Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

মমতার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, স্বাস্থ্যসাথী ধাঁচের প্রকল্পেই ভরসা দুই পক্ষের, আগামী কাল বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন

একরাশ আশা আর উৎকণ্ঠায় ভর করে কাল বৃহস্পতিবার সাধারণ নির্বাচন বাংলাদেশে। একইসঙ্গে ‘জুলাই সনদ’-এর বৈধতা নিয়ে হবে গণভোটও। সেই গণভোটে ৮৪ দফা প্রস্তাবের পক্ষে বা বিপক্ষে মতামত জানাবেন পদ্মাপারের মানুষজন।

মমতার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, স্বাস্থ্যসাথী ধাঁচের প্রকল্পেই ভরসা দুই পক্ষের, আগামী কাল বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন
  • ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ঢাকা: একরাশ আশা আর উৎকণ্ঠায় ভর করে কাল বৃহস্পতিবার সাধারণ নির্বাচন বাংলাদেশে। একইসঙ্গে ‘জুলাই সনদ’-এর বৈধতা নিয়ে হবে গণভোটও। সেই গণভোটে ৮৪ দফা প্রস্তাবের পক্ষে বা বিপক্ষে মতামত জানাবেন পদ্মাপারের মানুষজন। এই নির্বাচনে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আওয়ামি লিগকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এবারের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা তারেক রহমানের বিএনপির সঙ্গে জামাত-ই-ইসলামির। জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় অশংগ্রহণকারী ছাত্রদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জোট করেছে জামাতের সঙ্গে। 

Advertisement

ইতিমধ্যে প্রচার শেষ হয়ে গিয়েছে। এখন চলছে ‘কুলিং পিরিয়ড’। ভোটারদের কাছে টানতে দেদার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিএনপি, জামাত দুই শিবিরই। এক্ষেত্রে দুই দলেরই আদর্শ পশ্চিমবঙ্গের নানবিধ জনহিতকর প্রকল্প। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল সরকারের অনুপ্রেরণায় দুই দলই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এবং স্বাস্থ্যসাথীর মতো প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তারেক রহমানের দল জানিয়েছে, ক্ষমতায় এলে তারা পরিবারের মহিলা সদস্যদের নামে ‘পারিবারিক কার্ড’ চালু করবে। এতে মহিলাদের মাসে দু’হাজার টাকা এবং চাল, ডাল, ভোজ্যতেল এবং নুন দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে নিম্নআয়ের ৫০ লক্ষ মহিলাকে এর আওতায় আনা হবে। তাছাড়া এবার দু’কক্ষ বিশিষ্ট সংসদের প্রস্তাব রয়েছে জুলাই সনদে। সেই প্রস্তাব জয়ী হলে উচ্চকক্ষে ১০ শতাংশ নারী প্রতিনিধির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। মজার বিষয় হল, মহিলা বিরোধী বলে পরিচিত জামাতও নারীদের অধিকার প্রশ্নে উদার মনোভাব দেখিয়েছে। এবার কোনো মহিলা প্রার্থী দেয়নি জামাত। তবে তাদের প্রতিশ্রুতি, ক্ষমতায় এলে ‘উল্লেখযোগ্য সংখ্যায়’ মহিলা মন্ত্রী করা হবে। আর মাতৃত্বকালীন সময়ে তাঁদের পাঁচঘণ্টা কাজ করতে হবে।
তবে ভোট টানতে জামাতের তুরুপের তাস হতে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাস্থ্যসাথীর আদলে ‘সর্বজনীন হেল্থকেয়ার সিস্টেম’। তাছাড়া গরিবরা পাবেন নিঃখরচায় উন্নতমানের চিকিৎসা পরিষেবা। ‘বাংলার বাড়ি’র আদলে স্বল্প এবং নিম্ন আয়ের লোকেদের জন্য বাড়ি তৈরি করা হবে বলে ইস্তাহারে ঘোষণা করা হয়েছে। জামাত তাদের নির্বাচনী ইস্তাহারে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্কের কথাও জানিয়েছে। আগেই তাদের ইস্তাহারের পাতায় পাতায় ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের ছবির ব্যবহার নজরে পড়েছিল। আর ঢাকা-১৪ কেন্দ্রের জামাত প্রার্থী তথা আইনজীবী মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমান সোমবার বলেন, ‘ভারত এবং বাংলাদেশ একে অপরের কাছে অপরিহার্য। আমাদের একযোগে কাজ করতে হবে।’ 
তবে ভোটের প্রতিশ্রুতিতে ভোলবার পাত্র নয় বাংলাদেশি জনতা। হাসিনা পরবর্তী সময়ে ইউনুস জমানায় অরাজকতার সাক্ষী থেকেছে এই দেশ। তাঁদের সবচেয়ে বড় দাবি, শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরুক, নির্বাচন হোক অবাধ ও নিরপেক্ষ। আরেফিন লাবিব নামে এক তরুণের কথায়, ‘আমি চাই না বাংলাদেশে আরও খারাপ কিছু ঘটুক বা যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হোক। মসৃণভাবে দেশ চালাতে গেলে স্বচ্ছ নির্বাচন জরুরি।’ ঢাকার বাসিন্দা রাজিত হাসানের আবার বক্তব্য, ‘আমরা গণতন্ত্র চাই। আমাদের অধিকার দিতে হবে। আইনের শাসন ফিরিয়ে আনতে হবে।’ অর্থনীতির ছাত্রী ওয়াসিমা বিন্তে হুসেন বলেন, ‘আমার একটাই আশা নির্বাচনের মাধ্যমে আরও মহিলা নেতৃত্বে আসবে। মহিলাদের সমস্যাগুলিকে আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ