নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: জটিলতার অবসান। চিফ এগজিকিউটিভ অনিত থাপা পদত্যাগ করার তিন মাস পর জিটিএতে নিয়োগ করা হল প্রশাসক। আইএএস অফিসার শ্রুতিরঞ্জন মহন্তকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আজ, মঙ্গলবার শিলিগুড়ির ‘উত্তরকন্যা’ থেকে কালিম্পং জেলা প্রশাসনের সঙ্গে ভার্চুয়ালি বৈঠকে একথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একইসঙ্গে জিটিএ-র দুর্নীতির তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
এদিন সকালে কলকাতা থেকে বিমানে বাগডোগরায় আসেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে কালিম্পংয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু, আবহাওয়া খারাপ থাকায় তাঁর কপ্টার সেখানে অবতরণ করতে পারেনি। আকাশে বেশ কিছুক্ষণ চক্কর কেটে ফিরে আসে শিলিগুড়িতে। ফুলবাড়ি হেলিপ্যাডে নেমে সড়কপথে উত্তরকন্যা যান মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে ভার্চুয়ালি কালিম্পং জেলার প্রশাসনিক কর্মসূচিতে শামিল হন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশিথ প্রামাণিক ও পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ।
এদিনের সভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জিটিএ-র চিফ এগজিকিউটিভ, চেয়ারম্যান ও কয়েকজন সদস্য পদত্যাগ করেছেন। যে কারণে সোমবার সেখানে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। যতদিন পাহাড় সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হচ্ছে, ততদিন জিটিএ থাকবে। আমরা দীর্ঘ মেয়াদি রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানের কাজ করছি।’
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিপর্যয় ব্যবস্থাপনায় দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের জন্য ২৫৪ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তা মঞ্জুর হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং জিটিএর সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রকল্প তৈরি করবেন প্রশাসক। আমরা পাহাড়ের সঙ্গে মিলেমিশে উন্নয়নমূলক কাজ করতে চাই।’
বিগত দিনে ধসে ভূমিহীনদের সহায়তা করার কথা মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গত বছর ধসে কালিম্পংয়ের ৭৪টি পরিবার ভূমিহীন হন। তারা আগে জমি পেয়েছে। এদিন তাদেরকে বাড়ি তৈরির জন্য ৩ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হল। ৬ মাসের মধ্যে কালিম্পংয়ে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় তৈরি করা হবে ৮ হাজার ৩২৫টি বাড়ি। কালিম্পং মেডিকেল কলেজের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে।’
এদিন ফের দুর্নীতি নিয়ে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আম্রুত প্রকল্প সহ জিটিএর ঘোটালা নিয়ে তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন। ইতিমধ্যে কমিশনের প্রতিনিধিরা পাহাড়ে ঘুরে গিয়েছেন। দুর্নীতি করলে কেউ পার পাবে না।’