নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘এই এটিএম মেশিনে শূন্য বোতামটা ঠিক কাজ করে না। শূন্যটা জোরে টিপুন।’ টাকা তোলার সময় পিছন থেকে আচমকাই সাহায্য করতে এগিয়ে আসে এক যুবক। তাঁকে দেখে কিছুটা আশ্বস্তই হয়েছিলেন ৮৭ বছরের বৃদ্ধ। কিন্তু সেই সাহায্যের হাতই প্রবীণ গ্রাহকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সাফ করে দিল! সাহায্যের নাম করে প্রথমে পিন ‘চুরি’, তারপরে এটিএম কার্ড বদল। কিছুক্ষণের মধ্যেই বৃদ্ধের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে গায়েব হয়ে যায় ৪০ হাজার টাকা। মোবাইলে টাকা ডেবিটের মেসেজ পেয়েই হকচকিয়ে যান বৃদ্ধ। ছুটে যান পর্ণশ্রী থানায়। প্রতারিত বৃদ্ধের নাম প্রহ্লাদচন্দ্র মণ্ডল। পর্ণশ্রী থানা এলাকার হো চি মিন সরণির বাসিন্দা তিনি। তাঁর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতারণার মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ১৫ অক্টোবর ঘটনাটি ঘটে। চৌরাস্তার বকুলতলায় একটি বেসরকারি ব্যাংকের এটিএমে টাকা তুলতে যান বৃদ্ধ। তিনি এটিএম কাউন্টারে টাকা তোলার জন্য লাইন দেন। লাইনে তাঁর পিছনেই দাঁড়ায় অভিযুক্ত যুবক। বৃদ্ধ যখন টাকা তুলতে যাবেন, তখন সেই যুবক জানায়, ওই মেশিনে কিছু ত্রুটি রয়েছে। তার কথা বিশ্বাস করেন বৃদ্ধ। তখন সাহায্যের অছিলায় বৃদ্ধের পিন নম্বরে যে ‘শূন্য’ সংখ্যাটি রয়েছে, তা দেখে নেয় অভিযুক্ত। পুলিশের অনুমান, প্রথমেই পিনের চারটি সংখ্যা দেখতে পারেনি সে। তাই ‘শূন্যটা জোরে টিপুন’ বলে পুনরায় পিন দেওয়ার জন্য বৃদ্ধকে পরামর্শ দেয়। তার কথা মতো ফের পিন দেন প্রহ্লাদবাবু। তখন পিনের চারটি সংখ্যাই দেখে নেয় অভিযুক্ত। প্রয়োজনমতো টাকা তোলেন বৃদ্ধ। এটিএম মেশিন থেকে টাকা বেরিয়ে এলে আগে গুনে নেওয়ার পরামর্শ দেয় অভিযুক্ত। বৃদ্ধ যখন টাকা গুনতে শুরু করেন, সেই ফাঁকে এটিএম থেকে বৃদ্ধের কার্ড বার করে নিজের কাছে থাকা অন্য একটি কার্ড ঢুকিয়ে দেয় সে। দু’টি কার্ডই একই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের হওয়ায় ফারাক বুঝতে পারেননি প্রহ্লাদবাবু। কার্ড বদলে নিয়ে দ্রুত এটিএম থেকে বেরিয়ে যায় যুবক। ঘণ্টাখানেক পর মোবাইলে মেসেজ পান বৃদ্ধ। তিনি দেখেন, তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ৪০ হাজার টাকা তোলা হয়েছে। কিন্তু এটিএম কার্ড তো তাঁর কাছেই আছে। তাহলে সেটি ব্যবহার হল কীভাবে? দ্রুত তিনি নিজের কাছে থাকা কার্ডটি বার করে দেখতেই বুঝতে পারেন, প্রতারকের খপ্পরে পড়ে গিয়েছেন। তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন, এটিএম কার্ডটিতে লেখা আছে ‘রাজকুমার দাস’। প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে ব্যাংকে গিয়ে প্রহ্লাদবাবু নিজের এটিএম কার্ড ব্লক করান। পুলিশ জানিয়েছে, বকুলতলার এটিএমের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। চৌরাস্তা মোড়ের একটি এটিএম থেকে টাকা তোলা হয়েছিল। সেখানকার এটিএমের ফুটেজও সংগ্রহ করা হয়েছে। দু’টি মিলিয়ে দেখা হবে। একইসঙ্গে যে এটিএম কার্ডটি বৃদ্ধকে দেওয়া হয়েছিল, সেটি আসলে কার, তাও জানার চেষ্টা চলছে।



