নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: গত ২৪ ঘন্টায় মালদহের মানিকচকের ভুতনিতে ২-৩ ফুট জল বাড়ল। ফলে আরও অবনতি হল সেখানকার বন্যা পরিস্থিতির। এই অবস্থায় দক্ষিণ চণ্ডীপুরে বাঁধ কেটে বন্যার জল বের করার দাবি উঠেছে। শতাধিক গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত। বন্যা কবলিত এলাকায় ৮২টি স্কুলে ব্যাহত পঠনপাঠন। জেলা প্রশাসনের তরফে অবশ্য জানানো হয়েছে, বন্যা কবলিত এলাকার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য অনলাইনে ক্লাস করানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেইসঙ্গে ফ্লাড শেল্টারগুলিতেও পড়ানোর ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। জেলাশাসক রাজনবীর সিং কাপুর বলেন, দুর্গতদের উদ্ধারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও যাতে ছাত্র-ছাত্রীরা যাতে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে তার সবরকম চেষ্টা চলছে।
এদিন মানিকচকের বিধায়ক গৌরচন্দ্র মণ্ডলের উপস্থিতিতে প্রশাসনের উদ্যোগে ভুতনির দক্ষিণ চণ্ডীপুর এলাকায় বাঁধ কেটে জল নামানোর ব্যবস্থা করা হয়। দুর্গতদের সবার কাছে পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন মানিকচকের বিধায়ক। গত ৩ সেপ্টেম্বর বাঁধ ভেঙে মালদহের মানিকচকের ভুতনিতে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। গঙ্গার জল অস্বাভাবিক হারে বাড়তে থাকায় গত সোমবার সকাল থেকে মঙ্গলবার সকালের মধ্যে ভুতনির বন্যা কবলিত এলাকায় দুই থেকে তিন ফুটের মতো জল বাড়ে। ফলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়। ভুতনির তিনটি অঞ্চল মিলিয়ে দুই লক্ষাধিক মানুষ বন্যার কবলে পড়েন। এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন মহল থেকে ভুতনির দক্ষিণ চণ্ডীপুরে বাঁধ কেটে বন্যার জল নামানোর দাবি উঠতে শুরু করে।
তারই জেরে মঙ্গলবার জেলা প্রশাসন বাঁধ কাটার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই মতো এদিন ভুতনির দক্ষিণ চণ্ডীপুরে মানিকচকের বিধায়ক গৌরচন্দ্র মণ্ডলের উপস্থিতিতে জেসিবি মেশিন লাগিয়ে মাটির বাঁধ কাটা হয়। বাঁধ কাটার সঙ্গে সঙ্গে ভুতনির বন্যা কবলিত এলাকার জল হু হু করে নামতে শুরু করে। ফলে কিছুটা হলেও হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন ভুতনিবাসী। তাঁদের বক্তব্য, বাঁধ কাটার ফলে নতুন করে ভুতনিতে বন্যার জল বাড়ার আশঙ্কা কমল। মানিকচকের বিধায়ক গৌরচন্দ্র মণ্ডল বলেন, সকলের সঙ্গে আলোচনা করেই বাঁধ কেটে বন্যার জল নামানোর কাজ করা হয়েছে।