নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পরিষেবা হবে নার্সিংহোম বা পাঁচতারা কর্পোরেট হাসপাতালের মতো। ঝাঁ-চকচকে, প্রথম সারির। অথচ খরচ প্রথম সারির প্রাইভেট হাসপাতালের অর্ধেকেরও কম। মঙ্গলবার এসএসকেএমে প্রস্তাবিত সেই ১৩১ কেবিনের (এইচডিইউ-সিসিইউ সহ) সুসজ্জিত ১০তলা হাসপাতালের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরকারি হাসপাতাল চত্বরে প্রাইভেট কেবিনের সুবিধাযুক্ত পৃথক হাসপাতাল রয়েছে দেশের শুধু দিল্লি এইমসে। এ জে সি বোস রোড ফ্লাইওভার লাগোয়া এই নতুন হাসপাতালটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘অনন্য’। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসে মমতা বলেন, ‘পিজির ডাক্তার-নার্সরাই এখানে চিকিৎসা করবেন। এই হাসপাতাল বড় বড় প্রাইভেট হাসপাতালকেও টক্কর দেবে।’ সিঙ্গল কেবিন ভাড়া দিনে ৫ হাজার টাকা, সুইট ৮ হাজার, এইচডিইউ ১২ হাজার টাকা এবং সিসিইউ/আইটিইউয়ের ভাড়াবাবদ রোজ দিতে হবে ১৫ হাজার টাকা। মমতা বলেন, ‘প্রস্তাবে এর থেকে বেশি ভাড়া নেওয়ার কথা বলেছিল। আমি ২ হাজার টাকা কম করেছি। আর ক্রিটিক্যাল কেয়ার বেডের ভাড়ার মধ্যে সমস্ত খরচই থাকবে। লভ্যাংশের একটি অংশ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা পাবেন। তাঁর কথায়, ‘কিছুদিন অন্তর ফের ভাড়া এবং অন্যান্য খরচ রিভিউ হবে।’ পিজি সূত্রের খবর, ২০২৩ সালের ২৩ নভেম্বর প্রকল্পটি শুরু হয়। জি প্লাস নাইন বা ১০তলা বাড়ির সর্বোচ্চ তলায় থাকবে আটটি ভিআইপি সুইট। বাকি হাসপাতালজুড়ে থাকবে ১০২টি সুসজ্জিত কেবিন। এই ১১০টি কেবিন ছাড়াও থাকছে ৫টি এইচডিইউ এবং ১৬টি আইসিইউ বেড। কয়েকটি রিকভারি বেডও থাকছে। পুজোর আগেই চারতলা পর্যন্ত কয়েকটি কেবিন চালু হবে। চিকিৎসা শুরু হবে কয়েকটি বিভাগের আউটডোরও। সেখানে ডাক্তার দেখানোর ফি কমবেশি সাড়ে তিনশো টাকা। তবে এটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আর বিভিন্ন ধরনের বেড ভাড়ার মধ্যে চিকিৎসকদের ফি এবং খাওয়াদাওয়ার খরচ ধরা থাকছে। বাদ শুধু রোগ পরীক্ষা ও ওষুধের খরচ। অপারেশন হবে প্যাকেজে। স্বাস্থ্যসাথি কার্ডে এই হাসপাতালের খরচ মেটানো যাবে বলে জানিয়েছেন মমতা।



