নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের আওতাভুক্ত রেশন গ্রাহকদের মধ্যে সবচেয়ে গরিব পরিবারগুলিকে অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনার (এএওয়াই) আওতায় আনা হয়। এই প্রকল্পে পরিবারপিছু খাদ্যশস্য বরাদ্দের পরিমাণ বেশি। কিন্তু গোটা দেশে যত পরিবারের এই সুবিধা পাওয়ার কথা বাস্তবে তার চেয়ে কম পরিবারকে তা দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয় খাদ্য মন্ত্রকের রিপোর্টে বলা হয়েছে, সারা দেশে মোট আড়াই কোটি পরিবারে এএওয়াইয়ের সুবিধা পাওয়ার কথা, কিন্তু পাচ্ছে ২ কোটি ৩৭ লক্ষ। অর্থাৎ প্রায় ১৩ লক্ষ দরিদ্র পরিবার বঞ্চিত হচ্ছে। জাতীয় প্রকল্পের অন্য শ্রেণির রেশন গ্রাহকরা মাসে মাথাপিছু ৫ কেজি করে চাল-গম বিনামূল্যে পায়। কিন্তু এএওয়াই প্রকল্পে মাসে ৩৫ কেজি হারে খাদ্যশস্য দেওয়া হয়। অন্ত্যোদয় পরিবারের সদস্য সংখ্যা নির্বিশেষে বরাদ্দের পরিমাণ একই থাকে।
কেন্দ্রীয় সরকার প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত এলাকার জন্য খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের বেনিফিসিয়ারিদের কোটা নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। ২০১৩ সালে কোটা বদলায়নি। কেন্দ্র শুধু বেনিফিসিয়ারিদের রাজ্যভিত্তিক কোটা ঠিক করে দেয়। কোটা পূরণের দায়িত্ব রাজ্যের। কেন্দ্রীয় রিপোর্ট বলছে, অন্ত্যোদয়ের কোটা পূরণে ব্যর্থ রাজ্যগুলির মধ্যে যেমন বিজেপিশাসিত মধ্যপ্রদেশ, গুজরাত, অসম, ত্রিপুরা, রাজস্থান আছে তেমনি রয়েছে কংগ্রেস শাসিত কর্ণাটক, হিমাচলপ্রদেশ এবং তেলেঙ্গানা। কোটা পূরণ হয়নি বাংলারও। এরাজ্যে অন্ত্যোদয় গ্রাহক পরিবারের কোটা ১৯ লক্ষ ৩৬ হাজার। সেখানে বাংলায় বেনিফিসিয়ারির সংখ্যা ১৬ লক্ষ ৪২ হাজার। রাজ্য খাদ্যদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রদত্ত পরিসংখ্যান প্রায় একই।
রাজ্য খাদ্যদপ্তর সূত্রে বলা হয়েছে, অন্ত্যোদয়ের কোটা পূরণের প্রক্রিয়া চলছে। একজনমাত্র সদস্যবিশিষ্ট অন্ত্যোদয় পরিবারগুলি, বিশেষভাবে যেখানে প্রাপকের বয়স ১৮ বছরের কম, তাদের চিহ্নিত করে প্রকৃত পরিবারের সঙ্গে যুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। এরকম লক্ষাধিক পরিবার চিহ্নিত হয়েছে। এই জায়গায় অন্য দরিদ্র পরিবারকে অন্ত্যোদয়ের আওতায় আনা হবে। রেশন ডিলারদের সর্বভারতীয় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু জানান, রাজ্যের গরিব মানুষের স্বার্থেই এই প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করা দরকার।