নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ২০১৯ সাল থেকে বন্ধ রয়েছে পোদড়া-মেটিয়াবুরুজ (রাজাবাগান) ফেরি পরিষেবা। অবশেষে ওই পরিষেবা ফের চালুর পথে বাধা কাটতে চলেছে। আদালতের নির্দেশে নতুন ফেরিঘাট তৈরি হলেও সত্যেন বসু রোড থেকে পোদড়া ঘাট পর্যন্ত সংযোগকারী রাস্তা না থাকায় এতদিন পরিষেবা চালু করা যাচ্ছিল না। দুর্গাপুজোর নবমীতে সেই রাস্তা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। প্রায় ২০০ মিটার দীর্ঘ রাস্তার নির্মাণ তিন মাসের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। রাস্তা তৈরি হলেই ফেরি পরিষেবা চালুর পথ প্রশস্ত হবে।
সাঁকরাইলের পোদড়ায় নতুন ফেরিঘাট নির্মাণের পর সেখানে সোলার লাইটসহ একাধিক আধুনিক ব্যবস্থাও করা হয়। কিন্তু সংযোগকারী রাস্তার অভাবে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়েছিল ঘাটটি। শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন দপ্তরে বিষয়টি জানানো এবং রাজ্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের হস্তক্ষেপে রাস্তা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কার্যকারিণী কমিটির সদস্য ইন্দ্রদেব দেব দুবেও এমনটাই জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, ফেরিঘাট তৈরি হয়ে গেলেও নানা জটিলতায় রাস্তার কাজ আটকে ছিল। বিষয়টি বিভিন্ন দপ্তরে জানানোর পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই এবং পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিংকে জানানো হয়। নবমীর দিন কাজ শুরু হয়েছে।
ফেরি পরিষেবা বন্ধ থাকায় গত কয়েক বছর ধরে ভুগে চলেছেন পাঁচপাড়া, ধুইলা, উনসানি ও বাঁকড়ার বহু বাসিন্দা। তাঁদের অনেকেই প্রতিদিন গঙ্গা পেরিয়ে রাজাবাগান ঘাটে যাতায়াত করতেন। যাত্রীদের বড়ো অংশ বস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। কেউ দর্জি, কেউ ওস্তাগর। মেটিয়াবুরুজের ব্যবসায়ীদের কাছে তৈরি পোশাক বিক্রি করা কিংবা নতুন কাজের বরাত আনতে তাঁদের নিয়মিত যাতায়াত করতে হয়। ফেরি বন্ধ থাকায় ঘুরপথে মেটিয়াবুরুজে পৌঁছাতে বেশি সময় ও অর্থ খরচ হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা অশোক বক্সীর কথায়, ‘রাস্তা তৈরি হয়ে ফেরি পরিষেবা চালু হলে হাটের ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি বহু সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন।’ স্থানীয়দের আশা, নির্ধারিত সময়ে রাস্তার কাজ শেষ হলে দীর্ঘদিনের যাতায়াতের ভোগান্তি কমবে। গঙ্গা পারাপারের পুরানো সুবিধা ফিরে এলে ব্যবসার কাজেও গতি আসবে। নিজস্ব চিত্র



