


নরেন্দ্র মোদি ও জর্জিয়া মেলোনি: আন্তর্জাতিক স্তরে বিশ্বজুড়ে একটা বড়োমাপের পরিবর্তন ঘটছে। সেই সময়ে দাঁড়িয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারত ও ইতালির সম্পর্ক বন্ধুত্বের পরিসর অতিক্রম করে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদারিত্বে পরিণত হয়েছে। যার প্রধান চালিকাশক্তি রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে নিয়মিত মতবিনিময়।
একবিংশ শতকে সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার দিকগুলি নির্ধারিত হবে কোন দেশ কতটা উদ্ভাবনশীল, শক্তি ও জ্বালানি ক্ষেত্রে রূপান্তরে কতটা সক্ষম বা কৌশলগত সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কতটা দক্ষ— তার উপর ভিত্তি করে। আর সেই জন্যই আমরা আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করে তুলতে বিশেষভাবে সচেষ্ট। উৎপাদন ক্ষেত্রে ইতালির দক্ষতা বা শিল্পক্ষেত্রে বিশ্বমানের সুপার কম্পিউটার একদিকে যেমন ইতালির শক্তিশালী অবস্থানকে তুলে ধরে, তেমনই দ্রুত আর্থিক বিকাশ, ইঞ্জিনিয়ারিং ক্ষেত্রে দক্ষতা, বিপুল সংখ্যক স্টার্টআপের কারণে ভারতের অবস্থানও অত্যন্ত মজবুত। আমরা একসঙ্গে একটি শক্তিশালী সমন্বয় মঞ্চ গড়ে তুলতে চাই। যেখানে দু’দেশের শিল্পগত দক্ষতা একে অপরের পরিপূরক হয়ে উঠবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ভারতের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বৃদ্ধির পথ প্রশস্ত করেছে। আমাদের লক্ষ্য, ২০২৯ নাগাদ ইতালি এবং ভারতের মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ২০ বিলিয়ন ইউরোতে নিয়ে যাওয়া। এক্ষেত্রে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে থাকবে প্রতিরক্ষা, বিমান চলাচল, পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তি, যন্ত্রাংশ, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপনা, রাসায়নিক, ওষুধপত্র, বস্ত্র, কৃষি-খাদ্য, পর্যটনের মতো ক্ষেত্রগুলি।
বিশ্বজুড়ে ‘মেড ইন ইতালি’ ও ‘উৎকর্ষ’ অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। এর সঙ্গে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচিতে উৎকর্ষের ক্ষেত্রে যে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, তার যোগ রয়েছে। এর প্রেক্ষিতে ভারতে উৎপাদন প্রক্রিয়ার জন্য ইতালির শিল্পমহলে যেমন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে, তেমনই ইতালিতেও ভারতীয় শিল্প সংস্থাগুলির উপস্থিতি বাড়ছে। বর্তমানে ভারত ও ইতালিতে দুই দেশের হাজারেরও বেশি সংস্থা সক্রিয়। পাশাপাশি, এই অংশীদারিত্বের কেন্দ্রে রয়েছে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনী বিষয়গুলি। কারণ, আগামী দশকগুলিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ক্রিটিক্যাল মিনারেল্স এবং ডিজিটাল পরিকাঠামোর মতো ক্ষেত্রগুলিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। ভারতের ডিজিটাল পরিকাঠামো বিশ্বের বিভিন্ন দেশগুলিতে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কিন্তু ভারত ও ইতালি দুই দেশই চায় মানুষের উন্নয়নের স্বার্থে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ হওয়া উচিত। মূল কথা হল, প্রযুক্তি মানুষের বিকল্প হতে পারে না এবং মানুষের মৌলিক অধিকারও লঙ্ঘিত করতে পারে না। এছাড়াও মহাকাশ গবেষণা, প্রতিরক্ষা, সমুদ্রপথের সুরক্ষা, মানব ও মাদক পাচার, সাইবার অপরাধের মতো সমস্যা মোকাবিলায় একযোগে কাজ করবে দুই দেশ।
ভারতীয় ভাবধারায় ‘ধর্ম’ দায়িত্ববোধের কথা বলে। ভারতের ‘বসুধৈবকুটুম্বকম’ ও ইতালির ‘রেনেসাঁ’র ধারণা ডিজিটাল যুগে আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। মানুষকে মূল কেন্দ্র রেখে ভারত-ইতালি পারস্পরিক সহযোগিতাকে শক্তিশালী করে তোলার লক্ষ্য নিয়ে এগচ্ছে দুই দেশ।