নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আগামী নভেম্বর মাস থেকে রাজ্যজুড়ে ২০২৫-২৬ খরিফ মরশুমে কৃষকদের কাছ থেকে সরকারি উদ্যোগে ধান কেনার কাজ শুরু হবে। এই প্রক্রিয়ায় যাতে আরও বেশি সংখ্যক কৃষককে যুক্ত করা যায় তার জন্য জেলা প্রশাসন ও ধান কেনার কাজে যুক্ত সরকারি সংস্থাগুলিকে এখন থেকে সক্রিয় উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দিয়েছে খাদ্যদপ্তর। সম্প্রতি ধান কেনা নিয়ে জেলা শাসক ও সরকারি সংস্থাগুলির আধিকারিকদের সঙ্গে খাদ্যদপ্তরের বৈঠক হয়। ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষসহ দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকরা ছিলেন। ২০২৪-২৫ খরিফ মরশুমে রাজ্যে রেকর্ড পরিমাণ ধান সরকারি উদ্যোগে কৃষকদের কাছ থেকে কেনা হয়েছে। মোট কেনা ধানের পরিমাণ ছিল ৫৬ লক্ষ ৩৩ হাজার টন। এই ধান থেকে উৎপাদিত চালের ৯২ শতাংশ সরকারের গুদামে জমা পড়ে গিয়েছে। খাদ্যমন্ত্রী বৈঠকে বলেন, জেলা প্রশাসন, সরকারি সংস্থা ও জেলা পর্যায়ের খাদ্যদপ্তরের কর্মী ও আধিকারিকদের উদ্যোগ ছাড়া এই সাফল্য আসত না।
এই বৈঠকে নতুন খরিফ মরশুমে ধান কেনার প্রক্রিয়া চালানোর জন্য বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। গত মরশুমের মতো এবারও ৬৭ লক্ষ টন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করেছে সরকার। ২০২৩-২৪ খরিফ মরশুমে ১২ লক্ষ ৯৯ হাজার কৃষকের নাম নথিভুক্ত হয়েছিল ধান কেনার জন্য। পরের মরশুমে তা বেড়ে ১৬ লক্ষ ৪৫ হাজার হয়। এবার নথিভুক্ত কৃষকের সংখ্যা যাতে আরও বাড়ে তার জন্য এখন থেকে উদ্যোগ নিয়েছে খাদ্যদপ্তর। তার জন্য কৃষকবন্ধু প্রকল্পে নথিভুক্ত কৃষকদের সরকারের কাছে ধান বিক্রি করার জন্য আরও উৎসাহিত করতে উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে আধিকারিকদের। কৃষকবন্ধু প্রকল্পে নথিভুক্ত কৃষকের সংখ্যা এখন ১ কোটি ছাড়িয়েছে। এই কৃষকদের অন্তত ৩০-৪০ শতাংশ যাতে সরকারের কাছে ধান বিক্রি করার জন্য নাম নথিভুক্ত করেন তার জন্য উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। এই প্রক্রিয়া জেলা প্রশাসন, কৃষি ও সমবায় দপ্তর এবং বিশেষ করে বিডিওদের সক্রিয় হতে হবে। কৃষকবন্ধু প্রকল্পের নথিভুক্তদের মোবাইলে ফোন করে তাঁদের সরকারের কাছে ধান বিক্রি করার জন্য অনুরোধ করতে বলা হয়েছে। কৃষকবন্ধু প্রকল্পের বাইরে থাকা চাষিদের কাছ থেকেও ধান কেনা হবে। তবে তাদের জমির আয়তন ও ফলনের পরিমাণ কৃষিদপ্তরের স্থানীয় আধিকারিকদের থেকে খতিয়ে দেখতে হবে। কৃষকের নামে যাতে অন্য কেউ ধান বিক্রি না করতে পারে সেদিকে সতর্ক নজর রাখতে বলা হয়েছে।