নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বাদুড়িয়ায় এক ভোটারকে অপহরণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন এক বিএলও। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম রিজওয়ান হাসান মণ্ডল। তাঁর সাগরেদ সাগর গায়েনকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার বসিরহাট আদালত তাঁদের ১০ দিনের পুলিশ হেপাজত দিয়েছে। তবে অপহৃত ভোটার নাসির আলির হদিশ মেলেনি। তিনি তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী হিসেবে পরিচিত। পরিবারের সন্দেহ, তাঁকে খুন করা হয়েছে। রহস্য উদ্ঘাটনে ধৃতদের জেরা করছে পুলিশ।
রিজওয়ান বাদুড়িয়ায় পাপলিয়া গ্রামের ২২ নম্বর বুথের বিএলও। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ৯ ফেব্রুয়ারি, সোমবার সন্ধ্যায় নাসির একটি ফোন পান। ফোনের অপরপ্রান্ত থেকে নিজেকে ‘এইআরও’ বলে পরিচয় দেন এক যুবক। জানানো হয়, ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত কিছু নথি জমা দিতে হবে। আধার এবং ভোটার কার্ডের কপি নিয়ে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় দেখা করতে বলা হয় তাঁকে। পরিবারের দাবি, ফোন পেয়েই নাসির সেইমতো বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। তিনি তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে আসবেন বলেও আশ্বস্ত করেন। কিন্তু, অল্পসময় পরই তাঁর মোবাইল বন্ধ হয়ে যায়! বেশি রাতেও নাসির বাড়ি না-ফেরায় পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। খোঁজখবর নেওয়া হয় আত্মীয়-বন্ধুদের কাছে। কিন্তু কোথাও তাঁর সন্ধান মেলেনি। পরিবার সেই রাতেই বাদুড়িয়া থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করে। পরদিন অপহরণের অভিযোগ দায়ের করা হয়। ১০ তারিখেও পুলিশ নাসির আলিকে উদ্ধার করতে না-পারায় এলাকায় ক্ষোভ দেখা দেয়। পড়শি ও পরিজনরা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান সেদিন। শুরু হয়েছে পুলিশি তদন্ত। নাসিরের মোবাইল ফোনের তথ্য খতিয়ে দেখেছে পুলিশ। বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়েও তারা এই রহস্যের কিনারা করতে পারেনি।
অন্যদিকে, পরদিন চাতরা এলাকায় খালের ধারে একটি জুতো পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। জুতোটি নাসিরের বলেই শনাক্ত করে পরিবার। এরপর খালে তল্লাশি চালিয়ে তাঁর মোটরবাইকটিও উদ্ধার করে পুলিশ। তবে দীর্ঘ তল্লাশিতেও নাসিরের হদিশ মেলেনি। অবশেষে মোবাইলের সূত্র ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্ত বিএলও-কে জেরার পরই পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। এই কাণ্ডের পিছনে অন্য কেউ কি জড়িত? কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে পরিকল্পনা করেই কি নাসিরকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল? জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
এই বিষয়ে বসিরহাটের পুলিশ সুপার হোসেন মেহেদি রহমান বলেন, ‘কিডন্যাপের অভিযোগ পেয়েছি আমরা। এই ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। তবে নাসিরের অবস্থান কোথায়, তা এখনো পরিষ্কার নয়। পুরো বিষয়টি আজ শনিবার স্পষ্ট হতে পারে।’ প্রসঙ্গত, নিখোঁজ নাসির এলাকায় তৃণমূল কর্মী হিসেবে পরিচিত। দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা থাকে। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনার পিছনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার দিকটিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।