Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নারী নির্যাতন রোধে পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের ভূমিকা কী? প্রশিক্ষণ দেবে রাজ্য সরকার

নারী নির্যাতন ঠেকাতে ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতের নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং আধিকারিকদের কী ভূমিকা হওয়া উচিত, তার পাঠ দেবে রাজ্য।

নারী নির্যাতন রোধে পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের ভূমিকা কী? প্রশিক্ষণ দেবে রাজ্য সরকার
  • ৫ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নারী নির্যাতন ঠেকাতে ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতের নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং আধিকারিকদের কী ভূমিকা হওয়া উচিত, তার পাঠ দেবে রাজ্য। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী নারী নির্যাতন সংক্রান্ত আইনি বিষয়গুলি  তাঁদের অবগত করানো হবে এই কর্মসূচির মাধ্যমে। তাঁরা যাতে নিজ নিজ এলাকায় প্রচার অভিযান চালিয়ে মানুষের মধ্যে এনিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই পঞ্চায়েতের প্রতিনিধিদের এই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, রাজ্য বা কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী, দীর্ঘদিন সেনাবাহিনীতে কর্মরত আধিকারিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য নিযুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে তাঁদের আইনি বিষয় নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক। প্রশাসনিক মহলের মতে, আর জি কর থেকে শুরু করে কসবা ল কলেজে নারী নির্যাতনের ঘটনায় রাজ্যের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। এই আবহে রাজ্যের এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ বলেই তাঁদের মত।

Advertisement

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, পঞ্চায়েতের প্রতিনিধিদের জন্য প্রশিক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে পঞ্চায়েত দপ্তরের অধীনে থাকা ‘সোসাইটি ফর ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ অন পঞ্চায়েত অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট’। এর আগে তারা ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টের মতো সংস্থাকে দিয়ে পঞ্চায়েতের প্রতিনিধিদের বিভিন্ন বিষয় প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করলেও বিশেষ ‘রিসোর্স পারসনস’  নিযুক্ত করে এমন উদ্যোগ এই প্রথম বলেই জানা গিয়েছে। প্রশিক্ষণ দিতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের ইচ্ছাপত্র আহ্বান করে বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়েছে পঞ্চায়েত দপ্তরের তরফে। রাজ্যের ২২টি জেলাতেই এই কর্মসূচির জন্য ‘রিসোর্স পারসনস’ নিযুক্ত করার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। মাষ্টার ট্রেনার অর্থাৎ পঞ্চায়েতের আধিকারিকদের মধ্যে থেকে প্রশিক্ষক তৈরির কাজও করবেন এই ‘রিসোর্স পারসনস’রা। 
প্রশিক্ষণের তালিকায় রয়েছে সাইবার সিকিউরিটি, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স, পরিবেশ বিজ্ঞান, দুর্যোগ মোকাবিলার মতো বিষয়গুলিও। মোট ১৪টি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তবে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে নারী নির্যাতন সংক্রান্ত আইনি বিষয়ের প্রশিক্ষণের উপর। তার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে শিশু, তফসিলি জাতি ও জনজাতির মানুষদের আইনি সুরক্ষা সুনিশ্চিত করার বিষয়ও।  পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার জানিয়েছেন, ‘একদিকে আমরা একাধিক অনলাইন কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষকে আরও সহজে সুবিধা প্রদানের সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছি। সেইসঙ্গে সচেতনতা বৃদ্ধিতেও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ