এসআইআর সফটওয়্যারের তথ্য দিতেও নারাজ কমিশন
  • ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: এসআইআর নিয়ে বিতর্ক থামছেই না। একের পর এক সংবাদ প্রতিবেদনে ভোটারদের নাম বাতিলে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ ওঠায় কাঠগড়ায় নির্বাচন কমিশন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে রাস্তায় নেমেছে ছাত্র-যুব, ককরোচ, এমনকি বিরোধী দলগুলিও। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তি, বিজেপি কর্মীদের ভূরি ভূরি ‘ফর্ম ৭’ (নাম বাদ দেওয়ার জন্য) আবেদন গ্রহণ করা ইত্যাদি নানা ইস্যুতে এখন টালমাটাল পরিস্থিতিতে কমিশন। তবু শাক দিয়ে মাছ ঢাকার আপ্রাণ চেষ্টা চলছে। সম্প্রতি তথ্য জানার অধিকার (আরটিআই) আইনে এসআইআরে ব্যবহৃত ‘বিতর্কিত’ ইসিআইনেট সফটওয়্যার নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছিল। তার উত্তর দিতে কার্যত অস্বীকার করেছে কমিশন। কিন্তু কেন? কমিশনের সাফাই— এসআইআরে ব্যবহৃত সফটওয়্যারের নাম, ভার্সন ও বিস্তারিত তথ্য দেওয়া যাবে না। কারণ, এটি ট্রেড সিক্রেট, অর্থাৎ বাণিজ্যিক গোপনীয়তার বিষয়। রবিবার এক সর্বভারতীয় সংবাদপত্রে এই সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হতেই দেশজুড়ে উঠেছে সমালোচনার ঝড়। কংগ্রেসের কটাক্ষ, এখনও নানা অজুহাত দিয়ে তথ্য গোপনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। তবে জ্ঞানেশ কুমারের পক্ষে নিজের কুকর্ম লুকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তিনি আর পালিয়ে বাঁচতে পারবেন না।

Advertisement

তেলেঙ্গানার করিমনগরের সমাজকর্মী এম এ মুজিব আয়ুব আরটিআই আইনে ওই আবেদন জানিয়েছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন, ভোটার তালিকায় ত্রুটি চিহ্নিত করতে ব্যবহৃত সফটওয়্যারটির নাম কী? সেটি কোন ভার্সনের? সেখানে কোনো অ্যাপ্লিকেশন বা এআই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হয়েছিল কি? ভোটার তালিকার যাচাই, সংশোধন ও নাম বাদের ক্ষেত্রে সেই সিস্টেম কি নিজে থেকেই ত্রুটিগুলিকে শনাক্ত করে? নাকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নেয়? সফটওয়্যারে কী ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা ছিল? ভোটার তালিকায় অসংগতিগুলির পর্যালোচনাই বা করেছিলেন কারা? গত ১৬ অক্টোবর সেই আবেদনের উত্তর দিতে গিয়ে আরটিআই আইনের ৮(১)(ডি) ধারার উল্লেখ করেছে কমিশন। বলা হয়েছে, সফটওয়্যার সংক্রান্ত তথ্য প্রদান বাণিজ্যিক গোপনীয়তার বিষয়। মেধাস্বত্বের সঙ্গেও সম্পর্কিত। সংশ্লিষ্ট ধারা অনুসারে বাণিজ্যের গোপন তথ্য প্রকাশ করা যাবে না। এটি ওই সফটওয়‌্যার নির্মাণকারী সংস্থাকে বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে দিতে পারে। পরে কমিশনের আরও সংযোজন, এসআইআরের জন্য আলাদা করে কোনো সফটওয়্যারকে কাজে লাগানো হয়নি। যাবতীয় নথি ও তথ্য খতিয়ে দেখে ভোটারের নাম সংযোজন বা বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ইআরও। নির্দিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় ইআরও-ই এই কাজের জন্য দায়বদ্ধ।
এআই, মেশিন লার্নিং, সুরক্ষা ব্যবস্থা সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়েও আইনি ধারা টেনে এনেছে কমিশন। বলা হয়েছে, এখানে বিষয়টির ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। আরটিআই আইনের ২(এফ) ধারায় ব্যাখ্যা চাওয়ার বিষয়টি ‘তথ্য’ হিসাবে গণ্য করা যায় না। প্রশ্ন ছিল— কারা ত্রুটিগুলি পর্যালোচনা করেছিলেন? ৮(১)(জি) ধারা উল্লেখ করে কমিশন জানিয়েছে, যে তথ্য প্রকাশ করলে কারও নিরাপত্তা বিপন্ন হতে পারে, তা সর্বসমক্ষে জানানো থেকে বিরত থাকা যায়। অর্থাৎ এখানেও ঘুরিয়ে চুপ থেকেছে নির্বাচন কমিশন। 
জ্ঞানেশ কুমারের এভাবে জবাব এড়িয়ে যাওয়া নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লেখেন, ‘বিতর্কিত ইসিআইনেট সফটওয়্যার নিয়ে তথ্য লুকানোর চেষ্টা করছে কমিশন। এনিয়ে কিন্তু নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশিও আপত্তি করেছিলেন। কমিশনের অন্দরে স্বচ্ছতার অভাব নির্বাচনি প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতাকে ধ্বংস করেছে। অবিলম্বে এসআইআর বন্ধ করতে হবে। জ্ঞানেশ কুমারকেও পদ থেকে সরতে হবে।’ আক্রমণ শানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা পবন খেরাও। তাঁর বক্তব্য, জ্ঞানেশ বড়ো মাপের ‘ক্রিমিনাল’। রাষ্ট্রদ্রোহের মতো অপরাধ করেছেন। জ্ঞানেশবাবুর পক্ষে আর নিজের কুকর্ম লুকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। ভয়ংকর পরিণাম অপেক্ষা করছে তাঁর জন্য।