পক্ষে
পক্ষে
অভিরূপ মুখোপাধ্যায়
নিঃসন্দেহে মেয়েদের ক্রিকেট বিশ্বকাপের গুরুত্ব বাড়ছে। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় আয়োজিত ২০২৫ মহিলা ক্রিকেট বিশ্বকাপের জয়ী ও রানার-আপ দলের পুরস্কার-মূল্য ২০২২ বিশ্বকাপের তুলনায় যথাক্রমে ২৩৯ শতাংশ ও ২৭৩ শতাংশ বেশি। মোট পুরস্কার মূল্য ২৯৭ শতাংশ বেড়ে ১৩.৮৮ মিলিয়ন ডলার, যা ২০২৩ সালে ভারতে আয়োজিত পুরুষদের ক্রিকেট বিশ্বকাপের মোট পুরস্কার মূল্যের চেয়েও বেশি। ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে হওয়া এই বিশ্বকাপের প্রথম খেলাতেই উপস্থিত দর্শক সংখ্যা ছিল মহিলাদের যে কোনও আইসিসি ইভেন্টের সর্বাধিক। পরে ভারত বনাম নিউজিল্যান্ড ম্যাচে উপস্থিত দর্শক সংখ্যা আরও বেড়ে রেকর্ডটা ভেঙে যায়। ডিজিটাল স্ট্রিমিং-এও প্রতিনিয়ত দর্শক বাড়ছে। এবারের বিশ্বকাপের মিডিয়া কভারেজও অন্যবারের তুলনায় অনেকটা উন্নত।
পড়ুয়া
সৌমিলি নাগ
ক্রিকেটের প্রতি ভারতবাসীর আলাদা আকর্ষণ। জীবনের যখন কোনও অংশে মহিলারা থেমে থাকেনি, সেখানে ক্রিকেটেও যে তারা থেমে থাকবে না তা বলাই বাহুল্য। মহিলা ক্রিকেটের কদর কিছু বছর আগে না থাকলেও আজ তার কদর আকাশ ছুঁয়েছে। প্রত্যেক মহিলা ক্রিকেটার আজ বিশ্বখ্যাত। এর থেকে গর্বের আর কিছু নেই। ঘরে বাইরে কাজ সামলানো ছাড়াও মহিলারা যে ক্রিকেটে এতটা সাফল্য অর্জন করবে, কে ভেবেছিল? দিনে দিনে মহিলা ক্রিকেটর কদর কমছে না, বরং বাড়ছে।
কলেজ পড়ুয়া
নীলেশ নন্দী
বর্তমানে মেয়েদের ক্রিকেট বিশ্বকাপের কদর যে বেড়েছে, তা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের নতুন রেকর্ড দেখলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে। ডিজিটাল মাধ্যমে মাত্র এক দিনে বিশ্বকাপ ২ কোটি ৮৪ লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছেছে। ম্যাচটি দেখাও হয়েছে ১৮৭ কোটি মিনিট। নথি অনুযায়ী এটি নারীদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি দেখা এবং রেটিং পাওয়া ম্যাচ। তাদের পারফরম্যান্সও অসাধারণ! এ বছর পুরস্কারের মূল্যও বেড়েছে ২৯৭ শতাংশ। অর্থাৎ ১২২ কোটি ৫৮
লক্ষ টাকা।
লেখক
বিশ্বজিৎ কর
ছেলেদের ক্রিকেট বিশ্বকাপের আগে অর্থাৎ ১৯৭৩ সালে শুরু হয়েছিল মেয়েদের ক্রিকেট বিশ্বকাপ। ২০২৫ মেয়েদের ক্রিকেট বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা ৮। আগামী ২০২৯ সালে মোট ১০টি দেশ অংশগ্রহণ করবে। যত দিন যাচ্ছে উন্মাদনা বাড়ছে। স্মৃতি মান্ধানা, রিচা ঘোষ, দীপ্তি শর্মা, হরমনপ্রীত কাউরদের পারফরম্যান্স নিয়ে আগ্রহ ও উৎসাহ ক্রমবর্ধমান। মেট্রো, বাস, ট্রেনে মেয়েদের ক্রিকেট বিশ্বকাপ মোবাইলে দেখার তৎপরতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। আলোচনা চলছে, টেনশন সৃষ্টি হচ্ছে। মেয়েদের ক্রিকেট বিশ্বকাপ জনপ্রিয়তার
তালিকায় বেশ সন্তোষজনক স্থানেই বিরাজ করছে।
অবসরপ্রাপ্ত কর্মী
বিপক্ষে
সুপ্রিয়া সেন
বিশ্বকাপ শুরুর বহুদিন আগে থেকেই বিশ্ববাসীর মনে উন্মাদনার সৃষ্টি হয়। কিন্তু সেটা ছেলেদের ক্ষেত্রে। রাস্তা খালি হয়ে যায় সেসময়, সবার চোখ তখন টিভির দিকে। কতদিন আগে থেকে ব্যানারে রাস্তা ভরে থাকে। বিজ্ঞাপনদাতাদের দর্শকের কাছে পৌঁছনোর সুযোগ এটাই। অথচ মেয়েদের ক্ষেত্রে সেটা নেই। মেয়েরা এগচ্ছে ঠিকই কিন্তু সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেনি, যতটা পুরুষ ক্রিকেটাররা পেরেছে। অনেক প্রোডাক্টের বিজ্ঞাপনে দেখি, ‘এটা কিনুন, বিশ্বকাপের টিকিট জিতুন’। কিন্তু মেয়েদের ক্ষেত্রে এমন বিজ্ঞাপন হয় না। তাই মেয়েদের সেই কদর পেতে সময় লাগবে।
শিক্ষিকা
জয় মণ্ডল
এ বছর সারা বিশ্ব যখন
দেবী দুর্গার আরাধনায় মত্ত, সেই আবহে শুরু হয় প্রমীলা বাহিনীর বিশ্বজয়ের অভিযান। কিন্তু মানুষের উন্মাদনা আশানুরূপ নয়। অন্যদিকে দীপাবলি বা কোনও অন্য উৎসবের মধ্যে পুরুষ বিশ্বকাপ হলেও, মানুষ ক্রিকেট উৎসব নিয়ে মেতে থাকে। পুরুষদের প্রথম বিশ্বকাপ হয়েছিল ১৯৭৫ সালে। সেখানে মহিলারা প্রথম বিশ্বকাপ খেলেন ১৯৭৩ সালে। মহিলাদের একদিনের বিশ্বকাপই প্রাচীনতম। তাহলে মহিলা ক্রিকেট নিয়ে বেশি উন্মাদনা থাকার কথা। নারীরা এখন মহাকাশ গবেষণা থেকে শুরু করে সব ধরনের পেশাতে সমান অধিকার পাচ্ছে। কিন্তু ভারতসহ বিশ্বের সবথেকে জনবহুল দেশগুলি এখনও কোনও মহিলা ক্রিকেট বিশ্বকাপ না পাওয়ায় হয়তো তারা মহিলা ক্রিকেট থেকে কিছুটা বিমুখ বলাই চলে।
ডাক্তারি ছাত্র
অনুশ্রী কুণ্ডু
সত্যি কথা বলতে, মেয়েদের ক্রিকেট বিশ্বকাপের কদর একটুও বাড়ছে না। দেশের আমজনতা মেয়েদের ক্রিকেট বিশ্বকাপ নিয়ে মোটেই উৎসাহী নয়। এগারো জন তো অনেক দূরের কথা। ৫ জন মহিলা ক্রিকেট খেলোয়াড়ের নাম অধিকাংশ মানুষ বলতে পারবেন না। দ্রুত গতির ক্রিকেট বিশ্বে মেয়েরা একদমই অচল। কখন যে মেয়েদের ক্রিকেট বিশ্বকাপ আসে যায়, তাও কেউ জানে না। যে বিপুল উৎসাহ পুরুষদের ক্রিকেট বিশ্বকাপে দেখা যায়, তার এক ভগ্নাংশও মেয়েদের ক্রিকেট বিশ্বকাপে দেখা যায় না। মেয়েরা বিশ্বকাপে দারুণ পারফর্ম করলেও পাড়ায় পাড়ায় বাজি ফাটে না।
গৃহ শিক্ষিকা
সুপ্রিয় ঘোড়ই
দর্শকসংখ্যা, পুরস্কারমূল্য প্রভৃতির নিরিখে বিগত বছরগুলির তুলনায় এবারের মেয়েদের ক্রিকেট বিশ্বকাপের চাহিদা কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী। কিন্তু মান বাড়ছে কই? প্রতিযোগিতার পুরস্কারমূল্য বাড়িয়ে মেয়েদের ক্রিকেট সত্তাকে কখনও বাড়ানো সম্ভব নয়। তৃণমূল স্তর থেকে প্রতিভা তুলে আনতে হবে। সম্পূর্ণ নিখরচায় প্রশিক্ষণ দিয়ে রাজ্যস্তর, কেন্দ্রীয় স্তরে তাদের প্রতিভাকে বিকশিত করে বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে তুলে ধরতে হবে। পুরুষ ক্রিকেটের সমতুল্য করে মেয়েদের ক্রিকেট সত্তাকে প্রস্ফুটিত করতে হবে। তবেই সর্বাঙ্গীণভাবে মেয়েদের ক্রিকেট বিশ্বকাপের কদর বাড়বে। তা না হলে শুধু বাইরের চাকচিক্যতে মজলে হবে না। অভ্যন্তরীণ পরিকাঠামোকেও সমান তালে এগিয়ে যেতে হবে।
গৃহশিক্ষক