


দুবাই: হরমুজ প্রণালীর কাছে আচমকাই নতুন করে গোলাগুলি চলল আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে। ফলে চলতি সংঘর্ষ বিরতি ও দু’পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ থামানোর লক্ষ্যে চলা কূটনৈতিক আলোচনার ভবিষ্যৎ ফের প্রশ্নের মুখে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরশাহি জানায়, ইরানের দিক থেকে ঢেয়ে আসা মিসাইল ও ড্রোন হামলার জবাব দিচ্ছে তারা। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘হরমুজ দিয়ে এগনোর সময় তিনটি মার্কিন সামরিক জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চলেছে। তবে এই তিনটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ারের কোনো ক্ষতি হয়নি। বিশাল ক্ষতির মুখে পড়েছে ইরানের হামলাকারীরা। বহু ছোটো নৌকা সহ তারা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।’ উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে সংঘর্ষ বিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়। এপ্রসঙ্গে অবশ্য এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ‘সংষর্ঘ বিরতি বজায় আছে। তা অটুটই থাকবে। এটা ভালোবাসার ছোঁয়া মাত্র।’
আমেরিকার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বন্দর আব্বাস ও কেশম দ্বীপে মূলত আত্মরক্ষার্থে এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে এটা ভাবার কারণ নেই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড়ো কোনো সামরিক অভিযান শুরু করা হচ্ছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড আবার এক্স হ্যান্ডলে জানিয়েছে, আমেরিকান নেভির তিনটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়ে ওমান উপসাগরে যাওয়ার সময় হামলার মুখে পড়েছে। আমেরিকাও আত্মরক্ষার্থে পালটা হামলা চালিয়েছে।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা ভালোই এগচ্ছে। তবে ওদের একটা কথা বুঝতে হবে। শান্তিচুক্তিতে সই না করলে ওদের নিদারুন যন্ত্রণার মুখে পড়তে হবে।’ আরও একধাপ এগিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, চুক্তিপত্র সহ প্রস্তাব ইরানের কাছে পাঠানো হয়েছে। ওরা পরমাণু অস্ত্র বানাতে পারবে না। ‘পারমাণবিক ধূলিকণা’ ওদের দিয়ে দিতে হবে। ওরা রাজি হয়েছে। তবে এই রাজি হওয়ার বিশেষ কোনো অর্থ নেই। কারণ পরের দিনই ওরা সব ভুলে যায়। তবে একইসঙ্গে ট্রাম্পের দাবি, চুক্তি এখনও হয়নি ঠিকই, তবে যেকোনো দিন তা সই হয়ে যেতে পারে।