Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

বাঙালির দ্বিচারিতা
সমৃদ্ধ দত্ত

মহাত্মা গান্ধীর সবথেকে বড় শক্তি হল, যারা তাঁকে মন থেকে অপছন্দ করে কিংবা তাঁর সামাজিক, রাজনৈতিক অবস্থানকে আদর্শগতভাবে গ্রহণযোগ্য মনে করে না, তারা নিজেরা কিন্তু আন্দোলনে নেমে অজান্তে সেই গান্ধীকেই অনুসরণ করে। লক্ষ্য করে দেখা যায়, যে বামপন্থী ছাত্রনেতা একেবারেই গান্ধীপন্থী নয়, সে যখন প্রশাসন কিংবা সরকারের বিরুদ্ধে দলগতভাবে বিক্ষোভ আন্দোলনে নামে, তখন সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির পন্থাটি হল অনশন। বাঙালির একটি বড় অংশই ঘোষণা করে যে, তারা গান্ধীজিকে পছন্দ করে না। কিন্তু শিক্ষক থেকে ডাক্তার, বামপন্থী থেকে অতি দক্ষিণপন্থী, সকলেই নিজেদের দাবি আদায়ে গান্ধীর প্রদর্শিত পথ অনশনকেই হাতিয়ার করে। ১৯১৮ সালে রাউলাট আইন চালু করেছিল ব্রিটিশ পুলিস। সেই আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে চেন্নাইয়ে একটি সভা থেকে মহাত্মা গান্ধী যে আন্দোলনটির ডাক দিয়েছিলেন তা ভারতে তার আগে সেভাবে দেখা যায়নি। দক্ষিণ আফ্রিকায় অবশ্য ওই আন্দোলন করে সাফল্য পেয়েছেন গান্ধী। সেই আন্দোলনের নাম সত্যাগ্রহ। এরপর ক্রমেই ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন দুটি পথে এগিয়েছিল। একটি হল চরমপন্থী আন্দোলন। আর অন্যটি গান্ধীজির অহিংসার পথ। গান্ধীজি নিজে বারংবার অনশন অস্ত্রটি প্রয়োগ করেছেন। দেখা যায় গান্ধীজির সেই অস্ত্রটি মোক্ষম ধরে নিয়ে আজকাল প্রায় প্রতিটি আন্দোলনের শেষ ও শক্তিশালী অস্ত্র ওটাই হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ গান্ধীজিকেই কিন্তু অনুসরণ করতে হচ্ছে।
গান্ধীজিকে বাঙালির একটি বৃহৎ অংশ অপছন্দ করে কেন? আলোচনা এবং চর্চা থেকে যা বোঝা যায়, সেটি হল, গান্ধীজি সুভাষচন্দ্র বসুর তুলনায় জওহরলাল নেহরুকে বেশি প্রমোট করতেন। সুভাষচন্দ্র বসুকে গান্ধীজি নিজেই একসময় সভাপতি পদে নিয়ে এসেছিলেন। আবার সেই তিনিই দ্বিতীয়বারের জন্য সুভাষচন্দ্র বসুর সভাপতিত্ব মেনে নিতে পারেননি। সুভাষচন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রার্থী হতে নেহরুকে বলেছিলেন। নেহরু রাজি হননি। শেষ পর্যন্ত পট্টভি সীতারামাইয়াকে প্রার্থী করেন। এবং সীতারামাইয়কে বিপুল ভোটে পরাজিত করে সুভাষচন্দ্র বসু জয়ী হন। এসব তথ্য সকলের জানা। সীতারামাইয়ার পরাজয়ে গান্ধীজি এতই বিষণ্ণ হয়েছিলেন যে, ওই পরাজয়কে নিজের পরাজয় হিসাবেই বিবেচনা করেন। সুতরাং এহেন গান্ধীজিকে অপছন্দ করার কারণ বাঙালির আছে। কিন্তু সমস্যা হল ঠিক এই একই কারণ থাকলেও, সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলকে বাঙালি অপছন্দ করে না। অথচ গান্ধীজির তুলনায় বল্লভভাই প্যটেলের সুভাষবিরোধিতা ছিল অনেক তীব্র। ১৯৩৩ সালে কারাগারে অসুস্থ হওয়ার পর সুভাষচন্দ্রকে ইওরোপে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তিনি সেই সময় বিভিন্ন দেশে ঘোরার সময় ভিয়েনায় সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের দাদা বিঠঠলভাই প্যাটেলের সেবা শুশ্রুষা করেন। কারণ প্রবাসে বিঠঠলভাই প্যাটেল অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। দীর্ঘ অসুস্থতার পরও তাঁকে বাঁচানো যায়নি। প্রবাসেই মৃত্যু হয়। সুভাষচন্দ্রকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন তিনি। মৃত্যুর আগে তিনি উকিল ডেকে, উইল করে, নিজের সম্পত্তির বড় অংশই লিখে দিয়ে গিয়েছিলেন সুভাষচন্দ্রের নামে। বলে গিয়েছিলেন, দেশের বাইরে, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য যে ব্যয় হবে, সেটি সুভাষচন্দ্র ওই তহবিল থেকে ব্যবহার করবেন। কিন্তু দেশে থাকা বল্লভভা‌ই প্যাটেল ওই উইল বিশ্বাস করেননি। তিনি এমনকী ওই স্বাক্ষর সত্যিই দাদার কি না, সেটা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং মামলা করেন সুভাষচন্দ্রের বিরুদ্ধে। প্রায় পাঁচ বছর ধরে ওই মামলা চলেছিল। এখানেই শেষ নয়। সুভাষচন্দ্রকে কংগ্রেসের সভাপতি পদ থেকে সরানোর জন্য সবথেকে বেশি উদ্যোগী হয়েছিলেন কে? প্যাটেল। কিন্তু বাঙালি যতটা গান্ধীজিকে সুভাষচন্দ্র বিরোধী হিসাবে অপছন্দ করে, ততটা বীতরাগ প্যাটেল সম্পর্কে নেই।
বাঙালি গান্ধীজির অনুগামী হতে পারেনি এটা যেমন সত্যি, আবার সবথেকে দুর্ভাগ্যজনক হল, সুভাষচন্দ্রের অনুগামীও হতে পারেনি। গান্ধীজির অহিংসা, আলোচনা, আবেদন নিবেদন, সত্যাগ্রহ ইত্যাদি পথকে বিশ্বাস না করে সুভাষচন্দ্র বসু একক শক্তিতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন অজানা এক লড়াইয়ে। তিনি যুদ্ধ করে ব্রিটিশকে পরাজিত করার স্বপ্নে এক সেনাবাহিনী পর্যন্ত গড়ে ফেলেছিলেন। এবং সত্যিই ব্রিটিশ শাসনে আতঙ্ক তৈরি করেছিলেন। বাঙালি গান্ধীজিকে যেমন অনুসরণ করেনি, আবার সুভাষচন্দ্রকেও অনুসরণ করতে পারেনি। বাঙালি গান্ধীজি প্রদর্শিত ধৈর্য, স্থৈর্য, অহিংসার পথে নেই। আবার স্বাজাত্যবোধ কিংবা জাতিগত সম্মানরক্ষায় অথবা মৌলিক অধিকারে হস্তক্ষেপের দাবিতে দলাদলি ভুলে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার মনের জোরও আজ নেই। যা সুভাষচন্দ্রের ছিল। বড়সড় ইস্যুতে প্রতিবাদ করা ছেড়েই দিলাম, সামান্য নিত্যদিনের সমস্যা নিয়েই বাঙালির মাথাব্যথা নেই। একটি উদাহরণ, বাঙালি ৩৭০ ধারা নিয়ে অত্যন্ত ভাবিত, কিন্তু আজও গোটা দেশের সব শহরে যেখানে ঝকঝকে অত্যাধুনিক মেট্রো চলছে, সেখানে একমাত্র কলকাতায় ভাঙাচোরা, মান্ধাতা আমলের নন-এসি মেট্রো রেক কেন চালিয়ে যাওয়া হবে? এই প্রশ্ন কেউ তোলে না! এটা যে বাংলাকে তাচ্ছিল্য করা সেটা কারও মনেই হয় না। অথচ রোজ ওই মেট্রোতেই যাতায়াত করছে সকলে। জেলা, মফস্‌সলের বাঙালিকে সৌন্দর্যায়ন দেখতে কেন নিউ টাউন যেতে হবে? কেন নিজের বাস করা শহরে পাবে না, এই প্রশ্ন বাঙালি তোলে না।
সমালোচক যদি ভক্তে পর্যবসিত হয়ে যায়, তার থেকে বড় জয় আর হয় না। মহাত্মা গান্ধী ধীরে ধীরে একটির পর একটি যুদ্ধজয় আজও করে চলেছেন। এটাই তাঁর বৃহত্তম মাহাত্ম্য। ১৯৪৭ সালে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ প্রকাশ্যেই মহাত্মা গান্ধীর অবস্থানের সমালোচনা করেছে। এমনকী ‘অর্গানাইজার’ পত্রিকায় গান্ধীজিকে কটাক্ষ করেই লেখা হয়েছিল রোম যখন পুড়ছিল নিরো তখন বেহালা বাজিয়েছিলেন। কলকাতা এবং পাঞ্জাব নিয়ে গান্ধীজির অবস্থান যে সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী ছিল, এই সমালোচনা করা হয়। স্বাধীনতা, দেশভাগ, দাঙ্গা নিয়ে গান্ধীজির মনোভাবের তীব্র বিরোধী ছিল আরএসএস। কিন্তু ৭২ বছর পর সেই মনোভাব আর নেই। পাল্টে দিয়েছেন গান্ধীজি। আজ ২০১৯ সালে মহাত্মা গান্ধীর জন্মের দেড়শ বছর পালনের দিন ২ জানুয়ারি বুধবার সেই আরএসএসেরই সরসংঘচালক মোহন ভাগবত বললেন, গান্ধীজিকে আমাদের প্রত্যেককে অনুসরণ করতে হবে। গান্ধীজি তাঁর আদর্শের মাধ্যমে সামাজিক সাম্য, শান্তির বার্তা দিয়েছেন। আমাদের সেই আদর্শকে সামনে রেখে ভারতকে বিশ্বগুরু হিসাবে পর্যবসিত করার পথে অগ্রসর হতে হবে। বস্তুত মহাত্মা গান্ধীকে নিয়ে ২ জানুয়ারি দেখা গিয়েছে, কংগ্রেস এবং সংঘ পরিবারের মধ্যে প্রবল টানাপোড়েন যে, কারা আসল গান্ধীপন্থী! ভারতবাসী কি আদৌ গান্ধীবাদী এখনও? যদি উত্তর না হয়, তাহলে তাবৎ রাজনৈতিক দল গান্ধীজিকে নিজেদের রোলমডেল হিসাবে প্রদর্শন করতে কেন এত আগ্রহী? নাকি সবটাই কি প্রতীকী? এই প্রশ্ন নিজেদেরই করতে হবে। বরং আরও বৃহত্তর প্রেক্ষিতে। সেটি হল ভারতের তাবৎ মনীষীদের নিয়ে মাতামাতি করার সবটাই কি নেহাত লোকদেখানো? কারণ তাঁদের অনুসরণ করা, তাঁদের বাণীকে নিজের জীবনযাপনে সম্পৃক্ত করার কোনও লক্ষণ দেখা যায় না। শুধুই চলে জয়ন্তী পালন আর উজ্জ্বল অনুষ্ঠানের পরম্পরা।
বাঙালি গান্ধীবাদী নয়, বাঙালি সুভাষচন্দ্রকে অনুসরণ করতে পারে না, শুধুই তাঁর অন্তর্ধান রহস্যে থ্রিলারের শিহরন খোঁজে। বাঙালি কি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ভক্ত? সিজনাল। অর্থাৎ যদি কেউ তাঁর মুর্তি ভাঙে, তখন বাঙালি অতি বড় বিদ্যাসাগরভক্ত হয়ে যায়। কিন্তু ব্যক্তিগত কিংবা সামাজিক জীবনে বিদ্যাসাগরের সাহস, আত্মশক্তি অথবা ভিড়ের থেকে সরে গিয়ে নিজের বিশ্বাসে অটল থাকার কোনও মিশন নিয়ে লড়াই করে যাওয়া বাঙালির সাধ্য নেই। বাঙালির বর্তমান শক্তি ভিড়ের শক্তি। বাঙালি কি রবীন্দ্রনাথের ভক্ত? হ্যাঁ এবং না। তিনি বাঙালিকে সংস্কৃতিমান হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন সহজে। তাই সারা বছরই গান গেয়ে স্মরণ করা যায়। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের প্রদর্শিত পথকে অবলম্বন করা সম্ভব নয়। রবীন্দ্রনাথের ভক্ত বাঙালি অত্যন্ত নিষ্ঠা ও যত্নের সঙ্গে শান্তিনিকেতনকে ধ্বংস করেছে। ১৯৪০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মহাত্মা গান্ধী শেষবার এসেছিলেন শান্তিনিকেতনে। বিদায় নেওয়ার আগে তাঁর হাতে একটি চিঠি দিয়ে রবীন্দ্রনাথ শেষ চেষ্টা করেছিলেন শান্তিনিকেতনকে বাঁচানোর। লিখেছিলেন, ‘প্রিয় মহাত্মাজি,..শান্তিনিকেতন থেকে আপনি বিদায় নেওয়ার আগে আপনার কাছে আমার ঐকান্তিক আবেদন জানাই। এই প্রতিষ্ঠানকে যদি আপনি জাতীয় সম্পত্তি বলে গণ্য করেন, তাহলে এর রক্ষার ভার গ্রহণ করে এর চিরস্থায়িত্বের আশ্বাস দিয়ে যান। বিশ্বভারতী একটি তরীর মতো আমার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ বহন করে চলেছে। আশা করি আমার দেশবাসীদের কাছে সে সযত্নে রক্ষার দাবি করতে পারে। প্রীতিসহ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪০।’
মহাত্মা গান্ধী সেদিনই পাল্টা চিঠিতে উত্তর দিয়ে রবীন্দ্রনাথকে আশ্বস্ত করেছিলেন। এবং তাঁর নিরলস প্রয়াসের ফলেই জওহরলাল নেহরু সরকার ১৯৫১ সালে বিশ্বভারতীকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করে। বিশ্বভারতী বিল নিয়ে আলোচনার সময় সব বিষয়েই চরম প্রতিপক্ষ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং জওহরলাল নেহরু একটি বিষয়ে একমত পোষণ করে সংসদে ভাষণ দিয়েছিলেন। সংসদে নেহরু বলেছিলেন, ‘আমি শ্যামাপ্রাসাদবাবুর সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত যে, শান্তিনিকেতনে প্রচুর ইটের ঘরবাড়ি তৈরির জন্য আমাদের অর্থব্যয় ঠিক হবে না।’ সত্তর দশক পর্যন্ত আশ্রমের রূপ ও পরিবেশ ঠিক ছিল। কিন্তু তারপর যেদিন আশির দশকের শেষভাগ থেকে শ্রীনিকেতন শান্তিনিকেতন উন্নয়নের নামে জোরদার রিয়াল এস্টেট, হোটেল আর আমোদ প্রমোদের অবাধ বিচরণক্ষেত্র হয়ে উঠল এই ব্রহ্মচর্যাশ্রম। তার পর থেকে আর রবীন্দ্র আদর্শ অনুসরণ নয়, বোলপুর শান্তিনিকেতন হয়ে উঠেছে তারাপীঠ-বক্রেশ্বর-শান্তিনিকেতন প্যাকেজ ট্যুরের একটি স্পট। এই উদ্যোগ তো আমাদের চোখের সামনে হয়েছে। কখনও কি দেখা গিয়েছে দলগত বিভেদ ভুলে বাঙালি রাস্তায় নেমেছে এ সবের বিরুদ্ধে? ভাষা নিয়ে, সংস্কৃতি নিয়ে, ধর্মপালন নিয়ে বিভেদ সৃষ্টির বিরুদ্ধে শেষ কবে বাঙালি গণআন্দোলনে নেমেছে? নামে নি। কেন নামেনি? কারণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্বামী বিবেকানন্দ, মহাত্মা গান্ধী, সুভাষচন্দ্র বসু, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর.. যাঁদেরই অনুগামী হিসাবে নিজেদের বাঙালি দাবি করে, তাঁদের একক মনের জোর আর উচ্চ আদর্শ ছিল। বাঙালির কোনওটাই অবশিষ্ট নেই। শুধুই ওই মনীষীদের প্রতি মিথ্যা ভক্তির আতিশয্য আছে। আর আছে ফেসবুক-বিপ্লব ও রাজনীতি।  
04th  October, 2019
বাংলার তিন মনীষী
আত্মমর্যাদা শিখিয়েছেন
সমৃদ্ধ দত্ত

এখানে বিজেপির কে প্রার্থী হবেন এবং কে হবেন না সেই চূড়ান্ত সিলমোহর কোনও বাঙালি নেতা দেবেন? নাকি বাংলা বিজেপি স্রেফ লিস্ট তৈরি করে জমা দেবে দিল্লির নেতাদের কাছে? কাদের ক্ষমতা বেশি? এসব কি আত্মশক্তির লক্ষণ? বিশদ

দলভাঙানো রাজনীতি:
এ রাজ্যে নবতর সংযোজন

এই রাজ্যে দল ভাঙানোর অনৈতিক রাজনীতির যাঁরা প্রবর্তক, তাঁরা এখন হঠাৎ চিৎকার শুরু করলেন কেন? পাঁচিল ভেঙে পথ করেছে তৃণমূল। সেই পথ ধরেই বিজেপি আজ তৃণমূলের ঘর ভাঙছে।
বিশদ

21st  January, 2021
নবান্ন দখলের ভোট
ও প্রেশার পলিটিক্স
হারাধন চৌধুরী

বিজেপি নেতৃত্ব ভাবছে, নাটক আর প্রেশার পলিটিক্স দিয়েই হাঁড়ির হাল মেরামত করে ফেলবে। কিন্তু মাস্টার স্ট্রোকের পলিটিক্সে আজও যিনি অদ্বিতীয় সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বুঝিয়ে দিয়েছেন, নন্দীগ্রাম ভাঙিয়ে একটি পরিবারের রাজনীতিকে আর একপাও এগতে দেবেন না তিনি। বিশদ

20th  January, 2021
তৃণমূল বনাম তৃণমূল (বি)
শান্তনু দত্তগুপ্ত

হতে পারে বাংলার ভোট প্রধানমন্ত্রীর কর্তৃত্ব কায়েমের অ্যাসিড টেস্ট। কিন্তু একুশ যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও প্রেস্টিজ ফাইট! দাঁড়িপাল্লার একদিকে কেন্দ্র, আর অন্যদিকে মমতার সরকারকে রাখলে উন্নয়ন এবং বেনিফিশিয়ারির নিরিখেই বিজেপি অনেক নীচে নেমে যাবে। বিশদ

19th  January, 2021
বাজেটের আগে অর্থমন্ত্রী
আরও বিভ্রান্ত করলেন
পি চিদম্বরম

যে-দেশে আমরা আজ বাস করছি সেটা দিনে দিনে অচেনা এবং বিস্ময়কর হয়ে যাচ্ছে। এটা খুব অবাক ব্যাপার নয় কি গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত একটা সরকার তার পুরনো গোঁ ধরেই বসে থাকবে, বিশেষ করে দিল্লির ভয়ানক শীতের মধ্যেও কৃষকদের প্রতিবাদ আন্দোলন যখন ৫৬ দিনে পা দিয়েছে? বিশদ

18th  January, 2021
ভোটকে কলুষিত করলে
উচিত শিক্ষা দিতে হবে
হিমাংশু সিংহ

তৃণমূল ভাঙতে দশ মণ তেল পুড়িয়ে বিজেপি এখন বুঝতে পারছে শুধু অবিশ্বাসের উপর দাঁড়িয়ে বাংলা দখল প্রায় অসম্ভব! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দুর্বল করা যাচ্ছে না। বিশদ

17th  January, 2021
ভোটের আগে ‘গাজর’ ঝোলানো
বিজেপির ট্র্যাডিশন
তন্ময় মল্লিক

ভোটের মুখে ‘গাজর’ ঝোলানোটা বিজেপির ট্র্যাডিশন। ২০১৪ সালে লোকসভা ভোটের আগে সুইস ব্যাঙ্কে ভারতীয়দের জমা ‘বেআইনি অর্থ’ ফিরিয়ে এনে প্রত্যেককে ১৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা বলেছিল বিজেপি। ‘গাজর’ ঝোলানোর সেই শুরু। এবার সোনার বাংলা ও কৃষি সম্মান নিধির ‘গাজর’। বিশদ

16th  January, 2021
ক’দিনের জন্য বাঙালি হওয়া যায় না
মৃণালকান্তি দাস

মাস কয়েকের জন্য রবীন্দ্রনাথ, রামমোহন, শ্রীচৈতন্য... বাংলার মনীষীরাই হয়ে উঠছেন গেরুয়া বাহিনীর প্রচারের অনুঘটক। এটা স্পষ্ট, ‘বহিরাগত’ তকমা ঘোচাতে বিজেপিকে নিরুপায় হয়েই বাংলার মনীষীদের আশ্রয় খুঁজতে হচ্ছে। বাংলার মনীষীরা কোন দলে, ভোট-হাওয়ায় সেই ধন্দ উস্কে দিতে চাইছে বিজেপি। বিশদ

15th  January, 2021
বাঙালির অস্তিত্ব রক্ষা দেশের
জন্যও ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ
জিষ্ণু বসু

বাঙালি ভারতের নবজাগরণের কাণ্ডারীর ভূমিকা পালন করেছে। জীবন্ত জাগ্রত ভারতাত্মার পূজাবেদি ছিল বাংলা। ১৮৮২ সালে ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র লিখলেন আনন্দমঠ উপন্যাস। বাঁধা হল ‘বন্দেমাতরম’ গান। দেশমাতৃকাকে দশপ্রহরণধারিণী দেবী দুর্গার সঙ্গে তুলনা করলেন সাহিত্যসম্রাট। বিশদ

14th  January, 2021
এই রাজ্যে মেয়েদের
ভোট ভাগ করা যাবে না
সন্দীপন বিশ্বাস

বিজেপি জানে, পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা দখল করতে না পারলে তাদের সিএএ-এনআরসি সব ব্যর্থ হয়ে যাবে। সারা দেশে একজন ব্যক্তিত্বই তাঁদের সব ভুলভাল কাজকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে লড়াই জারি রাখতে পারেন। তাঁর নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির কাছে মমতা নামটাই জুজুর মতো। বিশদ

13th  January, 2021
বিজেপির প্রচারে স্বামীজি
আছেন, কিন্তু অনুসরণে...?
শান্তনু দত্তগুপ্ত

স্বামীজি বলতেন, ‘এমন ধর্ম চাই, যার মূল মন্ত্র হবে মানবপ্রেম। এমন ধর্ম চাই, যা মানুষকে, বিশেষ করে অবহেলিত, পদদলিত মানুষকে প্রত্যক্ষ মানুষ বলে প্রচার করবে। খালি পেটে ধর্ম হয় না। ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে ধর্ম বা ঈশ্বর অর্থহীন।’ নাঃ... যে পরিব্রাজক এমন কথা বলতে পারেন, তাঁকে বিজেপি অন্তত অনুসরণ করে না। বিশদ

12th  January, 2021
বিবেকানন্দের স্বপ্নের
বাংলা আবার গঠিত হবে
জগৎপ্রকাশ নাড্ডা

এক নতুন ভারতবর্ষের স্বপ্ন দেখেছিলেন স্বামীজি, যেখানে দারিদ্র্যের মোচন এবং চেতনার উন্মেষ ঘটবে। এই কাজে প্রয়োজন বিপুল পরিমাণ যুবশক্তি। বিশদ

12th  January, 2021
একনজরে
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে একাধিকবার বর্ণবৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে তাঁকে। গ্যালারি থেকে কখনও শুনতে হয়েছে ‘ব্রাউন মাঙ্কি’, কখনও বা ‘গ্রাব’ গোছের গালমন্দ। তবু লক্ষ্যভ্রষ্ট হননি মহম্মদ সিরাজ। ...

চলতি আর্থিক বছরের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে ২৬ শতাংশ ব্যবসা বাড়াল বন্ধন ব্যাঙ্ক। গত আর্থিক বছরের ওই সময়ের নিরিখে এই বৃদ্ধি হয়েছে। ডিসেম্বর শেষে ব্যাঙ্কের ঋণ ও জমা মিলিয়ে মোট অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ১.৫১ লক্ষ কোটি টাকা। ...

মদ্যপ অবস্থায় স্ত্রীকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে খুন করল স্বামী। বুধবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটেছে সন্দেশখালির শীতলিয়া গ্রামে। পুলিস জানায়, মৃতের নাম সবিতা সর্দার (৩২)। তাঁর স্বামী তপন সর্দারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ...

ইরাকের রাজধানী বাগদাদে আত্মঘাতী হামলায় প্রাণ হারালেন কমপক্ষে ২৮ জন। জখম ৭৩ জন। বৃহস্পতিবার বাগদাদের ব্যস্ততম তায়ারান স্কোয়ারে পুরনো জামাকাপড়ের বাজারে পরপর এই হামলা চালানো ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাফল্য আসবে। প্রেম-প্রণয়ে আগ্রহ বাড়বে। তবে তা বাস্তবায়িত হওয়াতে সমস্যা আছে। লৌহ ও ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৬৬৬: মুঘল সম্রাট শাহজাহানের মৃত্যু
১৮৯৭ - কবি, লেখক সঙ্গীতশিল্পী তথা সুরকার দিলীপকুমার রায়ের জন্ম
১৯০০ - টেলিপ্রিন্টার ও মাইক্রোফেনের উদ্ভাবক ডেভিট এ্যাডওয়ার্ড হিউজ।
১৯০১: রানি ভিক্টোরিয়ার মৃত্যু
১৯২৭ - প্রথমবারের মতো বেতারে ফুটবল খেলার ধারাবিবরণী প্রচার।
১৯৭২: অভিনেত্রী নম্রতা শিরোদকরের জন্ম



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭২.১২ টাকা ৭৩.৮৩ টাকা
পাউন্ড ৯৮.১২ টাকা ১০১.৫৯ টাকা
ইউরো ৮৬.৯৪ টাকা ৯০.১৫ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৫০,৩০০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৪৭,৭২০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪৮,৪৫০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৬৭,৫০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৬৭,৬০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৮ মাঘ ১৪২৭, শুক্রবার, ২২ জানুয়ারি ২০২১, নবমী ৩০/১৮ রাত্রি ৬/৩০। ভরণী নক্ষত্র ৩০/৪৪ রাত্রি ৬/৪০। সূর্যোদয় ৬/২২/৩৩, সূর্যাস্ত ৫/১৩/৫১।  অমৃতযোগ দিবা ৭/৫৯ মধ্যে পুনঃ ৮/৩২ গতে ১০/৪৩ মধ্যে পুনঃ ১২/৫২ গতে ২/১৯ মধ্যে পুনঃ ৩/৪৫ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ৬/৫৭ গতে ৮/৪৩ মধ্যে পুনঃ ৩/৪৪ গতে ৪/৩৭ মধ্যে। মাহেন্দ্রযোগ রাত্রি ১০/২৯ গতে ১১/২১ মধ্যে পুনঃ ৪/৩৭ গতে উদয়াবধি। বারবেলা ৯/৫ গতে ১১/৪৭ মধ্যে। কালরাত্রি ৮/৩১ গতে ১০/১০ মধ্যে। 
৮ মাঘ ১৪২৭, শুক্রবার, ২২ জানুয়ারি ২০২১, নবমী রাত্রি ৫/৫৪। ভরণী নক্ষত্র রাত্রি ৬/৩৯। সূর্যোদয় ৬/২৬, সূর্যাস্ত ৫/১৩। অমৃতযোগ দিবা ৭/৪৬ মধ্যে ও ৮/৩১ গতে ১০/৪৪ মধ্যে ও ১২/৫৮ গতে ২/১৭ মধ্যে ও ৩/৫৭ গতে ৫/১৩ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৮ গতে ৮/৫১ মধ্যে ও ৩/৪৩ গতে ৪/৩৪ মধ্যে। মাহেন্দ্রযোগ রাত্রি ১০/৩৪ গতে ১১/২৫ মধ্যে ও ৪/৩৪ গতে ৬/২৬ মধ্যে। বারবেলা ৯/৮ গতে ১১/৪৯ মধ্যে। কালরাত্রি ৮/৩১ গতে ১০/১০ মধ্যে। 
৮ জমাদিয়স সানি।

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
তৃণমূলে যোগ বিজেপি নেতা নিউটন মজুমদারের
শুক্রবার তৃণমূলে যোগ দিলেন বিজেপি নেতা নিউটন মজুমদার। তিনি ২০১৬ ...বিশদ

02:33:35 PM

দেশে মোট করোনা টিকাকরণ ১০,৪৩,৫৩৪
আজ সকাল পর্যন্ত দেশে মোট ১০ লক্ষ ৪৩ হাজার ৫৩৪ ...বিশদ

02:14:22 PM

মহারাষ্ট্রে গ্যাস থেকে বিষক্রিয়ায় অসুস্থ ৭
শুক্রবার মহারাষ্ট্রের রায়গড়ে বিষক্রিয়ায় অসুস্থ হলেন ৭ জন। একটি গাছের ...বিশদ

01:46:47 PM

তৃণমূলে যোগ দিলেন অভিনেতা সৌরভ দাস

01:33:47 PM

রাজ্যের ৫ সীমান্তবর্তী জেলায় ভোটার সংখ্যার সর্বোচ্চ বৃদ্ধি
নতুন ভোটারের সংখ্যা সর্বোচ্চ বৃদ্ধি পেল রাজ্যের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে। ...বিশদ

01:11:00 PM

রাজ্যের বনমন্ত্রীর পদ থেকে আজ ইস্তফা দিলেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়

12:51:25 PM