Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সরকারি জমি দখল করে বৈভব তৃণমূল নেতাদের, ক্ষোভে ফুঁসছেন বর্ধমান শহরবাসী

বর্ধমানে সরকারি জমি দখল করে বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন তৃণমূল নেতারা। এলাকার বাসিন্দাদের ক্ষোভ বাড়ছে। বিস্তারিত পড়ুন।

সরকারি জমি দখল করে বৈভব তৃণমূল নেতাদের, ক্ষোভে ফুঁসছেন বর্ধমান শহরবাসী
  • ১০ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: সরকারি জমিও প্লট করে বিক্রি করে দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা। বর্ধমান শহরের সাত-আটজন কাউন্সিলার সরকারি জমি মৌখিকভাবে বিক্রি করে বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। গোলাপবাগ বা নার্স কোয়াটারের সামনে দোকান বসানোর জন্য ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। ওই টাকার বিনিময়ে কতটা জমি পাওয়া যাবে, তা ওই কাউন্সিলারই ঠিক করে দিতেন। নবাবহাট, গোদা সহ বিভিন্ন এলাকায় সরকারি জমি জবর দখলের অভিযোগ রয়েছে। গোদা এলাকায় জলাশয় ভরাট করেও তা দখল করা হয়েছে। তাঁরা শহরের বাইরেও বহু জমি প্লট করে বিক্রি করেছেন। 

Advertisement

অবৈধ এই কারবার করে তাঁরা বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। আত্মগোপন করে থাকা গোদার ওই নেতার নামে বেনামে বহু জমি রয়েছে। এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, সরকারি জমিও তিনি নিজের নামে করে নিয়েছেন। জলাশয়ের রেকর্ডও বদলে দিয়েছেন। বাবুরবাগ এলাকার এক কাউন্সিলার সরকারি জমি দখলে রেখে ফুলেফেঁপে উঠেছেন। ভোটের ফল বেরনোর পর থেকে তিনি অবশ্য আত্মগোপন করে রয়েছেন। পুলিশ তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে। তাঁর নামে এক যুবতীকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সেই সময় প্রভাবশালীদের হাত মাথার উপর থাকায় তিনি রক্ষা পান। কিন্তু, তৃণমূল হেরে যাওয়ার পর সেই প্রভাবশালীদের অনেকেই শ্রীঘরে চলে গিয়েছে। প্রভাবশালীদের ‘রক্ষাকবচ’ উঠে যাওয়ায় তিনি বিপাকে পড়ে গিয়েছেন। বাজেপ্রতাপপুরের এক নেতার বিরুদ্ধেও জমি সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। বর্ধমান-১ ব্লকের তৃণমূলের সভাপতি মানস ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধেও এধরনের অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ তাঁকে অন্য কেসে গ্রেপ্তার করেছে।  
এলাকার বাসিন্দারা বলেন, যাঁদের তাঁরা সরকারি জমি দিয়েছে, তাঁরা আর্থিকভাবে দুর্বল। কোনোরকমে টাকা জোগাড় করে তাঁরা ওই প্রভাবশালীদের হাতে তুলে দিয়েছেন। বাঁকার পাড়ও দখল হয়েছে। বর্ধমান-১ ব্লকেও এই চক্রটি সক্রিয় ছিল। এই নেতারা খাতা কলমে জলাশয়ের চরিত্র বদলে দিয়েছে। মেমারি, মন্তেশ্বর, মঙ্গলকোট সহ বিভিন্ন এলাকায় একজনের জমি অন্যজনের নামে করে দেওয়া হয়েছে। টাকার বিনিময়ে এক শ্রেণির সরকারি আধিকারিকরা নকল দলিল তৈরি করে দিয়েছে। পালা বদলের পর ভূমি ও ভূমি সংস্কারের দপ্তরের বিরুদ্ধে ভূরিভূরি অভিযোগ জমা পড়েছে।
এক আধিকারিক বলেন, জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সরকারি জমি নিয়ে নানা ধরনের অভিযোগ জমা পড়েছে। সব খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক তথা মন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র বলেন, যারা অন্যায় করেছে, তারা কেউ ছাড়া পাবে না। তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, দল কখনই কাউকে সরকারি জমি দখল করতে বলেনি। এধরনের কাজকে সমর্থন করে না। কেউ এমন কাজ করলে নিশ্চয়ই পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু কারও বিরুদ্ধে যাতে মিথ্যা অভিযোগ না হয়, সেটাও দেখতে হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ