নয়াদিল্লি: খাবার-দাবারের দাম আগুন। বিদ্যুতের ঘাটতি। নেই চাকরি-বাকরিও। তার উপর জুড়েছে আগামী ২৭ জুলাই হতে চলা ভোটের আগে অসন্তোষ। ‘উদ্বাস্তু’দের জন্য ১২টি সংরক্ষিত আসন নিয়ে স্থানীয়রা প্রবল ক্ষুব্ধ। সব মিলিয়ে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে ধৈর্যের বাঁধ ভাঙছে সাধারণ মানুষের! বারুদের স্তূপে আগুন দিয়েছে সুশীল সমাজের যৌথ মঞ্চ ‘জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি’কে (জেএএসি) সন্ত্রাস বিরোধী আইনে নিষিদ্ধ ঘোষণা। রবিবার রাওয়ালাকোটে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে অসংখ্য মানুষের হতাহত হওয়ার খবর মিলেছে। গ্রেপ্তার বহু প্রতিবাদী। পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে দাবি, দু’পক্ষ মিলিয়ে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও প্রতিবাদীদের দাবি, রীতিমতো গণহত্যা চালিয়েছে পাকিস্তান সরকার। দফায় দফায় সংঘর্ষের জেরে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৩০ জনের। জখম প্রায় ২০০ জন। প্রতিবাদীদের উপর পুলিশের নির্বিচারে গুলি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় মঙ্গলবার পাকিস্তানের মুণ্ডপাত করেছে ভারত। বিদেশ দপ্তরের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে পুলিশের চরম বর্বরতার খবর পাওয়া গিয়েছে। আমরা আশা করি, এই অপকর্ম ও নির্যাতনের জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে তার জবাবদিহি চাইবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।’ নিজেদের ব্যর্থতা ও মানবাধিকারের ঘটনা থেকে নজর ঘোরাতে পাকিস্তান ভুয়ো খবর ও ভিডিয়ো ছড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁর।
রিপোর্ট অনুযায়ী, মঙ্গলবার পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের রাজধানী মুজাফ্ফরাবাদে অভিযানের ডাক দিয়েছিল জেএএসি। কিন্তু তার আগেই গত সপ্তাহে স্থানীয় প্রশাসন তাদের সন্ত্রাস বিরোধী আইনে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এর মধ্যেই শুক্রবার রাতে পুলিশের গুলিতে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যুকে ঘিরে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। রবিবার স্থানীয় হাসপাতালের মর্গের বাইরে জড়ো হন জেএএসি সমর্থকেরা। রাওয়ালাকোটের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তা কমিশনার সর্দার ওয়াহিদ খানের সাফাই, প্রতিবাদীদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে নিরাপত্তা বাহিনীকে নিশানা বানান বিক্ষোভকারী সংগঠনের কর্মীরা। হামলা চালাতে স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র ও পেট্রল বোমা ব্যবহার করা হয়। জবাব দেয় পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীও। ছয় বিক্ষোভকারী ও পাঁচ নিরাপত্তা কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। যদিও স্থানীয় মানুষ ও জেএএসি কর্মীদের দাবি, হতাহতের সংখ্যাটা এর চেয়ে অনেক বেশি। গণহত্যা ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে পাকিস্তান মানবাধিকার কমিশনও।
শুধুমাত্র নয়াদিল্লিতে বিদেশ মন্ত্রক নয়, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সোমবার রাষ্ট্রসংঘে সুর চড়িয়েছেন ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি হরিশ পর্বতানেনি। আফগানিস্তান ইস্যুতে ইসলামাবাদকে তীব্র আক্রমণ করেছেন তিনি। ভারতীয় প্রতিনিধির তোপ, পাকিস্তান একদিকে ‘বাণিজ্য ও ট্রানজিট সন্ত্রাসবাদ’ চালাচ্ছে। আফগান ব্যবসায়ীদের পথ আটকে রেখে স্থলবেষ্টিত আফগানিস্তানের বাণিজ্যে বাধা দিচ্ছে। অন্যদিকে আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে বিমানহানা চালিয়ে অগণিত সাধারণ মানুষকে হত্যা করছে। সামরিক অভিযানের মোড়কে গণহত্যা অপরাধের ঊর্ধ্বে নয়।