হাত বাড়ালেই বন্ধু...। শুধু বন্ধুত্বে নয়, জীবনভর হাতের নানা ভূমিকা। তাই তাকেও তো বন্ধুর মতো যত্নে রাখতে হবে। শীতের মরশুমে ত্বক রুক্ষ শুষ্ক হয়ে যায়। তাই ত্বকচর্চার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হাতের যত্ন। শুধু মুখের যত্নই নয়, মুখের পাশাপাশি হাতের যত্ন নেওয়াও আবশ্যক। না হলে অচিরেই হাতের চামড়ায় ভাঁজ পড়তে পারে। মুখের পরিচর্যায় নানা পদ্ধতি অনুসরণ করেন সকলে। বিশেষজ্ঞের পরামর্শও নেন। কিন্তু হাতের ক্ষেত্রে যেন আগ্রহ ফুরিয়ে যায়। মুখে যত্নের ছোঁয়া, দারুণ মেকআপ কিন্তু পাশ থেকে উঁকি দেওয়া শুষ্ক হাত কিন্তু নৈব নৈব চ। তাহলে পুরো গ্ল্যামার লুক নষ্ট হয়ে যাবে। তবে শুধু শীতকালে নয়, হাতের যত্ন নিতে হবে সারা বছর।
অনেকেরই অতিরিক্ত শুষ্ক ত্বক হওয়ার কারণে শুধু শীতকালে নয় সারা বছরই হাতের চামড়ার দেখভাল প্রয়োজন হয়। ঋতুভেদে হাতের যত্নও হবে ভিন্ন। যেমন গরমকালে যে ধরনের হ্যান্ড ক্রিম বা লোশন প্রয়োজন শীতকালে কিন্তু সেই ক্রিম বা লোশনে কাজ হবে না। এ বিষয়ে বিউটিশিয়ান এবং অ্যারোমা থেরাপিস্ট নিবেদিতা সরকার বললেন, ‘হাতের যত্ন কিন্তু আমাদের ত্বক পরিচর্যার ক্ষেত্রে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। মুখের পাশাপাশি হাতেরও যত্ন করতে হবে। হাত যদি অযত্নে অবহেলিত থাকে তাহলে খুব সহজেই শুষ্ক হয়ে যাবে। এই শুষ্কতার কারণে অচিরেই হাতে ট্যান পড়বে। এই ট্যান পড়তে পড়তে একটা সময় হাতের ত্বকের রং বদলে যায়। যা আবার পুরনো বর্ণে ফিরিয়ে আনা খুবই কষ্টসাধ্য। বয়স তিরিশ ছুঁই ছুঁই হলে হাতের প্রতি আরও যত্নশীল হওয়া উচিত। সঠিক হাইড্রেশন বজায় রাখতে হবে। শীতকাল তো বটেই বছরের কোনও সময়েই হাতের চামড়া শুষ্ক হতে দেওয়া যাবে না। তাহলে বলিরেখা চলে আসবে।
যত্নের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর লাইফস্টাইলও ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত পরিমাণ জল খাওয়া এবং ডায়েটের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।’ কীভাবে নেবেন হাতের যত্ন? কয়েকটি ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরণ করলেই হাতের যত্ন নেওয়া সম্ভব। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। কী কী করবেন?
হ্যান্ড স্ক্রাবার
হাতের মৃত কোষ দূর করতে স্ক্রাবিং ভীষণ উপকারী। বাজারচলতি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের স্ক্রাবার তো রয়েইছে। কিন্তু, ঘরোয়া স্ক্রাবারেও হতে পারে বাজিমাত। কিছুটা ওটস গুঁড়ো, বেসন, কফি, সামান্য মধু এবং দুধ মিশিয়ে সহজেই বানিয়ে নিতে পারেন ঘরোয়া স্ক্রাবার। ওটস প্রাকৃতিক স্ক্রাবার হিসেবে ভীষণই ভালো। পাশাপাশি ট্যান রিমুভ করতে কফির জুড়ি মেলা ভার। তাই এই স্ক্রাবার ব্যবহার করলে হাতের ট্যান দূর হবে সহজেই।
ক্রিম ও লোশন
সবশেষে ত্বকের আর্দ্রতাও বজায় রাখতে হবে। বাজারচলতি ময়েশ্চারাইজার, ক্রিম, লোশন ব্যবহার করা যেতে পারে। এর পাশাপাশি গ্লিসারিন এবং গোলাপজল মিশিয়ে হাতে লাগালেও হাত থাকবে নরম তুলতুলে।
সানস্ক্রিন
শুধু মুখে নয়। হাতেও সমানভাবে সানস্ক্রিন লাগানো প্রয়োজন। রোদ্দুর থেকে বাঁচতে দিনে অন্তত দু’বার হাতেও সানস্ক্রিনের প্রলেপ লাগান।
শীত পড়েছে। তাই এই শীতে হাতের আরও বেশি যত্ন প্রয়োজন। শীতকালে হাতে তেল মাসাজ মাস্ট। তবে শুধু শীতকাল নয় সারা বছরই হাতে অয়েল মাসাজ করা যেতে পারে। এতে ত্বক ভালো থাকে। সেক্ষেত্রে হালকা কোনও তেল ব্যবহার করুন। স্নানের পর হ্যান্ড ক্রিমও লাগানো উচিত। এভাবে সারা বছর হাতের পরিচর্যা খুব সহজেই করতে পারবেন। মুখের পাশাপাশি হাতও হবে জেল্লা।
পূর্বাশা দাস