সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর : পুজোর আর বেশিদিন বাকি নেই। হাতে সময় নেই। এর মধ্যেই টানা বৃষ্টিতে সমস্যায় পড়েছেন কৃষ্ণনগরের সাজশিল্পীরা। বৃষ্টির কারণে রোদ না থাকায় সাজ তৈরির কাজে ব্যবহৃত আঠা ঠিকমতো শুকোচ্ছে না। ফলে সাজ তৈরি ও তা শুকনোর কাজে দেরি হচ্ছে। কাজ যাতে বন্ধ না হয়ে যায়, তাই এখন ফ্যান এবং হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে সাজ শুকানোর চেষ্টা করছেন শিল্পীরা।
কৃষ্ণনগরের তৈরি সাজের চাহিদা রয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গার পাশাপাশি বাইরের রাজ্যেও। তাই পুজোর অনেক আগে থেকেই অর্ডার অনুযায়ী সাজ তৈরি করে পাঠাতে হয়। পুজো আর মাস খানেকের কিছু বেশি সময় বাকি। এই সময়ে সাজ তৈরির কাজ দ্রুত শেষ করার কথা। কিন্তু টানা বৃষ্টির জন্য সেই কাজেই সমস্যা তৈরি হয়েছে। সাজ তৈরি করতে আঠা শুকানো খুবই জরুরি। সাধারণত রোদের তাপেই সাজ শুকিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি চলায় রোদের দেখা মিলছে না। ফলে আঠা শুকাতে বেশি সময় লেগে যাচ্ছে। তাই বাধ্য হয়েই পাখার হাওয়া ও হেয়ার ড্রাইয়ের সাহায্যে সাজ শুকিয়ে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন শিল্পীরা।
ইতিমধ্যেই কিছু সাজ তৈরি হয়ে প্যাকেজিংও হয়ে গিয়েছে। তবে বৃষ্টির মধ্যে সেগুলি পাঠাতেও সমস্যা হচ্ছে। কারণ প্যাকেটের ভিতরে জল ঢুকে গেলে পুরো সাজটাই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই তৈরি হয়ে যাওয়া সাজও বৃষ্টির জন্য ডেলিভারি করতে দেরি হচ্ছে। শিল্পীদের কথায়, পুজোর আগে এমনিতেই কাজের চাপ বেড়ে যায়। তার উপর এভাবে বৃষ্টি চলতে থাকলে কাজ পিছিয়ে যাবে। তাই বৃষ্টির মধ্যেও কাজ বন্ধ না রেখে কোনোভাবে সাজ তৈরি ও শুকানোর কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে। বৃষ্টি কমে রোদ উঠলে সাজের কাজে সুবিধা হয়। আঠা শুকিয়ে গেলেই তাড়াতাড়ি কাজ করা যায়। কিন্তু প্রতিদিন বৃষ্টি হলে কাজ আর কতদিন বন্ধ রাখা যাবে, তাই পাখা ও হেয়ার ড্রাই দিয়ে কাজ চালাতে হচ্ছে।
অরিন্দম দে নামে এক সাজ শিল্পী বলেন, আসাম, ত্রিপুরায় এই সাজগুলি যাবে, কিন্তু বৃষ্টির খামখেয়ালিপনায় খুব সমস্যার মধ্যে রয়েছি। এখন আমি হেয়ার ড্রাই দিয়ে আঠা শুকাচ্ছি। তা ছাড়া কোনো উপায় নেই। আর মেরে কেটে এক মাস, তার মধ্যেই সবকাজ শেষ করতে হবে। ফ্যান, ড্রায়ার দিয়ে প্রতিমার সাজ শুকাতে ব্যস্ত শিল্পীরা। কৃষ্ণনগরে তোলা নিজস্ব চিত্র