সংবাদদাতা, রামপুরহাট: নিজের উপার্জনে একটা বাইক কিনতে শো-রুমে গিয়েছিলেন রামপুরহাটের বাসিন্দা হাসিবুল শেখ। আধার, প্যান ও ব্যাংকের যাবতীয় নথি ঠিক থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার কারণে শোরুম থেকে খালি হাতে ফিরতে হল হাসিবুলকে। তাঁর এই অভিজ্ঞতা স্পষ্ট করে দিচ্ছে, প্রশাসনিক ত্রুটির জন্য ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া সাধারণ মানুষ কত ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, এসআইআরের মুহূর্তে কমিশন থেকে প্রকাশিত ২০০২ সালের খসড়া ভোটার তালিকায় হাসিবুলের বাবা বাদল শেখের নাম রয়েছে। কিন্তু ভোটার কার্ডে রয়েছে শেখ বাদল। অভিযোগ, প্রশাসনিক সেই ভুলের জন্য কমিশনের চূড়ান্ত তালিকা থেকে হাসিবুলের নাম বাদ যায়। হাসিবুল বলেন, দিন কয়েক আগে কাজের প্রয়োজনে বাইক কেনার জন্য শো-রুমে যাই। সব ডিজিটাল নথিপত্র ও ব্যাংকিং লেনদেন ঠিক থাকা সত্ত্বেও শোরুম কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয়, ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে কিস্তিতে গাড়ি দেওয়া সম্ভব নয়। তিনি বলেন, আধার ও প্যান কার্ড যেখানে নাগরিকত্বের অন্যতম প্রধান পরিচয়পত্র, সেখানে শুধু ভোটার তালিকার ভুলের জন্য কেন বাইক কেনার স্বপ্ন থেকে বঞ্চিত হতে হবে? শুধু তাই নয়, একই কারণে নাম বাদ গিয়েছে হাসিবুলের দিদি জাহিদা খাতুনের নামও। তাঁরা জানান, লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সির নোটিস পেয়ে বাবা বাদল শেখের নামে আধার, প্যান কার্ড, জমির পুরানো দলিল সহ নানা তথ্যর কপি জমা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারপরও তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়ে নাগরিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হল। ইতিমধ্যে, ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধাও মিলবে না বলে ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। স্বভারতই হাসিবুলদের চিন্তা, এই কারণে অন্য সরকারি পরিষেবাও বন্ধ হয়ে যাবে না তো?
এই ব্যাপারে শো-রুম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যে কোনো বড় অংকের ঋণ বা ইএমআই অনুমোদনের জন্য গ্রাহকের স্থায়ী ঠিকানা ও নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। ফাইন্যান্স সংস্থাগুলি যখন নির্বাচন কমিশনের ডাটাবেসের সঙ্গে ডিজিটাল কেওয়াইসি যাচাই করে, তখন ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে বা কার্ডটি নিষ্ক্রিয় দেখালে ঋণ প্রসেসিং সফটওয়্যার স্বয়ংক্রিয়ভাবেই আবেদনটি বাতিল করে দেয়। এখানে শো-রুম কর্তৃপক্ষের কিছু করার থাকে না।
এদিকে যৌক্তিক অসংগতির কারণ দেখিয়ে বাদ দেওয়া বহু বৈধ ভোটারের নাম কমিশনের তালিকায় অর্ন্তভুক্তির দাবিতে মঙ্গলবার রামপুরহাট এসডিও অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখায় এসইউসিআই। পরে তাঁরা এসডিওকে স্মারকলিপি দেন।
অন্যদিকে, এদিন একই দাবিতে নলহাটি ১ ব্লক অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখায় সিপিএম। তাঁদের অভিযোগ, যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে তাঁদের সরকারি সব সুবিধা বন্ধ করার ফতোয়া দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। কাজেই দ্রুত ট্রাইব্যুনালের বিচার নিস্পত্তি করে তাঁদের বৈধ ভোটার বলে গণ্য করতে হবে।