Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / চতুষ্পর্ণী

স্বর্ণ সাজে রূপবদল

সোনার দাম আকাশছোঁয়া। তবু বিয়ের ক্ষেত্রে সোনার গয়নাই এক এবং অদ্বিতীয়। তাকে ছাড়া বিয়ের গয়নার কথা ভাবতেই পারে না বাঙালি। তার সঙ্গে হয়তো হীরে, চুনি বা পান্নার মিলমিশ হয়েছে কোথাও, অথবা মিশেছে মুক্তোর ছরা, তবু সোনা স্বমহিমায় গয়নার বাজারে বিরাজমান। কিন্তু নকশা?

স্বর্ণ সাজে  রূপবদল
  • ১৫ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সোনার দাম আকাশছোঁয়া। তবু বিয়ের ক্ষেত্রে সোনার গয়নাই এক এবং অদ্বিতীয়। তাকে ছাড়া বিয়ের গয়নার কথা ভাবতেই পারে না বাঙালি। তার সঙ্গে হয়তো হীরে, চুনি বা পান্নার মিলমিশ হয়েছে কোথাও, অথবা মিশেছে মুক্তোর ছরা, তবু সোনা স্বমহিমায় গয়নার বাজারে বিরাজমান। কিন্তু নকশা? তার তো বদল হচ্ছে সারাক্ষণ। কখনও সোনার গয়নায় তারের কাজ, কখনও বা মিনাকারি নকশা আবার কখনও ডিজাইনে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মিলন। পোশাকি ভাষায় যাকে বলে ফিউশন ডিজাইন। 
হালকা সোনায় ভরাট লুক
সোনার দাম যে আকাশ ছুঁয়েছে। সারা দেশের স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা সকলেই এই বিষয়ে একমত। অথচ বঙ্গনারীর অঙ্গশোভা স্বর্ণালঙ্কার। তাহলে উপায়? অল্প সোনায় কি ভরাট লুকের গয়না সম্ভব? প্রসঙ্গ উঠতেই সেনকো জুয়েলার্স-এর কর্ণধার জয়িতা সেন বলেন, ‘আমাদের বিশেষত্বই অল্প সোনায় ভরাট লুক। এই নিয়ে সারাক্ষণ নকশার পরীক্ষা নিরীক্ষা চলে। হালকা ওজনে কীভাবে গা ভর্তি গয়নার লুক আনা যায় সেই নিয়েই আমাদের কারিগররা নানারকম ভাবনাচিন্তা করেন।’ ‌জয়িতা জানান, তাঁদের কাছে ১২ গ্রাম ওজনের সীতাহার, ৪ গ্রামে নেকলেস ইত্যাদি বানানো হয়। এমনকী ১৫ গ্রাম সোনা দিয়ে কীভাবে মেয়ের বিয়ের সম্পূর্ণ গয়না বানানো যায় সেই নিয়েও তাঁরা নানারকম এক্সপেরিমেন্ট করেন। সব ধরনের বাজেটের গয়নাই থাকে এখানে। 
এই বিষয়ে অঞ্জলি জুয়েলার্স-এর কর্ণধার অনর্ঘ্য উত্তীয় চৌধুরির মত, ‘সোনার গয়নার দাম বেড়েছে এ বিষয়ে সন্দেহ নেই। তাই বলে মহিলামহলে সোনার গয়না বিষয়ে আগ্রহ কমেনি একটুও। তাঁরা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী কখনও ভারী সোনার গয়না কিনছেন, কখনও অল্প সোনায় ভরাট লুকের গয়না খুঁজছেন। এবং সেই মতোই আমরাও গয়নায় নিত্য নতুন নকশা তৈরি করছি।’ স্লিক ডিজাইন যেমন একটা সময় খুব ট্রেন্ডিং ছিল, এখন আবার ভারী, হালকা সব ধরনের নকশাই চলছে। বিয়ের ক্ষেত্রে মূলত একটা ভরাট লুক চাইছেন এযুগের কন্যেরাও।     
ট্রেন্ডিং গয়নার নকশা
কেমন গয়না এযুগের আধুনিকাদের পছন্দ? অনর্ঘ্য জানালেন, নতুন প্রজন্মের আধুনিকারা গয়না নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করতে খুবই পছন্দ করেন। সোনার সঙ্গে পাথর মেশাতে চান, মুক্তোর কম্বিনেশনে সোনা, হীরের নানা ডিজাইন তাঁরা পছন্দ করেন। অনেকে বিয়ের ভারী গয়না নিয়েও পরীক্ষা করতে ভালোবাসেন। যেমন গতানুগতিক সীতাহারের নকশায় সামান্য বদল এনে তাকে ফিউশন লুক দিতে চান অনেকেই, আবার অনেকে হয়তো হাঁসুলি হারের নকশায় নতুনত্ব চান।
জয়িতার মতে, সাবেকি লুকের ডিজাইন এখন আধুনিক প্রজন্মের মধ্যেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তাঁরা বিয়ের সময় এমন লুকের গয়না চাইছেন যার একটা চরিত্র আছে।  যেমন নকশি কাজের গয়না। আবার সম্পূর্ণ সাবেকিও যে তাঁরা সবসময় চান তা নয়। সাবেকির সঙ্গে মডার্ন টাচ চান এযুগের মহিলারা।  মুক্তো, রঙিন পাথর ইত্যাদিও এখন গয়নার নকশায় হিট চয়েস। সোনার সঙ্গে মুক্তোর কাজ করা পেনডেন্ট, কানে মুক্তোর দুল ‌ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।  
পাথর সেটিং গয়না
বিয়ের মতো বড় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে অনেকেই এখন নানা ধরনের গয়না বানিয়ে নিতে চান। একটা ভরাট লুকের সেট হল, তার সঙ্গে নানা ধরনের পাথর বসানো, স্লিক ডিজাইনের দুল, হার বা আংটিও কিনলেন। এখনকার মহিলারা সব ধরনের পোশাকে‌ই স্বচ্ছন্দ। ফলে তেমনই নকশায় গয়নাও চান তাঁরা। শুধু সোনার তৈরি গয়নার বদলে তাই অনেকেই এখন কম্বিনেশন লুক চাইছেন। যেমন সোনার সঙ্গে পাথর সেটিং, পোড়ামাটির সঙ্গে সোনার কম্বিনেশন, বাঁশের সঙ্গে সোনার তার ইত্যাদি। পাথরের ক্ষেত্রে অনর্ঘ্যর মতে লাল চুনি ও সবুজ পান্নার ডিমান্ড সবচেয়ে বেশি। তবে কিছু ভিন্নধর্মী রংও এখন চলছে। এছাড়া হীরের গয়নার কদর তো বরাবরের। তবে সেটা একটা আলাদা বিভাগ। এছাড়া মুক্তোর কদর আধুনিকাদের মধ্যে ক্রমশ বাড়ছে। এই ধরনের গয়না মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ করে বিভিন্ন ধরনের পোশাকের সঙ্গে ব্যবহার করা যায়। অনর্ঘ্য বললেন, সোনার দাম যত বাড়ছে ততই একটা বিশেষ ট্রেন্ড মহিলাদের মধ্যে লক্ষ করা যাচ্ছে, তা হল একই গয়নার অনেক ব্যবহার। একরকম গয়নাকে কত রকমভাবে পরা যায় সেটা নিয়ে প্রচুর ভাবনাচিন্তা করেন এযুগের মহিলারা। সেই মতোই সোনার গয়নার কারিগররাও ভাবনাচিন্তা করেন নকশা নিয়ে। 
জয়িতা বললেন, আজকাল কনট্রাস্টের যুগ। ফলে পোশাকের সঙ্গে কনট্রাস্ট করে গয়নায় পাথর সেটিং করতে ভালোবাসেন মহিলারা। ধরুন লাল পোশাক পরলে গ্রিন স্টোন সেটিংয়ের গয়না চাইছেন তাঁরা। আবার গাঢ় নীল পোশাকের সঙ্গে গোলাপি, সাদা ইত্যাদি পাথর সেট করা গয়না চাইছেন। 
অনর্ঘ্যর সঙ্গে গয়নায় পাথরের রং বিষয়ে একমত জয়িতাও। তাঁর কথায়, সবুজ রঙের পাথর বা পান্না সোনার গয়নার সঙ্গে খুবই পছন্দ করছেন আধুনিকারা। ডিজাইন করতে গিয়ে জয়িতার এই ট্রেন্ড চোখে পড়েছে। কারণ হিসেবে তাঁর মনে হয়েছে, জাঁকজমকের বলিউডি বিয়ে। সিনেমার নায়িকারা অনেকেই বিয়ের গয়নার গ্রিন স্টোন পরছেন, ঩তার দেখাদেখিই এখনকার প্রজন্মও গয়নায় এই রঙের পাথর ব্যবহার করতে চাইছেন। এছাড়া লাল চুনির চাহিদা চিরকালই বাঙালি বিয়েতে থাকে। কারণ আমরা লালকে শুভ রং বলে মনে করি। আবার অনেকে এই রংটিকে শক্তির প্রতীক হিসেবেও চিহ্নিত করেন। কারণ যাই হোক না কেন, গয়নায় এই রঙের আধিক্য বিয়ের অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায়। 
                         

Advertisement

কমলিনী চক্রবর্তী

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ