Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

‘প্রহসনের ভোট’, বাতিলের দাবিতে সরব হলেন হাসিনা

‘নো বোট, নো ভোট’। দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বাংলাদেশের নির্বাচন বয়কটের ডাক দিয়েছিলেন আওয়ামি লিগ সুপ্রিমো শেখ হাসিনা।

‘প্রহসনের ভোট’, বাতিলের দাবিতে সরব হলেন হাসিনা
  • ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: ‘নো বোট, নো ভোট’। দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বাংলাদেশের নির্বাচন বয়কটের ডাক দিয়েছিলেন আওয়ামি লিগ সুপ্রিমো শেখ হাসিনা। তাঁর বার্তা যে একেবারে জলে যায়নি, তার প্রমাণ মিলেছে বৃহস্পতিবারের জাতীয় নির্বাচনে কম ভোট পড়ার মধ্যেই। আর ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ হতেই ‘প্রহসনের নির্বাচন’ বাতিলের দাবি তুললেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। অবৈধ ও অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা দখলকারী ইউনুসের ‘প্রহসনের নির্বাচন’ প্রত্যাখ্যান করায় দেশবাসীকে ধন্যবাদও জানান তিনি।

Advertisement

সোশ্যাল মিডিয়ায় হাসিনা জানিয়েছেন, ‘অবৈধ এবং অসাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতা দখলকারী ইউনুসের আজকের তথাকথিত নির্বাচন ছিল মূলত একটি সুপরিকল্পিত প্রহসন। জনগণের ভোটাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সংবিধানের চেতনাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আয়োজন করা হয়েছে আওয়ামি লিগবিহীন—ভোটারবিহীন প্রতারণামূলক নির্বাচন।’ এখানেই না থেমে নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করার জন্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলির দিকেও আঙুল তোলেন হাসিনা। তিনি জানান, গত ১১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার পর থেকেই ভোটকেন্দ্র দখল, গোলাগুলি, ভোট কেনাবেচায় টাকার ছড়াছড়ি, ব্যালট পেপারে সিল দেওয়া ও ফলাফল শিটে এজেন্টদের সই নেওয়ার মধ্যে দিয়ে এই প্রহসনের সূত্রপাত। ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে দেশের অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ছিল একেবারেই নগণ্য। রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বহু ভোটকেন্দ্র ছিল সম্পূর্ণ ভোটারশূন্য।
এবারের নির্বাচনে আওয়ামি লিগকে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। তার পরেই ভোট বয়কটের ডাক দেন শেখ হাসিনা। দেশবাসী তাঁর ডাকে সাড়া দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। নিজের বক্তব্যের সপক্ষে নির্বাচন কমিশনের খতিয়ান তুলে ধরেন হাসিনা। দেখা যায়, সকাল ১১টা পর্যন্ত (সাড়ে তিন ঘণ্টায়) ভোটগ্রহণের হার ছিল মাত্র ১৪.৯৬%। অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রই ছিল কার্যত ভোটারশূন্য। তবে যেভাবে আওয়ামি লিগের কর্মী-সমর্থক ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর লাগাতার হামলা ও গ্রেপ্তারি চলেছে, তারও কড়া নিন্দা করেন আওয়ামি লিগ সুপ্রিমো। ভোটারবিহীন অবৈধ ও অসাংবিধানিক নির্বাচন বাতিল করে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের দাবিও তুলেছেন হাসিনা।
যদিও ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার মহম্মদ রিয়াজ হামিদুল্লা জানিয়েছেন, বিপুল সংখ্যায় মহিলারা এবারের নির্বাচনে তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন। এছাড়া বয়স্ক ও প্রথমবারের ভোটারদের সংখ্যাও ছিল চোখে পড়ার মতো। বিক্ষিপ্ত হিংসা ছাড়া ভোটগ্রহণ মোটের উপর শান্তিপূর্ণভাবেই মিটেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ