প্রীতেশ বসু, বোলপুর: ‘...বাংলা আমার দৃপ্ত স্লোগান, ক্ষিপ্ত তির ধনুক, আমি একবার দেখি, বার বার দেখি, দেখি বাংলার মুখ...’—প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের বিখ্যাত এই গান বাজছে বীরভূম জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ে। বোলপুরজুড়ে একই চিত্র। বিদ্যাসাগর, বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ, নেতাজি থেকে শুরু করে নজরুলের মতো মনীষীদের ছবিতে মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা শহর। বিশেষ করে টুরিস্ট লজ মোড় থেকে জামবনি মোড় পর্যন্ত দীর্ঘ রাস্তার দু’পাশ মুড়ে ফেলা হয়েছে ধর্মনিরপেক্ষতার দৃষ্টান্তে আর বাংলা ভাষার গৌরবগাথায়। কারণ, ভাষাসন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সোমবার এই পথ ধরেই সাধারণ মানুষের সঙ্গে পায়ে পা মেলাবেন বাংলার ‘অগ্নিকন্যা’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি হুংকার দিতে পারেন বাংলা বিরোধীদের রাজনৈতিক বিসর্জনের জন্য।
২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে ‘ভাষা আন্দোলন’-এর ডাক দিয়েছেন জননেত্রী। এই আন্দোলনে তাঁর প্রথম মিছিলের জন্য তিনি বেছে নিয়েছেন রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতনের মাটিকে। মিছিল শেষে এই মাটি থেকেই ‘বাংলা ভাষার অপমান বরদাস্ত না করার’ বার্তা দেবেন তৃণমূল সুপ্রিমো। এই মেগা কর্মসূচি থেকেই বেঁধে দেবেন দলের ভবিষ্যৎ রাজনীতির অভিমুখ।
রবিবার সন্ধ্যায় বোলপুর এসে পৌঁছেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সোম ও মঙ্গলবার রয়েছে ঠাসা কর্মসূচি। তবে গোটা রাজ্যের চোখ রয়েছে মূলত তাঁর ভাষা আন্দোলনের মিছিলের দিকে। কারণ, ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এটা বাংলার অস্তিত্বের লড়াই। নেতৃত্বে মুখ্যমন্ত্রীই স্বয়ং। সোমবার গীতাঞ্জলি প্রেক্ষাগৃহে প্রশাসনিক বৈঠক সেরে দুপুর ৩টে নাগাদ তিনি যোগ দেবেন মিছিলে। লক্ষাধিক মানুষের জমায়েতের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে জেলা নেতৃত্ব। তবে অন্যান্য মিছিল থেকে একটু অন্যভাবে সাজানো হচ্ছে এই পদযাত্রাকে। শুরুতেই থাকছে বাংলা বইয়ের আদলে তৈরি একটি ট্যাবলো। বইটির ঠিক মাঝে শান্তির বার্তা হিসেবে থাকবে একটি সাদা পায়রার মূর্তি। বইটির উপর বাংলা ভাষাকে কেন্দ্র করে লেখা থাকবে একাধিক স্লোগান। যেমন—‘আমরা বাঙালি, বাংলা আমার মা’, ‘আমার ভাষা বাংলা ভাষা, বাংলা আমার মা’, ‘ভাষা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বাংলাবাসী এক হন...এক হন’, ‘এ লড়াই বাংলার লড়াই, এ লড়াই বাঙালির লড়াই’, ‘যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ রাখিব বাঙ্গালীর মান’ প্রভৃতি। এছাড়া ট্যাবলোর চারিদিকে থাকবে মনীষীদের বড় বড় কাট আউট। মিছিলের রুটেই থাকছে ১২টি জায়ান্ট স্ক্রিন ও ২৮টি অস্থায়ী তোরণ। মিছিলে হাঁটবেন হরিনাম দলের সদস্যরা, মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ, আদিবাসী, খেলোয়াড়, ছৌ শিল্পী এবং এলাকার বিশিষ্ট জনেরা।
এই মিছিলকে ঘিরে রবিবার থেকেই রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে সারা বীরভূমে। এদিন নানুর শহিদ দিবসে যোগ দেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এবং মন্ত্রী মলয় ঘটক। তাঁদের গলাতেও উঠে এসেছে গেরুয়া শিবিরের বাংলা-বিরোধী চক্রান্তের তত্ত্ব। এই চক্রান্তের রহস্য বোলপুরের মিছিল থেকেই ফাঁস করে একসঙ্গে চলার বার্তা দেবেন মমতা। বীরভূমে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে ইতি টানতে, ছাব্বিশের নির্বাচনকে পাখির চোখ করে কী বার্তা দেন নেত্রী, সেদিকেও নজর এখন সকলের।