বাড়িতে জনা তিরিশেক লোকজনের নিমন্ত্রণ। সঙ্গে অফিসের উচ্চপদস্থ কয়েকজনও আসবেন প্রথমবার। ঘরোয়া অনুষ্ঠান বলে কোনও ক্যাটারিংকে আলাদা করে দায়িত্ব দিতে চায়নি সায়ন। বরং পাড়ারই এক ক্লাউড কিচেন সদ্য খুব নাম করেছে। তাদেরই হাতে নিশ্চিন্তে দিয়েছে রান্নার ভার। বাড়ির লোকজন মিলেই রান্না বেড়ে তাঁদের খেতে দেওয়ার ব্যবস্থা করবে। কিন্তু এত লোকজনের খাওয়াদাওয়ায় অতিথির কাছে মান যেমন রাখতে হবে, তেমনই তাঁদের স্বাস্থ্য বা হাইজিনের দিকটিও খেয়াল রাখতে হবে। তাই অন্যান্যবারের মতো আর শালপাতা বা সাধারণ কাগজের থালায় নয়, বরং একটু ফ্যাশনেবল ডিসপোজেবল প্লেটের সন্ধান পেয়েছে সে। এতে খাবার সাজিয়ে দেওয়ার ধরনও চমৎকার আবার স্বাস্থ্যের দিক থেকেও খুব উপকারী। ওজনেও পলকা না হওয়ায় ব্যবহার করাও সুবিধা। সায়ন আবার বাজার ঘুরে মাইক্রোআভেনে সরাসরি গরম করা যায়, এমন ডিসপোজেবল পাত্র খুঁজে এনেছে। সাধারণ শালপাতা, কলাপাতার জায়গায় কাগজের পাত্র এসেছে বহু যুগ হল। কিন্তু তা আবার প্রযুক্তির হাত ধরে মাইক্রোআভেনেও গরম করা যায়? সায়নের বাড়ির লোকজনও অবাক!
ডিসপোজেবল পাত্র কী?
সহজ করে বললে, যেসব পাত্র একবার ব্যবহারযোগ্য, খাবার পরিবেশনের পর ফেলে দিতে হয়, ধোয়া ও পরিষ্কারের ঝামেলা নেই সেগুলিই ডিসপোজেবল পাত্র। একটা সময় ডিসপোজেবল পাত্র বলতে শালপাতা, কলাপাতা বা কাগজ দিয়ে তৈরি পাতলা থালা বাটি গ্লাসকে বোঝাত। অনেকে ফোমের পাত্রও ব্যবহার করতেন। কিন্তু আধুনিক গবেষণা ফোম, সাধারণ প্লাস্টিক বা সব ধরনের পাতলা কাগজকে ‘নিরাপদ’ হিসেবে চিহ্নিত করে না। তাই সেসব নিষিদ্ধ হয়েছে অচিরেই। তার জায়গায় কিন্তু ডিসপোজেবল পাত্র তৈরিতে ইদানীং বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন উপাদান উঠে এসেছে। বিভিন্ন পিকনিক ও নিমন্ত্রণবাড়িতে আজকাল চিনেমাটি বা ফাইবারের বদলে এমন নানা ডিসপোজেবল পাত্র ব্যবহার করা হয়।
ডিসপোজেবল পাত্রের রকমফের
কাগজ ছাড়াও ব্যাগাস বা আখের ছাল, বিপিএ মুক্ত ও ফুড গ্রেড প্লাস্টিক, বাঁশ, তালপাতা, ভুট্টার শাঁস থেকেও নানা ধরনের ও আকারের ডিসপোজেবল পাত্র তৈরি করা হয়। একটু মোটা সাবাই ঘাসের তন্তু থেকেও আজকাল মোটা কাগজের ডিসপোজেবল থালা-বাটি তৈরি হয়।
কেন জনপ্রিয়তা বাড়ছে
আধুনিক পৃথিবীতে সাধারণ মানের প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোর দিকে যত জোর দেওয়া হচ্ছে, ততই এই ধরনের পাত্রগুলির প্রয়োজন ও কদর বাড়ছে। এর প্রথম কারণ ধোয়া বা পরিষ্কারের ঝঞ্ঝাট নেই। এছাড়া এই ডিসপোজেবল পাত্রগুলি নানা আকারের হয়। তাই নিজের দরকার অনুযায়ী কেনা যায়। কিছু ডিসপোজেবল থালায় খাবার দেওয়ার জন্য নানা পার্টিশন থাকে। একাধিক খোপযুক্ত ডিসপোজেবল পাত্রের সুবিধা হল খাবার পরিবেশনের সময় নানা খোপে নানারকম খাদ্য সাজিয়ে দেওয়া যায়। স্যান্ডউইচ, স্যালাড থেকে শুরু করে ডেজার্ট পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের খাবার দেওয়ার বন্দোবস্ত থাকে। শুকনো খাবার হলে একেবারে প্যাকিং করে পরিবেশন করতেও সুবিধা হয়। এগুলি অফিস পিকনিক বা পার্টিতে খাবার প্যাক করার কাজে খুবই উপযোগী। এই পাত্রগুলি পরিবেশবান্ধব হওয়ায় স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো। একটু মোটা বিপিও প্লাস্টিকের কন্টেনারগুলি ডিসপোজেবল হলেও সেগুলি ধুয়ে সাফ করে একাধিকবার ব্যবহার করা যায়। নানা রেস্তরাঁ তাদের প্যাকিং পর্বে এই ধরনের কন্টেনার ব্যবহার করে। এগুলিতে বায়ুনিরুদ্ধ ঢাকনা থাকে, যা খাবার পরিবহণের সময় লিকেজ প্রতিরোধ করে। আজকাল এমন নানা ডিসপোজেবল পাত্র পাওয়া যায়, যাদের মাইক্রোআভেনে সরাসরি গরমও করা যায়।
কোথায় মিলবে
কাগজের সাধারণ থালা-বাটি-গ্লাস আগে দশকর্মা ভাণ্ডারেই মিলত। এখনও মেলে। তবে কাগজ ভিন্ন অন্যান্য পরিবেশবান্ধব উপাদানে তৈরি এমন পাত্র পেতে স্থানীয় প্যাকেজিং সরবরাহকারী বা পরিবেশবান্ধব পণ্যের দোকানে খোঁজ করতে পারেন। তাছাড়া অনলাইনেও এই ধরনের দ্রব্য ভালো বিকোয়।
পকেটের জোর
কী ধরনের ডিসপোজেবল পাত্র কিনছেন, তার উপর নির্ভর করে দাম। সাধারণ কাগজের ক্ষেত্রে ডজন হিসেবে কিনতে হয়। অন্যান্য পরিবেশবান্ধব উপাদান দিয়ে তৈরি পাত্রগুলিরও দাম একটু চড়ার দিকে। ২০ টাকা ডজন থেকে এক একটির দাম ৩০ টাকা, এমন বিপুল রেঞ্জে এই পণ্য পাবেন।
মনীষা মুখোপাধ্যায়