সুমন তিওয়ারি, আসানসোল: দুর্গাপুরে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীর গণধর্ষণের ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে গেল বিজেপি বিধায়কের নাম। ওই ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত মেয়ে পাচারকারী সিমরণ তামাংয়ের ফেসবুক পেজে তার সঙ্গে গলসির বিজেপি বিধায়ক রাজু পাত্রের ছবি দেখা গিয়েছে। দু’জনের পৃথক ছবি যেমন রয়েছে, তেমনি অনেকের সঙ্গেও দুজনের ছবি রয়েছে। বিধানসভা ভোটের ফল বেরনোর দিন ভিডিয়োয় সিমরণকে জয়োল্লাস করতেও দেখা যাচ্ছে। গোটা বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরে বিজেপিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন সিপিএম নেতারা। সিপিএম জেলা কমিটির সদস্য প্রভাস সাঁই বলেন, এবার বিজেপি কী বলবে। এই ধর্ষণকাণ্ডের সঙ্গে তো বিজেপির যোগসূত্র পাওয়া গেল। বিজেপি বিধায়ক নিজের অবস্থান স্পষ্ট করুক। কেন এমন একজন মহিলার সঙ্গে তাঁকে দেখা যাচ্ছে।
গলসির বিজেপি বিধায়ক রাজু পাত্র বলেন, যে ছবির কথা বলা হচ্ছে তখন আমি প্রার্থী ছিলাম। ভোট চাইতে গেলে অনেকেই ছবি তোলার অনুরোধ করে। তা বলে আমরা বিষয়টি নিয়ে বিন্দুমাত্র নমনীয় নই। আমি দাবি করেছি, যে জঘন্য অপরাধ হয়েছে তাতে অভিযুক্তদের শ্যুটআউট করা হোক। যুবতী দোষী হলে তাকেও সেই শাস্তি দেওয়া হোক। আমাদের দলের অবস্থান খুব স্পষ্ট।
কংগ্রেস জেলা সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তী বলেন, বিজেপি দুনীর্তিগ্রস্ত প্রমাণিত হল। যাঁরা নিজের স্ত্রীকে মর্যাদা দেয় না, তারা তো পরকিয়া, ধর্ষণকে সমর্থন করবেই। এক বিজেপি নেতাই তো মহিলাদের উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, ধর্ষণ আটকাতে না পারলে এনজয় করুন। তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা সম্পাদক পঙ্কজ রায় সরকার বলেন, বিজেপি শাসিত রাজ্যে নারী নির্যাতনের পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট এখানে কী হতে চলেছে। ধর্ষণকারীদের সঙ্গে বিজেপির কী সম্পর্ক স্পষ্ট করুক।
এদিকে দুর্গাপুরে গণধর্ষিতা অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীটির শারীরিক পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। তিনজন যুবক মিলে তাকে বারংবার ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ। এর জেরে ট্রমা থেকে বের হতেই পারছেন না ছাত্রীটি। একাধিক মনরোগ বিশেষজ্ঞ তাঁকে মানসিক ভাবে চাঙ্গা করার মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি জোরকদমে নিজেদের কাজ করে চলেছেন তদন্তকারী অফিসাররা।
এই গণধর্ষণের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছে চারজন। তার মধ্যে একজন সুন্দরী যুবতী সিমরণ তামাং। পুলিশ জানতে পারে, ঘটনার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড সে। নাবালিকাকে ভুল বুঝিয়ে বুদবুদ থানা এলাকা থেকে দুর্গাপুর নিয়ে গিয়েছিল সে। পুলিশ জানতে পেরেছে, কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন জায়গায় মহিলা জোগান দেওয়ার কাজ করে আসছে সিমরণ। মূলত মেয়েদের ভুল বুঝিয়ে বিভিন্ন হোটেলে, ট্যুরিস্ট স্পটে পাঠিয়ে দিত সে। নিজেও সারাদিন রিল বানিয়ে অন্যদের আকৃষ্ট করত। তাঁর এই কারবারের বিষয়ে মহিলা পুলিশ আধিকারিকদের কাছে স্বীকারোক্তিও দিয়েছে সে। যদিও ঠিক কত টাকার বিনিময়ে নাবালিকাকে যুবকদের হাতে তুলে দিয়েছিল তা এখনও জানায়নি পুলিশকে।
দুর্গাপুরে মেডিকেল কলেজের পড়ুয়ার গণধর্ষণের ঘটনায় রাজনৈতিক রং লেগেছিল। বিজেপি অভিযোগ তুলেছিল অভিযুক্তরা স্থানীয় তৃণমূল নেতার ঘনিষ্ট। বিজেপি স্থায়ী ধর্না মঞ্চ বেঁধে প্রতিবাদ শুরু করে। এবার আরও এক গণধর্ষণের ঘটনা। যেখানে বিরোধীরা রাজনৈতিক যোগসূত্র নিয়ে সরব।