নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আগামী বছর গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছে উত্তরপ্রদেশে। ওই রাজ্যের পাশাপাশিই আরও বেশ কয়েকটি রাজ্যে আগামী বছর নির্বাচন হবে। তার মধ্যে অন্যতম গুজরাত। কিন্তু ২০২৯ সালের লোকসভা ভোটের পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশের নির্বাচন বিজেপির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেইমতো উত্তরপ্রদেশ নিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক পরিকল্পনা শুরু হয়েছে বিজেপির অন্দরে। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান চমক হতে পারে ওই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থীকেই পাল্টে দেওয়ার মতো বড়োসড়ো চিন্তাভাবনা! ২০২৭ সালের নির্বাচনে কি আর উত্তরপ্রদেশে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থীই হবেন না যোগী আদিত্যনাথ? আপাতত এমন প্রশ্নকে কেন্দ্র করেই বিজেপি শিবিরে তুমুল জল্পনা তৈরি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্যকে উত্তরপ্রদেশে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী করে লড়ানো হতে পারে। সেক্ষেত্রে নিয়ম মেনে মোদি মন্ত্রিসভা থেকে বিজেপির ওই বর্ষীয়ান নেতা পদত্যাগ করবেন। এসংক্রান্ত বিষয়ে পদ্মশিবিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। প্রত্যাশিতভাবেই এব্যাপারে বিজেপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। যাবতীয় চর্চা এবং জল্পনার দায় স্বীকারও করা হয়নি! শেষমেশ যদি সত্যিই যোগী আদিত্যনাথকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী না করা হয়, তাহলে তাঁকে কেন্দ্রে কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়ে আসতে পারে বিজেপির শীর্ষ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সাংসদ করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্বও দেওয়া হতে পারে। অর্থাৎ, ঠিক যেমন করা হয়েছে মনোহরলাল খট্টর কিংবা শিবরাজ সিং চৌহানের ক্ষেত্রে। খট্টর এবং শিবরাজ ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে প্রার্থী হয়ে জিতেছেন। যোগীর ব্যাপারে কোনোরকম চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও পর্যন্ত গ্রহণ করা হয়নি বলেই দাবি করা হয়েছে বিজেপির শীর্ষ সূত্রে। তবে জল্পনা থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
সরকারি কর্মসূচি হোক অথবা সাংগঠনিক কাজ—উত্তরপ্রদেশ নিয়ে জল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা মোদি মন্ত্রিসভার ওই বর্ষীয়ান সদস্য বিগত কয়েক সপ্তাহে একাধিকবার বারাণসী এবং উত্তরপ্রদেশের অন্যত্র গিয়েছেন। দলীয় নেতা-মন্ত্রীদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকও করেছেন। প্রতিটি ক্ষেত্রেই আলোচনার বড়ো অংশেই উঠে এসেছে উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচনের সাংগঠনিক প্রস্তুতি। রাজনীতির আঙিনায় যোগী আদিত্যনাথ প্রথম থেকেই নরেন্দ্র মোদি কড়া ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ হিসাবেই পরিচিত। উত্তরপ্রদেশে যোগী আদিত্যনাথের জনপ্রিয়তাও কম নয়। এই প্রেক্ষিতে তাঁকে সত্যিই মুখ্যমন্ত্রীর দাবিদার থেকে সরিয়ে দিলে তা বিজেপির জন্য হিতে বিপরীত হবে কি না, সেটিও ভাবতে হচ্ছে পদ্মপার্টির শীর্ষ নেতাদের। বিষয়টি নিয়ে তাই মুখে কুলুপ দলের।



