব মানুষ নেই, পরবর্তী চমক?
পি চিদম্বরম

‘আর গরিব নয়, ভারত দারিদ্র্য দূর করে ফেলেছে’—অবাক হবেন না, যদি একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে খবরের কাগজে এমন একটা ফাটাফাটি শিরোনামের উপর নজর পড়ে আপনার। আপনাকে এটাই বিশ্বাস করাতে চায় নীতি আয়োগ।
বিশদ

04th  March, 2024
মোদিজির রাজধর্ম শুধু বাংলার জন্য!
হিমাংশু সিংহ

মণিপুর জ্বলছে মাসের পর মাস। কয়েক দফায় ভারত ভ্রমণে বেরলেও প্রধানমন্ত্রী যাওয়ার সময় পাননি। বিশেষ বাক্যও খরচ করেননি উত্তর-পূর্বের এই অগ্নিগর্ভ রাজ্যের জন্য। সেখাকার নারীর সম্ভ্রম লুট নিয়ে, প্রকাশ্যে খুনখারাপি নিয়ে একটা বাক্য খরচ করার সময় হয়নি। বিশদ

03rd  March, 2024
সঙ্কটকালে তিনিই ‘ত্রাতা’
তন্ময় মল্লিক

কৃষকবন্ধুর টাকা দ্বিগুণ করা হবে, চালু হবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড। রেশন পৌঁছে যাবে মানুষের দুয়ারে। একুশের ভোটে এমনই ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিশ্রুতি। বিরোধীরা বলেছিল, সব ধাপ্পা। এত টাকা আসবে কোথা থেকে? মানুষের মধ্যেও ছিল সংশয়। বিশদ

02nd  March, 2024
অমৃতকালে আত্মহত্যা বাড়ছে কেন?
সমৃদ্ধ দত্ত

রাজস্থানের বারমেড় অঞ্চলের গ্রামীণ এলাকার হতাশ, জীবনের প্রতি বিমুখ, পারিবারিক অত্যাচারে বিপর্যস্ত, সন্তানহীনতার কারণে নিরন্তর দোষারোপ শুনে আত্মগ্লানিতে নিমজ্জিত মহিলারা আজকাল কুয়ো খুঁজছেন। কিন্তু পাচ্ছেন না। এতদিন ধরে তারা যে সহজ পদ্ধতিতে এইসব সমস্যা থেকে মুক্তি পেতেন, সেই ব্যবস্থা কমে যাচ্ছে। বিশদ

01st  March, 2024
৩৭০ আসনের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ!
মৃণালকান্তি দাস

লোকসভা ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের আগেই এনডিএ জোট কত আসন পাবে, কত আসনে বিজেপি জয়ী হবে, তা সংসদে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করে দিয়েছেন প্রধামন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী, ‘আমি দেশের মেজাজ দেখে বলছি, এনডিএ ৪০০ পার করবে। আর ভারতীয় জনতা পার্টিকে ৩৭০ সিট অবশ্যই দেবে জনগণ।’
বিশদ

29th  February, 2024
বিজেপি আর দুর্গ নয়, নিছকই কাচের ঘর
হারাধন চৌধুরী

বিখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, হিউম্যারিস্ট স্টিফেন লিকক বলেছিলেন, প্রবাদগুলো নতুন করে লেখা উচিত। কারণ এগুলো প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছে। এমনকী, কিছু প্রবাদ সাম্প্রতিক বাস্তবের বিপরীত ব্যাখ্যাই বহন করছে। প্রবাদ: কাচের ঘরের বাসিন্দাদের কখনওই অন্যের দিকে ঢিল ছোড়া উচিত নয়। বিশদ

28th  February, 2024
বাংলা চুলোয় যাক, কাঁকড়ানীতি জিন্দাবাদ
শান্তনু দত্তগুপ্ত

বাংলায় বসে যাঁরা রাজ্য সরকারের বিরোধিতা করেন, তাঁদের অবস্থা মনিবের প্যান্টে মুখ ঘষা মার্জারের মতো। যদি মনিব মাথাটা একটু থাবড়ে দেন, তাতেই স্বর্গপ্রাপ্তি। চুলোয় যাক বাংলা। উচ্ছন্নে যাক বাঙালি। তাতে তাদের কিছুই আসে যায় না। তাঁরা বিশ্বের দরবারে বাংলাকে জুতো মারতে বেশি আগ্রহী। কেন? কারণ একটাই—তাঁদের 
পার্টি এই রাজ্যে সরকার চালায় না। সন্দেশখালি নামে একটি দ্বীপে তিনটি ব্যক্তিকে ঘিরে বিক্ষোভের আঁচে তাঁরা গোটা বাংলাকে সেদ্ধ করতে মরিয়া। একটি দ্বীপ, দু’টি ব্লক, ১৬টা গ্রাম পঞ্চায়েত, মেরেকেটে সাড়ে চার লক্ষ মানুষ। সমগ্র বাংলার বিচার এর নিরিখে হতে পারে? নাকি হওয়া উচিত?
বিশদ

27th  February, 2024
নির্বাচনী বন্ড নিয়ে ভীত দাতা, গ্রহীতা দু’পক্ষই
হুমায়ুন কবীর

‘না খাউঙ্গা না খানে দুঙ্গা’—বহুল চর্চিত জুমলাটি রাজনীতির অঙ্গন ছাড়িয়ে সমস্ত নাগরিকের মস্তিষ্কে বাসা বেঁধেছে। আমেদাবাদ থেকে আদানির চার্টার্ড ফ্লাইটে তাঁর দিল্লি উড়ে আসা আমরা ভুলিনি। ভুলিনি দূষিত দিল্লির আকাশ-বাতাসে প্রচারের ঢক্কানিনাদ, সঙ্গে প্রতিশ্রুতির বন্যা।
বিশদ

26th  February, 2024
প্রধানমন্ত্রীর নীরবতা কৌশলী, ভাঙা জরুরি
পি চিদম্বরম

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেকে বোঝাতে ‘আমি’ বা ‘আমার’ শব্দ দুটি এড়িয়ে চলেন এবং সেই জায়গায় বরাবর ব্যবহার করেন উত্তম পুরুষ।
বিশদ

26th  February, 2024
সন্দেশখালি দিয়ে গোটা বাংলার বিচার!
হিমাংশু সিংহ

গেল গেল রব উঠেছে চারদিকে। একজনেরও প্রাণ যায়নি। এক রাউন্ডও গুলি চলেনি। আদালত কোনও রায় দেয়নি। ঠিক একুশ সালের বিধানসভা ভোটের আগের রিপ্লে যেন।
বিশদ

25th  February, 2024
আধার বন্ধ কি ঝড়ের পূর্বাভাস?
তন্ময় মল্লিক

বিপুল সরকার থাকেন পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুরের জুহিহাটি গ্রামে। নিজের কোনও ঘরবাড়ি নেই। থাকেন আত্মীয়ের ঘরে। সংসারে অভাব লেপ্টে থাকে ছায়ার মতো। সর্বক্ষণ। ভরসা বলতে খেতমজুরি আর বিনাপয়সার রেশন। অভাব থাকলেও স্বপ্নটাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। বিশদ

24th  February, 2024
একনজরে
কেটে গিয়েছে আটদিন। সেনা জাহাজ থেকে নিখোঁজ ভারতীয় নৌসেনার নাবিক সাহিল ভার্মা। এখনও কোনও খোঁজ মেলেনি তাঁর। সন্তানকে অক্ষত অবস্থায় ফিরে পেতে মরিয়া বাবা-মা। এই অবস্থায় কেন্দ্রের কাছে তাঁদের কাতর আর্জি, ‘আমার ছেলে কোথায়?’  ...

এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা হয়নি। কিন্তু দক্ষিণ মালদহ লোকসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস কর্মীদের একাংশের দাবি, এবার ওই আসনে তাদের প্রার্থী হতে চলেছেন কোতোয়ালি পরিবারের ...

সোমবার দুপুরেই দিল্লিতে বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক করলেন বিতর্কিত ভোজপুরী গায়ক পবন সিং। ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত দলের কেন্দ্রীয় নেতা মঙ্গল পান্ডেও। ...

ওয়াশিংটন ডিসির ফল খানিকটা স্বস্তি দিল ভারতীয় বংশোদ্ভূত নিকি হ্যালিকে। রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হওয়ার দৌড়ে এই প্রথম প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে জিতলেন তিনি। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কাজকর্মে ক্রমোন্নতির যোগ। আইনজীবীদের সুনাম ও সাফল্য। আঘাত যোগ থাকায় সতর্ক হোন। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৩৯৭ - অক্সফোর্ডের নতুন কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়।
১৫৫৮ - ইউরোপে প্রথম ধূমপানে তামাক ব্যবহার শুরু হয়
১৮১৫ - ‘প্রাণী চুম্বকত্বের’ (ম্যাসমেরিজম) প্রবক্তা ফ্রানৎস ম্যাসমের মৃত্যু
১৮২২ - ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত ‘সমাচার চন্দ্রিকা’ প্রকাশিত হয়
১৮৩৩ - অবিভক্ত ভারতের প্রথম দুই মহিলা কাদিম্বিনী ও চন্দ্রমুখী বসু স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন
১৯৯০- অভিনেতা অর্জুন চক্রবর্তীর জন্ম
১৯৩৯ - সাহিত্যিক দিব্যেন্দু পালিতের জন্ম



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৮২.৩৯ টাকা ৮৩.৪৮ টাকা
পাউন্ড ১০৩.৭১ টাকা ১০৬.৩৫ টাকা
ইউরো ৮৮.৭১ টাকা ৯১.১৬ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৬৪,০৫০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৬৪,৩৫০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৬১,২০০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৭১,২৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৭১,৩৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২১ ফাল্গুন, ১৪৩০, মঙ্গলবার, ৫ মার্চ, ২০২৪। নবমী ৫/১৫ দিবা ৮/৪। মূলা নক্ষত্র ২৫/৩ অপরাহ্ন ৪/০। সূর্যোদয় ৫/৫৮/২০, সূর্যাস্ত ৫/৩৮/১০। অমৃতযোগ দিবা ৮/১৯ গতে ১০/৩৯ মধ্যে পুনঃ ১২/৫৮ গতে ২/৩১ মধ্যে পুনঃ ৩/১৭ গতে ৪/৫০ মধ্যে। রাত্রি ৬/২৭ মধ্যে পুনঃ ৮/৫৫ গতে ১১/২৩ মধ্যে পুনঃ ১/৫১ গতে ৩/৩১ মধ্যে। বারবেলা ৭/২৬ গতে ৮/৫৩ মধ্যে পুনঃ ১/১৫ গতে ২/৪৩ মধ্যে। কালরাত্রি ৭/১০ গতে ৮/৪৩ মধ্যে। 
২১ ফাল্গুন, ১৪৩০, মঙ্গলবার, ৫ মার্চ, ২০২৪। দশমী রাত্রি ১/৩৩। মূলা নক্ষত্র দিবা ১১/২২। সূর্যোদয় ৬/১, সূর্যাস্ত ৫/৩৭। অমৃতযোগ দিবা ৮/৩ গতে ১০/২৮ মধ্যে ও ১২/৫৪ গতে ২/৩১ মধ্যে ও ৩/১৯ গতে ৪/৫৬ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/৩২ মধ্যে ও ৮/৫৫ গতে ১১/১৭ মধ্যে ও ১/৪০ গতে ৩/১৫ মধ্যে। বারবেলা ৭/২৮ গতে ৮/৫৫ মধ্যে ও ১/১৬ গতে ২/৪৩ মধ্যে। কালরাত্রি ৭/১০ গতে ৮/৪৩ মধ্যে।  
২৩ শাবান।

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
ভবানী ভবনে ২ ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর শেখ শাহজাহানকে ছাড়াই ফিরে গেল সিবিআই আধিকারিকরা

07:35:02 PM

রেশন দুর্নীতি মামলায় শেখ শাহজাহানের ১২ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করল ইডি

07:28:43 PM

আগামী রবিবার রাত ৮টা ১৫ মিনিটে ডার্বি শুরু

07:23:53 PM

সন্দেশখালি কাণ্ডের প্রতিবাদে এবিভিপির মিছিল

06:37:00 PM

যোগীর মন্ত্রিসভায় নতুন চার মন্ত্রী
উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ। নতুন মন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন চারজন। যার ...বিশদ

05:43:52 PM

প্রাক্তন বিচারপতি আমার নাম না নিয়ে ভাববাচ্যে কথা বলছেন: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

05:43:17 PM