নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দিল্লি বিস্ফোরণ। ফরিদাবাদ নেটওয়ার্ক। মেডিকেল মডিউল। জয়েশের মহিলা সেল মোমিনাত। হামলার মাস্টারমাইন্ড মৌলবি ইরফানের গ্রেফতারি। এবং বাংলাতেও ছড়িয়ে পড়া তার জাল। এ পর্যন্ত গোটা ঘটনাক্রমকে সাজালে এমনই একটা সমীকরণ তৈরি হয়। আর তাতেই জড়িয়ে যায় মালদহ-মুর্শিদাবাদের পড়ুয়া ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নাম। গোয়েন্দা সূত্রে জানা যাচ্ছে, গোটা দেশে স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে মেডিকেল মডিউলের নেটওয়ার্ক ছড়ানোর যে ব্লু-প্রিন্ট ইরফান তৈরি করেছিল, তাতে হুড়োহুড়ির কোনও ব্যাপার ছিল না। কারণ ইরফান জানত, ধীরে চলো নীতি নিলেই এই প্রভাব সুদূরপ্রসারী হবে। তাই সে প্রথমে পড়ুয়া ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মগজ ধোলাই করত, তারপর তাদের পাঠিয়ে দিত বিভিন্ন রাজ্যে। এই পড়ুয়ারা মূলত কোথাকার? আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়াও নেটওয়ার্কে পাওয়া যাচ্ছে কাশ্মীরের কিছু সরকারি হাসপাতালের ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীর নাম। স্কাউটের মতো ঘুরে ঘুরে এদের চিহ্নিত করত ধৃত মৌলবি। অজুহাত তো ছিলই—ধর্মীয় সভা। প্রত্যেক রাজ্যের ‘অ্যাসেট’দের সে সময় বেঁধে দিত এমন সভা বা জলসা আয়োজনের। কাশ্মীর হোক, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, বিহার... ইরফানের এমন সভা লেগেই থাকত। আর সেখানে নিয়ে আসা হত তরুণ-তরুণীদের। মূলত মেডিকেল পড়ুয়া। কেউ ডাক্তারি, কেউ বা নার্সিং। ধর্মীয় সভা বা জলসার আড়ালে রীতিমতো মগজ ধোলাই চলত তাদের। সবটাই ‘ক্লোজড ডোর’। গোটা দেশ থেকেই নিয়ে যাওয়া হত এমন ‘প্রসপেক্ট’দের। যারা ভবিষ্যতে ‘জেহাদে’র কাজে লাগবে। গোয়েন্দারা জানতে পারছে, ইরফানের এমন সভায় নাম লিখিয়েছে এরাজ্যের বেশ কিছু যুবক-যুবতীও। মূলত মালদহ ও মুর্শিদাবাদই ছিল ইরফানের টার্গেট। এছাড়া উত্তর দিনাজপুরের নামও সামনে আসছে।



