অলকাভ নিয়োগী, বিধাননগর: বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব মিটতেই কলকাতা এয়ারপোর্ট লাগোয়া নারায়ণপুরে শুরু হয়ে গিয়েছে কালীপুজোর কাউন্ট ডাউন। এবারের পালাবদলে একদা ‘তৃণমূলের গড়’ নামে পরিচিত রাজারহাট-নিউটাউন এলাকাতেও ফুটেছে পদ্মফুল। জয়ের ব্যবধান অবশ্য ৩১৬ হলেও শেষ হাসি হেসেছে বিজেপি। তবে, কালীপুজোর উদ্বোধনে এবার অন্য ছবি। কেন? তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক তাপস চট্টোপাধ্যায়ের কালীপুজো এবার ৫০ বছরে পড়ছে। সেই পুজোর উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তাপসবাবু। তা নিয়ে শুরু হয়েছে গুঞ্জনও। রাজনৈতিক সৌজন্য? নাকি সমীকরণ বদল!
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৎকালীন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছিলেন তাপসবাবু। রাজারহাট-নিউটাউন কেন্দ্র থেকে তিনি ৫৬ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে তাপসবাবু দ্বিতীয়বার এই কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে ছিলেন বিজেপির পীযূষ কানোরিয়া। গণনা এবং পুনর্গনণার পর শেষমেশ ৩১৬ ভোটে পীযূষবাবুকে জয়ী ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তা নিয়ে অভিযোগও রয়েছে তাপসবাবুর। সেই জয়-পরাজয়ের পর কেটে গিয়েছে বেশ কয়েকমাস। এরই মধ্যে কালীঘাট শিবির বদলে ২১ জুলাইয়ের আগে তাপসবাবু ‘ঋত শিবিরে’ শামিলও হয়েছিলেন। তিনি এখন ‘ভালো তৃণমূল’!
নারায়ণপুরের লালকুঠিতে তাপসবাবুর নিজের বাড়ি। সেখানেই নেতাজি সংঘের কালীপুজো বিখ্যাত। ক্লাবের পুজো হলেও এলাকার লোকের মুখে তাপসবাবুর কালীপুজো নামেই পরিচিত। দুর্গাপুজোর মতো অভিনব ও নতুন নতুন থিম নিয়ে হাজির হয় এই ক্লাব। এবার সুবর্ণজয়ন্তী। পুজোর ৫০তম বর্ষ। গত ৯ আগস্ট কালীপুজোর খুঁটিপুজোও অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখন পুরোদমে চলছে মণ্ডপ তৈরির কাজ। ‘চিহ্ন’ থিমেই সেজে উঠছে মণ্ডপ। ৫০ বছরে পুজোর সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষ বদলেছেন, সমাজ বদলেছে, সময় বদলেছে। কিন্তু, রয়ে গিয়েছে বেশ কিছু স্মৃতিচিহ্ন। তারই প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠবে মণ্ডপে।
৫০ বছরের পুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল এক বছর আগে। তখনই ঠিক হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রীর হাত দিয়েই ৫০ তম বর্ষে পুজোর উদ্বোধন হবে। পালাবদল হলেও সিদ্ধান্ত একই রয়েছে। তাই তাপসবাবু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এখন অবশ্য উদ্বোধনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়নি। তাপসবাবু বলেন, এতে রাজনীতির কোনো ব্যাপার নেই। আমাদের নেতাজি সংঘ ক্লাবও অরাজনৈতিক ক্লাব। আমি বহু বছর ধরে এই ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত। আমরা চাই, মুখ্যমন্ত্রীর হাত দিয়ে আমাদের সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষের উদ্বোধন হোক। তাই তাঁকে আমন্ত্রণ
জানানো হয়েছে।



