নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নিট কাণ্ডের জেরে উত্তপ্ত কলকাতা। আজ, শুক্রবার দুপুর ৩টের পর থেকেই শহরের একাধিক জায়গায় বাঁধভাঙা ছাত্র মিছিল দেখা যায়। পতাকা, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড হাতে হাঁটতে দেখা যায় পড়ুয়াদের। দাবি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে ইস্তফা দিতে হবে। এরপর ডোরিনা ক্রসিংয়ে বিক্ষোভকারী এবং পুলিশের সঙ্গে ধুন্ধুমার হয়। সিজেপি এবং বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের বিক্ষোভে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে যায় শিয়ালদহ, মৌলালি চত্বর। ধর্মতলা কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশ আন্দোলনকারীদের রোখার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে ওঠে। পুলিশ কর্মীদের লক্ষ্য করে জুতো, বোতল ছোঁড়া হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি সামলাতে জল কামান, কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোঁড়ে পুলিশ। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বাধ্য হয়ে র্যাফ নামানো হয়।
সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে কার্যতই বন্ধ হয়ে যায় ধর্মতলায় গাড়ি চলাচল। ডোরিনা ক্রসিংয়ে ব্যাপক ভিড় দেখা যায়। জমায়েতকারীদের রানি রাসমনি অ্যাভিনিউয়ের দিকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন পুলিশ কর্মীরা। বিক্ষোভকারীদের লাঠি উঁচিয়ে তাড়া করা হয়। শেষে রানি রাসমণিতে বসার অনুমতি দেওয়া হয় আন্দোলনকারীদের। একপ্রকার বাধ্য হয়েই গার্ডরেল সরায় পুলিশ। তবে এদিনের গোলমালের জেরে পুলিশ বা আন্দোলনকারীদের কেউ আহত হয়েছেন কী না তা অবশ্য এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি। জানা গিয়েছে, গত ১৯ জুলাই নিট কাণ্ডের জেরে কলকাতায় মিছিল করতে চেয়ে একটি মেল পাঠানো হয়েছিল পুলিশের কাছে। যা নাকচ করে দেওয়া হয়। এরপর ফের ২৪ জুলাই মিছিলের আবেদন জানিয়ে একটি মেল করা হয়েছিল পুলিশের কাছে। তাতে রানি রাসমণি অ্যাভিনিউ পর্যন্ত মিছিলের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল।
অন্যদিকে, গত ২১ জুলাইয়ের মঞ্চেই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন দিল্লি যাবেন তিনি। সিজেপি এবং আন্দোলনরতদের সঙ্গে দেখা করবেন। সেই ঘোষণাও আজ কার্যকর হয়েছে। এদিন মমতা জানান, আগামী সোমবার রাজধানীতে যাচ্ছেন তিনি। যন্তর মন্তরে যাবেন। দেখা করবেন ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থকদের সঙ্গেও। তবে তিনি বিক্ষোভে শামিল হবেন কি না সেই বিষয়ে অবশ্য এখনও পর্যন্ত কিছু জানা যায়নি।