নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সরকারি উদ্যোগে চাষির কাছ থেকে ধান কেনার কাজে গতি বাড়াতে জেলাশাসকদের সক্রিয় হতে বললেন খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ। মঙ্গলবার খাদ্যশ্রী ভবন থেকে জেলাশাসকদের সঙ্গে এক ভিডিয়ো কনফারেন্স করেন রথীনবাবু। এমাস থেকে রাজ্যজুড়ে চাষিদের কাছ থেকে ধানক্রয় শুরু হয়েছে। এমাসে নতুন ধান কমই ওঠে। নভেম্বরেই সরকারের ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা ৫ লক্ষ টন। ডিসেম্বর থেকে লক্ষ্যমাত্রা অনেকটাই বেড়ে যাবে। ২০২৫-২৬ খরিফ মরশুমে সর্বমোট ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা ৬৭ লক্ষ টন। জেলাশাসকদের এই তথ্য জানিয়ে ক্রয়ের পরিমাণ এখন থেকেই বৃদ্ধির উপর বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে। এমাসে এখনও পর্যন্ত ২ লক্ষ ২৭ হাজার টন ধান কেনা হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনা থেকে সর্বাধিক ৪২ হাজার টন ধান কিনেছে সরকার। তুলনায় পিছিয়ে ধান উৎপাদনে অগ্রণী জেলা পূর্ব বর্ধমান।
ক্রয় প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত অনেকে মনে করছেন, চাষিদের থেকে একদফায় ধান কেনার পরিমাণ এবার ১৫ কুইন্টালে বেঁধে রাখার জন্য গতি কিছুটা মন্থর আছে। গতবছর এটা ৩০ কুইন্টাল ছিল। গতবছর নভেম্বরের এইসময়ে তুলনামূলকভাবে বেশি পরিমাণে ধান কেনা হয়েছিল। ফড়েদের দূরে সরিয়ে প্রকৃত ছোট ও প্রান্তিক চাষিদের কাছ থেকে ধান কেনার উপর জোর দিয়েছে সরকার। এই কারণে প্রতিদফায় ধান কেনার পরিমাণ কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে বলে খাদ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। একজন চাষি অবশ্য আগের মতো গোটা মরশুমে মোট ৯০ কুইন্টাল ধান সরকারের কাছে বেচতে পারবেন। তবে চাষির জমির পরিমাণ এবং সেখানে কত ধান উৎপাদন হতে পারে সেটা খতিয়ে দেখে নেওয়া হবে। ফড়েদের আটকাতেই এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে খাদ্যদপ্তর।
ধান কেনার সঙ্গে সঙ্গেই মিলে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ধান পাওয়ার ১৫ দিন পর থেকে সরকারের কাছে চাল সরবরাহ করার কথা। তবে রাইস মিলেই ওই চালের সঙ্গে এফআরকে (ফর্টিফায়েড রাইস কারনেল) মিশিয়ে পুষ্টিকর চাল উৎপাদন করতে হবে। মিল মালিক সংগঠনের সভাপতি আব্দুল মালেক জানান, কেন্দ্রের নির্দেশমতো টেন্ডার ডেকে এফআরকে কিনতে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি হতে পারে। এই জটিলতার বিষয়টি তাঁরা খাদ্যদপ্তরকে জানাচ্ছেন।