অগ্নিভ ভৌমিক, কৃষ্ণনগর: এসআইআরে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেও নদীয়া জেলার লক্ষাধিক ভোটারের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের ভাগ্য এখনও ঝুলে। যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলেই মনে করছে নানা মহল। কারণ, পালাবদলের চার মাস অতিক্রান্ত। নদীয়া জেলা থেকে ১ লক্ষ ৯৪ হাজার ২২০ জন ভোটার ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন। যার মধ্যে মাত্র ২ হাজার ৮৭৫ জনের আবেদন শুনানির মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে। এখনও প্রায় ১ লক্ষ ৯০ হাজারের বেশি ভোটারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।
নির্বাচনের আগে তৃণমূল ও বিজেপি দু’দলই ভোটাধিকার নিয়ে সরব থাকলেও ভোট মিটতেই সবাই নীরব। মাসখানেক আগে নদিয়ায় দলীয় বৈঠকে সিএএ ও এসআইআরের জটিলতা মেটানোর আশ্বাস দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ইতিমধ্যে সিএএ’র শুনানি ডাক বিভাগের বদলে জেলাশাসকের হাতে এসেছে। মতুয়াদের একাংশ সিএএ’র শংসাপত্র নিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তোলার সুযোগ পেলেও সংখ্যালঘুদের ভোটাধিকার নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।
রানাঘাট সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভানেত্রী অপর্ণা নন্দী বলেন,‘আমাদের নদীয়া দক্ষিণের বহু মতুয়া ভাইবোনের নাম বাদ গিয়েছিল। তবে চিন্তার কোনো কারণ নেই। সবার নাম উঠবে। আগামদিনে সকলেই ভোট দিতে পারবেন। নাম তোলার পদ্ধতি নিয়ে উপর মহলে পর্যালোচনা হয়েছে।’
রাজ্য মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী তথা কালীগঞ্জের বিধায়ক আলিফা আহমেদ বলেন, ‘এসআইআরের এই বিষয়টি বিধানসভায় আমরা বহুবার তুলেছি। আমরাও জানতে চাই, যাঁরা ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন এবং অনেক যোগ্য ভোটার রয়েছেন, যাঁদের নাম সেই সময় ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছিল, তাঁদের কী অবস্থা? বর্তমানে মানুষ ভীষণভাবে বিভ্রান্ত। অন্নপূর্ণা যোজনার ক্ষেত্রে আমরা সেটা দেখতে পাচ্ছি। তাই অবিলম্বে রাজ্য সরকারের উচিত এ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করা।’
দক্ষিণ মালদহের কংগ্রেসের সাংসদ ঈশা খান চৌধুরী সম্প্রতি একটি আরটিআই করেন। জবাবে রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জানিয়েছেন, ৭ আগস্ট পর্যন্ত ৩৮ লক্ষ ১০ হাজার ৬২০ জন ট্রাইব্যুনালে আবেদনকারীর মধ্যে ৭৫ হাজার ৪৪৩ জনের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং ৭ হাজার ৩৩৯ জনের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। উত্তর দিনাজপুর জেলায় ৬ হাজার ১৪১ জন, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় ৮ হাজার ০১৬ জন, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলায় ২০ হাজার ১০৭ জন, হুগলি জেলায় ১৯ হাজার ৫২৮ জন, পূর্ব বর্ধমান জেলায় মাত্র ৭৩ জনের নাম ৭ আগস্ট পর্যন্ত ভোটার তালিকা অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৬-এর শেষেই পুরভোটের প্রস্তুতি শুরু হতে পারে। ২০২৭-এর গোড়ায় রাজ্যজুড়ে পুরসভা ভোটের সম্ভাবনা রয়েছে। পঞ্চায়েত ভোটও এগিয়ে আসতে পারে। এই পরিস্থিতিতে বিপুলসংখ্যক ভোটার কি আদৌ তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন? প্রশ্ন উঠছে সর্বত্র। নদীয়া উত্তরে সংখ্যালঘু ভোট এবং নদীয়া দক্ষিণে মতুয়া ভোট নির্বাচনী সাফল্যের পিছনে বড় ফ্যাক্টর। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এসআইআর পর্বে উভয় সম্প্রদায়ের মানুষকেই বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছিল। শুনানির পর্বে দীর্ঘলাইনে দাঁড়াতে হয় সাধারণ মানুষকে। নদীয়া উত্তরের তুলনায় নদীয়া দক্ষিণের মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় নথি সমস্যার কারণে নাম বাদ পড়ার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি।