পক্ষে
পক্ষে
কুসুমিতা চৌধুরী
প্রায়ই চোখে পড়ে নানা বাড়ির দেওয়াল আলমারিতে থরে থরে সাজানো বই। রবীন্দ্র রচনাবলি, বঙ্কিম রচনাবলি থেকে শুরু করে ফেলুদা সমগ্র, ব্যোমকেশ সমগ্র ইত্যাদি। অথচ এখন যদি তাঁদের প্রশ্ন করা হয়, এগুলির মধ্যে ক’টা বই সম্পূর্ণ পড়েছেন? সেক্ষেত্রে অনেকেই নিরুত্তর থাকবেন। বই আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে করে ফেলা ভুলগুলো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে পারে। তাই শুধু কেনা নয়, সকলের উচিত বই পড়া।
চিকিৎসক
ময়ূখ মারিক
আজকাল মানুষ বই সাজায় বেশি, পড়ে কম। এখন বই যেন অনেকের কাছে ঘরের সৌন্দর্য বাড়ানোর একটি বস্তু। বড় বড় বুক শেলফ, দামি বই সাজানো র্যাক— সবকিছু মিলিয়ে বাহ্যিক ‘বইপ্রেম’ আমরা দেখতে পাই। মানুষ বই কেনে। কিন্তু পড়ার জন্য যে ধৈর্য, সময় ও মনোযোগ দরকার, তা আর দেয় না। সোশ্যাল মিডিয়ায় বইয়ের সঙ্গে ছবি তুলে পোস্ট করে অনেকে ভাবেন, তাঁদের সম্মান বাড়ছে। অথচ সেই বইয়ের একটি অধ্যায়ও পড়েন না।
ছাত্র
কঙ্কনা বোস
বই কেনা আর বই পড়া এক বিষয় নয়। আকর্ষণীয় প্রচ্ছদ, রঙিন নকশা আর নতুন পাতার মনোরম গন্ধ অনেক সময় আমাদের বই কিনতে উৎসাহিত করে। কিন্তু কেনা মানেই যে সেই বই মন দিয়ে পড়া হবে, তা সব সময় হয় না। অনেক বই আলমারিতে সাজানো অবস্থায় পড়ে থাকে, নীরব সাক্ষীর মতো। বই কেনা একটি আনন্দের অভ্যাস হলেও, বই পড়া একটি ধৈর্যশীল ও সচেতন কাজ।
স্নাতকোত্তর
সলিল কুমার দে
কিছু ধনীর ড্রয়িংরুমে দেওয়ালজোড়া কাচের আলমারিতে নতুন অবস্থায় থাকা বিভিন্ন বই সুসজ্জিত অবস্থায় দেখা যায়। এঁরা যতটা নিজেদের পুস্তকসম্ভার প্রদর্শন করতে ব্যস্ত, ততটা অধ্যয়ন করতে নয়। এটা ওঁদের কাছে স্টেটাস সিম্বল! অনেকেই একাধিকবার বইমেলায় ঢুঁ মারে এবং অবশ্যই লোকদেখানো কিছু বই কেনে। আমি এমন এক পুস্তকপ্রেমীর কথা জানি, যিনি তাঁর আলমারিতে সুসজ্জিত বই নিজের সন্তানদেরও স্পর্শ করতে দিতেন না উজ্জ্বলতা নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ে!
অবসরপ্রাপ্ত
বিপক্ষে
সমাদৃত দাস
বই কেনা হয় কিন্তু পড়া হয় না, এই ভ্রান্ত ধারণার সম্পূর্ণ বিপক্ষে আমি। বর্তমান সময়ে পরিস্থিতি টালমাটাল হলেও মনোযোগী পাঠকরা কিন্তু এখনও বই কিনছেন ও পড়ছেন। তাঁরা সাহিত্যের রস আস্বাদনে উৎসাহী। তবে বর্তমান সময়ে মোবাইল এসে মুদ্রিত বইয়ের জগতে কিছুটা ভাগ বসালেও তথ্য ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে বইয়ের অবদান অনস্বীকার্য। আর বই যদি মানুষ না পড়ে, তাহলে এত সংখ্যক বই কোনওদিনই বিক্রি হত না। মানুষ বই পড়ে বলেই বই বিক্রি হয়। নইলে জেলা বইমেলা, কলকাতা বইমেলা— আজকের যুগে কোথাও অনুষ্ঠিত হওয়া সম্ভব হত না।
ছাত্র
সাহিল লস্কর
বই কিনে বই পড়তে ভালো লাগে। আর সেটা যদি হয় নতুন বই, তাতে লেগে থাকে নতুন পৃষ্ঠার গন্ধ। প্রতি পদে যেন রোমাঞ্চ। আর তা যদি হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা, গল্প, উপন্যাস তাহলে তো কথাই নেই! স্মার্টফোনে বিভিন্ন বইয়ের পিডিএফ পড়ার চেয়ে বই কিনে পড়ার মজা আলাদা।
ছাত্র
মাধুরী নাইয়া
যিনি তাঁর পছন্দের বিষয়ের বই কিনবেন, তিনি সেই বইটি অবশ্যই পড়বেন ও রসাস্বাদন করবেন। বই পড়তে ভালোবাসেন এমন ব্যক্তি যেমন নিজের জন্য বই কেনেন, তেমন অন্যকে বই উপহারও দেন। এখনও আমরা দেখি, বইমেলায় পাঠকদের উপচে পড়া ভিড়। যাঁরা প্রকৃত বই ভালোবাসে, তারা বই কেনেন অবশ্যই বইটিকে পড়ে জানার উৎসাহে। বই কেনা নিয়েও তাঁদের মনে থাকে অনেক আনন্দ। বইপ্রেমীরা নানা ব্যস্ততার মধ্যেও বই পড়ার সময় ঠিক সরিয়ে রাখেন। বই শুধু ঘর সাজানোর উপাদান নয়। সেটা পড়ে মনে এক অদ্ভুত আনন্দ পাওয়া যায়।
গৃহবধূ
গৌতম মুখোপাধ্যায়
কে বলছে বই কেনা মানে বই পড়া নয়? তাহলে আজও বিবাহ বা জন্মদিনে বই দেওয়ার রীতি কেন অব্যাহত আছে? শুধু তা-ই নয়, প্রতি বছর কলকাতা পুস্তক মেলায় প্রথম থেকে শেষ দিন পর্যন্ত ভিড় থাকে। বিভিন্ন স্টলে বই কেনার হিড়িক দেখলেই বোঝা যায় কেউ সংগ্রহ করতে বা সাজিয়ে রাখতে বই কেনেন না। তাঁরা রীতিমতো পড়ার জন্য বা কাউকে উপহার দেওয়ার জন্য বই কেনেন।
সেবায়েত