সারাদিন মাথার উপর সূয্যিমামা চালিয়ে ব্যাটিং করছে। একের পর এক সিক্সার। গরমের এই চেনা ছবি ফের ফিরবে। তার আগে একটু পকেটের কথাও ভাবতে হবে বইকি! তীব্র গরমে স্বস্তি পেতে চাহিদা বাড়ছে এসির। তাপমাত্রার পারদের সঙ্গে চড়তে থাকে বৈদ্যুতিকের বিলও। মাসের শেষে একরাশ বিস্ময় আর উদ্বেগ গ্রাস করে মধ্যবিত্তকে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রক যন্ত্র লাগানোর পর খরচ সামলাতে হিমশিম খান অধিকাংশ মধ্যবিত্ত পরিবার। তবে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখলে এসির খরচ পকেটস্থ করা সম্ভব। রইল তেমনই কিছু টিপস।
• অনেকেই ভাবেন, তাপমাত্রা যত কম রাখা হবে ঘর তত দ্রুত ঠান্ডা হবে। তাই ১৬-১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে এসি সেট করে দেন। কিন্তু বাস্তবে, এতে বিদ্যুৎ খরচ অনেক বাড়ে। এসির আদর্শ তাপমাত্রা হল ২৪-২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই তাপমাত্রায় ঘর আরামদায়ক ঠান্ডা থাকে এবং বিদ্যুতের বিলও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
• অনেকে প্রশ্ন করেন, এসির সঙ্গে পাখা চালালে কি বিদ্যুৎ কম খরচ হয়? সহজ উত্তর, হ্যাঁ। পাখা চালালে ঠান্ডা বাতাস ঘরের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফলে এসিকে বেশি কাজ করতে হয় না এবং এসির তাপমাত্রা একটু বেশি রেখেও ঘর ঠান্ডা থাকে।
• এসি চালানোর সময় দরজা-জানালা ভালোভাবে বন্ধ রাখা অত্যন্ত জরুরি। যদি বাইরে থেকে গরম বাতাস ঢোকে, তাহলে এসিকে বারবার কাজ করতে হয়, ফলে বিদ্যুৎ খরচ বাড়ে।
• তাপমাত্রা যদি অতিরিক্ত বেশি থাকে, সেক্ষেত্রে ঘর ঠান্ডা হতে বেশি সময় লাগবে। তাই গরমে মোটা পর্দা ব্যবহার করুন। পর্দা ব্যবহার করলে বাইরের গরম হাওয়া, আলো কম ঢুকবে। ফলে ঘর তাড়াতাড়ি ঠান্ডা হবে।
• দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করলে এসির ফিল্টারে ময়লা জমে। এর ফলে এয়ারফ্লো কমে যায়। ফলে এসি বেশি বিদ্যুৎ খরচ করে। ফলে ফিল্টার পরিষ্কার করা অত্যন্ত জরুরি। প্রতি ১৫ থেকে ২০ দিন অন্তর ভালো করে ফিল্টার পরিষ্কার করে নিন।
• এসি চালু করে বারবার অন-অফ করবেন না। প্রতিবার চালু করার সময় এসি অতিরিক্ত শক্তি খরচ করে। ফলে বিদ্যুৎ খরচ বাড়ে।
• অনেকে কেবল রিমোট দিয়ে এসি বন্ধ করে দেন। সুইচ অফ করেন না। এক্ষেত্রে এসি স্ট্যান্ডবাই মোডে থাকে। এই অবস্থায় খুব অল্প পরিমাণে হলেও বিদ্যুৎ খরচ হয়।
• রাতে ঘুমানোর সময় সারারাত এসি চালানোর প্রয়োজন হয় না। তাই টাইমার সেট করে রাখতে পারেন। যেমন দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর নিজে থেকেই এসি বন্ধ হয়ে যাবে। এই প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচ কমে।
• শীতকালে এসির ব্যবহার হয়নি। তাই গরমে এসি চালানোর আগে সার্ভিসিং করাতে ভুলবেন না। খরচের ভয়ে যদি সার্ভিসিং না করান তাহলে কিন্তু বিদ্যুৎ খরচ বেশি হবে। এসির কুলিং সিস্টেম ঠিক থাকলে, এসি কম শক্তি ব্যবহার করে। তাই সার্ভিসিং জরুরি।
• এসি চালানোর আগে ঘরের অপ্রয়োজনীয় লাইট বন্ধ রাখুন। আভেন, গিজার কম ব্যবহার করুন। এতে ঘর গরম কম হবে। ফলে এসির উপরও কম চাপ পড়বে।
• ঘরের আকার অনুযায়ী এসি নির্বাচন করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছোটো ঘরে বড়ো এসি বা বড়ো ঘরে ছোটো এসি— দু’টিই বিদ্যুৎ ও টাকার অপচয়।
• এসির বাইরের অংশ (আউটডোর ইউনিট) যদি রোদে থাকে, তাহলে সেটি বেশি গরম হয়ে যায়। এর জেরে বেশি শক্তি ব্যবহার করে। তাই এসির আউটডোর ইউনিট ছায়াযুক্ত জায়গাতেই রাখুন।
• অনেক এসিতেই এখন ‘ইকো মোড’ বা ‘পাওয়ার সেভিং মোড’ থাকে। এই মোড চালু থাকলে এসি নিজে থেকেই কম বিদ্যুৎ খরচ করে। প্রয়োজনে ইনভার্টার এসিও ব্যবহার করতে পারেন।
শেষ কথা, অভ্যাসে পরিবর্তন আনাও অত্যন্ত জরুরি। ঘর ঠান্ডা হয়ে গেলে তাপমাত্রা বাড়িয়ে নিন। খুব দরকার না পড়লে এসি চালাবেন না। আপনি সচেতন থাকলে মাসের শেষে বিদ্যুতের বিলও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
শান্তনু দত্ত