Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দিল্লি হামলার চক্রী মৌলবির ধর্মসভায় রাজ্যের যুবকরাও! জাল মালদহ-মুর্শিদাবাদে

দিল্লি বিস্ফোরণ। ফরিদাবাদ নেটওয়ার্ক। মেডিকেল মডিউল। জয়েশের মহিলা সেল মোমিনাত। হামলার মাস্টারমাইন্ড মৌলবি ইরফানের গ্রেফতারি। এবং বাংলাতেও ছড়িয়ে পড়া তার জাল।

দিল্লি হামলার চক্রী মৌলবির ধর্মসভায় রাজ্যের যুবকরাও! জাল মালদহ-মুর্শিদাবাদে
  • ১৭ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দিল্লি বিস্ফোরণ। ফরিদাবাদ নেটওয়ার্ক। মেডিকেল মডিউল। জয়েশের মহিলা সেল মোমিনাত। হামলার মাস্টারমাইন্ড মৌলবি ইরফানের গ্রেফতারি। এবং বাংলাতেও ছড়িয়ে পড়া তার জাল। এ পর্যন্ত গোটা ঘটনাক্রমকে সাজালে এমনই একটা সমীকরণ তৈরি হয়। আর তাতেই জড়িয়ে যায় মালদহ-মুর্শিদাবাদের পড়ুয়া ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নাম। গোয়েন্দা সূত্রে জানা যাচ্ছে, গোটা দেশে স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে মেডিকেল মডিউলের নেটওয়ার্ক ছড়ানোর যে ব্লু-প্রিন্ট ইরফান তৈরি করেছিল, তাতে হুড়োহুড়ির কোনও ব্যাপার ছিল না। কারণ ইরফান জানত, ধীরে চলো নীতি নিলেই এই প্রভাব সুদূরপ্রসারী হবে। তাই সে প্রথমে পড়ুয়া ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মগজ ধোলাই করত, তারপর তাদের পাঠিয়ে দিত বিভিন্ন রাজ্যে। এই পড়ুয়ারা মূলত কোথাকার? আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়াও নেটওয়ার্কে পাওয়া যাচ্ছে কাশ্মীরের কিছু সরকারি হাসপাতালের ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীর নাম। স্কাউটের মতো ঘুরে ঘুরে এদের চিহ্নিত করত ধৃত মৌলবি। অজুহাত তো ছিলই—ধর্মীয় সভা। প্রত্যেক রাজ্যের ‘অ্যাসেট’দের সে সময় বেঁধে দিত এমন সভা বা জলসা আয়োজনের। কাশ্মীর হোক, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, বিহার... ইরফানের এমন সভা লেগেই থাকত। আর সেখানে নিয়ে আসা হত তরুণ-তরুণীদের। মূলত মেডিকেল পড়ুয়া। কেউ ডাক্তারি, কেউ বা নার্সিং। ধর্মীয় সভা বা জলসার আড়ালে রীতিমতো মগজ ধোলাই চলত তাদের। সবটাই ‘ক্লোজড ডোর’। গোটা দেশ থেকেই নিয়ে যাওয়া হত এমন ‘প্রসপেক্ট’দের। যারা ভবিষ্যতে ‘জেহাদে’র কাজে লাগবে। গোয়েন্দারা জানতে পারছে, ইরফানের এমন সভায় নাম লিখিয়েছে এরাজ্যের বেশ কিছু যুবক-যুবতীও। মূলত মালদহ ও মুর্শিদাবাদই ছিল ইরফানের টার্গেট। এছাড়া উত্তর দিনাজপুরের নামও সামনে আসছে। 

Advertisement

জানা যাচ্ছে, গত ছ’মাসে এমন ‘সভা’র সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়েছিল। মগজ ধোলাই হয়ে গেলে এইসব পড়ুয়া ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন গ্রুপে ঢুকিয়ে নেওয়া হত। জয়েন করানো হত নানাবিধ উসকানিমূলক পেজে। প্রধানত এদের কাজের দু’টি ভাগ থাকত—১) লজিস্টিকাল সাপোর্ট। জঙ্গি কার্যকলাপে যারা সামনের সারিতে থাকত, তাদের জন্য টাকা, থাকার জায়গা, গাড়ি, খাবার-দাবার, অস্ত্রের জোগান দিত এরা। ২) জেহাদি প্রচার। ছোটোখাটো বিভিন্ন সভায় উসকানিমূলক বক্তৃতা দেওয়া, সুযোগ বুঝে ব্রেন ওয়াশের পাশাপাশি এরা জোর দিত প্রত্যন্ত জায়গায় মেডিকেল শিবিরে। বিনামূল্যে এই ধরনের ক্যাম্প থেকেই গরিব যুবক-যুবতীদের টেনে আনা হত সংগঠনে। শিবিরের মাথায় থাকত মূলত আল-ফালাহ থেকে পাশ করা কয়েকজন মার্কামারা ডাক্তার। চিকিৎসার আড়ালে জঙ্গি কার্যকলাপই ছিল তাদের ধ্যানজ্ঞান।
গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, এই মৌলবির জাল ছড়িয়েছে বাংলাদেশেও। সেখানকার কয়েকটি জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরাও মালদহ-মুর্শিদাবাদের মতো জেলায় এসে বৈঠক করত। তারপর ফিরে যেত ওপারে। আর তাই গোয়েন্দাদের মাথাব্যথার বিষয় হল, দু’পারের জঙ্গি মাস্টারমাইন্ডদের বৈঠক। এই জাল ভারতে কতদূর ছড়িয়েছে? আর কী প্ল্যান আছে? খুঁজছেন গোয়েন্দারা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ