Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

কৃষির সঙ্কট কি নির্বাচনী ইস্যু ছিল না? 
শান্তনু বসু

নরেন্দ্র মোদি দ্বিতীয়বার লোকসভা নির্বাচন মোকাবিলায় নামার কিছু আগে সংবাদ মাধ্যমের একাংশের বক্তব্য ছিল, ‘‘খরকবলিত মারাঠাওয়াড়ার কৃষকরা মোদিকে আর একটি সুযোগ দিতে চান।’’ কিংবা একটি প্রখ্যাত ইংরেজি দৈনিক নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হওয়ার পরও লিখল, ‘‘নির্বাচনোত্তর সমীক্ষা: কৃষকদের সমস্যাগুলি এবার ভোটে প্রধান বিবেচ্য হয়ে ওঠেনি।’’ আবার এই প্রতিবেদনের সঙ্গে যে ছবিটি দেওয়া হয়েছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে সারি সারি মহিলা বিশেষ করে মায়েরা, স্ত্রীয়েরা তাঁদের প্রিয়তমের ছবি বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন অথবা শতমাইলব্যাপী কৃষক লংমার্চে অংশ নিচ্ছেন। অর্থাৎ কৃষকেরা আত্মহত্যা করার পর সেই ফটোগুলি গণমাধ্যমে ভেসে উঠলেও গণমাধ্যমেরই একাংশ দাবি করছে যে কৃষির সংকট নির্বাচনের মূল ইস্যু ছিল না! ভারতের ৬০-৬৫ শতাংশ মানুষ কৃষিকাজের উপর নির্ভরশীল। এখানে জিডিপি বহুলাংশে নির্ধারিত হয় কৃষিউৎপাদনের ভিত্তিতে। আর সেই কৃষিব্যবস্থাই তীব্র সংকটে। এই বিপদের কথা ভারতে তো বটেই গোটা বিশ্বেও আলোচিত হচ্ছে। আর একটি মহল থেকে বলা হচ্ছে যে সেটা নাকি ভারতে নির্বাচনের ইস্যু হয়নি! ব্যাপারটি বড় বিস্ময়কর নয় কি? স্বভাবতই গুরুত্ব হারাচ্ছে কৃষির এই তীব্র সংকটের কারণ নির্ধারণের বিষয়টি। এটাই পরিতাপের।
নামী গবেষণা সংস্থা লোকনীতি বলেছে, ‘‘The majority of farmers didn’t vote or issues that concern them most.’’ যেটা কৃষকের জীবনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেটাই যদি নির্বাচনের ইস্যু না-হয় তাহলে প্রশ্ন থাকে নির্বাচনী ইস্যু কাকে বলে। এবারের লোকসভা নির্বাচনটা কি তাহলে কোনও ইস্যু ছাড়াই হল? মহারাষ্ট্রের মারাঠাওয়াড়ার নান্দেদ, বিদ সহ আটটি জেলার ৭৬টি তালুকের ৫ হাজারের বেশি গ্রামে ভূগর্ভস্থ জলস্তর সাংঘাতিকভাবে নেমে গিয়েছে। বিদের যে কোথায় জল আছে এবং সেখানে কীভাবে ট্যাঙ্কার পাঠানো হবে সেটা নির্ধারণ করাও কঠিন হয়ে যাচ্ছে। গত অক্টোবর থেকেই ১৪ হাজার গ্রামের জলস্তর নামতে থাকে। গোটা মারাঠাওয়াড়ায় সাধারণভাবে দেশান্তরী শ্রমিকের সংখ্যা থাকে প্রায় আট লক্ষ। এঁরা মূলত বিদ, আহমেদনগর, নাসিক থেকে মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, গুজরাত, মধ্যপ্রদেশের চিনিকলগুলিতে কাজ করবার জন্য যান। এবার তাঁদের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে। কারণ খরা এতটাই তীব্র যে নিজেদের গ্রামে তাঁরা কোনও কাজ পাচ্ছেন না। অথচ, গত বছরই চিনিকল শ্রমিক পাওয়াটা ছিল নিদারুণ সমস্যার। এ বছরই বন্যার মতো ভুখা শ্রমিকের মিছিল চিনিকলগুলিতে।
বিদের গিওরাই তালুকের ৯০ শতাংশ কর্মক্ষম মানুষ গ্রাম ছেড়েছেন। জালনার ভোকরদান তালুক থেকে ট্রাকভর্তি শ্রমিকেরা কাজের খোঁজে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। ঔরঙ্গবাদের খুলতাবাদ তালুকের বেশ কিছু কর্মহীন মানুষ মহারাষ্ট্র শিল্প উন্নয়ন নিগমে সাময়িক বা অস্থায়ী শ্রমিকের কাজ নিয়েছেন। কানাড়াগাঁও এবং মহম্মদপুর গ্রামের শ্রমিকেরা ওয়ালুজ শিল্প উন্নয়ন নিগমে কাজ নিয়েছেন। তাও অস্থায়ী। সুদূর মহারাষ্ট্রের মারাঠাওয়াড়াতে রোহিলাগড় গ্রামের ৪০ বছরের চাষি বিলাস টাকলে তাঁর ৪০০টি মিষ্টি মোসাম্বি লেবু গাছে জল দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। জালনা জেলাতে এই কৃষকের ৩০ একরের উপর তুলো চাষের জমি ছিল। তাঁর ৫৫০টি মোসাম্বি লেবুর গাছ এবং ১১৫০টি বেদানার গাছ ছিল। কিন্তু ২০১৮-র খরার পর থেকে এইসব ফলের গাছ পরিচর্যা করার আর কোনও উপায় তাঁর ছিল না। আরও এক মরিয়া চাষি প্রহ্লাদ পাতিল তার মুমূর্ষু অবস্থা বোঝাতে গিয়ে এক অত্যন্ত করুণ গল্পের অবতারণা করেছেন। এক বাঁদর তার একটি বাচ্চাকে নিয়ে নদী পেরচ্ছিল। বাচ্চাটিকে মাথায় নিয়ে নদীতে সাঁতার দিচ্ছিল। সবাই অবাক। ওঠার সময় বাঁদরটি সেই বাচ্চাটিকে পাড়ে তুলে আনার পরিবর্তে জলেই ফেলে দিল! লোকজনের অনুমান, বাঁদরটি হয়তো ভেবেছিল যদি বাচ্চাটি বেঁচে থাকে তাহলে হয়তো তার আরও একটি বাচ্চা হতে পারে। টাকলে নামে এক কৃষকের অবস্থা বোঝাতে গিয়ে পাতিল বলছেন, ২০০৪ সালে টাকলে অনেকগুলি জলের ট্যাঙ্কার কিনেছিলেন। সেগুলিতে করে ২০ কিলোমিটার দূর থেকে জল নিয়ে এসে তাঁর জমিতে জলসেচ করতেন। অর্থাৎ যদি তিনি জলসেচটুকু করতে পারেন তবে হয়তো তিনি বেঁচে যাবেন।
মরাঠাওয়াড়া রোহিলাগড়ের তুলোচাষ এবছর দারুণভাবে মার খায়। টাকলে বলছেন, যদি টাকাই না-থাকে তাহলে তোমার জলও থাকবে না। জালনা জেলার রোহিলাগড়ের আম্বাদ তালুক গোটা ভারতে মোসাম্বি লেবু চাষের জন্য বিখ্যাত। কিন্তু এখন সেগুলি শুকিয়ে কঙ্কাল হয়ে গিয়েছে, যা আর কিছুদিনের মধ্যেই জ্বালানির জন্য কেটে ফেলা হবে। কিছু কৃষক অত্যন্ত চড়া সুদে মহাজনের কাছ থেকে ঋণ করে জলসেচ করে যাচ্ছেন কিছু গাছে। এই আশায় যে যদি আগামী বছর সেখানে কিছু ফল ধরে। রোজ চাষিরা নিজেদের আলোচনায় এটাই বলতে থাকেন যে তাঁরা কীভাবে শেষ হয়ে যাচ্ছেন!
রোহিলাগড়ের প্রথম বেদানা চাষি আড়াই লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে আড়াই হাজার গাছ রুয়েছিলেন। তাঁকে রোজ ৯ হাজার টাকার জলসেচ দিতে হতো। কিন্তু জলসেচের পরেও ফলন হবে এমন কোনও নিশ্চয়তা ছিল না। তিনি বলেছেন, মাসের শেষ হলে জলও শুকিয়ে যায়, টাকাও শেষ হয়ে যায়। মধ্য মহারাষ্ট্রের মারাঠাওয়াড়া অঞ্চলের আটটি জেলা ২০১২-১৩ সাল থেকে উপর্যুপরি খরায় জ্বলে যাচ্ছে। গান্ধীনগর আইআইটির গবেষকেরা দেখিয়েছেন, গোটা দেশের ৪১ শতাংশ অঞ্চল খরায় জ্বলছে।
নান্দেদ শহর থেকে ৩১ কিলোমিটার দূরের সায়েল গ্রামের সমস্ত নলকূপ গত পাঁচবছর ধরে শুকিয়ে গিয়েছে। শুকিয়ে গিয়েছে কুয়োও। প্রায় ৪০০ ফুট খুঁড়ে নলকূপ বসানোর কাজ চলছে। এখান থেকে তিন কিমি দূরে কিছুটা জলের খোঁজ আছে। সব বয়সি মহিলাকে সেখানে যেতে হয় জলের জন্য। এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে এক কিশোরী জল আনতে গিয়ে কড়া রোদে অজ্ঞান হয়ে যায়। তার জ্ঞান আর ফেরেনি। ট্যাঙ্কার দিয়ে জল দেওয়া হচ্ছে ঠিকই কিন্তু সেগুলি খাওয়ার অযোগ্য। রান্নার জন্য বেশি দামে জল কিনতে হচ্ছে। তীব্র গরমে সমস্ত জলাধার শুকিয়ে গিয়েছে। কৃষকরা প্রশ্ন করছেন, এর পর কী? দু’-তিনদিন অন্তর স্নান। গোখাদ্যের নিদারুণ অভাব। মাসাধিক কাল যাবৎ গবাদি পশুদেরও স্নান নেই। জল টেনে আনার কারণে মহিলাদের শিরদাঁড়ায় প্রচণ্ড ব্যথা। মারাঠাওয়াড়ার জলচিত্র এককথায় নিষ্ঠুর। কিন্তু, সব ছাপিয়ে আরও একটি ঘটনা। তীব্র খরাতেও বিদ থেকে পারভানি যাওয়ার পথে অন্তত ২০০ বছরের পুরনো কয়েকশো বটগাছ কেটে ফেলা হচ্ছে, শুধু রাস্তা চওড়া করার জন্য! কিন্তু কৃষির সংকট বা খরা কোনোটিই মারাঠাওয়াড়ার নির্বাচনী ফলাফলকে প্রভাবিত করেনি!
নান্দেদ লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী প্রতাপ রাও পাতিল ছিকালিকার জিতেছেন। অথচ, অনেকেরই ধারণা ছিল, এখানে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অশোক চ্যবন জিতে যাবেন। ২০১৭ সালেই নান্দেদ ওয়াঘালা পুর নির্বাচনে অশোক চ্যবন জয় ছিনিয়ে এনেছিলেন। হিঙ্গোলিতেও শিবসেনা-বিজেপি জোট জয়লাভ করে। একমাত্র ঔরঙ্গাবাদেই প্রকাশ আম্বেদকরের সংগঠনের প্রার্থী সেনা বিজেপিকে হারায়। কিন্তু ব্যবধান ছিল মাত্র ছ’হাজারের। ২০১৮-র আগস্টে এই ঔরঙ্গাবাদেই মারাঠা এবং দলিতদের মধ্যেই তীব্র দাঙ্গা বেধে গিয়েছিল। ওসমানাবাদ এবং পারভানিতেও বিরোধীরা জিততে পারেনি। বিদ এবং জালনাতেও বিজেপি প্রার্থীরা তাঁদের জয়কে অক্ষুণ্ণ রেখেছেন।
কাজেই প্রশ্ন হচ্ছে, জলের অভাবে কৃষিজমি ফুটিফাটা হয়ে গেলেও এইসব অঞ্চলে অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি ভোট শক্তিশালী হওয়ার কথা। কিন্তু হচ্ছে প্রো-ইনকাম্বেন্সি ভোট! অস্বীকার করার উপায় নেই যে কেন্দ্রীয় সরকার পিএম কিষাণ সম্মান, পিএম আশা, ফসল বিমা যোজনা, কৃষিঋণ মকুব, কৃষকের অ্যাকাউন্টে সরাসরি নগদ অর্থপ্রদান সহ অনেকগুলি কৃষকমুখী কর্মসূচি নিয়েছিল। এবারের ভোটে তারই প্রতিফলন দেখা গেল কি? কিন্তু খরাক্লিষ্ট কৃষকদের অভিজ্ঞতা অন্যকথা বলছে।
মারাঠাওয়াড়ার হাতনুরের কৃষক রামচন্দ্র কলের কথাই ধরা যাক। কেন্দ্রের ডিজিটাল ইন্ডিয়া স্লোগান তাঁর কাছে নিরর্থক। কৃষক পান্ধারিনাথ বির্ভের কথায়, ৭৫ শতাংশ কৃষক অনলাইন ফর্মফিলাপ করতে গিয়ে চরম নাজেহাল হচ্ছেন। ঋণমকুবের দরখাস্ত পূরণ করবার জন্য নিকটবর্তী সেবাকেন্দ্রে, যেটা অন্তত সাত কিমি দূরে, তাঁকে এবং তাঁর স্ত্রীকে দিনে চারবার ছোটাছুটি করতে হয়। কারণ আধার কার্ডের সঙ্গে তাঁদের আঙুলের ছাপের মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। প্রতিদিন অন্তত ৪০০ দরখাস্তকারী সেবাকেন্দ্রে ভিড় করায় হয় কম্পিউটার হ্যাং হয়ে গিয়েছিল অথবা সার্ভার কাজ করছিল না। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতিমতো প্রতি মাসে দু’হাজার টাকাও তাঁরা পাননি।
এতদ্‌সত্ত্বেও খরাপীড়িত মারাঠাওয়াড়া থেকে বিজেপি জয়কে অক্ষুণ্ণ রেখে দিয়েছে! পলসওয়ারি গ্রামে (খুলদাবাদ তহসিল) প্রায় ৪০০ কৃষকের ব্যাঙ্কে ২০০০ করে টাকা ঢুকলেও কৃষি দপ্তর থেকে পাঠানো অ্যাকাউন্ট নম্বর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে না-মেলায় তাঁরা টাকাই তুলতে পারেনি। এরকম উদাহরণ অগুনতি। মূল কথা হচ্ছে, এসব প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী মোদিজির দলের বিজয়রথ অব্যাহত। কিন্তু যে প্রশ্নটা অনিবার্যভাবে ওঠে, তা হল, নির্বাচনে ঠিক কোনটা মূল ইস্যু ছিল? কথাগুলি এই মরশুমেরও তীব্র খরা আর-একবার প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে।
 লেখক মালদহের চাঁচল কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক 
25th  July, 2019
১৬০০ কোটি টাকায় কী হতে পারে?
মৃণালকান্তি দাস

শুধুমাত্র অসমে এনআরসি প্রক্রিয়া করতে গিয়েই সরকার খরচ করে ফেলেছে ১৬০০ কোটি টাকা! এত টাকা কীভাবে খরচ হল সেটা খতিয়ে দেখতে দাবি উঠেছে সিবিআই তদন্তের। শুধু তাই-ই নয়, এই এনআরসি করতে বিপুল আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে, এই অভিযোগ তুলেছেন অসমের বিজেপি নেতা তথা অর্থমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। সেই দুর্নীতির কথা ধরা পড়েছে ক্যাগের প্রতিবেদনেও। এনআরসির মুখ্য সমন্বয়কারী প্রতীক হাজেলাকে মধ্যপ্রদেশে বদলি করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। মুখ লুকোনোর জায়গা পাচ্ছে না বিজেপি।
বিশদ

মুখ হয়ে ওঠার নিরন্তর প্রয়াস
তন্ময় মল্লিক

কথায় আছে, মুখ হচ্ছে মনের আয়না। আবার কেউ কেউ মনে করেন, সুন্দর মুখের জয় সর্বত্র। তাই অনেকেরই ধারণা, সাফল্য লাভের গুরুত্বপূর্ণ উপাদানই হল মুখ। রাজনীতিতেও সেই মুখের গুরুত্ব অপরিসীম। তবে রাজনীতিতে সৌন্দর্য অপেক্ষা অধিকতর প্রাধান্য পেয়ে থাকে মুখের কথা, ভাষাও।  
বিশদ

নিরপেক্ষ রাজনৈতিক চেতনার অভাব
সমৃদ্ধ দত্ত

 আজকাল একটি বিশেষ শ্রেণীর কাছে দুটি শব্দ খুব অপছন্দের। সেকুলার এবং ইন্টেলেকচুয়াল। ওই লোকটিকে আমার পছন্দ নয়, কারণ লোকটি সেকুলার। ওই মানুষটি আসলে সুবিধাবাদী এবং খারাপ, কারণ তিনি ইন্টেলেকচুয়াল। সমাজের এই অংশের উচ্চকিত তর্জন গর্জন হাসি ঠাট্টা কটাক্ষ শুনলে মনে হবে, সেকুলার হওয়া বোধহয় সাংঘাতিক অপরাধ। বিশদ

24th  January, 2020
বাজেটের কোনও অঙ্কই মিলছে না, আসন্ন বাজেটে বৃদ্ধিতে গতি ফিরবে কীভাবে?
দেবনারায়ণ সরকার

বস্তুত, বর্তমান অর্থবর্ষে ভারতের অর্থনীতির চিত্র যথেষ্ট বিবর্ণ। সমৃদ্ধির হার ক্রমশ কমে ৫ শতাংশে নামার ইঙ্গিত, যা ১১ বছরে সর্বনিম্ন। মুদ্রাস্ফীতি গত ৩ বছরে সর্বাধিক। শিল্পে সমৃদ্ধির হার ৮ বছরে সর্বনিম্ন। পরিকাঠামো শিল্পে বৃদ্ধির হার ১৪ বছরে সর্বনিম্ন। বিদ্যুতের চাহিদা ১২ বছরে সর্বনিম্ন। বেসরকারি লগ্নি ১৬ বছরে সর্বনিম্ন। চাহিদা কমায় বাজারে ব্যাঙ্ক লগ্নি কমেছে, যা গত ৫৮ বছরে সর্বনিম্ন। রপ্তানিও যথেষ্ট ধাক্কা খাওয়ার ইঙ্গিত বর্তমান বছরে। এর উপর ভারতে বেকারত্বের হার গত ৪৫ বছরে সর্বনিম্ন।
বিশদ

24th  January, 2020
ক্ষমা করো সুভাষ
জয়ন্ত চৌধুরী

মুক্তিপথের অগ্রদূত তিনি। অখণ্ড ভারত সাধনার নিভৃত পথিক সুভাষচন্দ্রের বৈপ্লবিক অভিঘাত বাধ্য করেছিল দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের পটভূমি রচনা করতে। দেশি বিদেশি নিরপেক্ষ ঐতিহাসিকদের লেখনীতে আজাদ হিন্দের অসামান্য আত্মত্যাগ স্বীকৃত হয়েছে। সর্বাধিনায়কের হঠাৎ হারিয়ে যাবার বেদনা তাঁর জন্মদিনেই বড় বেশি স্পর্শ করে যায়।  
বিশদ

23rd  January, 2020
স্বামীজি, বিশ্বকবি ও নেতাজির খিচুড়ি-বিলাস
বিকাশ মুখোপাধ্যায়

মঙ্গলকাব্য থেকে কাহিনীটা এভাবে শুরু করা যেতে পারে।
সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেই মা দুর্গা নন্দিকে তলব করেছেন, যাও ডাব পেড়ে নিয়ে এসো।
নন্দির তখনও গতরাতের গাঁজার খোঁয়ার ভাঙেনি। কোনওরকমে জড়ানো স্বরে বলল, ‘এত্তো সকালে মা?’  বিশদ

23rd  January, 2020
‘যে আপনকে পর করে...’
শান্তনু দত্তগুপ্ত

মহাত্মা গান্ধী একটা কথা বলতেন, মনপ্রাণ দিয়ে দেশের সেবা যিনি করেন, তিনিই সত্যিকারের নাগরিক। নাগরিক কাহারে কয়? বা নাগরিক কয় প্রকার ও কী কী? এই জাতীয় প্রশ্ন এখন দেশে সবচেয়ে বেশি চর্চিত। সবাই নিজেকে প্রমাণে ব্যস্ত। ভালো নাগরিক হওয়ার চেষ্টাচরিত্র নয়, নাগরিক হতে পারলেই হল। তার জন্য কাগজ লাগবে। এক টুকরো কাগজ প্রমাণ করবে, আপনি আমি ভারতের বাসিন্দা।   বিশদ

21st  January, 2020
আইন ও বাস্তব
পি চিদম্বরম

আপনি যখন এই লেখা পড়ছেন তখন ইন্টারনেট, আন্দোলন, জনসমাবেশ, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, ভাষণ ও লেখালেখি এবং কাশ্মীর উপত্যকার পর্যটকদের উপর নিয়ন্ত্রণ জারি রয়েছে। কোনোরকম ‘চার্জ’ ছাড়াই রাজনৈতিক নেতাদের হেপাজতবাসও চলছে যথারীতি। সুতরাং প্রশ্ন উঠছে—আদালতের রায়ের পরেও বাস্তবে কিছু পরিবর্তন হয়েছে কি?
বিশদ

20th  January, 2020
নেতাজি—আঁধারপথে অনন্ত আলোর দীপ্তি
সন্দীপন বিশ্বাস

স্বাধীনতার পর অতিক্রান্ত বাহাত্তর বছর। কিন্তু আজও যেন তার নাবালকত্ব ঘুচল না। আসলে দেশের যাঁরা হাল ধরেন, তাঁরাই যদি নাবালকের মতো আচরণ করেন, তাহলে দেশও নাবালকই থেকে যায়। এই নাবালকত্ব আসলে এক ধরনের অযোগ্যতা। সেই অযোগ্যতার পথ ধরেই দেশ ডুবে আছে অসংখ্য সঙ্কটে। দুর্নীতিই হল সেই সঙ্কটের মধ্যমণি।  
বিশদ

20th  January, 2020
মানুষকে সঙ্কটে ফেলা ছাড়া নোটবাতিলের
আর কোনও উদ্দেশ্যই সফল হয়নি 
হিমাংশু সিংহ

আর-একটা সাধারণ বাজেট পেশ হতে চলেছে দু’সপ্তাহের মধ্যে। নিঃসন্দেহে এবারের বাজেটের প্রধান লক্ষ্য, বেনজির আর্থিক মন্দার মোকাবিলা করা, নতুন কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং একইসঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে চাঙ্গা করা। ছাপ্পান্ন ইঞ্চি ছাতির নরেন্দ্র মোদি যতই নিজের ঢাক পেটান না কেন, দেশের অর্থনীতি এই মুহূর্তে ভয়ঙ্কর সঙ্কটে জর্জরিত। 
বিশদ

19th  January, 2020
প্রধানমন্ত্রীর সফর এবং হিন্দু ভোটের ভাগাভাগি
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি (১১-১২ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কলকাতা ভ্রমণকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছিল। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) সংক্রান্ত বিতর্কে হইচই চলছে সারা দেশে। কলকাতার এক বড় অংশের বামমনা বুদ্ধিজীবী মানুষ এর বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন। প্রথম থেকেই তৃণমূল সিএএ বিরোধী আন্দোলন করছে। 
বিশদ

18th  January, 2020
নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদ: পুতুলনাচের ইতিকথা
জিষ্ণু বসু

নাচায় পুতুল যথা দক্ষ বাজিকরে/ নাচাও তেমনি তুমি অর্বাচীন নরে। —কবি নবীনচন্দ্র সেনের এই বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি আজ ভীষণ প্রাসঙ্গিক মনে হয়। গত মাসাধিক কাল সামান্য কিছু অতি বুদ্ধিমান আমাদের মতো অর্বাচীনদের পুতুলের মতো নাচাচ্ছেন। জাতীয় ও আঞ্চলিক প্রচার মাধ্যমও অতি যত্নসহকারে তা পরিবেশন করছে। 
বিশদ

18th  January, 2020
একনজরে
জীবানন্দ বসু, কলকাতা: সংঘাতের আবহেই কি আগামীকাল রবিবার সাধারণতন্ত্র দিবসে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকার ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখোমুখি হতে চলেছেন? সাংবিধানিক রীতি ও সৌজন্যের কারণেই কি তাঁদের দু’জনকে কাল পাশাপাশি দেখা যাবে? ...

মুম্বই, ২৪ জানুয়ারি (পিটিআই): বিধানসভা নির্বাচনের সময় মহারাষ্ট্রের অবিজেপি নেতাদের ফোন ট্যাপ করা হয়েছিল। সরকারি পরিকাঠামোর অপব্যবহার করে এই কাজ করেছিল তৎকালীন বিজেপি সরকার। বৃহস্পতিবার এমনই অভিযোগ করেছেন মহারাষ্ট্রের বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিল দেশমুখ। এই কাণ্ডে তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে ইতিমধ্যে।  ...

সংবাদদাতা, পুরাতন মালদহ: দক্ষিণবঙ্গ থেকে ভোজ্য তেল নিয়ে এসে কালিয়াচকের ডাঙা এলাকায় একটি গোডাইনে মজুত করেছিল পাচারকারীরা। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই তেল পাচারকারী লরির চালক ও খালাসিকে গ্রেপ্তার করে পুলিস।  ...

দাভোস, ২৪ জানুয়ারি: ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় গণতন্ত্রকে ‘ধ্বংসের মুখে’ ঠেলে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার দাভোসের ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরাম-এর মঞ্চ থেকে ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

ব্যবসাসূত্রে উপার্জন বৃদ্ধি। বিদ্যায় মানসিক চঞ্চলতা বাধার কারণ হতে পারে। গুরুজনদের শরীর-স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন থাকা ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

জাতীয় ভোটদাতা দিবস
১৮৫০: অভিনেতা অর্ধেন্দু শেখর মুস্তাফির জন্ম
১৮৫৬: সমাজসেবক ও লেখক অশ্বিনীকুমার দত্তের জন্ম
১৮৭৪: ইংরেজ লেখক সামারসেট মমের জন্ম  





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৫১ টাকা ৭২.২১ টাকা
পাউন্ড ৯১.৯৮ টাকা ৯৫.৩২ টাকা
ইউরো ৭৭.৩৮ টাকা ৮০.৩৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪০,৭১০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৮,৬২৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৯,২০৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৬,৪০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৬,৫০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১০ মাঘ ১৪২৬, ২৫ জানুয়ারি ২০২০, শনিবার, প্রতিপদ ৫৫/২৪ রাত্রি ৪/৩২। শ্রবণা ৫৫/৩৩ রাত্রি ৪/৩৬। সূ উ ৬/২২/৭, অ ৫/১৫/৩১, অমৃতযোগ দিবা ১০/০ গতে ১২/৫৩ মধ্যে। রাত্রি ৭/৫২ গতে ১০/৩০ মধ্যে পুনঃ ১২/১৪ গতে ২/০ মধ্যে পুনঃ ২/৫২ গতে ৪/৩৭ মধ্যে। বারবেলা ৭/৪৩ মধ্যে পুনঃ ১/১০ গতে ২/৩২ মধ্যে পুনঃ ৩/৫৪ গতে অস্তাবধি। কালরাত্রি ৬/৫৪ মধ্যে পুনঃ ৪/৪৪ গতে উদয়াবধি। 
১০ মাঘ ১৪২৬, ২৫ জানুয়ারি ২০২০, শনিবার, প্রতিপদ ৫২/৪৫/৪২ রাত্রি ৩/৩১/৩১। শ্রবণা ৫৪/৮/১ শেষরাত্রি ৪/৪/২৬। সূ উ ৬/২৫/১৪, অ ৫/১৪/৮, অমৃতযোগ দিবা ৯/৫৮ গতে ১২/৫৭ মধ্যে ও রাত্রি ৭/৫৮ গতে ১০/৩৩ মধ্যে ও ১২/১৬ গতে ১/৫৮ মধ্যে ও ২/৫০ গতে ৪/৩৩ মধ্যে। কালবেলা ৭/৪৬/২১ মধ্যে ও ৩/৫৪/২ গতে ৫/১৪/৮ মধ্যে, কালরাত্রি ৬/৫৪/১ মধ্যে ও ৪/৪৬/২০ গতে ৬/২৪/৫৫ মধ্যে। 
২৯ জমাদিয়ল আউয়ল  

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
পদ্মভূষণ পাচ্ছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মনহর পারিক্কর, ব্যবসায়ী আনন্দ মহিন্দ্রা ও ভেনু শ্রীনিবাসন, ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় পিভি সিন্ধু, নাগাল্যান্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এস সি জমির এবং জম্মু ও কাশ্মীরের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মুজাফ্ফর হোসেন বেগ 

09:18:00 PM

পদ্মবিভৃষণ পাচ্ছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অরুণ জেটলি, সুষমা স্বরা, জর্জ ফার্ণান্ডেজ, বক্সার মেরি কম, মরিশাসের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অনিরুদ্ধ জগন্নাথ 

09:13:36 PM

 পদ্মশ্রী পাচ্ছেন কঙ্গনা রানউত, একতা কাপুর, আদনান সামি এবং করণ জোহর

09:07:04 PM

ম্যাচ চলাকালনে অশ্লীল ভাষা ব্যবহার, ম্যাচ ফি কাটা হল বেন স্টোকসের
জোহানেসবার্গ টেস্ট চলাকালীন অশ্লীল ভাষা ব্যবহারের অপরাধে ইংল্যান্ডের খেলোয়ার বেন ...বিশদ

08:05:55 PM

ম্যাচ চলাকালীন অশ্লীল ভাষা ব্যবহার, ম্যাচ ফি কাটা হল বেন স্টোকসের
আজ সিএএ, এনআরসি ইস্যু নিয়ে দলীয় বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ...বিশদ

06:32:00 PM

আলিপুরদুয়ারে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র, কার্তুজ সহ গ্রেপ্তার ২ 

03:32:34 PM